• ঢাকা বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১
logo
ঢাকার রাস্তায় চলছে গণপরিবহন
বিটিভি ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গণঅধিকারের তারেকসহ গ্রেপ্তার ৪
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে বিটিভি ভবন, মেট্রোরেলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ও নাশকতার ঘটনায় জড়িত অভিযোগে গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম সদস্য সচিব মো. তারেক রহমানসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। রাজধানীর মিরপুর ও বাড্ডা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুনীম ফেরদৌস এ তথ্য নিশ্চিত করেন। গ্রেপ্তাররা হলেন, গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম সদস্য সচিব মো. তারেক রহমান (৩১) ও তার সহযোগী মো. সজল মিয়া (২৪), আল ফয়সাল রকি (২৭) ও মো. আরিফুল ইসলাম (৩০)। লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুনীম ফেরদৌস বলেন, গত ৬ জুন থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাধারণ শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের চলমান এই আন্দোলনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে দুষ্কৃতকারী ও স্বার্থান্বেষী মহল রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা, সংঘর্ষ ও নাশকতার মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি ও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি করে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের অপচেষ্টা চালায়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র‌্যাব সড়ক ও আকাশ পথে টহল কার্যক্রম পরিচালনাসহ গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২২ জুলাই র‌্যাব সদর দপ্তর গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-১ এর একটি দল রাজধানীর মিরপুর ও বাড্ডা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে বিটিভি ভবন, মেট্রোরেলসহ রাজধানীর রামপুরা, মিরপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ও নাশকতার ঘটনায় জড়িত গণঅধিকার পরিষদের যুগ্মা সদস্য সচিব মো. তারেক রহমানসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২টি শর্টগানের খালি খোসা, ২টি ল্যাপটপ, ৩টি সিপিইউ, ১টি হার্ড ডিক্স, ১টি মডেম, ১টি এটিএমকার্ড, ৪টি মোবাইল ফোন ও নগদ ১১ হাজার ৮৮৭ টাকা উদ্ধার করা হয়।  মুনীম ফেরদৌস জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা দেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতা ও সহিংসতার ঘটনার সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছেন।  র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তাররা সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে হামলা, নাশকতা ও অগ্নিসংযোগে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল, মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী ও রাষ্ট্রবিরোধী চক্রের নির্দেশনায় তারা এই হামলা ও নাশকতায় অংশ নেন।  মূলত গ্রেপ্তার তারেক রহমানের নির্দেশনা ও নেতৃত্বে রাজধানীর বিটিভি ভবনসহ, মেট্রোরেলের কাজীপাড়া ও মিরপুর-১০ স্টেশনসহ রামপুরা, বাড্ডা, মিরপুরে বিভিন্ন স্থানে নাশকতা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। দেশে ও দেশের বাইরের বিভিন্ন রাষ্ট্রবিরোধী কুচক্রী মহলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করতেন তারেক। র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুনীম ফেরদৌস আরও বলেন, গ্রেপ্তার তারেক রহমান কুমিল্লার একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ ও এমবিএ সম্পন্ন করেন। সে মৌসুমি ফলের ব্যবসায়ী। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদ গঠিত হলে তাকে যুগ্ম সদস্য সচিব নির্বাচিত করা হয়। সে যুব অধিকার পরিষদের সঙ্গেও যুক্ত ছিল। পরবর্তীতে গণ অধিকার পরিষদ গঠন হলে তাকে সংগঠনটির যুগ্ম সদস্য সচিব পদ প্রদান করা হয়। ২০২১ সালে গণ অধিকার পরিষদ দুই ভাগে বিভক্ত হলে সে একটি অংশের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সরকার বিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করে। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন আন্দোলনে তারেক রহমান সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতো। হাইকোর্ট কর্তৃক কোটা বাতিল বিষয়ক রায়ের পর ২০২৪ সালের জুন মাসে কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হলে তারেক রহমান গণ অধিকার পরিষদের সদস্যদের নিয়ে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে এবং আন্দোলনকে উসকে দিয়ে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য তার সমমনাদের নিয়ে বিভিন্নভাবে অপচেষ্টা চালায়। কোটা সংস্কার আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের সহযোগিতার নাম করে তারেক রহমান দেশের জনসাধারণ ও দেশের বাইরের বিভিন্ন প্রবাসীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করতেন। তিনি বলেন, দেশে ও দেশের বাইরের বিভিন্ন রাষ্ট্রবিরোধী কুচক্রী মহলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করতেন তারেক। এছাড়াও তিনি রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন ইউটিউব ও ফেসবুক পেইজসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত থেকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পূর্ববর্তী ও পরবর্তীতে সময়ে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী বিভিন্ন গুজবসহ বিভিন্ন কার্যকলাপ পরিচালনা করতেন। সরকার সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিলেও তিনি রাষ্ট্রবিরোধী গোষ্ঠীর নির্দেশনায় সরকার পতনের উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতকারীদের সঙ্গে একত্রিত হয়ে বিটিভি ভবনসহ রামপুরা ও বাড্ডায় বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ধ্বংসযজ্ঞ চালান। গ্রেপ্তার সজল সম্পর্কে র‍্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, রাজধানীর উত্তরার একটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষে অধ্যয়নরত। সে অনলাইনে মধুর ব্যবসা করতো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ২০১৮ সালে গ্রেপ্তার তারেকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে সে সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদে যুক্ত হয় এবং মহানগর উত্তরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদকপ্রাপ্ত হয়। গ্রেপ্তার তারেকের নির্দেশনায় সজল কোটা সংস্কার আন্দোলনে যুক্ত হয়ে আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে বিভিন্ন ভবনে বিভিন্ন রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেয় এবং বিটিভি ভবনসহ রামপুরা ও বাড্ডার বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে অংশগ্রহণ করে। তার বিরুদ্ধে রাজধানীর শাহবাগ থানায় দুটি মামলা রয়েছে এবং ওই মামলায় সে এক বছর কারাভোগ করেছে।  গ্রেপ্তার ফয়সাল সম্পর্কে তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ফয়সাল রাজধানীর মহানগর প্রজেক্টের একটি কলেজে ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত। পাশাপাশি একটি পার্ট টাইম চাকরি করতো। ২০২১ সালে সে সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদে যুক্ত হলে গ্রেপ্তার তারেকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ২০২২ সালে সে সংগঠনের মহানগর উত্তরের সভাপতি পদ লাভ করে। সে গ্রেপ্তার তারেকের নির্দেশনায় কোটা সংস্কার আন্দোলনকে রাষ্ট্রবিরোধী আন্দোলনে রূপ দিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন প্রোপাগান্ডা চালায়। সে রামপুরা এবং বাড্ডায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে অংশ নেয়।  লে. কর্নেল মুনীম ফেরদৌসের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার আরিফুল স্থানীয় একটি স্কুল থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে। পরবর্তীতে সে রাজধানীর লালমাটিয়া মোবাইল সার্ভিসিংয়ের দোকানে কাজ করে। দুই বছর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গ্রেপ্তার তারেকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। গ্রেপ্তার তারেকের নির্দেশনায় আরিফুল মিরপুর-১০ কাজীপাড়া মেট্রোরেল স্টেশনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে অংশ নেয়।  
চলছে সাঁড়াশি অভিযান, যাত্রাবাড়ী-বাড্ডার অবস্থা যেমন
দুই দিনে ঢাকায় এক হাজার ১১৭ জন গ্রেপ্তার 
উত্তরায় ৪ পুলিশ বক্সে আগুন, চিকিৎসা দিতে রাস্তায় ডাক্তার-নার্স
ফের রণক্ষেত্র যাত্রাবাড়ী
কোটা আন্দোলনকারী-পুলিশ সংঘর্ষ: ৪৭ জন ঢামেকে
রাজধানীতে সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ৪৭ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত ঢামেকে আসেন ৪৭ জন। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, নিউমার্কেট, উত্তরা, রামপুরাসহ বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষে আহত হয়েছেন তারা। আহতদের মধ্যে রয়েছেন- যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকা থেকে গুলিবিদ্ধ মো. রিয়াদ (২৩), আশরাফুল (২৩), পারভিন (৩০), সায়েন্সল্যাবে গুলিবিদ্ধ তানিম (১৭), যাত্রাবাড়ীর জনপথ মোড়ে ইটপাটকেলের আঘাতে আহত হয়েছেন বিআরটিসি বাসের চালক উজ্জ্বল (৩২)। এ ছাড়া রামপুরা ব্রিজের ককটেল বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন ফজলুল হক মিলন (৫৫), গুলিবিদ্ধ শিক্ষার্থী আবির হোসেন পিয়াস (২১), নর্দান ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী হাসিবুল (২২), সিদ্ধেশ্বরী কলেজের শিক্ষার্থী রাইভী (২০), উত্তরা মডেল কলেজের শিক্ষার্থী সৌমিক (২০), সিদ্ধেশ্বরী কলেজের শিক্ষার্থী সাদমান সাইফ (২৩)। যাত্রাবাড়ী এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন পথচারী মইনুল ইসলাম (২৫), উত্তরায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ইমরান (১৮), গুলিবিদ্ধ শিক্ষার্থী মোজাম্মেল (১৯), একাত্তর টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার নাদিয়া শারমিন (৩৭), একাত্তর টেলিভিশনের ক্যামেরা পারসন সৈয়দ রাশেদুল হাসান (৩২), বাদামতলী এলাকা থেকে গুলিবিদ্ধ শিশু জয়নাল (১১), যাত্রাবাড়ী এলাকায় গুলিবিদ্ধ পথচারী আনোয়ার (৪৪), সিদ্ধেশ্বরী হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী সোনিয়া (১৪)। এ ছাড়া আহত হয়ে হাসপাতালে আসেন ইসমাইল (৪৬), ইমরান (১৮), মোজাম্মেল (২৫), তারেক (১৮), অজ্ঞাতপরিচয় তরুণ (১৮), মুজাহিদুল ইসলাম (২৩), শাকিল (৪৪), তারেক (৩০), অজ্ঞাতপরিচয় তরুণ (১৮), সিয়াম (১৮), আরিফ (১৮), ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী তাহসিন (২৪), উত্তরা ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী তাহসিন (২৩) ও মারিয়া (২৩)। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া জানান, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বিস্ফোরণ ও ইটের আঘাতে আহত হয়ে এখন পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছেন ৪৭ জন। তাদের সবাইকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।  
পুলিশের গুলিতে মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিহত
পুলিশের গুলিতে রাজধানীর মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। পরে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত শিক্ষার্থীর নাম পারভেজ শাকিল। তিনি মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাচেলর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (বিবিএ) ডিপার্টমেন্টের ১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী। জানা গেছে, এদিন উত্তরা আজমপুর থানার সামনে গুলিবিদ্ধ হন পারভেজ শাকিল। পরে আহত অবস্থায় বাংলাদেশ মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ ডিপার্টমেন্ট হেড মাহবুবুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে দেশব্যাপী ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছে আন্দোলনকারীরা। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ঢাকা। এদিন রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সংঘর্ষে রাজধানী ঢাকায় ৯ জন ও সারাদেশে ১১ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে আহত হয়েছেন কয়েক শ’ মানুষ।  
আজকের মতো মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ
জননিরাপত্তার স্বার্থে বিকেল সাড়ে ৫টার পর থেকে আজকের মতো মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) এ তথ্য জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনিবার্য কারণবশত জননিরাপত্তার স্বার্থে মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশন থেকে সর্বশেষ মেট্রো ট্রেন আজ বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে উত্তরা উত্তর মেট্রোরেল স্টেশনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। এরপর আজ আর কোনো মেট্রো ট্রেন চলাচল করবে না।   বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আগের ন্যায় মিরপুর-১১, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়া মেট্রোরেল স্টেশনসমূহ বন্ধ রয়েছে। সম্মানিত যাত্রীসাধারণের সাময়িক অসুবিধার জন্য মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
মেট্রোরেলের ৪ স্টেশন বন্ধ
কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে মেট্রোরেলের চারটি স্টেশন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বিকেল থেকে মিরপুর-১১, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়া স্টেশনগুলোতে মেট্রোরেল চলাচল সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে উত্তরা উত্তর থেকে পল্লবী পর্যন্ত এবং মতিঝিল থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত দুই ভাগে মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।   বন্ধ স্টেশনগুলো চালু হলে তাৎক্ষণিক কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেবে বলেও জানান আবদুর রউফ। এর আগে, পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যেই পুলিশ বক্সে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।  ওই আগুন ওভারব্রিজে ছড়িয়ে পড়ে।  তবে ওই সব স্টেশনে কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। 
উত্তরা পূর্ব থানায় আগুন
রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে উত্তরা পূর্ব থানায় অগ্নিসংযোগের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস। বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার লিমা খানম বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে উত্তরা পূর্ব থানায় অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে বলে একটি সংবাদ আসে। এরপর আমাদের দুইটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করেছে। তবে থানায় কে বা কারা আগুন দিয়েছে তা জানা যায়নি। এদিকে মিরপুর কাজীপাড়ায় কোটা সংস্কার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। শিক্ষার্থীরা মিরপুর ১০ নম্বর এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে কাজীপাড়ায় অবস্থান নেয়। পুলিশ তাদের বাধা দিলে শিক্ষার্থীরা পাল্টা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশের টিয়ারশেল ছোড়ার পর শিক্ষার্থীরা পুলিশের একটি বক্সে আগুন ধরিয়ে দেয়। সংঘর্ষের ফলে পুরো এলাকা থমথমে হয়ে ওঠে।
বাড্ডা-রামপুরায় সংঘর্ষে নিহত ১, আহত শতাধিক
রাজধানীর বাড্ডা-রামপুরা এলাকায় পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘাতে একজন নিহত ও শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ফরাজি হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জানা গেছে, নিহতের নাম দুলাল মাতবর। তিনি পেশায় ড্রাইভার। সংঘাতের সময় তিনি একটি হাইএস গাড়ি চালিয়ে ওই এলাকা পার হচ্ছিলেন। হাসপাতালের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার রুবেল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহের বুকের কাছে একটি গোল ক্ষত চিহ্নিত দেখা গেছে। তবে এটি বুলেটের ক্ষত কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তিনি জানান, আহত হয়ে হাসপাতালে প্রায় ১০০ জন পুলিশ ও শিক্ষার্থী এসেছেন। তাদের চিকিৎসা দিতে হাসপাতালের কর্মীরা হিমশিম খাচ্ছেন। আমাদের চিকিৎসক ও কর্মীরা আহতদের সারিয়ে তুলতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।  
সায়েন্সল্যাবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ
সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে দেশব্যাপী সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করতে গিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়ায় পুলিশ।   বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে প্রথমে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পুলিশ। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে তারা। এতে আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলেও পরবর্তীতে আরও আন্দোলনকারী যোগ দিলে আবারও অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেন তারা। ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে বিক্ষোভ চালাতে থাকেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় বেশ কয়েক দফায় পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয় তাদের। ঘটে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষের ঘটনাও। এতে মিরপুর রোডে যানবাহনের উপস্থিতি একেবারেই কমে গেছে। এদিকে সকাল থেকেই সায়েন্সল্যাব ও নিউমার্কেট এলাকায় বন্ধ ছিল অধিকাংশ দোকানপাট। যেগুলো খোলা ছিল সংঘর্ষ শুরুর পর তাও বন্ধ হয়ে যায়।