• ঢাকা বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১
logo
যে যত্নে দূর হবে চোখের নিচের ফাইন লাইনস ও রিংকেল
রোদে পোড়া ত্বকের যত্নে হলুদের ঘরোয়া প্যাক
বাইরে বের হলেই মাথার ওপর কড়া রোদ। আর এ কড়া রোদে সারাদিন ঈদের কেনাকাটা করে স্বাভাবিকভাবেই ত্বক রোদে পুড়ে যায়। গরমে ত্বকের অন্যতম সমস্যা এই সানবার্ন। তাই ত্বকের লাবণ্য ফেরানোর পাশাপাশি রোদে পোড়া ভাব দূর করতে হলুদের জুড়ি মেলা ভার। হলুদ দিয়ে তৈরি হয় সাবান, যা প্রসাধনী হিসেবে বেশ কার্যকর। সুপ্রাচীনকাল থেকেই ত্বকের যত্ন ও নানা রোগের ওষুধ হিসেবে হলুদ ব্যবহার হয়ে আসছে। নানা আয়ুর্বেদিক গুণ থাকা কাঁচা হলুদ, শুকনো হলুদ গুঁড়ো বিভিন্ন উপায়ে আমরা ব্যবহার করি দৈনন্দিন জীবনে। রোদে পোড়া ত্বকের জন্য হলুদ খুবই উপকারী। ত্বকের ধরন অনু্যায়ী হলুদের ব্যবহার একটু ভিন্নভাবে করতে হয়।  জেনে নিন ঘরোয়া উপায়গুলো- তৈলাক্ত ত্বক: এ ক্ষেত্রেও একইভাবে হলুদের রস ফুটিয়ে নিতে হবে। এরপর মুলতানি মাটি নিয়ে হলুদের রসে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখতে হবে। তার সঙ্গে এক চামচ পুদিনা পাতা ও এক চামচ তুলসী পাতার রস মিশিয়ে হাত ও মুখে লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে। শুষ্ক ত্বক: শুষ্ক ত্বকের জন্য প্রথমে হলুদের রসটাকে বের করে নিতে হবে। তারপর সেটা দুই থেকে তিন মিনিট চুলায় ফুটিয়ে নিতে হবে। এর সঙ্গে বেসন ও ডিমের কুসুম মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে মুখে লাগিয়ে ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেললে রোদে পোড়া দাগ দূর হয়ে যায়। মিশ্র ত্বক: মিশ্র ত্বকের যত্নটা একটু ভিন্নভাবে নিতে হয়। কারণ এ ধরনের ত্বক একটু বেশি স্পর্শকাতর হয়। সে জন্য আগের মতোই হলুদের রস নিয়ে তার মধ্যে দেশি সবুজ মুগডাল ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর একে পেস্ট করে তুলসী পাতার রস ও কেওলিন পাওডার মিশিয়ে মুখ ও হাত-পায়ে লাগাতে পারেন। এতে যেমন ত্বকের কালচে ভাব দূর হবে, তেমনি হয়ে উঠবে প্রাণবন্ত। আর সব ধরনের ত্বকেই হলুদের রসের সঙ্গে ব্রাউন সুগার নিয়ে স্ক্রাবিং করতে পারেন। এতে ব্ল্যাকহেডস দূর হয়। কখন ব্যবহারে বেশি উপকার: হলুদ সবসময় রাতে ব্যবহার করলে বেশি উপকার পাওয়া যায়। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে হলুদের যেকোনো প্যাক লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর ধুয়ে একটা ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিলে ত্বকের সজীবতা বাড়ে। আর হলুদের রস বা গুঁড়ো দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খেলেও ত্বক ভেতর থেকে উজ্জ্বল ও মসৃণ হয়।  প্রতিদিন নয়: ত্বকের যত্নে প্রতিদিন না করে সপ্তাহে এক দিন বা দুই দিন হলুদ ব্যবহার করুন। প্রতিদিন হলুদের স্ক্রাব ব্যবহার করলে ত্বকের ভেতর আঁচড় কেটে যায়। স্বাভাবিকের তুলনায় তাড়াতাড়ি বলিরেখা সৃষ্টি হয়। হলুদ মুখে লাগানোর পর বাইরে যাবেন না। কারণ হলুদ ব্যবহারের পরপরই রোদে গেলে ত্বক জ্বলে যাওয়া, জ্বালাপোড়াসহ বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। সম্ভব হলে রাতে হলুদ ব্যবহার করুন।
লিপস্টিক কেনার সময় খেয়াল রাখবেন যে বিষয়গুলো
মুখে সিরাম ব্যবহারে এ ভুলগুলো করছেন না তো!
পার্টির আগে ত্বকের মলিনতা দূর হবে এই ফেশিয়ালেই
ঘরে বসেই দূর করুণ নাকের ওপর জমে থাকা ব্ল্যাকহেডস 
অল্প খরচে ঘরেই বানিয়ে নিন ফেস সিরাম
সাম্প্রতিক সময়ে অনেকই তাদের প্রতিদিনের বিউটি রুটিনে যোগ করেছেন ফেস সিরাম। ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে বেশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে এই প্রসাধনী। আপনিও যদি ত্বকের উজ্জলতা নিয়ে চিন্তিত হন, তাহলে আজ থেকেই ব্যবহার করতে পারেন ফেস সিরাম। সেক্ষেত্রে আপনি বাজারে কেনা ফেস সিরাম কাজে লাগাতেই পারেন। কিন্তু সেসব প্রোডাক্টে প্রচুর পরিমাণে রাসায়নিকও ব্যবহার করা হয়। আর আপনি যদি ত্বকে একান্তই কোনও রাসায়নিক না লাগাতে চান, তাহলে ভরসা রাখতে পারেন প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি ফেস সিরামের ওপরে। ঘরোয়া এই সিরাম বানাতে খরচ কম আর কার্যকারিতাও পাবেন প্রচুর। জেনে নিন তৈরির প্রক্রিয়া- ভিটামিন সি ফেস সিরাম- এই ফেস সিরাম বানাতে আপনার প্রয়োজন পড়বে ১/২ চামচ ভিটামিন সি পাউডার, ১ টেবিল চামচ ডিসটিলড ওয়াটার, ২ টেবিল চামচ গ্লিসারিন, ১/৪ ভিটামিন ই অয়েল এবং ৫-৬ ফোঁটা পছন্দের এসেনশিয়াল অয়েল। এবার একটি পাত্রে ডিসটিলড ওয়াটার, গ্লিসারিন ও ভিটামিন ই অয়েল মিশিয়ে নিন। তারপরে তাতে যোগ করুন ভিটামিন সি পাউডার। এরপরে পছন্দের এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে ঢেলে রাখুন কাচের বোতলে। রোজ ওয়াটার ফেস সিরাম- এই ফেস সিরাম বানাতে আপনার প্রয়োজন ১ টেবিল চামচ ল্যাভেন্ডার এসেনশিয়াল অয়েল, ২ টেবিল চামচ গ্লিসারিন ও রোজ ওয়াটার। একটি পাত্রে প্রতিটি উপকরণ নিয়ে ভালো করে মেশান। তারপরে কাচের বোতলে ঢেলে রাখুন। ভিটামিন ই ফেস সিরাম- এই ফেস সিরাম বানানোর জন্যে আপনার প্রয়োজন ৩ থেকে ৪টি ভিটামিন ই ক্যাপসুল, জোজোবা অয়েল, রোজহিপ অয়েল এবং আর্গন অয়েল। একটি পাত্রে এক চামচ করে প্রতিটি তেল নিন। এরপরে সেই মিশ্রণে ৩-৪টি ভিটামিন ই ক্যাপসুলের নির্যাস মিশিয়ে দিন। প্রতিটি উপকরণ মেশানো হলেই তৈরি আপনার ভিটামিন ই ফেস সিরাম। ব্যবহারের নিয়ম শিখে নিন- এই ৩ ফেস সিরামের মধ্যে যে কোনও একটি আপনি নিয়মিত রাতে ব্যবহার করতে পারেন। প্রথমে মুখ ক্লিনজিং করে টোনার লাগান। তারপরে এই ফেস সিরাম কয়েক ফোঁটা আপনার সারা মুখে লাগিয়ে নিন। এবার হাতের তালুর চাপে ধীরে ধীরে মাসাজ করুন ৫-১০ মিনিট। এতেই উপকার পাবেন পুরোপুরি। 
এক টুকরো শসাতেই মিলবে ঘন-কালো চুল
প্রতিদিন মাথার ত্বকে ধুলো ময়লা জমে নষ্ট হয় চুলের সৌন্দর্য। চুল হয়ে পড়ে রুক্ষ ও নিষ্প্রাণ। তাই চুল ও মাথার ত্বক সব সময় ঝলমলে রাখতে নিয়মিত চুল পরিষ্কার রাখতে হবে। আর আমাদের মাথার ত্বকের সুস্বাস্থ্য ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে শসার রস। শসার রস আমাদের ত্বকের জন্যে বেশ উপকারী। নিয়মিত শসার রস মাথার ত্বকে মালিশ করলে অনেক উপকারই পাবেন। চুলকে স্বাস্থ্যেজ্জ্বল করে তুলতে শসার রস ব্যবহার করুন এই নিয়মে- শসার ছোট টুকরো সরাসরি স্ক্যাল্পে ঘষতে পারেন কিংবা চুলের গোড়ায় মালিশ করতে পারেন। শসার টুকরো লাগানোর পরিবর্তে আপনি শসার রসও ব্যবহার করতে পারেন। সেক্ষেত্রে শসার কুচি থেকে সাদা কাপড়ে রস ছেঁকে নিন। তারপর সেই রস স্ক্যাল্পে মালিশ করুন। পরের ধাপ- শসার রস স্ক্যাল্পে লাগানোর পরে অন্তত ১ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন এবং তারপরে শ্যাম্পু করে নিন। এতেই উপকার পাবেন।  দেখে নিন তালিকা:  স্ক্যাল্পের আর্দ্রতা বজায় রাখবে- শসার রস স্ক্যাল্পের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। ফলে স্ক্যাল্প সহজেই রুক্ষ হয়ে যাবে না আর চুলের উজ্বলতাও অটুট থাকবে। লম্বা চুল পাবেন আপনি- শসার রস মালিশ করার ফলে চুলের গোড়ায় রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পাবে। ফলে হেয়ার ফলিকলে পর্যাপ্ত পরিমাণে অক্সিজেন পৌঁছাবে। আর হেয়ার গ্রোথ হবে দেখার মতো। সংক্রমণ দূরে থাকবে- স্ক্যাল্পের পিএইচ ভারসাম্য বজায় থাকবে, ফলে স্ক্যাল্পে কোনও সংক্রমণ হানা দেবে না। আর চুলের উজ্বলতা বৃদ্ধি পাবে। পাতলা চুলও অতীত- চুল পাতলা হয়ে যাবে না। চুলের শাইন অটুট থাকবে। হেয়ার ফলিকলগুলো মজবুত হবে। তাই এই সপ্তাহ থেকে এই শসার রস ব্যবহার করতে ভুলবেন না।
উৎসবের আমেজে ভালোবাসায় মুড়ে নিন ত্বককেও
একদিন পরেই চলে আসবে সরস্বতী পুজো, ফাল্গুন, ভালোবাসা দিবস। সব মিলিয়ে বাতাসে বইছে উৎসবের আনন্দ। চারদিকে সুসজ্জিত হয়ে উঠছে। কিন্তু এমন সময়ে যদি চোখের তোলায় ফোলাভাব, মুখে-চোখে ক্লান্তিভাব থাকে, তাহলে কি শাড়ি পরে মেকআপ দিয়ে উজ্জ্বলতা পাওয়া যাবে? এর জন্য আপনাকে স্কিন কেয়ারের ওপরই জোর দিতে হবে।  কী-কী করবেন আর কোন বিষয়গুলো এড়িয়ে চলবেন, রইল টিপস- ফেসিয়াল: বয়স যদি কুড়ি পার হয় তাহলে ফেসিয়াল করিয়ে নিন। এমন ফেসিয়াল বেছে নিন, যা ত্বক থেকে মৃত কোষ, ট্যান তুলে দেবে। পাশাপাশি ত্বকে এনে দেবে প্রাকৃতিক জেল্লা। বাজারচলতি ফেসিয়াল ব্যবহার করতে পারেন। তবে, শেষ মুহূর্তে কোনও নতুন পণ্য ব্যবহার করবেন না। এতে ত্বকের ওপর কোনও র‍্যাশ বেরোলে সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে। ম্যাসাজ: বিশেষ দিনের আগে মুখে ম্যাসাজ করলে ত্বকে প্রাকৃতিক জেল্লা ফুটে ওঠে। যে কোনও বিউটি অয়েল কিংবা ক্রিম দিয়ে আপনি মুখে ম্যাসাজ করতে পারেন। প্রয়োজন ম্যাসাজ রোলার ব্যবহার করতে পারেন। ম্যাসাজ করলে ত্বকে রক্ত সঞ্চালন উন্নত হয়। রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে এই কাজটা সেরে ঘুম দিলে পরদিন সকালে গ্লোয়িং ত্বক পাবেন। পানি পান করুন: দেহে পানির ঘাটতি থাকলে কোনওভাবেই ত্বকের জেল্লা ফুটে উঠবে না। ডিহাইড্রেশন ত্বককে শুষ্ক দেখায়। তার সঙ্গে ব্রেকআউটের সমস্যা বাড়ায়। তাই প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। এতে যেমন ত্বক হাইড্রেট থাকবে, তেমনই উজ্জ্বল দেখাবে। ঘুম দরকার: আপনি সারাদিন যতটা কর্মব্যস্ততা ও মানসিক চাপের মধ্যে কাটাবেন, আপনার ত্বকের ওপরও তার প্রভাব পড়বে। তাই রাতে ভালো ঘুম দরকার। ঘুম ভালো না হলে চোখ ফুলে থাকবে, ত্বক ক্লান্ত দেখাবে। আর গাঢ় ঘুম হলে পরদিন সকালে নিজেই চোখ সরাতে পারবেন না ত্বক থেকে। ত্বকের যত্ন নিন: শেষ মুহূর্তে ত্বক নিয়ে নতুন এক্সপেরিমেন্ট করবেন না। রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে ক্লিনজিং, টোনিং ও ময়েশ্চারাইজিং এই ৩ স্টেপ অবশ্যই মেনে চলুন। এতে ত্বকের সমস্যা কমবে। ত্বক হাইড্রেট থাকবে। এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা ফুটে উঠবে।
অল্প বয়সে মুখে বলিরেখা? সমাধান এই ঘরোয়া ফেসপ্যাকেই
কফি এবং কলা, এই দুই উপাদান কিন্তু ত্বকের জন্য খুব উপকারি। ঝকঝকে ত্বক পেতে কফি এবং কলার তৈরি ফেসপ্যাকের জুড়ি মেলা ভাড়। কফি ত্বকে বলিরেখা পড়তে দেয় না। আর কলা ত্বক করে উজ্জ্বল এবং মসৃণ। এই মিশ্রণের ফেসপ্যাক মুখমন্ডলের মধ্যে জমে থাকা মৃতকোষগুলোকে দূরে সরিয়ে ত্বককে আরও মসৃণ ও উজ্জ্বল করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কফি ত্বকে বলিরেখা পড়তে দেয় না। আর কলা ত্বক করে উজ্জ্বল এবং মসৃণ। আর এই দুই উপাদান যখন মিলে যায়, তখন ম্যাজিক তৈরি হয়।  সব ধরনের স্কিনের জন্যই কলা-কফির ফেসপ্যাক ব্যবহার করা যায়। ঘরোয়া উপায়েই বানিয়ে নিতে পারেন কলা-কফির ফেসপ্যাক। ত্বকের যেকোনও সমস্যার সমাধান ঘটবে এই ফেসপ্যাকের গুণে, এমনটাই আশ্বাস দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। চলুন ফেসপ্যাক তৈরির নিয়ম জেনে নেওয়া যাক- ১) হালকা গরম পানিতে এক চামচ কফি মিশিয়ে নিন। রাতে শোয়ার আগে এই ফেসপ্যাক ব্যবহার করুন। শুকিয়ে গেলে উষ্ণ পানিতে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এতে মুখের বলিরেখা কমবে। ২) শুষ্ক ত্বকে দারুণ কাজ করে কলা। একটা কলাকে চটকে নিয়ে তার মধ্যে পরিমাণ মতো মধু মিশিয়ে নিন। তার মধ্যে কফি মিশিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করুন। কিছুক্ষণ মুখে লাগিয়ে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। এতে ত্বক ঝকঝকে হয়ে উঠবে। ৩) হাঁটু, কনুই, বগলে যদি কালো ছাপ পড়ে তাহলে কলার খোসায় মধু, লেবুর রস মিশিয়ে ঘষে নিন। দেখবেন দ্রুত কালো ছোপ দূরে হবে। ৪) দিন দিন ঠোঁটের রং কালো হয়ে যাচ্ছে? কোনও চিন্তা নেই। কলার ছোট টুকরো করে নিন। তার মধ্যে অল্প কফি মিশিয়ে নিয়মিত ঠোঁটে লাগালেই কালো ছোপ দূর হবে। ৫) চোখের তলায় কালো ছোপ দেখা দিলে কফির সঙ্গে মধু মিশিয়ে নিয়ে চোখের নিচে লাগিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে ভাল করে ধুয়ে নিন। ৬) কলার খোসার মধ্যে কিছু পরিমাণ কফি এবং মধু ঢেলে দিন। সেই খোসাটা নিয়ে স্ক্রাবারের মতো করে মুখে ঘষতে থাকুন কয়েক মিনিট। এতে ত্বক ঝকঝকে হবে এবং বলিরেখা পড়বে না। ৭) শুধু ত্বকের যত্ন নয়, চুলের যত্নেও কফি আর কলা দারুণ কাজ করে। উষ্ণ পানিতে কফি মিশিয়ে নিন। শ্যাম্পু করার পর এই পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এতে চুলের গোড়া শক্ত হবে।
প্রতিদিনের এই পানীয়তেই মিলবে ব্রণের সমস্যা
প্রতিদিন নিয়ম করে মুখে ফেস-ওয়াশ, স্ক্রাব শেষে ক্রিম মেখে যত্ন নেন অনেকেই। এ ছাড়াও নিয়ম করে মাসে একটা ফেসিয়ালও করেন। এত কিছুর পরও ত্বকের ট্যান (রোদে পোরা দাগ) যায় না। আসলে অনেকেই ত্বকের উজ্বলতা বাড়াতে অনেক কিছু লাগান, কিন্তু সঠিক উজ্বলতা পেতে খাওয়া দাওয়ার ক্ষেত্রেও আনতে হবে পরিবর্তন। তবে শুধু ক্রিম মাখালেই ত্বক সুন্দর হবে এমন ধারনাটাও একেবারেই সঠিক নয়। মন থেকে নিজের যত্ন নিতে হবে, তবেই ত্বক সুন্দর হবে। জেনে নিন পানীয় বানানোর নিয়ম-  ত্বক ভালো রাখতে ভালো খাবারও খেতে হবে। তেল বেশি খাওয়া যাবে না। ফল, শাকসবজি এসব বেশি খেতে হবে। তেল চপচপে তরকারি খাবেন এমনটাও নয়। চিকেনের স্ট্যু খান, অল্প তেলে তরকারি বানিয়ে খান তবেই বেশি ভালো লাগবে। ত্বক সুন্দর করতে রান্নাঘর থেকে ডাল, বেসন, টকদই এসব বের করে নিয়ে মুখে মাখলেই চলবে না, সঙ্গে পেটকেও খাবার দিতে হবে। ভেতর থেকে ত্বক যাতে সুন্দর হয় সেইদিকে নজর রাখতে হবে। এতে ডিটক্সিফিকেশন ভালো হবে, মুখে কোনও রকম ব্রণের সমস্যা হবে না। ত্বকের সমস্যার জন্য দায়ী হরমোনও। এই হরমোন ঠিক রাখতে গেলেও আমাদের কিছু খাবার নিয়ম করে খেতে হবে। দেড় কাপ পানিতে বানিয়ে নিন এই ম্যাজিক পানীয়। একজন ডায়েটিশিয়ান তার ইস্টাগ্রাম পোস্টে এই পানির উপকারিতা ও বানানোর পদ্ধতি জানিয়েছেন। তার কথায় “ত্বকের দাগ-ছোপ-ব্রণ দূর করে ঝলমলে করে তুলবে এই একটি মিরাকল পানীয়।” পানি দারচিনির গুঁড়ো, এক চামচ মৌরি আর হাফ চামচ মেথি দিয়ে ফুটিয়ে নিতে হবে। এবার তা ভালো করে ছেঁকে নিয়ে সকালে খালি পেটে খান এক গ্লাস। এতে শরীরের সব হরমোন ঠিক মত কাজ করবে। পেট পরিষ্কার থাকবে যে কারণে ত্বক ঝকঝকে হবে নিজ থেকেই। আসলে বয়স বাড়লে ত্বকে বলিরেখা দেখা যায়, কালো ছোপ পরে যায়। কারণ তখন অক্সিডেশন বেশি হয়। যে কারণে এই পানীয় খুবই ভালো সাহায্য করে। ত্বকের গঠনে সাহায্য করে কোলাজেন। দারচিনি, মৌরির মধ্যে থাকে সেই বিশেষ গুন যা কোলাজেন গঠনে সাহায্য করে। ত্বক তাড়াতাড়ি বুড়িয়ে যায় না সেই সঙ্গে চামড়াও থাকবে টানটান। সব বয়সের সব মানুষ এই পানীয় খেতে পারেন।
সাবান ব্যবহারে যেসব পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হয়
সুস্থ থাকার জন্য শুধু স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস নয়, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য নিয়মিত গোসল করা উচিত। অনেকেই গোসলের সময় প্রতিবারই সাবান ব্যবহার করেন। কিন্তু আপনি কি জানেন সাবান নানাভাবে আপনার ত্বকের ক্ষতি করতে পারে? তাই গোসল করার সময় প্রতিবার সাবান ব্যবহার করা উচিত নয়। এতে আপনার ত্বকের ক্ষতি হতে পারে, ত্বক রুক্ষ হতে পারে। জেনে নিন কি ধরণের ক্ষতি হতে পারে- শুষ্কতা- অতিরিক্ত সাবান ব্যবহারের ফলে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল কমে যেতে পারে। যা শুষ্কতা এবং রুক্ষতার কারণ হতে পারে। যাদের ত্বক শুষ্ক বা সংবেদনশীল তারা এই সমস্যাটি বেশি অনুভব করে থাকেন। জ্বালাপোড়া- কিছু সাবানে কঠোর রাসায়নিক, যেমন- রঙ এবং সুগন্ধ থাকে। যা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। এগুলো জ্বালাপোড়ার সৃষ্টি করতে পারে। ত্বকে লালভাব, চুলকানি বা ফুসকুড়ি হতে পারে। সংবেদনশীল ত্বকের জন্য এই সমস্যাগু্লো আরও গুরুতর হয়ে ওঠতে পারে। ত্বকের পিএইচ ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে- গোসলের সময় নিয়মিত সাবান ব্যবহারের ফলে ত্বকের পিএইচ ভারসাম্য পরিবর্তন হতে পারে। যার ফলে ত্বকে অন্যান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। ভালো ব্যাকটেরিয়া অপসারণ করে- বেশি সাবান ব্যবহার করলে ত্বকের ব্যাকটেরিয়া দূর হয়। এ সময় ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার পাশাপাশি ভালো ব্যাকটেরিয়াও অপসারণ হয়ে যায়। অতিরিক্ত সাবান ত্বকের মাইক্রোবায়োম মেরে ফেলতে পারে। যা ত্বকের সমস্যার কারণ হতে পারে। ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়- সাবান দিয়ে প্রতিদিন গোসল করলে ত্বকের আদ্রতা কমে যায়। বিশেষ করে গরম পানি ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা কেড়ে নিতে পারে। ফলে ত্বকের ক্ষতি ছাড়াও শুষ্কতা, জ্বালাপোড়া ইত্যাদি দেখা দেয়। সাবানের এই পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া এড়াতে কিছু টিপস মেনে চলুন-  > গোসলের জন্য, মৃদু সাবান বেছে নিন। যা আপনার ত্বকের জন্য উপকারি। > অতিরিক্ত অ্যাডিটিভ বা সুগন্ধযুক্ত শক্ত সাবান ব্যবহার করা উচিত নয়। > শুধুমাত্র হাত, আন্ডারআর্মস, কোমরসহ শরীরের প্রয়োজনীয় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। শরীরের অন্য এলাকায় পানি ব্যবহার করুন। > গোসলের পরে ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করুন। এতে ত্বকের আর্দ্রতা পুনরুদ্ধার হবে। ত্বক শুষ্কতা থেকে মুক্তি পাবে। > গোসলের সময় হালকা গরম পানি ব্যবহার করুন। এতে ত্বক খুব বেশি শুষ্ক হবে না।
ত্বকের ক্ষতি করে যেসব প্রাকৃতিক উপাদান 
রূপচর্চায় প্রাকৃতিক উপাদানের ওপর আস্থা বাড়ছে। প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে রূপচর্চার আগ্রহ এখন প্রত্যেকের। হলুদ, নিমপাতা, ঘৃতকুমারী কিংবা অ্যালোভেরা প্রায়ই ত্বকের পরিচর্যায় ব্যবহার করা হয়। কিন্তু প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারেই ত্বক ভালো থাকবে এই ধারণা একদম ভুল। কারণ প্রাকৃতিক এসব উপাদান ত্বকের জন্য উপকারী হলেও সঠিকভাবে ব্যবহার না করলে অথবা পরিমাণে বেশি ব্যবহার করলে হিতে বিপরীত হতে পারে। তাই প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্ব করা উচিত। জেনে নিন বিস্তারিত: চিনি- ত্বকের জন্য চিনির ব্যবহার খুব পরিচিত। কিন্তু বেশি মাত্রায় এটি ব্যবহার করলে ক্ষতির সম্ভাবনা বেশি। ত্বক ভালোভাবে স্ক্রাব না করে মরা কোষ দূর করতে চিনি ব্যবহার করেন অনেকে। এটি ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। চিনি ঘা এর মতো ক্ষত তৈরি করতে পারে যা ত্বককে অনেক বেশি শুষ্ক করে দেয়। লেবুর রস- লেবুতে ক্ষারের পরিমাণ বেশি। ত্বকের যত্নে অনেকে লেবুর রস ব্যবহার করেন। বয়সের ছাপ দূর করতেও কার্যকরী। কিন্তু লেবুর কারণে ত্বকে হাইপারপিগমেন্টেশন ও জ্বালাপোড়া হতে পারে। তাই লেবুর রস ব্যবহারে সাবধানতা অবলম্বন করা ভালো। পরিমাণে বেশি দেওয়া যাবে না। বেকিং সোডা- মানসিক চাপ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে গোসলে অনেকেই বেকিং সোডা ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু এর ক্ষারীয় মাত্রা ত্বককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই সাবধানতার সঙ্গে এটি ব্যবহার করুন। ডিমের সাদা অংশ- ত্বকের কুচকানো ভাব দূর করতে ও ত্বকের মসৃণতা ধরে রাখতে অনেকেই ডিমের সাদা অংশ ব্যবহার করেন। ডিমের মধ্যে সেলমোনেলা নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকে যা ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। তাই এটি ব্যবহার না করাই ভালো।  অ্যাপল সিডার ভিনেগার- অনেকেই ব্রণ, খুশকি ও ত্বকের রুক্ষতা কমাতে অ্যাপল সিডার ভিনেগার ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু এটি অনেক বেশি অ্যাসিডিক হওয়ায়, ত্বকে মারাত্মক রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া হতে পারে। এ ধরনের প্রতিক্রিয়া এড়ানোর জন্য অ্যাপল সিডার ভিনেগার পানি মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন।