• ঢাকা বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১
logo
সবার আগে যে দুই দেশে পালিত হলো ঈদ
কলেরার প্রাদুর্ভাবে দ্বীপ ছেড়ে যাত্রা, ফেরিডুবিতে নিহত বেড়ে শতাধিক
আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলীয় দেশ মোজাম্বিকে ফেরিডুবির ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ২০ জন। এর আগে ফেরিডুবির এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৯০ বলে জানানো হয়েছিল। মূলত আফ্রিকার এই দেশটিতে দেখা দেওয়া কলেরার প্রাদুর্ভাব থেকে বাঁচতে লোকগুলো অন্য কোথাও পালাচ্ছিলেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।  মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোজাম্বিকের উত্তর উপকূলে ফেরি ডুবে ১০০ জনেরও বেশি লোক মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ফিলিপ ন্যুসি। সোমবার তিনি বলেছেন, এই ঘটনায় অন্তত ২০ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। মোজাম্বিকের মেরিটাইম ট্রান্সপোর্ট ইনস্টিটিউটের (ইন্ট্রাসমার) একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ১৩০ জন যাত্রী বহনকারী এই নৌযানটি আসলে একটি ওভারলোডেড ফিশিং বোট ছিল এবং এতে যাত্রী পরিবহনের লাইসেন্স ছিল না। সংস্থাটির প্রশাসক লোরেঙ্কো মাচাদো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেছেন, গত রোববার নামপুলা প্রদেশের লুঙ্গা থেকে মোজাম্বিক দ্বীপে যাচ্ছিল ফেরিটি। জোয়ারের ঢেউয়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে এটি ডুবে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।  নামপুলা প্রদেশের সেক্রেটারি অব স্টেটের অফিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যাত্রীরা কলেরা প্রাদুর্ভাবের কারণে পালিয়ে যাচ্ছিল বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পর ১০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং অন্তত ২০ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। এদিকে এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন মোজাম্বিকের প্রেসিডেন্ট ফিলিপ ন্যুসি। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তের জন্য দেশটির পরিবহনমন্ত্রীকে দ্বীপে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।  উল্লেখ্য, গত বছর থেকে কলেরার প্রাদুর্ভাবের সম্মুখীন হয়েছে মোজাম্বিক এবং আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলের দেশগুলো। মোজাম্বিকের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবর থেকে দেশটিতে ১৫ হাজার ৫১ জন কলেরায় আক্রান্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩২ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে শুধু নামপুলা প্রদেশে গত রোববার পর্যন্ত ৫ হাজার ৮৪ জন লোক কলেরায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১২ জন মারা গেছেন।
সৌদি ছাড়াও বুধবার যেসব দেশে ঈদ
এবার মরক্কোতে ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা
সেতু থেকে খাদে পড়ে ৪৫ বাসযাত্রীর মৃত্যু, অলৌকিকভাবে বেঁচে গেল শিশু 
জাহাজ ছিনতাইয়ে শিশুদের কাজে লাগাচ্ছে সোমালিয়ার জলদস্যুরা
ভূমধ্যসাগরে ৬০ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু
লিবিয়া থেকে ইউরোপ যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে রাবারের তৈরি নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে অন্তত ৬০ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এপি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্য ভূমধ্যসাগরে উদ্ধার হওয়া নৌকাটি থেকে বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা জানিয়েছেন, এক সপ্তাহের বেশি সময় আগে তারা লিবিয়া থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন। এসওএস মেডিটেরিয়ানি বলেছে, বুধবার ইতালির কোস্ট গার্ডের সঙ্গে সমন্বিতভাবে ২৫ জনকে খুব দুর্বল অবস্থায় উদ্ধার করেছে গোষ্ঠীটি। দুই অচেতন ব্যক্তিকে হেলিকপ্টারে করে সিসিলিতে নেওয়া হয়। কিন্তু পরে তারা মৃত্যুবরণ করেন।  এসওএস মেডিটেরিয়ানি এক্স বার্তায় জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অভিবাসনপ্রত্যাশীরা সাতদিন আগে লিবিয়া ছেড়েছিলেন। এর তিনদিন পর তাদের নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। পানি ও খাবার ছাড়াই কয়েকদিন ভাসতে থাকেন তারা।  জীবিতরা জানিয়েছেন, এ যাত্রায় অন্তত ৬০ জন মারা গেছেন যার মধ্যে মহিলা এবং একটি শিশু রয়েছে। তারা সবাই ক্ষুধা এবং তৃষ্ণায় মারা গেছেন। কেউ ডুবে মারা যাননি।   অনেকে নিখোঁজ হয়েছেন বলেও জানান তারা। উদ্ধারকৃতরা সবাই পুরুষ। এদের মধ্যে ১২ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। তারা সবাই সেনেগাল, মালি এবং গাম্বিয়ার অধিবাসী। এদিকে ইতালীয় কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) বলেছে যে তারা এই ঘটনায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। সামুদ্রিক টহল শক্তিশালী করতে এবং বিপর্যয় রোধ করতে জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন বলেও এক্স বার্তায় জানায় সংস্থাটি।  অভিবাসনের জন্য বিশ্বের ভয়াবহতম প্রাণঘাতী রুটে পরিণত হয়েছে মধ্য ভূমধ্যসাগর। জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর তথ্য অনুসারে, গত বছর এই রুটটি পাড়ি দিতে গিয়ে আড়াই হাজার অভিবাসীর মৃত্যু বা নিখোঁজ হয়েছেন। চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এই সংখ্যা ২২৬ জন।
যে দেশে রোজা না রাখলে গ্রেপ্তার করে পুলিশ
ক্ষমার মহান বার্তা নিয়ে সমহিমায় হাজির হয়েছে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস পবিত্র মাহে রমজান। পবিত্র এই মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ রোজা পালন করেন। এমন অবস্থায় নাইজেরিয়ায় পবিত্র রমজান মাসে রোজা না রাখা মুসলমানদের গ্রেপ্তার করছে দেশটির ইসলামিক পুলিশ। ইতোমধ্যে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূলত আফ্রিকার এই দেশটির একটি প্রদেশে রোজার মাসে দিনের বেলা খাবার খেতে দেখার পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাইজেরিয়া ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হলেও এখানকার ১২ প্রদেশে শরিয়া আইন চালু করা হয়। এই ১২ প্রদেশে মোট জনসংখ্যার মধ্যে মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকই সংখ্যাগরিষ্ঠ। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এসব প্রদেশের মধ্যে একটি হলো কানো। আর এখানকার ইসলামিক পুলিশ ‘হিসবাহ’ নামে পরিচিত এবং প্রতি বছর রমজান মাসে তারা খাবারের দোকান এবং বাজারে তল্লাশি চালিয়ে থাকে। গত মঙ্গলবার গ্রেপ্তারকৃত ১১ জনের মধ্যে ১০ জন পুরুষ এবং একজন নারী। গ্রেপ্তারের পর তারা আর ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা মিস করবে না বলে শপথ করার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। হিসবাহের মুখপাত্র লওয়াল ফাগে বিবিসিকে বলেছেন, আমরা মঙ্গলবার ১১ জনকে পেয়েছিলাম যার মধ্যে একজন নারীও ছিলেন, যিনি চিনাবাদাম বিক্রি করছিলেন এবং তাকে তার জিনিসপত্র থেকে খেতে দেখা গেছে এবং পরে কিছু লোক আমাদের এই বিষয়টি জানায়। তিনি বলেন, অনুসন্ধান ও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে অমুসলিমরা এই অভিযানের আওতার বাইরে। লওয়াল ফাগে বলছেন, আমরা অমুসলিমদের গ্রেপ্তার করি না। কারণ এটি (রোজা) তাদের পালন করার বিষয় নয়। শুধু একটি অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত হলেই আমরা অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করি। আর তা হচ্ছে, যাদের রোজা রাখার কথা, সেসব মুসলমানের কাছে বিক্রি করার জন্য যারা খাবার রান্না করে। যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তাদের সম্পর্কে ইসলামিক পুলিশের এই মুখপাত্র বলেন, তারা এখন থেকে রোজা রাখা শুরুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে মুক্তি পেয়েছে এবং ‘তাদের মধ্যে কারও কারও পরিবার যেন তাদের পর্যবেক্ষণ করে, সে জন্য আমাদের তাদের আত্মীয় বা অভিভাবকদেরও ডাকতে হয়েছিল।
নাইজেরিয়ায় স্কুল চলাকালীন ২৮৭ শিক্ষার্থী অপহৃত
নাইজেরিয়ায় দুটি স্কুল থেকে ৩১২ জনকে অপহরণ করেছে বন্দুকধারীরা। এর মধ্যে অপহরণকারীদের হাত থেকে পালাতে সক্ষম হয়েছে ২৫ জন। পালিয়ে আসাদের মধ্যে একজন শিক্ষকও আছেন। স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কুরিগায় এ ঘটনা ঘটে। স্কুল দুটিতে অ্যাসেম্বলি চলছিল ওই সময়। খবর বিবিসির।    প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, স্কুল প্রাঙ্গণে অ্যাসেম্বলি চলার সময় মোটরসাইকেলে করে সেখানে ঢুকে পড়ে কয়েকজন বন্দুকধারী। অপহৃত শিক্ষার্থীদের বয়স ৮ থেকে ১৫ বছর। কুরিগা শহরটি নাইজেরিয়ার কাদুনা রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। এ রাজ্যের গভর্নর উবা সানি অপহরণের খবরটি নিশ্চিত করে বলেন, একটি সরকারি মাধ্যমিক স্কুল থেকে ১৮৭ জন ও প্রাথমিক স্কুল থেকে ১২৫ জনকে অপহরণ করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে একজন শিক্ষকও ছিলেন। পরে ওই শিক্ষকসহ ২৫ জন পালিয়ে আসেন। বাকি ২৮৭ জন শিক্ষার্থীকে উদ্ধারের জন্য অভিযানে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।  অপহরণকারীদের কাছ থেকে পালিয়ে আসা ওই শিক্ষক বলেন, স্থানীয় লোকজন অপহৃত শিশুদের উদ্ধারের চেষ্টা করেছিলেন। তবে বন্দুকধারীদের সঙ্গে তারা পেরে ওঠেননি। এ সময় এক ব্যক্তি নিহতও হন। নাইজেরিয়ায় অপহরণকারী চক্রগুলো দস্যু বাহিনী হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কয়েকশো মানুষকে অপহরণ করেছে তারা। বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অপহরণের ঘটনা বেশি ঘটেছে। এর আগে গত জানুয়ারিতে কুরিগাতে দস্যু বাহিনীর হামলায় একটি স্কুলের অধ্যক্ষ নিহত হন। সেইসঙ্গে তার স্ত্রীকে অপহরণ করা হয়।
৫০ নারীকে একসঙ্গে অপহরণ করেছে আইএস!
নাইজেরিয়ার এক অঞ্চলে অন্তত ৪৭ জন মহিলাকে অপহরণ করা হয়েছে। অভিযোগের তীর জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের দিকে। প্রাথমিকভাবে ইসলামিক স্টেট ৫০ জন নারীকে অপহরণ করেছিল। ৩ নারী পালাতে সক্ষম হয়েছেন। তাদের কাছ থেকেই বাকিদের এবং অপহরণকারীদের বিবরণ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) সংবাদ মাধ্যম ডয়েচ ভেলে একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে, উত্তর-পূর্ব নাইজেরিয়ায় এই ঘটনা ঘটেছে। এই অঞ্চলে বোকো হারাম এবং ইসলামিক স্টেটের শক্ত ঘাঁটি আছে। কিন্তু নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বের এই অঞ্চল প্রযুক্তির দিক থেকে এতটাই পিছিয়ে যে, সেখান থেকে খবর আসতেও অনেকদিন সময় লেগেছে। ঘটনার কথা গতকল বুধবার জানাজানি হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, ওই এলাকাটি মধ্য আফ্রিকার দেশ ক্যামেরুন এবং চাদের সীমান্ত। সেখানে নারীরা জঙ্গলের কাঠ নিতে এসেছিল। সে সময়েই তাদের ঘিরে ধরে সন্ত্রাসীরা। তারা এমনভাবে গুলি চালাতে শুরু করে যে নারীরা বাধ্য হয় চাদের দিকে হাঁটতে। সে সময়েই ৩ জন কোনরকমে পালিয়ে বাঁচেন। তবে স্থানীয় মানুষজন জানিয়েছেন, ৫০ জনেরও বেশি নারীকে অপহরণ করা হয়েছে। এই বিষয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। স্পেশাল টাস্ক ফোর্স ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।
মালিতে সেতু থেকে বাস নদীতে পড়ে নিহত ৩১
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে সেতুতে বাস উল্টে নদীতে পড়ে ৩১ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ১০ জন। বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার দিকে মালিতে একটি বাস উল্টে সেতু থেকে নদীতে পড়ে তলিয়ে যায়। এতে বাসটিতে থাকা ৩১ যাত্রী নিহত হয়েছেন। বাসটি মালির কেনিয়েবা শহর থেকে প্রতিবেশী দেশ বুরকিনা ফাসো যাচ্ছিল। পথে বাগোই নদী পার হওয়ার সময় সেতুতে বাসটি উল্টে নিচে পড়ে যায়। আহত ১০ জনের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। মালির পরিবহন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, সম্ভাব্য কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে, চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতদের মধ্যে মালির এবং পশ্চিম আফ্রিকার অন্যান্য দেশের নাগরিকও রয়েছেন। মালিতে সড়ক দুর্ঘটনা খুব সাধারণ বিষয়। দেশটির অনেক রাস্তা এবং যানবাহনের অবস্থা বেশ খারাপ। পাশাপাশি ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী পরিবহন করা দেশটিতে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। চলতি মাসের শুরুতে মালির রাজধানী বামাকো অভিমুখে যাওয়ার সময় একটি বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে ১৫ জন নিহত হন। একইসঙ্গে ওই দুর্ঘটনায় ৪৬ জন আহত হয়েছিলেন।
সেনেগালে নৌকাডুবিতে অন্তত ২০ অভিবাসীর মৃত্যু
সেনেগাল উপকূলে অভিবাসী বোঝাই ইউরোপগামী একটি নৌকা ডুবে ২০ জনেরও বেশি অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ২০ জনের বেশি অভিবাসীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সেনেগালের উপকূলগুলো আফ্রিকান অভিবাসীদের স্প্যানিশ ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে ইউরোপে প্রবেশ পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটেছে। খবর এএফপির। সেন্ট-লুইসের আঞ্চলিক গভর্নর আলিউন বাদারা সাম্ব বলেছেন, আরও ২০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা গেছে। স্থানীয় উদ্ধারকারী ও নৌবাহিনী এ উদ্ধার কাজ পরিচালনা করে। তবে নৌকাটিতে কতজন যাত্রী ছিল তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে বেঁচে থাকা ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, সংখ্যা কয়েকশ’ হতে পারে। দেশটির সুদূর দক্ষিণের কাসামান্স থেকে বেঁচে যাওয়া মামাডি ডিয়ানফো বলেছেন, এক সপ্তাহ আগে যখন নৌকাটি সেনেগাল ছেড়েছিল তখন প্রায় ৩০৯ জন যাত্রী ছিল। আরেকজন জীবিত আলফা বাল্ডে ২০০ জন যাত্রীর কথা বলেছেন। ডিয়ানফো বলেন, আমরা নৌকার অধিনায়ককে আমাদেরকে সেনেগাল উপকূল দিয়ে নিয়ে যেতে বলেছিলাম। নৌকাটি মরক্কো পৌঁছালে অধিনায়ক বলেছিলেন, তিনি হারিয়ে গেছেন এবং আর যাত্রা চালিয়ে যেতে পারবেন না। নৌকাটি সেন্ট-লুইসের কুখ্যাত বিপজ্জনক স্থানে পৌঁছালে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ইইউ সীমান্ত সংস্থা ফ্রন্টেক্স অনুসারে, আটলান্টিক দ্বীপপুঞ্জ থেকে ইউরোপে আগত অভিবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সেনেগাল এবং মরক্কোর নাগরিক।  ২০২৩ সালে ক্যানারিতে পৌঁছানো অভিবাসনপ্রত্যাশীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৪০ হাজার, যা তিনগুণ বেড়েছে।
আলজেরিয়ায় উদ্বোধন হলো বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মসজিদ
আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সে উদ্বোধন হয়ে গেল বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মসজিদের। সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে দ্য গ্রেট মস্ক অব আলজিয়ার্স নামের নয়নাভিরাম এই ইবাদতখানাটি উদ্বোধন করেন দেশটির রাষ্ট্রপতি আবদেলমাদজিদ তেবোউন। খবর আল-জাজিরার।  আফ্রিকা মহাদেশে এর চেয়ে বিশাল মসজিদ তৈরি হয়নি এখনও। সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় খরচে প্রায় ৭ বছরের চেষ্টার পর অবশেষে এ বছর পবিত্র রমজান শুরুর আগেই সুবিশাল এ মসজিদটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করলো আলজেরিয়া সরকার।  স্থানীয়ভাবে মসজিদটি জামাআ এল-জাজাইর নামে পরিচিত। একসঙ্গে ১ লাখ ২০ হাজার মানুষ নামাজ পড়তে পারবেন এখানে। আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম হলেও উচ্চতার দিক থেকে প্রথম অবস্থানেই থাকছে ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে মাথা তুলে দাঁড়ানো দৃষ্টিনন্দন ইবাদতখানাটি। মসজিদটির যে মিনার নির্মাণ করা হয়েছে তার উচ্চতা ২৬৫ মিটার (৮৬৯ ফুট)। এটি নির্মাণের দায়িত্বে ছিল একটি চীনা নির্মাণ সংস্থা। ২৭.৭৫ হেক্টর (প্রায় ৭০ একর) জুড়ে বিস্তৃত একটি আধুনিক কাঠামোর আকারে ৭ বছর ধরে চলে মসজিদটির নির্মাণ কাজ। আধুনিকতা ও ঐতিহ্যের অপূর্ব এক মিশেলে নির্মাণ হয়েছে মসজিদটি। আলজেরিয়ার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরার সঙ্গে সঙ্গে আরব এবং উত্তর আফ্রিকার সমৃদ্ধিকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এর নকশায়। হেলিকপ্টার অবতরণের একটি হেলিপ্যাডও স্থাপন করা হছে মসজিদটিতে। একটি লাইব্রেরিও আছে এখানে। যেখানে রাখা যাবে প্রায় ১০ লাখ বই। প্রায় পাঁচ বছর ধরেই পর্যটক এবং রাষ্ট্রীয় দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত ছিল মসজিদটি। কেবল বিলম্বিত হয়েছে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। আসন্ন রমজানে নামাজ আদায় যাতে সম্ভব হয় সে কারণে মসজিদটি আনুষ্ঠানিকভাবে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে আলজেরিয়া সরকার।