• ঢাকা বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১
logo
যশোর অঞ্চলে তাপমাত্রা উঠতে পারে ৪২ ডিগ্রি
মোরেলগঞ্জে স্টিলব্রিজের সঙ্গে আটকে গেলো বাস, যাত্রীদের দুর্ভোগ 
সাইনবোর্ড-বগী আঞ্চলিক মহাসড়কের বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ স্টিলব্রিজের সঙ্গে ধাক্কা লেগে একটি দূরপাল্লার পরিবহন আটকে গেছে।  বুধবার (১৭ এপ্রিল) ভোরে ঢাকা থেকে শরণখোলাগামী জিএমএস পরিবহনের গাড়িটি এ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।  সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘটনার পর থেকে মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা থেকে খুলনা, ঢাকা ও চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ঈদযাত্রার ৭০-৮০টি পরিবহন আটকে রয়েছে। এতে ঈদের ছুটি শেষে ঘরে ফেরা কমপক্ষে ৩ হাজার যাত্রী দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেকে ফিরে গেছেন। বুধবার সকাল ৮টার দিকে বিভিন্ন কোম্পানি কিছু বাড়তি গাড়ি জোগাড় করে যাত্রীদের পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু করেছে।  এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সামসুদ্দীন বলেন, রাতে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। গাড়িতে কোন যাত্রী ছিলোনা। গাড়ি রেখে এর চালক, সকলে পালিয়ে গেছেন। 
দ্রুত সময়ের মধ্যে মুজিবনগরে স্থলবন্দর হবে : জনপ্রশাসনমন্ত্রী 
‘৮ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সনদ বাতিল’
চুয়াডাঙ্গায় বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষ, নিহত ১
জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে মুজিবনগর দিবসের সূচনা
শ্যামনগরে বিটুমিনের বয়লার বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৬
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে নির্মাণাধীন সড়কে পিচ ঢালাই করার সময় বিটুমিনের বয়লার বিস্ফোরণে ৬ শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) উপজেলার কালিকাপুর তালতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন রেজাউল ইসলাম (৩৩), জাহিদ হোসেন (৩৫), আবুল হোসেন (৪৫) এবং মোনাজাত আলী (৫৫), বদরুজ্জামান (৩৫) ও নাজমুল কবীর (২২)।  তাদের মধ্যে রেজাউল ইসলাম, জাহিদ হোসেন, আবুল হোসেন এবং মোনাজাত আলীকে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর খুলনা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।  এ ছাড়া বদরুজ্জামান ও নাজমুল কবীরকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আহত শ্রমিকরা কালিগঞ্জ উপজেলার রঘুনাথপুর, রহিমপুর, গনপতি ও পাইকাড়া গ্রামের বাসিন্দা। এ প্রসঙ্গে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান আহমদ ট্রেডার্সের ম্যানেজার বদরুজ্জামান বলেন, নির্মাণাধীন সড়কে প্রাইম কোর্টের কাজের জন্য শ্রমিকরা শুরুতে বয়লারে বিটুমিন জ্বালায়। একপর্যায়ে তপ্ত বিটুমিনের সঙ্গে ডিজেল ভেবে পেট্রোল মিশ্রণের চেষ্টা করতেই মুহূর্তের বিস্ফোরণ ঘটে। দগ্ধদের চিকিৎসার বিষয়ে কথা হয় শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. নাজমুল মুনিরের সঙ্গে। তিনি বলেন, দগ্ধ রেজাউলের শরীরের উপরিভাগের প্রায় ৬০ শতাংশ পুড়ে গেছে। এ ছাড়া মোনাজাতের মুখ ও বুকসহ পেটের নিচে প্রায় ২৫ শতাংশ পুড়েছে। এমতাবস্থায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আহতদের মধ্যে চারজনকে খুলনা ২৫০ শয্যা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন বাকি দুই শ্রমিক শঙ্কামুক্ত বলেও জানান তিনি।
মুজিবনগর দিবসে উপজেলায় ছুটি, থাকছে নানা কর্মসূচি
ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষ্যে আজ বুধবার (১৭ এপ্রিল) মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলায় সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে পালিত হবে নানা কর্মসূচি।  মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিকেন্দ্রে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসটির সূচনা হবে। মুজিবনগরের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিকেন্দ্রে সকাল ৯টায় পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। মুজিবনগরের আম্রকাননে বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিজিবি, পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি, বিএনসিসি, স্কাউটস ও গার্লস গাইড ও স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের গার্ড অব অনার প্রদান এবং বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হবে। মুজিবনগরে গীতিনাট্য ‘সোনালী স্বপ্নের দেশ’ প্রদর্শিত হবে সকাল ১০টায়।  মুজিবনগরের শেখ হাসিনা মঞ্চে এ দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে বেলা পৌনে ১১টায়।  এছাড়া সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় মুজিবনগর-মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিকেন্দ্রের মাঠে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। অনুষ্ঠান শেষে আতশবাজি ও লেজার শো দেখানো হবে বলে জানিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ঢাকা ও মুজিবনগরে দিবসটি উপলক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও ভবনে আলোকসজ্জা এবং সড়কদ্বীপ জাতীয় পতাকায় সজ্জিত করা হবে।  বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা এবং মোনাজাত ও প্রার্থনা করা হবে। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসেও দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে কর্মসূচি পালন করা হবে। দিবসটি উপলক্ষ্যে বেতার ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া বিশেষ বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
মহেশপুর সীমান্তে সাড়ে ৪ কেজি স্বর্ণসহ আটক ২
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত থেকে ৪০ পিস স্বর্ণের বারসহ ২ জনকে আটক করেছে বিজিবি। ৪০টি স্বর্ণের বারের ওজন ৪ কেজি ৬৩৩ গ্রাম। মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী পলিয়ানপুর সীমান্তের ছয়ঘড়িয়া এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন, মহেশপুর উপজেলার ছয়ঘড়িয়া গ্রামের মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে মো. জসিম উদ্দিন (৫৩) এবং মৃত আকতার আলীর ছেলে মো. হুমায়ন কবির (৪০)। ৫৮ বিজিবি পরিচালক এইচ এম সালাহউদ্দীন চৌধুরী প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ভারতে সোনা পাচার হচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করে বিজিবি। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ছয়ঘড়িয়া নামক স্থানে মহেশপুর থেকে মোটরসাইকেলে সীমান্তের দিকে যাওয়া একটি মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে তারা। এই সময় মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তির কাছ থেকে ৪ কেজি ৬৩৩ গ্রাম ওজনের ৪০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করে আসামিদের মহেশপুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ
আজ ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এ দিনে তখনকার মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ নেয়। পাশাপাশি এ দিন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অনুমোদিত হয়। ১৭৫৭ সালে পলাশির আম্রকাননে বাংলার স্বাধীনতার শেষ সূর্য অস্তমিত হয়েছিল। ২১৪ পর একাত্তরের ১৭ এপ্রিল পলাশি থেকে ৭০ কি. মি. দূরে বৈদ্যনাথতলা তথা মুজিবনগর আম্রকাননে বাংলার সূর্য় উদিত হয়েছিল।  দিবসটি উপলক্ষে নানা কর্মসুচী গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও মেহেরপুর জেলা প্রশাসন। মেহেরপেুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় ১৭ এপ্রিল এক স্মরণীয় দিন। ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উৎযাপনের মাধ্যমে বর্তমান প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানতে পারবে এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ গঠনে অবদান রাখবে। জানা যায়, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর গণহত্যার পর বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার গঠনের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা সমবেত হন। যুদ্ধের গতি বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন আদায়ে একটি সরকার গঠনের প্রয়োজনীয়তা সর্বসম্ততিক্রমে অনুমোদিত হয়। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে আওয়ামী লীগের নিরষ্কুশ জয় পান। এ নির্বাচনের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে ১০ এপ্রিল একটি সরকার গঠন করার সিদ্ধান্তে উপণিত হন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচরেরা।  পাকিস্তানের কারাগারেবন্দি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করেন। আরও সিদ্ধান্ত হয় সৈয়দ নজরুল ইসলাম হবেন উপ-রাষ্ট্রপতি, যিনি বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। তাজউদ্দীন আহমদ যুদ্ধকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন। সেদিনই গভীর রাতে (১১ এপ্রিল) পশ্চিমবঙ্গের কোনো এক অজ্ঞাত স্থান থেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাজউদ্দীন আহমদের রেকর্ড করা একটি ভাষণ গোপন বেতার কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রচারিত হয়। এই বেতার ভাষণের মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের সরকার বিশ্ববাসীর সামনে আত্মপ্রকাশ করে। অস্থায়ী সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি হওয়ার কথা ছিল ১৪ এপ্রিল ১৯৭১, চুয়াডাঙ্গায়। কিন্তু সেই গোপন সিদ্ধান্তটি সংবাদপত্রে ফাঁস হয়ে যায়। ফলে পাকিস্তানি সেনারা প্রবল বোমাবর্ষণ করে ওই স্থানে। আর এতে ভেস্তে যায় সেই পরিকল্পনা। মুজিবনগরে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। গার্ড অব অনার প্রদানকারী ১২ মধ্যে বেঁচে আছেন মাত্র ২ আনসার সদস্য। মেজর আবু উসমান চৌধুরীর পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ায় ক্যাপ্টেন মাহবুব উদ্দীন আহমেদ ইপিআর আনছারের একটি ছোট্ট দল নিয়ে নেতৃবৃন্দকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন। গার্ড অব অনার শেষে স্থানীয় শিল্পীদের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সৈয়দ নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।  বাকের আলীর কোরআন তেলাওয়াত এবং ভবরপাড়া গ্রামের পিন্টু বিশ্বাসের বাইবেল পাঠের মাধ্যমে শুরু হয় আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম।  এরপর আওয়ামী লীগের চিফ হুইফ অধ্যাপক মো. ইউসুফ আলী বাংলার মুক্ত মাটিতে স্বাধীনতাকামী কয়েক হাজার জনতা এবং শতাধিক দেশি-বিদেশি সাংবাদিকের সামনে দাঁড়িয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। ঐতিহাসিক সেই স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে চিফ হুইফ অধ্যাপক ইউসুফ আলী রাষ্ট্রপ্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনুপস্থিতিতে উপরাষ্ট্র প্রধান হিসেবে সৈয়দ নজরুল ইসলামকে শপথবাক্য পাঠ করান।  এরপর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাজ উদ্দীন আহমেদের নাম ঘোষণা করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর সাথে পরামর্শক্রমে মন্ত্রী পরিষদের সদস্য আইন, সংসদ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে খন্দকার মোশতাক আহমদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে এএইচএম কামরুজ্জামান এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীকে পরিচয় করিয়ে দেন এবং শপথ পাঠ করান। মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান সেনাপতি হিসেবে কর্নেল এম এ জি ওসমানী এবং সেনাবাহিনীর চিফ অফ স্টাফ পদে কর্নেল আব্দুর রবের নাম ঘোষণা করা হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী তাজ উদ্দীন আহমেদ উপস্থিত সকলের সামনে ৩০ মিনিটের এক উদ্দীপনাময় ভাষণ দেন। তিনি বলেন, আজ থেকে স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী হবে এ বৈদ্যনাথতলা এবং এর নতুন নাম হবে মুজিবনগর। তিনি বিশ্ববাসীর কাছে নতুন রাষ্ট্রের স্বীকৃতিদান ও সামরিক সাহায্যের আবেদন জানান। সেদিন থেকেই বৈদ্যনাথতলা মুজিবনগর নামে পরিচিত। বক্তৃতা এবং শপথগ্রহণ পর্ব শেষে নেতৃবৃন্দ মঞ্চ থেকে নেমে এলে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন মেজর আবু উসমান চৌধুরী। উপস্থিত জনতার মূহুর্মূহু জয়বাংলা ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে মুজিবনগরের আম্রকানন। সব মিলিয়ে ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ হয়। মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বেই টানা ৯ মাস যুদ্ধ শেষে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয় বাংলার স্বাধীনতা। বিশ্বের মানচিত্রে ঠাঁই করে নেয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।
মেহেরপুরে মুজিবনগর দিবসে বিশেষ আয়োজন 
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের গৌরবময় তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা প্রবাহের সঙ্গে যে নামটি ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে, তা হলো মুজিবনগর দিবস। এ দিন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের নেতৃত্বে ছিল এই সরকার। একাত্তরের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের ঐতিহাসিক বৈদ্যনাথতলা তথা মুজিবনগর আম্রকাননে এ সরকারের শপথ হয়েছিল। যার মাধ্যমে পাল্টে গিয়েছিল যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি। সেই দিনটি স্মরণীয় করে রাখা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস ছড়িয়ে দিতে এবার জাকজমকপূর্ণ বড় আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে। মুজিবনগরকে বলা হয় স্বাধীনতার সূর্যোদয় ভূমি। যে সূর্যের আলো ছড়িয়ে পড়েছিল সাত কোটি বাঙালির হৃদয়ে। তাই মুজিবনগর আর স্বাধীনতা এক সুতোয় গাঁথা রয়েছে বলে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।  সরেজমিনে মুজিবনগর কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা যায়, বৈদ্যনাথতলা আমবাগানে যেখানে একাত্তরে প্রথম সরকার শপথ গ্রহণ করেছিলেন, সেখানে শেখ হাসিনা মঞ্চে চলছে সাজসজ্জার কাজ। এ মঞ্চে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় অংশ নেবেন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা। দর্শনার্থীদের কাছে মুজিবনগরকে তুলে ধরতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্বলিত স্থাপনাগুলো ধুয়েমুছে করা হচ্ছে পরিষ্কার। প্রবেশ পথগুলোতে রঙের আঁচড় দিয়ে ফুটিয়ে তোলার কাজও শেষ পর্যায়ে। মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ, আম্রকানন এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি কমপ্লেক্স পেয়েছে এক নতুন রূপ।  মূলত জেলা প্রশাসন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দিবসটি ঘিরে বিভিন্ন আয়োজন করে থাকে। জেলা প্রশাসন ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে থাকছে, সকাল ৯টায় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন। জাকজমকপূর্ণ কুজকাওয়াজ। এতে অংশ নেবেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিজিবি, পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি, বিএনসিসি, স্কাউট, গালর্স গাইড এবং সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা।  সকাল ১০টায় গীতিনাট্য সোনালি স্বপ্নের দেশ উপস্থাপন করবে আনসার ও ভিডিপি অর্কেস্ট্রা দল। একাত্তরের শপথের পর গার্ড অব অনার প্রদানকারী হিসেবে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছেন ১২ আনসার সদস্য। স্বাধীনতা যুদ্ধে আনসার সদস্যদের আত্মত্যাগের স্মৃতি সমুন্নত রাখতে মুজিবনগর দিবসে আনসার ভিডিপির এই কর্মসূচি থাকে প্রতি বছরই।  এ দিকে সন্ধ্যা ৬টায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি কেন্দ্রের সামনে আয়োজন করা হযেছে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। দেশ বরেণ্য শিল্পীরা সঙ্গীত পরিবেশন করবেন এ মঞ্চে। এ ছাড়াও আতশবাজি উৎসব আর রঙিন আলোর ঝলকানি থাকছে সন্ধ্যার পর থেকে। এ দিকে সকাল ১০টায় শেখ হাসিনা মঞ্চে আলোচনার সভার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করবেন।  সঞ্চালনায় থাকবেন আওয়ামী লীগের খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক।  জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এবং প্রথম সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের কন্যা রিমিন হোসেন সিমি, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজ্জামেল হকসহ আওয়ামী লীগের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেবেন এ আলোচনা সভায়।  আয়োজন সম্পর্কে জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ইতিহাসের অত্যন্ত গৌরবময় ঘটনার দিন মুজিবনগর দিবস পালনে এবারও নানা আয়োজন করা হয়েছে। করোনা মহামারির কারণে দুই বছর অনুষ্ঠান আয়োজনে ছেদ পড়লেও এবার অত্যন্ত জাকজমকতার সঙ্গে হচ্ছে সব আয়োজন। যার জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন মেহেরপুরসহ আশেপাশের জেলার মানুষ।  ৫০ হাজার মানুষের সমাগম হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।  দিবসটি আয়োজনের সকল প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত জানিয়ে মেহেরপুর জেলা প্রশাসক শামীম হাসান বলেন, গরমে মানুষ যাতে কষ্ট না পান তার জন্য পানি পানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাছাড়া অস্থায়ী টয়লেট, মেডিকেল টিমসহ নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন।  জাতীয় এ অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।  এ দিকে অনুষ্ঠান ঘিরে চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে জেলা পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করে মেহেরপুর পুলিশ সুপার এস এম নাজমুল হক বলেন, মেটাল ডিটেকটিভ দিয়ে তল্লাশি এবং আর্চওয়ে গেট স্থাপন করা হয়েছে। পুরো এলাকার নিরাপত্তা কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। বাইরের জেলা থেকেও আনা হয়েছে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ ফোর্স। এ ছাড়াও থাকছে র‌্যাবের কয়েকটি দলের টহল।  স্থানীয়রা জানান, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর বাঙালির বিজয়ের গৌরবগাঁথা বীরত্ব মিশে রয়েছে একাত্তরের ১৭ এপ্রিল শপথের মধ্যে। ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আরও সমুন্নত হবে এমনটাই প্রত্যাশা মেহেরপুরবাসীর। 
নড়াইলে ১৫ দিনব্যাপী সুলতান মেলা শুরু
বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ৯৯তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে নড়াইলে ১৫ দিনব্যাপী সুলতান মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে শহরের সুলতান মঞ্চ চত্বরে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক ও সুলতান ফাউন্ডেশনের সভাপতি মোহাম্মদ আশফাকুল হক চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন জেলা পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান, সুলতান ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মিকু, নড়াইল পৌরসভার মেয়র আঞ্জুমান আরা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন খান নিলু, চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি হাসানুজ্জামান প্রমুখ।  মেলা উপলক্ষে সুলতানের সংগ্রহশালায় সুলতানের কবরে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান ও সেখান থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি শুরু করে সুলতান মঞ্চ চত্বরে শেষ হয়।  উদ্বোধনী দিনে দর্শক উপস্থিতি কম থাকলেও সুলতান মঞ্চ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ মেলায় মনোহারি পণ্য সম্ভারে সাজানো স্টলে স্টলে কেনাকাটা, ঘোরাফেরাসহ নানান আনন্দ উপভোগ করতে আগামী দিনে নানান বয়সের মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠবে বলে জানান আয়োজক কমিটি। আগামী ২৯ এপ্রিল এ উৎসব মেলা শেষ হবে।