• ঢাকা বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১
logo
বাংলা নববর্ষে পান্তা-ইলিশের একাল-সেকাল
বাংলা সন যেভাবে এলো
‘জীর্ণ পুরাতন যাক ভেসে যাক, মুছে যাক গ্লানি... এসো হে বৈশাখ এসো এসো...।’ বাঙালির জাতীয় উৎসব, বাংলা নববর্ষ। বাংলা সন বা বঙ্গাব্দ ঠিক কীভাবে ও কখন প্রচলিত হয়েছিল, তা এখনও একেবারে নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারে না। তবে নানান পরোক্ষ প্রমাণে এবং গবেষণায় মনে করা হয়, সম্রাট আকবর বাংলা সন প্রবর্তন করেছিলেন। এক সময় নববর্ষ পালিত হতো ঋতুধর্মী উৎসব হিসেবে। কৃষিকাজ ঋতুনির্ভর হওয়ায় এ উৎসবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল কৃষির। তাই কৃষক সমাজের সঙ্গে বাংলা সন এবং নববর্ষের একটি আত্মিক সম্পর্ক গ্রথিত হয়ে আছে ঐতিহাসিকভাবে। কেননা, বাংলা সনের উৎপত্তি হয় কৃষিকে উপলক্ষ করেই। অনেক গবেষকের মতে, ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট আকবর বাংলা সনের প্রবর্তন করেন। বাংলা নববর্ষ পালনের সূচনাও হয় আকবরের সময় হতে। বাংলা বর্ষপঞ্জিটি প্রথমে তারিখ-ই-এলাহী বা ফসলি সন নামে পরিচিত ছিল। ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১০ অথবা ১১ মার্চ এটি বঙ্গাব্দ নামে প্রচলিত হয়। আকবরের রাজত্বের ঊনত্রিশতম বর্ষ, অর্থাৎ ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলা সন প্রবর্তিত হলেও তা গণনা করা হয় ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দের ৫ নভেম্বর থেকে। কারণ, এদিন আকবর দ্বিতীয় পানিপথের যুদ্ধে হিমুকে পরাজিত করে সিংহাসনে আরোহণ করেন। আকবরের বিজয়কে মহিমান্বিত করে রাখার লক্ষ্যে সিংহাসনে আরোহণের দিন থেকে বাংলা সন গণনা শুরু হলেও কৃষি কাজের সুবিধার্থে এবং কৃষকদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায়ে সুবিধার জন্যই মূলত সম্রাট আকবর বাংলা সন প্রবর্তন করেন। হিজরি চান্দ্রসন ও বাংলা সৌরসনকে ভিত্তি করে বাংলা সন প্রবর্তিত হয়। বাংলা সন প্রবর্তনের আগে মুঘল সম্রাটরা রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে হিজরি বর্ষপঞ্জি ব্যবহার করতেন। বাংলা সন প্রচলিত হওয়ার পর থেকে মুঘলরা জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হওয়া পর্যন্ত পয়লা বৈশাখ পালন করতেন। কৃষকরাও নববর্ষ পালন করতেন যথেষ্ট আড়ম্বর। সে সময়ে বাংলার কৃষকরা চৈত্র মাসের শেষ দিন পর্যন্ত জমিদার, তালুকদার এবং অন্যান্য ভূস্বামীদের খাজনা পরিশোধ করতেন। পরদিন নববর্ষে ভূস্বামীদের তাদের মিষ্টিমুখ করাতেন। এ উপলক্ষে তখন মেলা এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো। বাংলা সনের জন্মলগ্ন থেকে নববর্ষের উৎসব বাংলার গ্রামীণ জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ফলে গ্রামের সাধারণ মানুষ এবং কৃষকদের কাছে দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হওয়ায় খাজনার দায় পরিশোধের বিষয়টি না থাকলেও সামর্থ্য মতো সারা বছরের ধার-দেনা পরিশোধ করে নতুন বছরে নতুন জীবন শুরু করার অভিপ্রায় সব কৃষকের মনেই থাকে। তেমনি এক দায়মুক্ত মানসিক প্রশান্তিতে কৃষকরা নববর্ষে বাড়িঘর পরিষ্কার রাখে, কৃষি ও ব্যবহার্যসামগ্রী ধোয়ামোছা করে এবং সকালে স্নানাদি সেরে পুতপবিত্র হয়। এ দিনটিতে ভালো খাওয়া, থাকা ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে পারাকে তারা ভবিষ্যতের জন্য মঙ্গলজনক বলে মনে করেন। এদিন ঘরে ঘরে আত্মীয়স্বজন বন্ধুবান্ধব এবং প্রতিবেশীদের আগমন ঘটে। মিষ্টি, পিঠা পায়েসসহ নানারকম লোকজ খাবার তৈরি করারও ধুম পড়ে যায়। একে অন্যের সাথে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় চলে। এ ছাড়াও নববর্ষকে আরো উৎসবমুখী করে তোলে বৈশাখী মেলা। সার্বজনীন লোকজ এ মেলা অত্যন্ত আনন্দঘন ও উৎসবমুখর আমেজে উদযাপিত হয় দেশের বিভিন্ন গ্রাম-পল্লীতে। অবশ্য শহরাঞ্চলে এ মেলা বসে নগর সংস্কৃতির আদলে, ভিন্ন আমেজে। তবে দেশের তিন পার্বত্য জেলা— রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে নববর্ষ উদযাপিত হয় ভিন্ন আঙ্গিকে। বাংলা বছরের শেষ দুদিন এবং নতুন বছরের প্রথম দিন। এ তিন দিন মিলেই বর্ষবরণ উৎসব পালিত হয় এ তিন জেলায়। উপজাতিদের কাছে ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে এটিই সবচেয়ে বড় উৎসব। প্রতিবছর আনন্দমুখর পরিবেশে পালিত এ উৎসবকে ত্রিপুরাতে বৈসুক, মারমার জনগণ সাংগ্রাই এবং চাকমা জনসাধারণ বিজু নামে আখ্যা দিলেও ঐতিহ্যবাহী এ উৎসবে সমগ্র পার্বত্য এলাকায় ‘বৈসাবি’ নামে পরিচিত। বেসুক, সাংগ্রাই ও বিজু— এই নামগুলোর আদ্যাক্ষর নিয়েই ‘বৈসাবি’ শব্দের উৎপত্তি। বছরের শেষ দুদিন এবং নতুন বছরের প্রথম দিন, এ তিনদিন মিলেই মূলত বর্ষবরণ উৎসব ‘বৈসাবি’ পালিত হয়। পুরনো বছরের বিদায় এবং নতুন বছরকে বরণ উপলক্ষে জুমিয়া কৃষকসহ আপামর পাহাড়ি সম্প্রদায় সেই আদিকাল থেকে তিন দিনব্যাপী এ বর্ষবরণ উৎসব পালন করে আসছেন।
ইতিহাসে আজকের এই দিনে (৯ এপ্রিল)
অনলাইনে বিমান-বাস ও ট্রেনের টিকিট কাটার উপায়
ঢাকায় মিলছে উটের দুধের চা
বাজারে এলো হোন্ডা শাইন ১০০
আজ রুমমেটের প্রশংসার দিন
ফ্ল্যাটমেট বা রুমমেট হলো একটি ভাড়া বাসা, মেস বা প্রতিষ্ঠানের হল রুম শেয়ার করে থাকা একাধিক ব্যক্তি বা শিক্ষার্থী। অচেনা জায়গা থেকে আসা মানুষগুলো আপনজন হয়ে ওঠে রুমমেট হিসেবে থাকার ফলেই। অসুখ বিসুখ, ভালো মন্দ কিংবা বিপদে একে ওপরের পাশে থাকে। আজ ২৪ মার্চ সেই রুমমেটের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিন। রুমমেটের প্রশংসা করার দিন আজ।  রুমমেটের প্রশংসা করার দিন বা ফ্ল্যাটমেট দিবস বিষয়টি হাস্যকর হলেও আজ কিন্তু এমন কিছুই করার দিন। প্রতি বছর ২৪ মার্চ এ বিচিত্র দিবসটি পালিত হয়। বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষ একে অন্যের সাথে বাসা শেয়ার করে থাকেন। পরিবার থেকে দূরে থাকেন যারা, তারা কয়েকজন একসঙ্গে বাসা শেয়ার করে থাকেন। তবে অদ্ভুত বিষয় হচ্ছে এই বাসাতে থাকার আগে ফ্ল্যাটমেটরা কেউ কাউকে চিনত না। তবে একসঙ্গে থাকার এক পর্যায়ে তারা ভালো বন্ধু, আত্মবিশ্বাসী এবং কখনো কখনো নিজেদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একজন হয়ে ওঠেন। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৪ সালে আমেরিকানদের প্রায় ৭ দশমিক ৭ শতাংশ রুমমেটদের সঙ্গে বসবাস করত, যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ফ্ল্যাটমেট দিবসের ইতিহাস- প্রতি বছর ২৪ মার্চ ফ্ল্যাটমেটস ডে পালন করা হয়। ২০১৬ সাল থেকে এ দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। তবে ঠিক কে বা কারা এই দিবসটি পালন করা শুরু করেছিল সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। ডেইজ অব দ্য ইয়ার-এ জানা গেছে, কোনো এক ব্যক্তি তার রুমমেটের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য দিনটি উদযাপন শুরু করেছিলেন।
১৩ মার্চ : ইতিহাসে আজকের এই দিনে
ঘটে যাওয়া আজকের এই দিনের ঘটনা, অনেক আলোচিত-সমালোচিত ব্যক্তির জন্ম-মৃত্যু আমরা জানতে চাই। পাঠকের এ চাওয়া মাথায় রেখে নিয়মিত আয়োজন ‘ইতিহাসের এই দিনে’। আজ বুধবার, ১৩ মার্চ ২০২৪। ২৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ। ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া নানান ঘটনা। ঘটনাবলী : ০০৪৫ -  থেকে জুলিয়ান ক্যালেন্ডারের সূচনা। ১৭৫৮ -  হেলির ধূমকেতু গ্রহকক্ষস্থ সূর্যের নিকটতম বিন্দুতে অবস্থান নেয়। ১৭৮১ -  স্যার উইলিয়াম হার্শেল ইউরেনাস গ্রহ অবিষ্কার করেন। ১৭৯৯ -  মেদিনীপুরে চুয়াড় বিদ্রোহ শুরু। ১৮৭৮ -  বিভিন্ন ভাষার সংবাদপত্রের জন্য ব্রিটিশ রাজ কর্তৃক সংবাদপত্র আইন প্রণীত হয়। ১৮৮১ -  রাশিয়ার জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডার আততায়ীর হাতে নিহত হন। ১৮৯৬ -  নেদারল্যান্ডসে প্রথম চলচ্চিত প্রদর্শিত হয়। ১৯০৬ -  মার্কিন নারী ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার অন্যতম পুরোধা নেত্রী সুসান ব্রাউলেন অ্যান্টনির মৃত্যু। ১৯৩০ -  সৌরম-লের নবম গ্রহ প্লুটো আবিষ্কৃত হয়। ১৯৫৪ -  ইন্দোচীনে দিয়েন বিয়েন ফু’র যুদ্ধ শুরু হয়। ১৯৭১ -  শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের নেতৃত্বে স্বাধীনতা প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষুব্ধ শিল্পী সমাজের প্রথম মিছিল। ১৮৮১ -  রাশিয়ার জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডার আততায়ীর হাতে নিহত হন। জন্ম : ১৭৩৩ -  ইংরেজ রসায়নবিদ জোসেফ প্রিস্টলির জন্ম। ১৮৬১ -  সাহিত্যিক ও সম্পাদক জলধর সেনের জন্ম। ১৮৯৪ -  খ্যাতনামা বাঙালি পদার্থবিদ সত্যেন্দ্রনাথ বসুর (সত্যেন বোস) জন্ম। ১৯০০ -  গ্রিসের নোবেলজয়ী (১৯৬৩) কবি গেওর্গে সেফেরিসের জন্ম। ১৯৩০ -  বাংলাদেশের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক আবদুল্লাহ আল মুতী শরফুদ্দিনের জন্ম। ১৯১৪ -  খ্যাতনামা বাঙালি ঔপন্যাসিক অদ্বৈত মল্লবর্মণের জন্ম। মৃত্যু : ১৭৩৯ -  সুবাদার সুজাউদ্দিন খানের মৃত্যু। ১৭৪৮ -  সুইজারল্যান্ডের খ্যাতনামা গণিতবিদ ইয়োহান বার্নুয়ির মৃত্যু। ১৮৯৪ -  জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হার্টজের মৃত্যু। ১৯০১  -  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৩তম রাষ্ট্রপতি বেঞ্জামিন হ্যারিসন মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৭৬ -  পল্লীকবি জসীম উদ্দীনের ইন্তেকাল। ১৯৮৫ -  কবি দিনেশ দাশের মৃত্যু। ১৯৯৬ -  পোল্যান্ডের খ্যাতিমান চলচ্চিত্র নির্মাতা ক্রিস্তফ কিয়েশ্‌লফ্‌স্কি মৃত্যুবরণ করেন।
ইন্টেরিয়র ডিজাইন কী এবং কেন জরুরি
  ইন্টেরিয়র ডিজাইন এবং ইন্টেরিয়র ডেকোরেশনের মধ্যে অনেক বড় একটা পার্থক্য রয়েছে, যা আমরা সাধারণ চোখে কখনোই ভেবে দেখি না। বেইলি রোড দুর্ঘটনার পর অনেকেই বলছেন, ইন্টেরিয়র ডিজাইনের জন্য আগুনের ভয়াবহতা অনেক অনেক গুণ বেড়েছে। কথা ঠিক যে, অপ্রয়োজনীয় অনেক জিনিস আছে, যেগুলো থাকার কারণে একটা জায়গায় আগুন লেগে গেলে  তীব্রতা অনেক বেড়ে যেতে পারে। যেখানে দাহ্য পদার্থ যত বেশি থাকবে, সেখানে আগুন দ্রুত ছড়াবে এটাই স্বাভাবিক। কোনো একটা দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর আমরা নানারকম আলোচনা-সমালোচনা করে থাকি, কিন্তু খুবই দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, আমরা একটু চিন্তা না করে কোনো বিষয়ে কিছু একটা বলে ফেলার কারণে সমাজে এর অনেক বড় ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। তেমনই একটা ক্ষতিকর প্রভাব হলো ইন্টেরিয়র ডিজাইনকে, ইন্টেরিয়র ডেকোরেশনের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলা। ইন্টেরিয়র ডিজাইন কী?  খুব সহজে এবং সংক্ষেপে যদি বুঝতে চাই তাহলে, কোনো একটা আবদ্ধ স্থানকে আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী ভাগ করে নেওয়া অর্থাৎ আপনার কাছে একটি নির্দিষ্ট আবদ্ধ স্থান রয়েছে এখন এই আবদ্ধ স্থানটির কোথায় আপনি কোন কাজের জন্য ব্যবহার করবেন, তা নির্ধারণ করা। স্থাপত্যের ভাষায় বললে, কোনো স্থাপনার অভ্যন্তরীণ স্থানকে প্রয়োজনীয় কাজের জন্য উপযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিত করা ইন্টেরিয়র ডিজাইনের কাজ।  প্রথমত, এই কাজে অনেকগুলো বিষয় নিশ্চিত করতে হয়, যেমন- যথাসম্ভব পর্যাপ্ত বাহিরের আলো–বাতাসের ব্যবস্থা রাখা, প্রতিটা মানুষ যেন আরামে বসে কাজ করতে পারে, কাজের স্থানে যেন চলাচলের সুব্যবস্থা থাকে, কাজের ধরন অনুযায়ী পর্যাপ্ত আসবাবপত্র রাখার ব্যবস্থা থাকা, এমনভাবে আসনগুলোকে স্থাপন করা যেন, প্রত্যেকে প্রত্যেকের কাছে তাদের কাজের গোপনীয়তা রক্ষা করতে পারে। আবার প্রয়োজন অনুযায়ী কয়েকজন একসাথে বসে কাজ করতে পারে। কোনো একটা দুর্ঘটনা ঘটলে যেন সবাই খুব দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যেতে পারে ইত্যাদি আরও অনেকগুলো বিষয়ের দিকে খেয়াল রেখে একজন ইন্টেরিয়র ডিজাইনার বা ইন্টেরিয়র স্থপতি কাজ করে থাকেন।  দ্বিতীয়ত, ডিজাইনের জন্য ব্যবহৃত উপকরণ নির্ধারণ করা, এটা একটা চ্যালেঞ্জিং কাজ। ক্লায়েন্টের সামর্থ্য, পছন্দ, ব্যবহারকারীর ওপর প্রভাব ইত্যাদি নানান বিষয় মাথায় রেখে ডিজাইনের উপকরণ বাছাই করতে হয়। উপকরণের গঠন, রং, আলোর প্রতিফলন, ঠান্ডা-গরম এমনকি ব্যবহারকারীর মানসিক নানান দিক ও চিন্তা করতে হয়। অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে ইন্টেরিয়র ডিজাইন সম্পূর্ণরুপে একটি সৃষ্টিশীল বা সৃজনশীল কাজ।  ইন্টেরিয়র ডেকোরেশন কী?  একটি আবদ্ধ স্থানকে যখন কাজের ধরন অনুযায়ী ভাগ করা হয়, তখন ওই ভাগ করা একেকটি অংশকে আমরা আমাদের পছন্দমতো উপকরণ দিয়ে অলংকৃত করি। মূলত এই অলংকরণ করাটাই হলো ইন্টেরিয়র ডেকোরেশন। এই কাজে খুব একটা সৃষ্টিশীলতার তেমন কিছু নেই। ব্যবহারকারীর রুচির ওপর বেশির ভাগ নির্ভর করে।   কেন ইন্টেরিয়র ডিজাইন এবং ডেকোরেশনের মধ্যে পার্থক্য বোঝা জরুরি  ইন্টেরিয়র ডিজাইন একজন ব্যবহারকারীকে তার স্থানটিকে উপযুক্ত ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত দিকনির্দেশনা দিবে যা একজন ব্যবহারকারীর খুবই প্রয়োজন। একটি আবদ্ধ স্থানকে ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ব্যবহার উপযোগী করে গড়ে তুলতে পারেন একজন ইন্টেরিয়র ডিজাইনার বা ইন্টেরিয়র স্থপতি। আমাদের দেশে এই বিষয়টি খুব বেশি দিন আগে থেকে তেমন পরিচিত নয়। আবার নিয়ম-কানুন না মেনে অনেক কিছুই আমরা করে ফেলতে পারি বলে কোন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের গুরুত্বকে তোয়াক্কা না করেই এগিয়ে যাই যা বেশির ভাগ সময়ে বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ইন্টেরিয়র ডিজাইন এবং ডেকোরেশনের মধ্যে পার্থক্য না বোঝার কারণে আজকে একটা সুন্দর শিল্পকে আমরা ধ্বংশ করে ফেলতে যাচ্ছি। ইন্টেরিয়র ডিজাইনের নামে শুধুমাত্র কিছু গৎবাধা ডেকোরেশন করে চালিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে আমি মনে করি। আমদের দেশের বেশির ভাগ মানুষই সচেতন নয় আর এই অসচেতনতার সুযোগ নিচ্ছে একদল লোভী, সুবিধাভোগী মানুষ। তারা কিছু না জেনেই অতি মুনাফার আশায় মানুষের ক্ষতি করে আসছে। একটি ইন্টেরিয়র ডিজাইন করার জন্য একজন মানুষকে অনেক পড়াশোনা করতে হয়, তাকে অনেক বেশি সৃজনশীল হতে হয়, তার মধ্যে আত্মবিশ্বাস থাকতে হয় এবং ভালো মন-মানসিকতার অধিকারী হতে হয়, তারপর একজন মানুষ একটি ভালো কাজ উপহার দিতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে বেইলি রোড ট্রাজেডির ফলে অনেকেই না বুঝে ইন্টেরিয়র ডিজাইনকে অনেকাংশে দায়ী করছেন।  আসলে দেখতে হবে যে, এই ট্রাজেডির জন্য কে দায়ী, ইন্টেরিয়র ডিজাইন নাকি ইন্টেরিয়র ডেকোরেশন? আমাদের কিছু ভুল ধারণার কারণে একটা সুন্দর শিল্পকে যেন ধ্বংস করে না ফেলি! আমাদের মনে রাখতে হবে যে, একজন ইন্টেরিয়র ডিজাইনার বা ইন্টেরিয়র স্থপতি পারেন একটি আবদ্ধ স্থানকে ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুসারে সর্বোচ্চ ব্যবহার উপযোগী করে গড়ে তুলতে। বর্তমানে আমাদের দেশে অনেকেই খুব ভালো ভালো কাজ করছেন। আমরা অনেকেই জানিনা যে, আন্তর্জান্তিক পরিমণ্ডলে আমাদের দেশের স্থপতিদের করা ইন্টেরিয়র ডিজাইনের প্রজেক্ট পুরস্কার পাচ্ছে এবং সমাদৃত হচ্ছে।   অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা এই ইন্টেরিয়র ডিজাইনের ওপর বিভিন্ন মেয়াদে কোর্স করাচ্ছেন এমনকি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে অনার্স (ব্যাচেলর ডিগ্রি) কোর্স ও করানো হচ্ছে। তাই আমরা জেনে-বুঝে ও শুনে একজন ডিজাইনারের পটভূমি যাচাই করে তবেই তাকে বা তার প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে ইন্টেরিয়র ডিজাইন করাব। এখন সময় এসেছে এই শিল্পকে নিয়ে গর্ব করার। স্থপতি মো. মোকসেদুর রাহমান রিপন সাবেক শিক্ষক, শান্ত মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি
আজ ‘নাক পরিষ্কার করা দিবস’
আজ ১১ মার্চ, ‘নাক পরিষ্কার করা দিবস’ বা ‘ওয়াশ ইওর নোজ ডে’। ক্লিয়ার নামক যুক্তরাষ্ট্রের একটি নাক ও মুখের যত্নের পণ্য বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে ২০২১ সালে দিবসটি পালন শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। নাক শরীরের একটি অতিগুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। মানুষের বেঁচে থাকার জন্য শ্বাস-প্রশ্বাসের মৌলিক কাজটিই করে থাকে নাক বা নাসারন্ধ্র। নাক দিয়ে ঘ্রাণ নিয়ে মানুষ বিবেচনা করে কোনটি গ্রহণ বা বর্জন বাঞ্ছনীয়। নাকের গড়ন বা আকৃতি মানুষের মুখশ্রীকেও অনেক বাড়িয়ে তোলে। এমনকি মানুষের কণ্ঠস্বরেরও একটা প্রভাব থাকে নাকে। শরীরের এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটির যত্নও নেওয়া উচিত গুরুত্বের সঙ্গে। অনেকেই নাকের যত্নের ব্যাপারে বেশ উদাসীন। মানুষ হাত, পা, মুখ, ত্বক, চুল এমনকি কণ্ঠস্বরেরও যত্ন নেয়। কিন্তু নাকের ব্যাপারে তেমন কোনো খেয়াল থাকে না। অথচ নাকের অযত্নের কারণে শরীরে মারাত্মক সব রোগ দানা বাঁধতে পারে। ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাসসহ অসংখ্য রকমের স্বাস্থ্যহানিকর ময়লা নাকে প্রতিদিন জমে থাকে। এসব ময়লা বড় ধরনের অসুখের কারণ। নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ, নাক ডাকা, নাক চুলকানো, শ্বাসকষ্ট, সর্দি, হাঁচি-কাশি—কত সমস্যা। যাদের নাকের জটিলতা আছে, কেবল তারাই বোঝেন এসব কষ্ট। দিবসটি উপলক্ষে নাকের যত্নে কিছু টিপস দেখে নেওয়া যাক কুসুম গরম পানির ভাপ নিয়ে নাক পরিষ্কার করতে পারেন। গরম পানিতে মেনথলের দানা মিশিয়ে চোখ বন্ধ করে ভেপার বা ইনহেলেশন নাক দিয়ে টেনে নিন। এতে ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস নাক থেকে সহজেই দূর হবে। এ অসুখে সাধারণত অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ খুব কার্যকর এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তবে বাজারে চলতি নাকের ড্রপে সাময়িক আরাম মিললেও দীর্ঘদিন ব্যবহারে ঘ্রাণশক্তি কমে যেতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অযথা নাকের ড্রপ, টানা ব্যবহার করবেন না। সমস্যা বাড়লে নাক-কান-গলা চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। দুধে এক চিমটি খাবার সোডা মিশিয়ে নিতে হবে। এর মধ্যে তুলা ভিজিয়ে নাকের ওপর আলতো করে মুছে নিতে হবে। এতে নাকের উপরে জমে থাকা ধুলো পরিষ্কার হবে। ১০০ গ্রাম গোলাপজলে ১ চা-চামচ কর্পুর মিশিয়ে রেখে দিন। দিনে দুই থেতে তিনবার তুলোয় এই গোলাপ পানির মিশ্রণ দিয়ে পরিষ্কার করলে ব্ল্যাক হেডস বা হোয়াইট হেডসের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। অনেকের নাকের দুই পাশে কালচে ছাপ দেখা যায়। এ থেকে মুক্তি পেতে ১ চামচ মুলতানি মাটি, চার-পাঁচটি লবঙ্গগুঁড়া, গোলাপজলে মিশিয়ে নাকের উপর লাগিয়ে রাখতে হবে। শুকিয়ে এলে ধুয়ে ফেলুন। নাকের পাশে বা ত্বকের যে কোন জায়গায় হোয়াইট হেডস হলে তা কখনও চাপ দিয়ে বের করার চেষ্টা করবেন না। আতপ চালের গুঁড়ার সঙ্গে মসুর ডাল বাটা লাগালে এর থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। নাকের উপর ও চারপাশে দুধ দিয়ে পরিষ্কার করে ক্লিনজিং মাস্ক লাগাতে হবে। দই, ডিম, মধু ও সামান্য পরিমাণ হলুদ একসঙ্গে মিশিয়ে নাকের উপর লাগিয়ে রাখুন। মিনিট দশেক পরে ধুয়ে ফেলুন। ফলে সব সময় নাকের উপর ও চারপাশ পরিষ্কার থাকবে। সহজে কোন ছোপ বা ব্ল্যাক হেডস হবে না। নাকের ত্বক মসৃণ করতে ১ চামচ মধু, ১০ থেকে ১২ ফোঁটা লেবুর রস, ২ চামচ গাজরের রস ও ১ চামচ বেসন একসঙ্গে মিশিয়ে এই মিশ্রণ লাগিয়ে রাখুন। ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।  
ব্যর্থ প্রেমের দুঃখ ভুলে ঘুরে দাঁড়ানোর দিন
পুরনো প্রেমের স্মৃতিতে ডুবে না থেকে আজ নিজেকে মুক্তি দিন। নিজের ইতিবাচক চিন্তাগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে ডেইলি রুটিন তৈরি করে ফেলুন। কারণ দুয়ারে হাজির হয়েছে ‘ব্যর্থ প্রেম ভুলে ঘুরে দাঁড়ানো দিন।’ বলা যায়, ভাঙা হৃদয়কে নতুন করে সারিয়ে তোলার দিন আজ। ভালোলাগা থেকে যে প্রেমের গল্প, অনেকের জীবনে তা ব্যর্থতার গল্পে পরিণত হয়। এরপর মানুষটি হতাশ হয়ে পড়েন। কেউ কেউ ভুল পথে পা বাড়ান। কিন্তু জীবন সুন্দর। এই সুন্দরকে আরও সুন্দর করে তুলতে বেদনাদায়ক স্মৃতিকে বিদায় জানাতে হয়। নিজেকে খুঁজে নিতে হয় নতুন কোনো ভালোলাগায়, ভালোবাসায়। ডেজ অব দ্য ইয়ারের তথ্য, প্রেমিকা চলে যাওয়ার পর খুব বেশি ভেঙে পড়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার অধিবাসী জেফ গোল্ডব্ল্যাট। দুঃখভারাক্রান্ত মানুষটা ব্যর্থ প্রেম ভুলে ঘুরে দাঁড়াতে চাচ্ছিলেন। চেষ্টা করছিলেন এমন কিছু করতে, যা তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সাহায্য করবে। এ সময়ই তার মাথায় আসে ‘দুঃখ ভুলে ঘুরে দাঁড়ানোর দিন’ গোছের একটা দিবস চালুর ভাবনা। ভাবলেন, তিনি তো একা নন, এমন বেদনাহত মানুষ আছে প্রচুর। তারাও হয়তো ব্যাপারটা থেকে অনুপ্রেরণা পেতে পারে। যেই ভাবা সেই কাজ। জেফ একটি কবিতা লিখলেন এবং একটি ওয়েবসাইট খুলে সেখানে পোস্ট করলেন।  সাড়া পেতে বেশি সময় লাগেনি গোল্ডব্ল্যাটের। অনেক মানুষ গোল্ডব্ল্যাটের কবিতায় সাড়া দেন এবং একাত্মতা পোষণ করেন। এরপর ‘গুড মর্নিং আমেরিকা’সহ বিভিন্ন গণমাধ্যম বিচিত্র এই দিবস নিয়ে ফিচার প্রকাশ করে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে জনপ্রিয়তা পায় দিনটি। হ্যাঁ, দিনটি ছিল ৯ মার্চ। সচেতনভাবেই ভ্যালেন্টাইনস ডে এবং এপ্রিল ফুল ডে-র মাঝামাঝি একটা তারিখকে বেছে নিয়েছিলেন জেফ। আজ সেই দুঃখ ভুলে ঘুরে দাঁড়ানোর দিন (গেট ওভার ইট ডে)। যারা হৃদয় ভাঙার ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন, আজকের দিনকে অনুপ্রেরণা হিসেবে নিতে পারেন তারা। পুরনো প্রেমের স্মৃতিতে ডুবে না থেকে আজ নিজেকে মুক্তি দিন। এই দিনটিই হোক বিরহ যাপনের শেষ দিন। 
আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ইতিহাস, গুরুত্ব
প্রতি বছর মার্চ মাসের ৮ তারিখ বিশ্বজুড়ে উদযাপিত হয় আন্তর্জাতিক নারী দিবস। লিঙ্গবৈষম্য দূর করে নারীর প্রতি সম্মান ও সমানাধিকার জানাতেই দিবসটি উদযাপিত হয়। চলতি বছরেও এর ব্যতিক্রম হচ্ছে না। এটি এমন একটা দিন, যা সূচনাপর্ব থেকে জীবনের প্রতি ক্ষেত্রে নারীদের সম্মানের কথা মনে করিয়ে দেয়। এমনকি প্রতি বছর আন্তর্জাতিক নারী দিবসের একটি থিম থাকে। কিন্তু আমরা এখনো অনেকেই এই নারী দিবসের এ বছরের থিম, ইতিহাস ও গুরুত্ব সম্পর্কে জানি না। নারী দিবস উপলক্ষে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের বিস্তর ইতিহাস। চলুন, জেনে নেওয়া যাক দিবসটির পিছনের এসব খুঁটিনাটি তথ্য।  যেভাবে শুরু হলো : এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ৮ মার্চকে নারী দিবস হিসেবে পালন করে আসছে সারাবিশ্বের মানুষ।আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে সংক্ষেপে আইডব্লিউডি বলা হয়ে থাকে। শ্রমিক আন্দোলন থেকেই উদ্ভূত হয় নারী দিবসের ধারণা। পরবর্তীতে দিনটি জাতিসংঘের স্বীকৃত পায় এবং প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী উদযাপিত হতে থাকে।   ১৯০৮ সালে কর্মঘণ্টা কমিয়ে আনা, বেতন বৃদ্ধি এবং ভোটাধিকারের দাবিতে প্রায় ১৫ হাজার নারী নিউইয়র্ক শহরের রাস্তায় আন্দোলনে নেমেছিল। মূলত, এই আন্দোলনের মাঝেই লুকিয়ে ছিল আনুষ্ঠানিকভাবে নারী দিবস পালনের বীজ। এই আন্দোলনের এক বছর পর আমেরিকার সোশ্যালিস্ট পার্টি সর্বপ্রথম জাতীয় নারী দিবস ঘোষণা করে। জাতীয় পর্যায় থেকে দিনটিকে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে পরিণত করার প্রথম উদ্যোগটি নিয়েছিলেন কমিউনিস্ট ও নারী অধিকার কর্মী ক্লারা জেটকিন। ১৯১০ সালে তিনি কোপেনহেগেনে কর্মজীবী নারীদের এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এ ধারণার প্রস্তাব দেন। সেই সম্মেলনে উপস্থিত ১৭ দেশের ১০০ জন নারীর সকলেই তার প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গ্রহণ করেন। এরপরের বছর, অর্থাৎ ১৯১১ সালে অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, জার্মানি এবং সুইজারল্যান্ডে প্রথমবারের মতো পালিত হয়েছিল আন্তর্জাতিক নারী দিবস। ২০১১ সালে পালিত হয় দিনটির শতবর্ষ। প্রতি বছর একটু একটু করে এগিয়ে ২০২৩ সালে আজ আমরা পালন করছি ১১২তম আন্তর্জাতিক নারী দিবস। কেন ৮ মার্চ? আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ধারণাটি যখন ক্লারা উত্থাপন করেন, তখন তিনি নির্দিষ্ট কোনো তারিখ উল্লেখ করেননি। ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবের আগ পর্যন্ত দিনটি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দিষ্ট করা যায়নি বলেই উল্লেখ রয়েছে বিবিসির প্রতিবেদনে। একই বছর রুশ নারীরা 'রুটি এবং শান্তি'-এর দাবিতে তৎকালীন জারের (রাশিয়ার সম্রাট) বিরুদ্ধে ধর্মঘট শুরু করেন; এর ৪ দিনের মাথায় গদি ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল জার এবং জারের গদিতে বসা অস্থায়ী সরকার তখন নারীদের আনুষ্ঠানিক ভোটাধিকার দিয়েছিলেন। সে সময়ে রাশিয়ায় প্রচলিত জুলিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, নারীদের ধর্মঘট শুরু হয়েছিল ২৩ ফেব্রুয়ারি, রোববার। আর গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে এই দিনটি ছিল ৮ মার্চ; পরবর্তীতে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ৮ মার্চকেই আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নারী দিবসের প্রতীক কেন বেগুনি? আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ওয়েবসাইট অনুসারে বেগুনি, সবুজ এবং সাদা হলো আন্তর্জাতিক নারী দিবসের রঙ। "বেগুনি রঙ দিয়ে ন্যায়বিচার এবং মর্যাদাকে বোঝানো হয়। সবুজ আশার প্রতীক; আর সাদা বিশুদ্ধতার। যদিও এই ধারণা নিয়ে বিতর্কিত রয়েছে, ১৯০৮ সালে যুক্তরাজ্যের উইমেন'স সোশ্যাল অ্যান্ড পলিটিক্যাল ইউনিয়ন (ডব্লিউএসপিইউ) এই রঙগুলোকেই নির্দিষ্ট করেছিল," ওয়েবসাইট অনুসারে। নারী দিবসের মতো কি আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবসও আছে? এ প্রশ্ন অনেকেরই। উত্তর হলো, পুরুষ দিবসও আছে; আর সেটি ১৯ নভেম্বর। ১৯৯০ সালে প্রথম পুরুষ দিবস পালিত হয়; তবে এটি জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃত নয়। প্রতিবছর যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশে দিনটি উদযাপন করা হয়ে থাকে। কীভাবে পালিত হয় অন্তর্জাতিক নারী দিবস? রাশিয়াসহ বিশ্বের অনেক দেশেই আন্তর্জাতিক নারী দিবসে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ৮ মার্চের আগে-পরের ৩/৪ দিন এসব দেশে ফুলের বিক্রি বেড়ে হয় প্রায় দ্বিগুণ।  চীনের অনেক স্টেটে কাউন্সিলের বিবেচনায় ৮ মার্চ নারীদেরকে অর্ধেক দিনের ছুটি দেওয়া হয়। ইতালিতে দিনটি নারীদের ফুল দেওয়ার মাধ্যমে উদযাপিত হয়। ফুলের শুভেচ্ছা জানানোর এ ঐতিহ্যের উৎপত্তি অস্পষ্ট; তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে এটি রোমে শুরু হয়েছিল বলে মনে করা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মার্চ মাসকে নারীদের ইতিহাসের মাস বলে মনে করা হয়। প্রতিবছর আমেরিকান নারীদের কৃতিত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ মার্কিন প্রেসিডেন্ট একটি ঘোষণাপত্র জারি করেন এই দিনে। নারী দিবস কেন প্রয়োজন? গেলো বছর আফগানিস্তান, ইরান, ইউক্রেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো অনেক দেশে নারীরা তাদের নিজ নিজ দেশে যুদ্ধ, সহিংসতা এবং সরকারি নীতি পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে নিজেদের অধিকারের জন্য লড়াই করে গেছেন এবং এখনও করছেন। আফগানিস্তানে ফের তালেবান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেখানে নারীদের জন্য উচ্চাশিক্ষা ও চাকরি নিষিদ্ধ করা হয়; এমনকি বাড়ির বাইরে যেতে হলেও বৈধ পুরুষ সঙ্গী নিয়ে যাওয়ার নিয়ম জারি করে তালেবান সরকার। ইরানেও নারী অধিকারের বিষয়টি সম্প্রতি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। গেল বছর সেপ্টেম্বরে ঠিকভাবে হিজাব না পরার অভিযোগে ২২ বছরের তরুণী মাহসা আমিনিকে গ্রেপ্তার করে তেহরানের নৈতিকতা বিষয়ক পুলিশ। এরপর পুলিশি হেফাজতেই তার মৃত্যু হলে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। সেই বিক্ষোভে নারীরা নিজেদের মাথার স্কার্ক বা হিজাব খুলে, আগুনে পুড়িয়ে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়। সেই বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন ইরানের পুরুষরাও। শুধু মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেই নয়, পশ্চিমের অনেক দেশেও অধিকারের জন্য এখনও লড়ছেন নারীরা। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বজুড়ে যে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা, অপুষ্টি, দারিদ্র্য এবং লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতার সৃষ্টি হয়েছে, তার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হলো নারী। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রও ও মেক্সিকোতে সম্প্রতি নারীদের গর্ভপাতের অধিকার নিয়েও চলেছে বেশ হট্টগোল। মূলত, এসব বাধাবিপত্তি পেরিয়ে আগামী দিনগুলোতে নারীর সুন্দর জীবনের নিশ্চয়তার জন্যই আনুষ্ঠানিকভাবে এই নারী দিবসের প্রয়োজন এখনও রয়েছে বলে মনে করেন বিশ্বের নারী ও মানবাধিকার কর্মীরা।   গুরুত্ব:  লিঙ্গবৈষম্য দূর করার জন্য এই দিনটি পালিত হয়। শিল্প-সাহিত্যসহ সব ধরনের ক্ষেত্রে এবং সমাজের সমস্ত কাজে নারীদের অবদানকে স্বীকৃতি দিতেই এই দিনটি পালিত হয়। 
আজ নারীর পক্ষ থেকে পুরুষকে বিশেষ প্রস্তাব পাঠানোর দিন, জানেন?
আজকের দিনটি চলে গেলে আবার ফিরে আসবে চার বছর পর। আর এ জন্যই আজকের দিনটিকে স্মরণীয় করতে অনেকেই বিশেষ কোনো কাজ করার কথা ভেবে রাখেন। আর সে চিন্তা ভাবনা থেকেই কেউ বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন কেউবা প্রোপজ করেন, অনেকেই আবার কোথাও ঘুরতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, পরিবারের সবাইকে নিয়ে ডিনারে যাওয়া বা অন্যান্য ইত্যাদি কাজ করেন। তবে জানেন কি আজ কিন্তু আরও একটি বিশেষ কাজের দিন, আপনি যদি নারী হয়ে থাকেন তাহলে দিনটি আপনার জন্য একটু বেশিই বিশেষ। আজ নারীর পক্ষ থেকে পুরুষকে প্রস্তাব পাঠানোর দিন! যদি পছন্দের পুরুষ থেকে থাকে, তাহলে আজই সে কথা জানিয়ে দেওয়ার জন্য উপযুক্ত দিন। কেন জানেন? সারা বিশ্বের সবখানেই কমবেশি ‘লজ্জা নারীর ভূষণ’-এ রকম একটা কথা প্রচলিত। আর তাই হয়ত আমরা পুরুষেরাই সব সময় ভালোবাসার কথা জানাবেন, হাঁটু গেড়ে প্রস্তাব দেবেন, এ বিষয়টা দেখে অভ্যস্ত।  পঞ্চম শতাব্দীতে কেউ একজন নারীদের হয়ে রোমানো-ব্রিটিশ পোপ সেন্ট প্যাট্রিককে বলেছিলেন, ওদের তো মনের কথা জানাতে অনেক সময় লেগে যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রিয়জনকে মনের কথা জানাতেই পারেন না। তার আগেই সেই প্রিয়জন ‘অফিশিয়ালি’ অন্য কারও হয়ে যান। বা যেকোনো কারণেই হোক, তারা আলাদা হয়ে যান। এর ফলে নীরবেই তৈরি হয় অনেক বিচ্ছেদের গল্প। কোনো দিন যেগুলো ইতিহাসের পাতায় আর জায়গা পায় না। তখন নারীদের জন্য একটা দিন নির্দিষ্ট করে দেন আয়ারল্যান্ডের সেই ধর্মপ্রচারক সেন্ট প্যাট্রিক। পছন্দের পুরুষকে সেদিন তারা বিয়ের প্রস্তাব পাঠাবেন। আর সেটা হলো চার বছর পর আসা ফেব্রুয়ারির অতিরিক্ত দিনটি, অর্থাৎ ২৯ ফেব্রুয়ারি। সেন্ট প্যাট্রিক আরও নিয়ম করেন, যে পুরুষ অধিবর্ষে পাওয়া কোনো নারীর বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেবেন, সরকারি কোষাগারে তাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জরিমানা দিতে হবে। আয়ারল্যান্ড, ডেনমার্ক থেকে শুরু করে সারা ইউরোপেই এদিন নারীদের পক্ষ থেকে পছন্দের পুরুষকে প্রেম ও বিয়ের প্রস্তাব দেওয়াটা অনেকটা অলিখিত প্রথার মতো চালু হয়ে যায়। এখন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিনটিকে নারীদের পক্ষ থেকে ছেলেদের প্রস্তাব পাঠানোর দিন হিসেবে উদ্‌যাপন করা হয়ে থাকে। তাহলে আর দেরি না করে আজই মনের মানুষটিকে জানিয়ে দিন তার প্রতি আপনার ভালোবাসার কথা, আর দিনটিকে করে তুলুন স্মরণীয়।  সূত্র : অনলাইন