• ঢাকা বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১
logo
না ফেরার দেশে স্বর্ণজয়ী শুটার আতিকুর
সাকিবের অ্যাঞ্জেলেসের ম্যাচসহ টিভিতে আজকের খেলা
মেজর লিগ ক্রিকেটে আজ (১৭ জুলাই) আছে দুটি ম্যাচ। অন্যদিকে বিকেলে হামবুর্গ ওপেনের শেষ ষোলো পর্বও আছে। মেজর লিগ ক্রিকেট নিউইয়র্ক–ওয়াশিংটন সকাল ৬টা ৩০ মিনিট, সনি স্পোর্টস টেন ৫ সিয়াটল–লস অ্যাঞ্জেলেস রাত ১টা, সনি স্পোর্টস টেন ৫ পঞ্চম নারী টি–টোয়েন্টি  ইংল্যান্ড–নিউজিল্যান্ড রাত ১১টা, সনি স্পোর্টস টেন ১ টেনিস হামবুর্গ ওপেন বিকেল ৪টা, ইউরোস্পোর্ট সাইক্লিং ট্যুর ডি ফ্রান্স রাত ৮টা, ইউরোস্পোর্ট
কোপার ফাইনালসহ টিভিতে আজকের খেলা
উইম্বলডনের নতুন রানি ক্রেইচিকোভা
ইউরোর ফাইনালসহ টিভিতে আজকের খেলা
মুসেত্তিকে উড়িয়ে ফাইনালে জোকোভিচ
ইউরোর সেমিফাইনালসহ টিভিতে আজকের খেলা
ইউরোর দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আজ (১০ জুলাই) ইংল্যান্ডের মুখোমুখি নেদারল্যান্ডস। অন্যদিকে কোপার সেমিফাইনালে বৃহস্পতিবার উরুগুয়ের মুখোমুখি কলম্বিয়া। এ ছাড়াও আছে বেশ কিছু খেলা। মেজর লিগ ক্রিকেট লস অ্যাঞ্জেলেস–সিয়াটল সকাল ৬টা ৩০ মিনিট, সনি স্পোর্টস টেন ৫ ইউরো : দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ইংল্যান্ড–নেদারল্যান্ডস রাত ১টা, টি স্পোর্টস ও সনি স্পোর্টস টেন ২ লর্ডস টেস্ট : প্রথম দিন ইংল্যান্ড–ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিকেল ৪টা, সনি স্পোর্টস টেন ১ তৃতীয় টি–টোয়েন্টি জিম্বাবুয়ে–ভারত বিকেল ৫টা, সনি স্পোর্টস টেন ৫ উইম্বলডন কোয়ার্টার ফাইনাল বিকেল ৪টা, স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১ ও ২ লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ কলম্বো–জাফনা বেলা ৩টা ৩০ মিনিট, টি স্পোর্টস ও স্টার স্পোর্টস ৩ গল–ক্যান্ডি রাত ৮টা, টি স্পোর্টস ও স্টার স্পোর্টস ৩
হজ পালন করে শুকরিয়া আদায় সানিয়ার
পাকিস্তানি ক্রিকেটার শোয়েব মালিকের সঙ্গে ডিভোর্স হওয়ার পর থেকে সানিয়া মির্জার বিয়ে নিয়ে নানা গুঞ্জন উঠেছিল। সবশেষ ভারতীয় পেসার মোহাম্মদ শামির সঙ্গে নেটিজেনদের তৈরি করা একটি বিয়ে ছবি ভাইরাল হয়েছিল। এর মধ্যেই হজ পালনের ঘোষণা দিয়েছিলেন ভারতের সাবেক টেনিস তারকা।  সম্প্রতি সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে তার। তাই খুশিতে শুকরিয়া আদায় করেছেন তিনি। গতকাল (রোববার) নিজের ভেরিফায়েড ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পবিত্র কাবা শরিফ এবং মসজিদ-ই-নববির বেশ কিছু ছবি শেয়ার করেছেন সানিয়া।  পোস্টের ক্যাপশনে সৃষ্টিকর্তার নিকট শুকরিয়া আদায় এবং আন্তরিক অনুভূতি প্রকাশ করে হজ পালনকে ‘জীবনের যাত্রা’ হিসেবেও উল্লেখ করেন গ্র্যান্ডস্লাম জয়ী এই তারকা।  পোস্টে তিনি আরও লিখেছেন, এটা এমন একটি জায়গা, যা প্রতিটি মুসলমানের হৃদয়ে গভীরভাবে গাঁথা। আমি আজীবন লালন করার মতো একটি সফর করেছি। এটা আমার শরীর এবং আত্মার জন্য এমন একটি অভিজ্ঞতা, যা আমি কল্পনাও করতে পারিনি। কোটি কোটিবার আলহামদুলিল্লাহ এবং সুবহানআল্লাহ। কালো রঙের কাবা ঘরে হাত রেখে একটি ছবি দিয়ে তিনি পোস্টটির সূচনা করেন। আরেকটি ছবিতে ফুটে উঠেছে মক্কা গ্র্যান্ড মসজিদের পুরো প্রাঙ্গণ। যেখানে পবিত্র কাবা শরিফকে প্রদক্ষিণ করতে দেখা গেছে হজ করতে আসা হাজার হাজার মুসল্লিকে।   এর আগে হজ পালনের ঘোষণা দিয়ে সানিয়া লিখেছিলেন, আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও সৌভাগ্যবান যে এবার পবিত্র হজে শামিল হওয়ার মতো দারুণ একটি সুযোগ পেয়েছি। এই অভিজ্ঞতা অর্জনে আমি প্রস্তুত, আমার যেকোনো ধরনের অপরাধ বা ভুল আচরণের জন্য ক্ষমা চাচ্ছি।  ‘আত্মশুদ্ধি এবং আধ্যাত্মিক পুনর্জীবন লাভের এমন সুযোগ (হজ পালনে) পাওয়ায় আমার মন কৃতজ্ঞতায় ভরে গেছে। আল্লাহ আমার সব প্রার্থনা কবুল করুন এবং তার পথে অবিচল রাখুন।’
বাবার কবরের পাশে শায়িত হলেন গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর
বাবা পয়গাম উদ্দিন আহমেদকে অনুসরণ করে দাবায় এসেছিলেন গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান। আর গতকাল দাবা খেলতে খেলতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। তাই তার বাবার কবরের পাশেই বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্রকে দাফন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শনিবার (৬ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় পর দাবা ফেডারেশন প্রাঙ্গণে জিয়াউরের প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়। দাবা ফেডারেশন থেকে মরদেহ মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডে তার নিজ এলাকায় নেওয়া হয়। বাদ যোহর সেখানকার স্থানীয় এক মসজিদে জানাজা সম্পন্ন হলে, তাজমহল রোডের কাছে বাবার কবরের পাশে চির নিদ্রায় শায়িত হয়েছেন জিয়াউর। শুক্রবার (৫ জুলাই) এনামুল হোসেন রাজীবের বিপক্ষে ভালো পজিশনেই ছিলেন আরেক গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান। হঠাৎই দাবা ফেডারেশনের রুমে দুই দাবাড়ু শাকিল ও নাইম হন্তদন্ত হয়ে দৌড়ে এসে জানান, ‘জিয়া ভাই মাথা ঘুরে পড়ে গেছে।’ সেখান থেকে আর ফেরা হলো না দেশের জনপ্রিয় এই গ্র্যান্ডমাস্টারের। চলে গেলেন পরপারে (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। জিয়ার অসুস্থ হওয়ার খবর শুনেই সবাই দ্রুত ছুটে যান দাবা বোর্ডের রুমে। সবাই তড়িঘড়ি করে তাকে ধরে নিচে নামান। জিএম রাজীবের গাড়িতে করে শাহবাগের ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় জিয়াকে। মাত্র নয় মিনিটে পল্টনের দাবা ফেডারেশন থেকে হাসপাতালে আনা হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের ডাক্তাররা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জাতীয় দাবায় এবারও সন্তান তাহসীন তাজওয়ারকে নিয়ে অংশ নিয়েছিলেন জিয়া। উৎসাহ যোগাতে বরাবরের মতো এদিনও ফেডারেশনে এসেছিলেন স্ত্রী লাবন্য। প্রিয় দুই মানুষের সামনেই চলে যান। দেশ হারায় প্রথম কোন গ্র্যান্ডমাস্টারকে।
গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াকে ক্রীড়াঙ্গনের শ্রদ্ধা
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পুরাতন ভবনের তৃতীয় তলায় অর্থ্যাৎ বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনে চলছিল জাতীয় দাবা চ্যাম্পিয়নশিপের ১২তম রাউন্ডের খেলা। গতকাল শুক্রবার এনামুল হোসেন রাজীবের বিপক্ষে ভালো পজিশনেই ছিলেন আরেক গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান। তবে খেলাটি আর শেষ করা হয়নি জিয়ার। জীবনের দীর্ঘ সময় যেখানে কাটিয়েছিলেন, সেই দাবা ফেডারেশনেই ম্যাচ চলাকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন দেশসেরা এই দাবাড়ু। শনিবার (৬ জুলাই) সকালে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে আবারও জিয়া এসেছিলেন, কিন্তু নিথর দেহ নিয়ে। এ সময় দেশের অন্যতম সেরা ক্রীড়াবিদকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন ক্রীড়াঙ্গনের অনেকেই।  জিয়ার চলে যাওয়া দাবার অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে দেখছেন দাবা ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শাহাবুদ্দিন শামীম।  তিনি বলেন,‌ অনেকেই টুর্নামেন্টের পুরস্কার ও নানান সুযোগ-সুবিধা কম হলে খেলতে চাইতেন না। জিয়া কখনও এরকম ছিলেন না। সব টুর্নামেন্টেই তিনি অংশগ্রহণ করতেন। যেন অন্যরা তার মাধ্যমে শিখতে পারে। তাই জিয়ার স্মৃতি ধরে রাখার পরিকল্পনা ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদকের। তিনি আরও বলেন, আমাদের আলাদা একটি ফ্লোর পাওয়ার কথা ছিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মধ্যেই। সেখানে গ্র্যান্ডমাস্টার কর্নারের পরিকল্পনা ছিল। সেটা যতদিন না হয় আমরা বর্তমান ক্রীড়াকক্ষই জিয়ার নামকরণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞানে পড়াশোনা করেও উন্নয়ন সেক্টরে চাকরি নেননি। দাবা খেলে এবং কোচিং করিয়েই পরিবার চালিয়েছেন। তার স্ত্রী তাসমিন সুলতানা লাবণ্য বিসিএস ক্যাডারে যোগদান করেননি স্বামীর দাবাপ্রেমের জন্যই। একমাত্র ছেলে তাহসিন তাজওয়ারও ফিদে মাস্টার। বাবা-ছেলে অলিম্পিয়াডও খেলেছেন। জিয়াই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।  জিয়ার জানাজায় এসেছিলেন ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম অভিভাবক বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের (বিওএ ) মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা। বিওএ এবং তিনি নিজ থেকেও জিয়ার পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন। শাহেদ রেজা বলেন, জিয়া শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্ব দাবা অঙ্গনে একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি ছিলেন। বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন আর্থিক ব্যাপারে তার পরিবারের পাশে থাকবে। ব্যক্তিগতভাবে আমিও জিয়ার পরিবারের জন্য আর্থিক-অনার্থিক যেকোনো প্রয়োজনে এগিয়ে আসব। জিয়া জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ আনসারের হয়ে খেলেছিলেন। আনসারের হয়ে খেলতে খেলতেই দুনিয়া ছাড়লেন তিনি। আজ জানাজায় আনসারের ক্রীড়া কর্মকর্তা প্রতিষ্ঠানের বিধি অনুযায়ী জিয়ার সাহায্য পাওয়ার কথা জানান। এদিন ক্রীড়া পরিষদে জিয়ার জানাজায় এসেছিলেন দেশের দুই সর্বকনিষ্ঠ গ্র্যান্ডমাস্টার আবদুল্লাহ আল রাকিব ও এনামুল হোসেন রাজীব। গতকাল রাজীবের সঙ্গে খেলতে খেলতেই জিয়া মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তার মাথায় এখনও ঘুরে সেই স্মৃতি। রাজীব বলেন, ২৫ চাল পর্যন্ত হয়েছিল খেলার। জিয়া ভাইয়ের পজিশন ভালোই ছিল। একবারের জন্যও মনে হয়নি সে অসুস্থ বা একটু অন্যরকম। তার একটি চাল মনে হয়েছিল খুবই সাধারণ, কিছুক্ষণ পর বুঝলাম খুবই ভালো চাল ছিল। তিনি বলেন, সে সবচেয়ে বেশিবার জাতীয় চ্যাম্পিয়ন। একসময় তার পজিশনিং অবস্থান ছিল বিশ্বের মধ্যে অন্যতম। ডিফেন্সিভ ওপেনিং-অ্যাটাকিং সবই তার সমান দক্ষতা ছিল। জিয়া ভাই অনেকদিন বলতেন কিংস ইন্ডিয়ান ডিফেন্স খেলি না কেন আমি। গতকাল সেটাই খেলছিলাম। খেলাটা আর শেষ হলো না। পাঁচ গ্র্যান্ডমাস্টারের মধ্যে জিয়া এবং রাজীবই কোচিং করান। কোচ জিয়াও খেলোয়াড় জিয়ার চেয়ে কম নন– অকপটেই বললেন রাজীব, তার বাসায় ভারত থেকে দাবাড়ুরা এসে খেলা শিখত। তার অনেক ছাত্র ভারতে গ্র্যান্ডমাস্টার হয়েছে, আরও অনেক টাইটেল জিতেছে। কোচ হিসেবেও তিনি অনেক সফল। সকাল সোয়া এগারোটার দিকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নিচে জিয়ার লাশবাহী গাড়ি পৌঁছায়। সেখানে আধঘণ্টার একটু বেশি সময় রাখা হয় তার লাশ। এরপর মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডের উদ্দেশে নেওয়া। সেখানেই আরেক দাবাড়ু বাবা পয়গম আহমেদের পাশে চিরশায়িত হবেন গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়া। শেষবারের মতো দেখতে ছুটে এসেছিলেন দাবা অঙ্গনের অনেকেই। জিয়ার পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতার গণ্ডি দাবা ছাড়িয়ে সামগ্রিক ক্রীড়াঙ্গনেই ছিল। তার কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে দেশের অন্যতম শীর্ষ ক্রীড়া সংস্থা অলিম্পিক এসোসিয়েশন, দাবা ফেডারেশন, বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস এসোসিয়েশন, দাবা, তায়কোয়ান্দো ফেডারেশন।  ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন না করলেও জিয়ার জানাজায় উপস্থিত ছিলেন হ্যান্ডবল, অ্যাথলেটিক্স, ব্যাডমিন্টন, ভলিবল, সাইক্লিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও বিভিন্ন ফেডারেশনের খেলোয়াড়-কর্মকর্তারা। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম এলাকার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া ফেডারেশন ফুটবল (বাফুফে) থেকে কাউকে দেখা যায়নি।