• ঢাকা বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১
logo
আজ নেলসন ম্যান্ডেলার জন্মবার্ষিকী
স্কুলের ভবন ধসে নাইজেরিয়ায় বহু হতাহতের আশঙ্কা 
আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ায় ক্লাস চলাকালে একটি দোতালা স্কুল ধসে পড়ে বহু শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুলাই) সকালে দেশটির প্লাথু রাজ্যে এই ঘটনা ঘটে।  স্থানীয় একটি টিভি চ্যানেলের খবরে এই ঘটনায় অন্তত ১২ শিশুর মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ এখনও কতজন শিক্ষক-শিক্ষার্থী আহত ও নিহত হয়েছেন তা নিশ্চিত করেনি। নাইজেরিয়ার ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি জানিয়েছে, উদ্ধারকারী, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় অনেক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। প্লাথু রাজ্যের তথ্য কমিশনার মুসা আশোমস এক বিবৃতিতে বলেছেন, প্রায় ১২০ জন আটকা পড়েছিলেন। অনেককে উদ্ধার করা হয়েছে। আহতরা যাতে দ্রুত চিকিৎসা পান সে কারণে সরকার স্থানীয় হাসপাতালগুলোকে কোনো ধরনের কাগজপত্র ও অর্থ ছাড়া সেবা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই ট্র্যাজেডির জন্য রাজ্য সরকার স্কুলের দুর্বল অবকাঠামো এবং নদীতীরের কাছে অবস্থানকে দায়ী করেছে। একইসঙ্গে এই ধরনের ঘটনা এড়াতে যেসব স্কুলের অবকাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে সেগুলো বন্ধ করে দেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা
দ. আফ্রিকায় স্কুলবাস উল্টে প্রাণ গেল ১২ শিশুর 
মালিতে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ৪০
ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পিছু হটলেন কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট
কেনিয়ার পার্লামেন্টে আগুন,পুলিশের গুলিতে নিহত অন্তত ১০
হজে গিয়ে ৪৯ তিউনিসিয়ানের মৃত্যু, মন্ত্রী বরখাস্ত
সৌদি আরবের মক্কা নগরীতে হজে রেকর্ড পরিমাণ তিউনিসিয়ান নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ধর্মমন্ত্রী ব্রাহিম চাইবিকে বরখাস্ত করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট কায়েস সাঈদ।  এ মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট। শুক্রবার প্রেসিডেন্ট অফিস এ তথ্য জানিয়েছে। খবর রয়টার্সের। পবিত্র নগরী মক্কায় হজ পালন করতে গিয়ে ৪৯ তিউনিসিয়ার মৃত্যু হয়।  সৌদি আরবে গত সপ্তাহে প্রচণ্ড গরমের কারণে তাদের মৃত্যু হয় বলে জানা যায়।  হজ করতে গিয়ে দেশটির যেসব হাজি নিখোঁজ হয়েছেন তাদের খুঁজে বেরাচ্ছে পরিবার।  এবারের হজে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে মিশরীদের।  ৫৩০ মিশরীয় হজে মারা গেছেন। প্রচণ্ড গরমের কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নিখোঁজ রয়েছেন ৩১ জন।  এবারের হজে মক্কায় তাপমাত্রা ৫১ ডিগ্রি অতিক্রম করে।  গত শুক্রবার থেকে হজের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। এবার প্রায় ২০ লাখ মানুষ মক্কায় হজ পালন করেছে।    
আদালতে বিচারককে পুলিশ কর্মকর্তার গুলি 
কেনিয়ার একটি আদালতে বিচারককে গুলি করেছেন দেশটির এক পুলিশ কর্মকর্তা। এ সময় অপর পুলিশ সদস্যের গুলিতে ওই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) দেশটির রাজধানী নাইরোবিতে এ ঘটনা ঘটে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে। গুলিবিদ্ধ বিচারকের নাম মনিকা কিভুতি। বিচারককে গুলি করা ওই পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী জড়িত, এমন একটি মামলার রায়ের পর তাকে গুলি করা হয়। বিচারকের রায়ে ক্ষুব্ধ হন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। রায়ে পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তার জামিন বাতিল করা হয়েছিল। বিচারককে গুলি করা পুলিশ কর্মকর্তাকে স্যামসন কিপচিরচির কিপ্রুতু হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলীয় লন্ডিয়ানির একটি পুলিশ স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তিনি। রায় ঘোষণার সময় জামিন বাতিলের পর বিচারককে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন তিনি। এতে বিচারক আহত হন। আদালতে থাকা অপর পুলিশ সদস্যরা দ্রুত পদক্ষেপ নেন। এক পুলিশ সদস্য কিপ্রুতুকে গুলি করেন। এতে তিনি নিহত হন।  পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সময় আরও তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বিচারক ও আহত পুলিশ সদস্যদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।  
নাইজেরিয়ার স্থপতির সৃষ্টি বিশ্বের নজর কাড়ছে
বুর্জ খালিফা বা ধনীদের বিলাসবহুল ভবনের মতো স্থাপত্যের নিদর্শনের সন্ধানে সাধারণত আফ্রিকার প্রসঙ্গ উঠে আসে না৷ নাইজেরিয়ার এক স্থপতি আফ্রিকা মহাদেশকেও স্থাপত্যের মঞ্চে স্থান দেওয়ার চেষ্টা করছেন৷ এই স্থপতির ডিজাইন শুধু কাজ চালানোর বদলে সমস্যা সমাধানের লক্ষ্য পূরণ করে৷ কিন্তু স্থাপত্যের ক্ষেত্রে ভবনগুলি কেন মানুষের চাহিদা পূরণের বদলে প্রযুক্তিগত মানদণ্ডের শর্ত পূরণ করার লক্ষ্যে ডিজাইন করা হয়? আকোসে এনেবেলি কীভাবে ঠিক সে ক্ষেত্রেই পরিবর্তন আনছেন? নিজের ভাবনা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, আমরা আমাদের ডিজাইনের ক্ষেত্রে মানুষকেই কেন প্রাধান্য দেই। কারণ মানুষই বেশিরভাগ ভবনের চূড়ান্ত ব্যবহারকারী৷ এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা বাসা থেকে দূরে গেলে সত্যি আবার ফিরে আসার তাগিদ অনুভব করেন৷ কারণ সেটাই তাদের আশ্রয়ের জায়গা৷ ফলে মানুষ বা চূড়ান্ত ব্যবহারকারীরাই আমাদের বেশিরভাগ ডিজাইনের মূল লক্ষ্য৷ কিন্তু প্রশ্ন হলো, লাগোসের মতো জনবহুল শহরে আকোসে কীভাবে এমন স্পেস সৃষ্টি করতে পারেন? এই প্রশ্নের উত্তরের আগে জানা যাক, তিনি আদৌ কেন স্থপতি হয়ে উঠলেন৷ স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আকোসে বলেন, সত্য ঘটনা হলো, স্থাপত্যই আমাকে বেছে নিয়েছে৷ আমি সেটা বারবার বলি, কারণ সেই দুই বছর বয়স থেকেই আমি আঁকছি৷ আসলে বাড়িঘর এঁকে চলেছি৷ এ প্রসঙ্গে আমার বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই, কারণ তিনি এখনো বেশিরভাগ ড্রয়িং রেখে দিয়েছেন৷ সেকেন্ডারি স্কুল শেষ করার সময় সবাই ভাবনাচিন্তা শুরু করে, আমি ডাক্তার হতে চাই, ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই৷ আমি ঠিক করেছিলাম, হয় স্থপতি হবো, না হলে কিছুই করবো না৷ স্কুলে নির্দিষ্ট একটি ঘটনা আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছিল, যে আমি স্থাপত্যের জন্য প্রস্তুত৷ আমরা যখন স্কুলে ছিলাম, তখন স্কেচ ও ড্রয়িং করতাম৷ তখনো কম্পিউটার-ভিত্তিক ডিজাইন তেমন ছড়িয়ে পড়েনি৷ আমার আঁকা এতই নিখুঁত ছিল, যে আমার লেকচারার একবার প্রায় ফেল করিয়ে দিয়েছিলেন৷ কারণ তিনি নিশ্চিত ছিলেন, যে আমি কম্পিউটার ব্যবহার করে সেটা এঁকেছি৷ সেই মুহূর্তটি কখনো ভুলবো না৷ কারণ মনে হয়েছিল আমি সত্যি কোনো ভালো কাজ করছি৷  আকোসে এনেবেলি এল আর্ক ডিজাইন্স কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ও কর্ণধার৷ বেশ কয়েক বছর ধরে সেই সংস্থা ভিন্নধর্মী ও ডিসরাপটিভ ডিজাইন সৃষ্টি করে চলেছে৷ নাইজেরিয়ার অনেক ধনী ব্যক্তির বাসার নক্সাও করে দিয়েছে তারা৷ কিন্তু নিজের ডিজাইনের মাধ্যমে তিনি কীভাবে এই শিল্পখাতে ডিসরাপশন বা বিঘ্ন ঘটান? সেই মনোভাবের ব্যাখ্যা করে আকোসে এনেবেলি বলেন, আমাদের ডিজাইনের মধ্যে টেকসই প্রণালী সম্পৃক্ত করতে আমরা সব সময়ে উপকরণের দিকে নজর দেই৷ এ ক্ষেত্রে দেখতে পাচ্ছেন, আমরা কীভাবে দেওয়ালে পাথর ব্যবহার করেছি৷ পাথর এক প্রাকৃতিক উপাদান, যে কারণে প্রায় কোনো রক্ষণাবেক্ষণেরই প্রয়োজন হয় না বলা চলে৷ তাই আমরা টেকসই উপাদান ও জ্বালানি সাশ্রয়ের দিকে নজর দেওয়ার চেষ্টা করি৷ এই ভবনে সব কাচই ডাবল গ্লেজড যা বাড়ির মধ্যে উত্তাপ কমিয়ে দেয়৷ ফলে বিদ্যুতের ব্যবহারও কমে যায়৷ ভবন শীতল থাকে৷ তাই ভবনের ডিজাইনের সময়ে আমরা টেকসই উপাদান সম্পৃক্ত করি৷ শতবর্ষের বেশি প্রাচীন আন্তর্জাতিক ডিজাইন কর্তৃপক্ষের তালিকায় নাইজেরিয়ার প্রথম স্থপতি হিসেবে তিনি স্থান পেয়েছেন৷ অনেকেই সেই স্বীকৃতির স্বপ্ন দেখেন৷ স্থাপত্যের ক্ষেত্রে আকোসের কীর্তি মানুষের চাহিদা পূরণ করে৷ কিন্তু এই শিল্পখাতে কিছু চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও তিনি কীভাবে নিজের আইডিয়া কার্যকর করেন এবং নিজস্ব উদ্যোগ চালিয়ে যান? এর উত্তরে আকোসে বলেন, বাণিজ্যিক স্থাপনার ক্ষেত্রে আমরা যে কোনো ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করি৷ বেশিরভাগ ব্র্যান্ডের নিজস্ব পরিচয় রয়েছে৷ তারা নিজস্ব ব্র্যান্ডের প্রতিনিধি হিসেবে কিছু উপাদান একত্র করেন৷ আমরা সেই ভবনের মধ্যেই সেই সব উপাদান সম্পৃক্ত করে সেই স্পেসের সঙ্গে ব্র্যান্ডের মেলবন্ধন ঘটানোর চেষ্টা করি৷ যে কেউ সেই স্থাপনায় প্রবেশ করলে আপনার ব্র্যান্ডের বৈশিষ্ট্য বুঝতে পারবে৷ যেমন ব্র্যান্ডে হলুদ রং থাকলে আমরা সেই রং ব্যবহারের চেষ্টা করি৷ হলুদ রং অবশ্যই মনমেজাজ চাঙ্গা করে তোলে৷ তাই আমরা সেই স্পেসের মধ্যে সেটা কোনোভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করি৷ আবেগপ্রবণ স্থপতি হিসেবে তিনি অ্যাফ্রোবিটস সংগীতশিল্পী বার্না বয়ের মতো নাইজেরিয়ার শীর্ষ স্তরের খ্যাতিমান ব্যক্তিদের জন্য ভবন ডিজাইন করেছেন৷ তিনি উদ্ভাবনের কাজ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি উচ্চ মানদণ্ডও বজায় রাখার চেষ্টা করছেন৷ উদাহরণ হিসেবে একটি প্রকল্পের বিষয়ে আকোসে বলেন, আমাদের ডিজাইনের মধ্যে আমরা এমন একটা ধারণা সৃষ্টি করতে চেয়েছিলাম, যে সুইমিং পুল ভবনটিকে যেন ছুঁয়ে রয়েছে৷ পরিকল্পনা থেকে শুরু করে নির্মাণের সময় পর্যন্ত আমাদের মনে সেই ধারণা কাজ করেছে৷ আমরা সেই ডিজাইনকে ইন্টারেস্টিং করে তুলতে বসার ঘরটিকে সুইমিং পুলের উপর ভাসমান অবস্থায় রাখতে চেয়েছিলাম৷ প্রাথমিক ভাবনাচিন্তার সময় আমাদের মনে সেই আইডিয়া এসেছিল, যদিও সেটা পাগলামি মনে হয়েছিল৷ তারপর আমরা আরো এক ধাপ এগিয়ে বসার ঘরকে শুধু পুলের উপর ভাসমান করে তুলেই ক্ষান্ত হইনি৷ ভবনের একটি অংশ এমনভাবে গড়ে তুলেছি যে, সেখানে যেতে হলে পুলের উপর দিয়ে হেঁটে যেতে হয়৷ সেই ইন্টারেস্টিং চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে শেষ পর্যন্ত আমরা সেই পরিকল্পনা কার্যকর করতে সমর্থ হয়েছি৷ কাঠামোর ঊর্ধ্বে ভাবনাচিন্তা করা কেন আকোসের জন্য জরুরি? সেই মনোভাব কীভাবে সমাজে স্থাপত্যের ভূমিকায় পরিবর্তন আনতে পারে? আকোসে এনেবেলি বলেন, সম্ভাবনার সীমা ঠেলে দেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা বিশ্বের দরবারে নাইজেরিয়ার স্থাপত্য নিয়ে আমাদের গর্ব তুলে ধরারও চেষ্টা করি৷ আমি নিশ্চিত, যে আমাদের সৃষ্টি করা ভবনগুলি দেখলে অনেকে বিশ্বাসই করেন না, যে সেগুলি নাইজেরিয়ায় থাকতে পারে৷ আমার মনে আছে, যখন ইগালো ও বার্না বয়ের ভবন দেখিয়েছিলাম, তখন অনেকে সে রকমটা আশা করেনি৷ এমন প্রকল্প আসলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ আমরা নাইজেরিয়ার সেলিব্রিটি লিভিং তুলে ধরেছিলাম৷ সবাই এখন জানতে চাইছে, আফ্রিকা থেকে নতুন কী উঠে আসছে৷ আমরাও সেটা করার চেষ্টা করছি৷ নাইজেরিয়া তথা আফ্রিকার দিকে আর মুখ ফিরিয়ে রাখলে চলবে না৷ নান্দনিকতার প্রতি নজর দেওয়ার পাশাপাশি স্থপতিদের বড় আকারে সমস্যার সমাধানকারীর ভূমিকাও পালন করতে হয় বলে আকোসে মনে করেন৷ বাস্তব জগতে মানুষের চ্যালেঞ্জগুলির ভিত্তিতে নগরের পরিবেশ ও সামাজিক এলাকাগুলিতেও রদবদল আনতে হয়৷ তার মতে, উদ্দেশ্য সামনে রেখে ডিজাইন করা উচিত৷ প্রচলিত ধ্যানধারণাও চ্যালেঞ্জ করা উচিত৷
বিমান বিধ্বস্ত হয়ে মালাউইয়ের ভাইস প্রেসিডেন্টসহ নিহত ১০
বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পূর্ব আফ্রিকার দেশ মালাউইয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট সাওলোস চিলিমা নিহত হয়েছেন। এছাড়াও প্রাণ হারিয়েছেন বিমানটিতে থাকা আরও ৯ জন।  মঙ্গলবার (১১ জুন) দেশটির সরকার এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টাইমস নাউ। এর আগে চিলিমাকে বহনকারী বিমানটি নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়। দেশটির সেনাবাহিনীর এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, তারা ধারণা করছেন বিমানটি চিকানগাওয়ার জঙ্গলে বিধ্বস্ত হয়েছে। কিন্তু এটি এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি বিধ্বস্ত হয়েছে এবং বিমানটির সব আরোহী নিহত হয়েছেন। মালাউইয়ের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কমান্ডার পল ভেলেন্তিনো ফিরি আজ মঙ্গলবার (১১ জুন) জানিয়েছিলেন, ঘন জঙ্গল এবং কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যহত হচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, সোমবার (১০ জুন) সকালে রাজধানী লিলংওয়ে ছেড়ে যাওয়ার পর মালাউই প্রতিরক্ষা বাহিনীর ওই বিমানটি ‘রাডারের বাইরে চলে যায়’। বিমানটির স্থানীয় সময় সকাল ১০টার পরে দেশের উত্তরে অবস্থিত মজুজু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা ছিল। সোমবার গভীর রাতে দেওয়া এক বক্তৃতায় প্রেসিডেন্ট লাজারাস চাকভেরা বলেন, ভাইস প্রেসিডেন্টকে বহনকারী বিমান নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর আগে প্রেসিডেন্ট চাকভেরা তার বাহামাস সফরে যাওয়ার ফ্লাইট বাতিল করেন। সোমবার সন্ধ্যায় ওই সফরে তার রওনা হওয়ার কথা ছিল। সোমবার বিমানটি নিখোঁজ হওয়ার কথা বলা হলেও আজ মঙ্গলবার এটি বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তিনি সোমবার বিমানটিতে করে সদ্য প্রয়াত ক্যাবিনেট মন্ত্রী রালফ কাসাম্বারার শেষকৃত্যে অংশ নিতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু পথিমধ্যে তিনি নিজেই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন এবং তিনি নিজে নিহত হয়েছেন। সূত্র: দ্য সান, বিবিসি
মালাবির ভাইস প্রেসিডেন্টকে বহনকারী উড়োজাহাজ নিখোঁজ
আফ্রিকার দেশ মালাবির ভাইস প্রেসিডেন্ট সাওলোস চিলিমাকে বহনকারী দেশটির প্রতিরক্ষাবাহিনীর একটি উড়োজাহাজ নিখোঁজ হয়েছে। উড়োজাহাজটিতে প্রেসিডেন্ট  চিলিমা ছাড়া আরও ৯ আরোহী ছিলেন। সোমবার (১০ জুন) দেশটির প্রেসিডেন্টের দপ্তর ও মন্ত্রিসভা এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, চিলিমা ও অন্যদের নিয়ে প্রতিরক্ষা বাহিনীর উড়োজাহাজটি সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ১৭ মিনিটে রাজধানী লিলংওয়ে থেকে উড্ডয়ন করে। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে উড়োজাহাজটি গন্তব্যে অবতরণ করেনি। উড়োজাহাজটির কী হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: সিএনএন
লিবিয়া উপকূলে ১১ অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার
লিবিয়া উপকূল থেকে ১১ অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করেছে একটি উদ্ধারকারী দল। শুক্রবার (৭ জুন) উপকূলের কাছাকাছি এলাকা থেকে আরও দেড় শতাধিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এই তথ্য জানিয়েছে দাতব্য গোষ্ঠী ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ)। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে। এমএসএফ বলেছে, তাদের জিও বেরেন্টস অনুসন্ধান এবং উদ্ধারকারী জাহাজ দুটি অভিযানে ১৪৬ অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে। পরে আরেকটি পৃথক নৌকায় আরও ২০ জনকে পায় তারা। এ ছাড়া, উদ্ধারকাজে নিয়োজিত একটি বিমানের সাহায্যে সমুদ্রে আরও ১১ জনের মরদেহ উদ্ধার করে তারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে করা একটি পোস্টে এমএসএফ বলেছে, ‘এই ট্র্যাজেডির সুনির্দিষ্ট কারণ আমরা জানি না। তবে আমরা এটি জানি, মানুষ নিরাপত্তার জন্য মরিয়া হয়ে মারা যাচ্ছে। এর অবসান হওয়া উচিত।’ সী ওয়াচ গ্রুপের একটি বিমান ওই মরদেহগুলো দেখেছিল। মৃতদের উদ্ধার করার জন্য লিবিয়ার উপকূলরক্ষীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ  হয় তারা।  একটি বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি বলেছে, ‘ভূমধ্যসাগরে এটি ঘটে। এমনকি কেউ যদি তা না-ও দেখে’ অভিবাসীদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক সমুদ্র পথ ভূমধ্যসাগর। ২০১৪ সাল থেকে মধ্য ভূমধ্যসাগরে ২০ হাজারটিরও বেশি মৃত্যু এবং নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা তালিকাভুক্ত করেছে জাতিসংঘ।
তিউনিসিয়ায় ‘ভুয়া সংবাদ' প্রকাশ করায় সাংবাদিকের কারাদণ্ড
তিউনিসিয়ায় এক বছরের কারাদণ্ড হলো দুই সাংবাদিকের৷ নকল বা ভুয়া খবর প্রকাশ ও প্রচার ঠেকাতে প্রণয়ন করা আইন ‘ডিক্রি ৫৪' লঙ্ঘন করায় এ সাজা দেয়া হয় তাদের৷ বুধবার জনতার নিরাপত্তাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে এমন ভুয়া খবর প্রকাশের দায়ে দুই সাংবাদিককে এক বছরের কারাবাসের সাজা দেয় তিউনিসিয়ার আদালত৷  বোরহান বিসাইস ও মুরাদ জেঘিদি আইএফএম রেডিওতে কাজ করেন৷ দুজনকেই মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে গ্রেপ্তার করা হয় ডিক্রি ৫৪ ধারা ভঙ্গের অভিযোগে৷ এই ডিক্রি ৫৪ আইনটি ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পাস করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট কাইস সায়েদ৷ যা অভিযুক্ত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ভুয়া খবর ও গুজব ছড়ানোর অভিযোগে বোরহান বিসাইস ও মুরাদ জেঘিদিকে ছয়মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়, জানান তিউনিস আদালতের মুখপাত্র মোহামেদ জিতুনা৷ আরো ছয় মাসের সাজা দেওয়া হয় কারো অসম্মান করা, তাদের মানহানি ও নৈতিক বা বাস্তবিক ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে ভুয়া তথ্যযুক্ত খবর ছড়ানোর অভিযোগে৷ মামলা চলাকালীন বিয়াসিস বলেন, আমি একজন উপস্থাপক, যার কাজ অনুষ্ঠানে সব বিষয়কেই উপস্থাপন করা৷ যা করেছি, তা সাংবাদিকতাই ছিল৷ অন্যদিকে, জেঘিদি বলেন, আমি কোনো ভুল করিনি৷ আমার কাজের জন্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির বিশ্লেষণ জরুরি৷ তাই আমি সেই দায়িত্ব নিচ্ছি৷  ঘটনার প্রভাব দেশে ও বিদেশে ডিক্রি ৫৪ চালু হবার পর থেকে এখন পর্যন্ত ছয়জন সাংবাদিককে হাজতে পুরেছে তিউনিসিয়া কর্তৃপক্ষ, জানাচ্ছে দেশটির সাংবাদিকদের সংগঠন জার্নালিস্টস সিন্ডিকেট৷ মে মাসে, সাংবাদিক, আইনজীবীসহ সুশীল সমাজের মোট দশজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ৷ এই গ্রেপ্তারের ঘটনা ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয় আন্তর্জাতিক মহলে, বিশেষ করে জাতিসংঘ, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের পক্ষ থেকে৷ তিউনিসিয়ার সাংবাদিকদের জাতীয় ইউনিয়ন গত সপ্তাহে বিসাইস ও জেঘিদির গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়েছে৷