• ঢাকা সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১
logo
ঈদের আগে ক্লান্তি দূর করতে বাড়িতেই করুন স্পা
চোখের নিচের কালি ও ব্রণের দাগ দূর হবে যে সবজিতে
রূপচর্চার প্রসঙ্গ এলেই আজও প্রাকৃতিক উপাদানের গুরুত্ব বেশি। আর সেখানেও হলুদ, বেসন, টক দই, অ্যালোভেরার মতো উপাদানই সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়। কিন্তু এই কমন উপাদানগুলো ছাড়াও এমন কিছু জিনিস রয়েছে, যা ত্বকের পরিচর্যায় দুর্দান্ত কাজ করে। এমনই একটি উপাদান হলো আলু। এই সবজি চোখের নিচের কালো দাগ থেকে শুরু করে দাগছোপ দূর করতে সাহায্য করে। জেনে নিন রুপচর্চায় আলুর উপকারিতা— ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে তোলে: আলুর মধ্যে এনজাইম, ভিটামিন ও মিনারেল রয়েছে, যা ত্বককে উজ্জ্বল করে তুলতে সাহায্য করে। কয়েক টুকরো আলু দিয়ে ব্লেন্ডারে পেস্ট করে নিন। এবার আলুর রস ছেঁকে নিন। এই আলুর রস ত্বকের ওপর লাগিয়ে নিন। ১৫-২০ মিনিট রাখুন। এরপর ঈষদুষ্ণ পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এই আলুর রস হাইপারপিগমেন্টেশনের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। ডার্ক সার্কেল দূর করে: আলুর মধ্যে ব্লিচিং এজেন্ট রয়েছে, যা ডার্ক সার্কেলকে হালকা করতে সাহায্য করে। চোখের নিচে মাস্ক হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন আলুকে। পাতলা স্লাইস করে আলু কেটে নিন। এবার এই আলুর টুকরো ফ্রিজে রেখে দিন। ঠান্ডা আলুর স্লাইস চোখের নিচে ১০-১৫ মিনিট রাখুন। এটি রক্তনালিকে সংকুচিত করতে সাহায্য করে এবং প্রদাহ কমায়। নিয়মিত এই টোটকা মানলে চোখের নিচের কালি দূর হয়ে যাবে। ব্রণর সঙ্গে লড়াই করে: আলুর মধ্যে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান রয়েছে, যা ব্রণ ও ত্বকের অন্যান্য সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। আলুর পেস্টের সঙ্গে মধু মিশিয়ে ফেসপ্যাক বানিয়ে নিন। এই ফেসপ্যাক ১৫-২০ মিনিট ত্বকে রেখে ধুয়ে ফেলুন। এই ফেসপ্যাক ব্রণ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে লড়াই করে, প্রদাহ কমায় এবং ক্ষয় নিরাময় করে। এই ফেসপ্যাক আপনাকে নিখুঁত ত্বক এনে দিতে পারে। সানবার্ন থেকে মুক্তি দেয়: আলুর মধ্যে এনজাই ও ভিটামিন রয়েছে যা সানবার্ন থেকে মুক্তি দেয় এবং ত্বকের ক্ষত নিরাময়ে সাহায্য করে। যে অংশ রোদে পুড়ে গেছে তার ওপর ঠান্ডা আলুর রস লাগান। আলুর স্লাইসও কিছু রেখে দিতে পারেন। এটি ত্বকের কোষ পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি ত্বকের প্রদাহ কমায়।
ফেস সিরাম ব্যবহারের আগে যা জানা জরুরি
১০ মিনিটে উজ্জ্বলতা বাড়াবে যে মিশ্রণ
লাউয়ের খোসায় ত্বকের উজ্জ্বলতা ফেরানোর টিপস
যে যত্নে দূর হবে চোখের নিচের ফাইন লাইনস ও রিংকেল
রোদে পোড়া ত্বকের যত্নে হলুদের ঘরোয়া প্যাক
বাইরে বের হলেই মাথার ওপর কড়া রোদ। আর এ কড়া রোদে সারাদিন ঈদের কেনাকাটা করে স্বাভাবিকভাবেই ত্বক রোদে পুড়ে যায়। গরমে ত্বকের অন্যতম সমস্যা এই সানবার্ন। তাই ত্বকের লাবণ্য ফেরানোর পাশাপাশি রোদে পোড়া ভাব দূর করতে হলুদের জুড়ি মেলা ভার। হলুদ দিয়ে তৈরি হয় সাবান, যা প্রসাধনী হিসেবে বেশ কার্যকর। সুপ্রাচীনকাল থেকেই ত্বকের যত্ন ও নানা রোগের ওষুধ হিসেবে হলুদ ব্যবহার হয়ে আসছে। নানা আয়ুর্বেদিক গুণ থাকা কাঁচা হলুদ, শুকনো হলুদ গুঁড়ো বিভিন্ন উপায়ে আমরা ব্যবহার করি দৈনন্দিন জীবনে। রোদে পোড়া ত্বকের জন্য হলুদ খুবই উপকারী। ত্বকের ধরন অনু্যায়ী হলুদের ব্যবহার একটু ভিন্নভাবে করতে হয়।  জেনে নিন ঘরোয়া উপায়গুলো- তৈলাক্ত ত্বক: এ ক্ষেত্রেও একইভাবে হলুদের রস ফুটিয়ে নিতে হবে। এরপর মুলতানি মাটি নিয়ে হলুদের রসে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখতে হবে। তার সঙ্গে এক চামচ পুদিনা পাতা ও এক চামচ তুলসী পাতার রস মিশিয়ে হাত ও মুখে লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে। শুষ্ক ত্বক: শুষ্ক ত্বকের জন্য প্রথমে হলুদের রসটাকে বের করে নিতে হবে। তারপর সেটা দুই থেকে তিন মিনিট চুলায় ফুটিয়ে নিতে হবে। এর সঙ্গে বেসন ও ডিমের কুসুম মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে মুখে লাগিয়ে ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেললে রোদে পোড়া দাগ দূর হয়ে যায়। মিশ্র ত্বক: মিশ্র ত্বকের যত্নটা একটু ভিন্নভাবে নিতে হয়। কারণ এ ধরনের ত্বক একটু বেশি স্পর্শকাতর হয়। সে জন্য আগের মতোই হলুদের রস নিয়ে তার মধ্যে দেশি সবুজ মুগডাল ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর একে পেস্ট করে তুলসী পাতার রস ও কেওলিন পাওডার মিশিয়ে মুখ ও হাত-পায়ে লাগাতে পারেন। এতে যেমন ত্বকের কালচে ভাব দূর হবে, তেমনি হয়ে উঠবে প্রাণবন্ত। আর সব ধরনের ত্বকেই হলুদের রসের সঙ্গে ব্রাউন সুগার নিয়ে স্ক্রাবিং করতে পারেন। এতে ব্ল্যাকহেডস দূর হয়। কখন ব্যবহারে বেশি উপকার: হলুদ সবসময় রাতে ব্যবহার করলে বেশি উপকার পাওয়া যায়। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে হলুদের যেকোনো প্যাক লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর ধুয়ে একটা ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিলে ত্বকের সজীবতা বাড়ে। আর হলুদের রস বা গুঁড়ো দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খেলেও ত্বক ভেতর থেকে উজ্জ্বল ও মসৃণ হয়।  প্রতিদিন নয়: ত্বকের যত্নে প্রতিদিন না করে সপ্তাহে এক দিন বা দুই দিন হলুদ ব্যবহার করুন। প্রতিদিন হলুদের স্ক্রাব ব্যবহার করলে ত্বকের ভেতর আঁচড় কেটে যায়। স্বাভাবিকের তুলনায় তাড়াতাড়ি বলিরেখা সৃষ্টি হয়। হলুদ মুখে লাগানোর পর বাইরে যাবেন না। কারণ হলুদ ব্যবহারের পরপরই রোদে গেলে ত্বক জ্বলে যাওয়া, জ্বালাপোড়াসহ বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। সম্ভব হলে রাতে হলুদ ব্যবহার করুন।
লিপস্টিক কেনার সময় খেয়াল রাখবেন যে বিষয়গুলো
মেয়েদের সাজ সামগ্রীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ও জনপ্রিয় প্রসাধনী হচ্ছে লিপস্টিক। ঠোঁট রাঙাতে এই প্রসাধনীর জুড়ি মেলা ভার। আর ঈদের কেনাকাটায় মেয়েদের প্রসাধনীর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো লিপস্টিক। তবে ঈদে লিপিস্টিক কেনার সময় অবশ্যই কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে, কারণ সারাদিন গরমের মধ্যে কোন লিপস্টিকটি আপনার জন্য উপযুক্ত সে বিষয়টি অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই লিপস্টিক কেনার সময় রংকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়, তবে লিপস্টিকের টেক্সচার কেমন সেটা দেখাও খুব জরুরি। জেনে নিন লিপস্টিক কেনার সময় খেয়াল রাখবেন যে বিষয়গুলো- ক্রিমি লিপস্টিক: যাদের ঠোঁট ছোট ও পাতলা তারা এই ধরনের লিপস্টিক লাগাতে পারেন। ক্রিম থাকায় এই লিপস্টিকে ঠোঁট অনেক ভরাট দেখায়। এই লিপস্টিক ঠোঁটের শুষ্কভাবও কাটিয়ে দেয়। যেকোনো সাজে যেকোনো সময়ই মানাবে এই ক্রিমি লিপস্টিক। ম্যাট লিপস্টিক: এই লিপস্টিক যার ঠোঁট যেমন তেমন টেক্সচারই দেখায়, তবে যাদের ঠোঁট খুব শুষ্ক তাদের এই লিপস্টিক এড়িয়ে চলায় ভাল। ম্যাট লিপস্টিক লাগালে ওপরে লিপবামও লাগাতে পারেন, তবে এই লিপস্টিকের স্থায়িত্ব অনেক বেশি তাই সারাদিনের অনুষ্ঠানে এই লিপস্টিক খুবই ভালো। ট্রান্সফাররেজিস্ট্যান্ট লিপস্টিক: অনেকে অফিস বা ক্লাসের উদ্দেশে সকালে বের হয়ে রাতে বাসায় ফেরেন। আর এই লিপস্টিক তাদের জন্য একেবারে আদর্শ। এই লিপস্টিক সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একইরকম থাকে, এমনকি জলেও উঠে না। এই লিপস্টিক তোলার জন্য সলিউশন পাওয়া যায়। তেল কিংবা ময়েশ্চারাইজার দিয়েও তুলতে পারেন এই লিপস্টিক। এই লিপস্টিকে ময়েশ্চারাইজার কনটেন্টও স্বাভাবিক থাকে, ফলে ঠোঁটও শুষ্ক হয় না। স্যাটিন ফিনিশ বা শিয়ার লিপস্টিক: এই লিপস্টিকে আবার অয়েল কনটেন্ট অনেক বেশি। তাই ঝলমলে গ্লসি লুক পাওয়ার জন্য এই লিপস্টিক ব্যবহার করা যেতেই পারে, তবে এই লিপস্টিক যা রং দেখায় ঠোঁটে কিন্তু তার থেকে অনেক বেশি গাঢ় হয়ে যায়। এই লিপস্টিকও ঠোঁটের শুষ্কভাব কাটিয়ে দেয়, তবে এই লিপস্টিক দিনের বেলায় এড়িয়ে যাওয়ায় ভালো। ফ্রস্টেড লিপস্টিক: এই লিপস্টিক খুব হালকা হয়। এই লিপস্টিক স্পার্কেল করে, তবে এই লিপস্টিক ঠোঁটও শুষ্ক করে না। দিনের যেকোনো সময়ই ব্যবহার করতে পারেন এই লিপস্টিক।
মুখে সিরাম ব্যবহারে এ ভুলগুলো করছেন না তো!
বেশ কয়েক বছর ধরে রূপচর্চায় সিরামের ব্যবহার বেড়েছে। মুখের দাগ দূর করে উজ্জ্বল ত্বকের জন্য টোনার ও ময়েশ্চারাইজারের সঙ্গে সিরামও এখন জরুরি হয়ে উঠেছে। সিরাম ত্বকের গভীরে গিয়ে কাজ করে এবং সবচেয়ে ভালো ফলাফল দেয়। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের লাবণ্য, উজ্জ্বলতা এবং তারুণ্য ধরে রাখার জন্য জাদুকরীভাবে কাজ করে এই সিরাম। ত্বকে প্রয়োজনীয় সব শক্তিশালী ও সক্রিয় উপাদান সরবরাহ করে ত্বককে করে প্রাণবন্ত। তবে নতুন এই প্রসাধনীর সঠিক ব্যবহার জানতে হবে। কারণ, এর ব্যবহার ভুল হলে ত্বকে হিতেবিপরীত হতে পারে। ভুল উপায়ে এর ব্যবহার কেবল অর্থের অপচয় মাত্র।  জেনে নিন সিরাম ব্যবহারে সতর্কতাগুলো- দিনে দুইবারই সিরাম যথেষ্ট। অনেকে যখনই মুখ ধুয়ে নিচ্ছেন তখনই সিরাম লাগিয়ে নেন। এটা ঠিক নয়। সকালে ও রাতে দুই বেলা সিরাম ব্যবহার করুন। সকাল ও রাতের ত্বকে যত্ন একেবারেই ভিন্ন। কখনও ময়েশ্চারাইজারের আগে সিরাম মাখতে হয়। আবার কখনও স্কিন কেয়ারের শেষ ধাপে সিরাম মাখতে হয়। কোন সিরাম কখন লাগাবেন তা ভালো করে জেনে এরপর ব্যবহার করুন। ত্বকের ধরণ অনুযায়ী ক্লিনজিং দিয়ে মুখ পরিস্কার করে নিন। ত্বকের প্রাকৃতিক তেল ও পিএইচ স্তরের ভারসাম্য যেন নষ্ট না হয় তা খেয়াল রাখুন।। এরপর টোনার লাগান। টোনারের পর সিরাম লাগাবেন। সিরাম ত্বক সম্পূর্ণরূপে শোষণ করা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এর আগে অন্যকিছুই ব্যবহার করবেন না। ত্বককে হাইড্রেট রাখবে এমন সিরাম বেছে নিন। সকালে ময়েশ্চারাইজারের পর সিরাম মাখুন। এরপর সানস্ক্রিন মেখে নিবেন। সকালে সানস্ক্রিন বাদ দেওয়া যাবে না। রাতে ফোমিং ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। স্ক্রাব করে নিতে পারেন। এতে মৃত কোষ পরিষ্কার হবে। এরপর টোনার লাগান। এরপর মুখে সিরাম মেখে হালকা হাতে মালিশ করুন। এতে রক্ত সঞ্চালন বাড়বে। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে নাইট ক্রিম লাগিয়ে নিন। মনে রাখবেন, মুখ ধুয়েই সঙ্গে সঙ্গে সিরাম ব্যবহার করবেন না। সিরাম কিন্তু ত্বকের জন্য বেশ গাঢ় একটি প্রডাক্ট, যার ঘনত্বও বেশি। সামান্য পরিমাণে ব্যবহার করলেই যথেষ্ট। আজকাল বাজারে যেসব সিরাম পাওয়া যায়, সেগুলোর বেশিরভাগেরই ড্রপার দেওয়া থাকে। সে ক্ষেত্রে পুরো মুখমণ্ডলের নানা অংশে ড্রপার থেকে দুই-তিন ফোঁটা নিয়ে পরে হাত দিয়ে সেই সিরাম ড্যাব করে নিতে পারেন। রেটিনল ত্বককে অতিবেগুনি রশ্মির প্রতি অধিক সংবেদনশীল করে তোলে এবং সূর্যের আলো রেটিনল সিরামের কার্যকারিতা কমায়। নিউইয়র্ক সিটির চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ হুইটনি বোয়ে রাতের বেলায় রেটিনল সিরাম ব্যবহার এবং দিনের বেলায় এসপিএফ ৩০ বা তারও বেশি এসপিএফের সানস্ক্রিন ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। ত্বকে ব্রণ, অ্যাকজিমা বা যেকোনো ধরনের সমস্যা থাকলে সিরাম বাছাই করার আগে অবশ্যই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেবেন। কারণ সিরামের ঘনত্ব আপনার ত্বকের সমস্যার সঙ্গে বিক্রিয়া করে ত্বকের সমস্যাগুলো আরও গুরুতর করতে পারে। ত্বকের ধরণ বুঝে কিংবা আপনার ত্বকের জন্য কোন সিরাম ব্যবহার করবেন তা দেখে কিনুন। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন। সিরাম সম্পর্কে ধারণা না থাকলে অযথা নিজে থেকে কিনতে যাবেন না।
পার্টির আগে ত্বকের মলিনতা দূর হবে এই ফেশিয়ালেই
শীতের বিদায়ের এই সময়য়টাতে উৎসবের যেন কোনো কমতি নেই। পার্টি, পিকনিক একের পর এক চলতেই থাকে। কিন্তু এ দিকে শীতে ত্বকের অবস্থা একেবারে বেহাল হয়ে গিয়েছে। তার উপর সারা দিনের ক্লান্তি তো রয়েছেই। কাজ থেকে বাড়ি ফিরে পার্লারে যাওয়ার সুযোগও হচ্ছে না। কিন্তু আনন্দ-অনুষ্ঠানে একটু সাজগোজ করে না গেলে কি হয়! তাই শত ব্যস্ততার মাঝেও একটু সময় বের করে যদি বাড়িতেই চকলেট ফেশিয়াল করে ফেলতে পারেন, তা হলে কিছুক্ষণের মধ্যেই ত্বক হয়ে উঠবে ঝলমলে। দেখে নিন কীভাবে করবেন চকলেট ফেশিয়াল- মাসে অন্তত একবার ফেসিয়াল করা দরকার। এতে ত্বকের রক্ত সঞ্চালন উন্নত হয়। পাশাপাশি ত্বকের উজ্বলতা বাড়ে। আর ফেসিয়ালে যদি চকলেট থাকে, তাহলে পাবেন দ্বিগুণ উপকারিতা। চকোলেট ফেসিয়াল ত্বকের জন্য উপকারী। এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টতে ভরপুর কোকো রয়েছে, যা ত্বককে ক্ষয়ের হাত থেকে প্রতিরোধ করে। পাশাপাশি অকাল বার্ধক্য প্রতিরোধ করে এবং ত্বকে উজ্বলতা এনে দেয়।  প্রতিদিনের ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ভালো করে পরিষ্কার করে নিন। দেখে নিন, মুখ থেকে সমস্ত মেকআপ, ময়লা ও তেল পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। এরপর পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছে নিন।  ডার্ক চকলেট গলিয়ে নিন। মাইক্রোওয়েভে ডার্ক চকলেট গরম করে নিতে পারেন। এরপর ডার্ক চকলেট ঘরের তাপমাত্রা আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এরপর এতে মধু ও টক দই মিশিয়ে দিন। মধুর মধ্যে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান এবং ময়েশ্চাইরাইজিং এফেক্ট রয়েছে। টক দইয়ের মধ্যে এক্সফোলিয়েটিং উপাদান রয়েছে, যা ত্বক থেকে মৃত কোষ তুলে দেয়। এবার এই চকলেট ফেসপ্যাক মুখ ও গলায় মেখে নিন। এবার ১৫-২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। ফেসপ্যাক শুকিয়ে গেলে ভিজে হাতে মুখে স্ক্রাব ক্রুন। এটি ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে এবং এক্সফোলিয়েট করবে।  ঈষদুষ্ণ পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। মুখ মুছে নিন। শেষে পছন্দের ময়েশ্চারাইজার মেখে নিন। এতে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকবে। পাশাপাশি ত্বক হয়ে উঠতে নরম ও কোমল। 
ঘরে বসেই দূর করুণ নাকের ওপর জমে থাকা ব্ল্যাকহেডস 
মুখের যে কোনও কালো দাগ বা ব্ল্যাক হেডস মুখ পরিষ্কার করার সময় তুলে ফেলাই ভালো। ত্বকে ময়লা জমে তৈরি হয় ব্ল্যাক হেডস। পার্লারে গিয়ে ব্ল্যাক হেডস তোলার অভিজ্ঞতা হয়ত রয়েছে অনেকেরই। কিন্তু সব সময় তো পার্লারে যাওয়া সম্ভব নয়, তাই জেনে নিন বাড়িতেই ব্ল্যাক হেডস তুলে ফেলার উপায়।  কীভাবে ঘরোয়া উপায়ে ব্ল্যাক হেডস তুলে ফেলবেন, জেনে নিন- >> ব্ল্যাকহেডস তুলতে বেকিং সোডা ম্যাজিকের মতো কাজ করে। সাধারণ পানিতে এক টেবিল চামচ বেকিং সোডা গুলে নিন। মুখের যে সব অংশে ব্ল্যাক হেডস রয়েছে, সেখানে এই মিশ্রণ লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে দিন। এবার তা শুকিয়ে গেলে হালকা গরম পানিতে দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। বেকিং সোডার মধ্যে থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান ত্বককে ভালো রাখতে সাহায্য করে। এক দিনে যদি না ওঠে তাহলে পর পর দু'তিন দিন ব্যবহার করুন। >> ব্ল্যাক হেডস তুলতে প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে কাজ করে টমেটো। প্রথমে টমেটো পেস্ট তৈরি করুন। এই মিশ্রণ এবার লাগিয়ে নিন ব্ল্যাক হেডসের ওপর। পুরো মিশ্রণ শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দ্রুত উপকার পেতে সপ্তাহে অন্তত তিনদিন ব্যবহার করুন। >> আপনি চাইলে ডিমের সাদা অংশ ব্যবহার করতে পারেন। এর জন্য ডিম ভেঙে কুসুম প্রথমেই আলাদা করে নিন। এরপর সাদা অংশের সঙ্গে এক টেবিল চামচ মধু যোগ করুন। এই মিশ্রণ লাগিয়ে রাখুন ব্ল্যাকহেডসের ওপর। মিশ্রণ পুরো শুকিয়ে যাওয়ার পর সাধারণ পানিতে ধুয়ে ফেলুন। ডিমের সাদা অংশ খুব সহজেই রোমকূপ পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে ত্বককে করে তোলে উজ্জ্বল।
অল্প খরচে ঘরেই বানিয়ে নিন ফেস সিরাম
সাম্প্রতিক সময়ে অনেকই তাদের প্রতিদিনের বিউটি রুটিনে যোগ করেছেন ফেস সিরাম। ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে বেশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে এই প্রসাধনী। আপনিও যদি ত্বকের উজ্জলতা নিয়ে চিন্তিত হন, তাহলে আজ থেকেই ব্যবহার করতে পারেন ফেস সিরাম। সেক্ষেত্রে আপনি বাজারে কেনা ফেস সিরাম কাজে লাগাতেই পারেন। কিন্তু সেসব প্রোডাক্টে প্রচুর পরিমাণে রাসায়নিকও ব্যবহার করা হয়। আর আপনি যদি ত্বকে একান্তই কোনও রাসায়নিক না লাগাতে চান, তাহলে ভরসা রাখতে পারেন প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি ফেস সিরামের ওপরে। ঘরোয়া এই সিরাম বানাতে খরচ কম আর কার্যকারিতাও পাবেন প্রচুর। জেনে নিন তৈরির প্রক্রিয়া- ভিটামিন সি ফেস সিরাম- এই ফেস সিরাম বানাতে আপনার প্রয়োজন পড়বে ১/২ চামচ ভিটামিন সি পাউডার, ১ টেবিল চামচ ডিসটিলড ওয়াটার, ২ টেবিল চামচ গ্লিসারিন, ১/৪ ভিটামিন ই অয়েল এবং ৫-৬ ফোঁটা পছন্দের এসেনশিয়াল অয়েল। এবার একটি পাত্রে ডিসটিলড ওয়াটার, গ্লিসারিন ও ভিটামিন ই অয়েল মিশিয়ে নিন। তারপরে তাতে যোগ করুন ভিটামিন সি পাউডার। এরপরে পছন্দের এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে ঢেলে রাখুন কাচের বোতলে। রোজ ওয়াটার ফেস সিরাম- এই ফেস সিরাম বানাতে আপনার প্রয়োজন ১ টেবিল চামচ ল্যাভেন্ডার এসেনশিয়াল অয়েল, ২ টেবিল চামচ গ্লিসারিন ও রোজ ওয়াটার। একটি পাত্রে প্রতিটি উপকরণ নিয়ে ভালো করে মেশান। তারপরে কাচের বোতলে ঢেলে রাখুন। ভিটামিন ই ফেস সিরাম- এই ফেস সিরাম বানানোর জন্যে আপনার প্রয়োজন ৩ থেকে ৪টি ভিটামিন ই ক্যাপসুল, জোজোবা অয়েল, রোজহিপ অয়েল এবং আর্গন অয়েল। একটি পাত্রে এক চামচ করে প্রতিটি তেল নিন। এরপরে সেই মিশ্রণে ৩-৪টি ভিটামিন ই ক্যাপসুলের নির্যাস মিশিয়ে দিন। প্রতিটি উপকরণ মেশানো হলেই তৈরি আপনার ভিটামিন ই ফেস সিরাম। ব্যবহারের নিয়ম শিখে নিন- এই ৩ ফেস সিরামের মধ্যে যে কোনও একটি আপনি নিয়মিত রাতে ব্যবহার করতে পারেন। প্রথমে মুখ ক্লিনজিং করে টোনার লাগান। তারপরে এই ফেস সিরাম কয়েক ফোঁটা আপনার সারা মুখে লাগিয়ে নিন। এবার হাতের তালুর চাপে ধীরে ধীরে মাসাজ করুন ৫-১০ মিনিট। এতেই উপকার পাবেন পুরোপুরি। 
এক টুকরো শসাতেই মিলবে ঘন-কালো চুল
প্রতিদিন মাথার ত্বকে ধুলো ময়লা জমে নষ্ট হয় চুলের সৌন্দর্য। চুল হয়ে পড়ে রুক্ষ ও নিষ্প্রাণ। তাই চুল ও মাথার ত্বক সব সময় ঝলমলে রাখতে নিয়মিত চুল পরিষ্কার রাখতে হবে। আর আমাদের মাথার ত্বকের সুস্বাস্থ্য ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে শসার রস। শসার রস আমাদের ত্বকের জন্যে বেশ উপকারী। নিয়মিত শসার রস মাথার ত্বকে মালিশ করলে অনেক উপকারই পাবেন। চুলকে স্বাস্থ্যেজ্জ্বল করে তুলতে শসার রস ব্যবহার করুন এই নিয়মে- শসার ছোট টুকরো সরাসরি স্ক্যাল্পে ঘষতে পারেন কিংবা চুলের গোড়ায় মালিশ করতে পারেন। শসার টুকরো লাগানোর পরিবর্তে আপনি শসার রসও ব্যবহার করতে পারেন। সেক্ষেত্রে শসার কুচি থেকে সাদা কাপড়ে রস ছেঁকে নিন। তারপর সেই রস স্ক্যাল্পে মালিশ করুন। পরের ধাপ- শসার রস স্ক্যাল্পে লাগানোর পরে অন্তত ১ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন এবং তারপরে শ্যাম্পু করে নিন। এতেই উপকার পাবেন।  দেখে নিন তালিকা:  স্ক্যাল্পের আর্দ্রতা বজায় রাখবে- শসার রস স্ক্যাল্পের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। ফলে স্ক্যাল্প সহজেই রুক্ষ হয়ে যাবে না আর চুলের উজ্বলতাও অটুট থাকবে। লম্বা চুল পাবেন আপনি- শসার রস মালিশ করার ফলে চুলের গোড়ায় রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পাবে। ফলে হেয়ার ফলিকলে পর্যাপ্ত পরিমাণে অক্সিজেন পৌঁছাবে। আর হেয়ার গ্রোথ হবে দেখার মতো। সংক্রমণ দূরে থাকবে- স্ক্যাল্পের পিএইচ ভারসাম্য বজায় থাকবে, ফলে স্ক্যাল্পে কোনও সংক্রমণ হানা দেবে না। আর চুলের উজ্বলতা বৃদ্ধি পাবে। পাতলা চুলও অতীত- চুল পাতলা হয়ে যাবে না। চুলের শাইন অটুট থাকবে। হেয়ার ফলিকলগুলো মজবুত হবে। তাই এই সপ্তাহ থেকে এই শসার রস ব্যবহার করতে ভুলবেন না।