• ঢাকা বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১
logo
ইরানের হামলার জবাব কীভাবে দেবে ইসরায়েল, জানাল যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র-ইইউ
ইসরায়েলে হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা ভাবছে  যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।  বুধবার (১৭ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।  প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলেছে, সম্প্রতি ইসরায়েলের ওপর হামলার কারণে এখন তারা ইরানের বিরুদ্ধে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের দিকে নজর দিচ্ছে। প্রসঙ্গত, ইরানে ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর থেকে ইসরায়েলের সঙ্গে দেশটির বৈরিতাপূর্ণ সম্পর্ক চলে আসছে। গত বছরের ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরুর পর থেকে হামাসকে অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে সহায়তা করে আসায় ইরানের ওপর ক্ষোভ বাড়ে ইসরায়েলের।  এ ধারাবাহিকতায় গত ১ এপ্রিল সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে অবস্থিত ইরানি কনস্যুলেটে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় কনস্যুলেট ভবনটি। হামলায় নিহত হন দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) শীর্ষস্থানীয় দুই কমান্ডারসহ সাতজন সামরিক কর্মকর্তা। জবাবে গত শনিবার (১৩ এপ্রিল) ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে একযোগে তিনশ'র বেশি ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে হামলা চালায় ইরান। ইসরায়েলের ভূখন্ডে এর আগে আর কখনও সরাসরি হামলা চালায় নি দেশটি। এ হামলার জবাবে এবার ইরানে পাল্টা আঘাত হানার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে ইসরায়েল। সব মিলিয়ে দুই চিরশত্রু দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ দেখা দিয়েছে নতুন করে। ইরানে পাল্টা হামলা না করার জন্য ইসরায়েলকে আহ্বান জানাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রসহ তাদের অন্যান্য পশ্চিমা মিত্ররাও।  এমন পরিস্থিতিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েল কাটয জানান, তিনি ইরানের ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়ে ৩২টি দেশের কাছে চিঠি লিখেছেন। চিঠিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানানো হয়েছে। এ চিঠির পাওয়ার পর ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি নিয়ে ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। মার্কিন অর্থমন্ত্রী জ্যানেট ইয়েলেন বলেছেন, তিনি আগামী দিনগুলোতে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন বলে আশা করছেন। অন্যদিকে ইইউয়ের পররাষ্ট্র নীতির প্রধান জোসেপ বোরেলও বলেছেন, তার ব্লক এটি নিয়ে কাজ করছে। মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) মার্কিন অর্থমন্ত্রী ইয়েলেন বলেছেন, ‘আমরা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থা নেব। আমরা নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আগে থেকে বলি না। তবে ইরানের সন্ত্রাসী অর্থায়ন ব্যাহত করার সমস্ত বিকল্পই আমার টেবিলে রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ইরানের তেল রপ্তানি এমন একটি সম্ভাব্য ক্ষেত্র যা আমরা টার্গেট করতে পারি। স্পষ্টতই, ইরান এখনও কিছু পরিমাণ তেল রপ্তানি করে যাচ্ছে। এ বিষয়ে আমরা হয়তো আরও কিছু করতে পারি।’ ইয়েলেন বলেন, ইরানকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই আর্থিক নিষেধাজ্ঞাগুলোকে ব্যবহার করছে। পাঁচ শতাধিক ব্যক্তি এবং সংস্থাকে লক্ষ্য করে আরোপিত এই নিষেধাজ্ঞা প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন করার এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধকে সমর্থন করার ক্ষমতাকে ব্যাহত করার কাজ করছে। এদিকে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান বলেছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন কর্মসূচির পাশাপাশি তাদের বিপ্লবী গার্ড এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে লক্ষ্য করে নতুন নিষেধাজ্ঞাগুলো আরোপ করা হবে। আমরা আশা করি, আমাদের মিত্র এবং অংশীদাররা শিগগিরই তাদের নিজস্ব নিষেধাজ্ঞাগুলো আরোপ করবে।’ অন্যদিকে ইইউর শীর্ষ কূটনীতিক জোসেফ বোরেল বলেছেন, কিছু সদস্য দেশ ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়ানোর জন্য বলেছে। নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় কাজ শুরু করার জন্য ইইউয়ের কূটনৈতিক পরিষেবার কাছে অনুরোধ পাঠানো হবে।
৩২ দেশকে ইসরায়েলের চিঠি, কি ছিল সেই চিঠিতে
ইসরায়েলি হামলার সেকেন্ডের মধ্যে জবাব দিতে প্রস্তুত ইরান
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা, জাতিসংঘের সতর্কবার্তা
ওমরাহ ভিসার অপব্যবহারের ব্যাপারে হুঁশিয়ার করল সৌদি
ইরানের পারমাণবিক চুল্লিতে হামলা চালাতে পারে ইসরায়েল
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত হচ্ছে ইসরায়েল। প্রতিশোধমূলক এ হামলার অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে ইরানের পারমাণবিক চুল্লি ও গবেষণাকেন্দ্রগুলো। সোমবার (১৫ এপ্রিল) ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে বৈঠকে বসে ইসরায়েলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা। সেখানে ইরানের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপের জবাব দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে মন্ত্রিসভা। তবে কীভাবে এ জবাব দেওয়া হবে সে বিষয়ে গণমাধ্যমে মুখ খোলেননি মন্ত্রিসভার কেউ।  ইসরায়েলের পক্ষ থেকে হামলার ধরন ও লক্ষ্যবস্তু নিয়ে স্পষ্টভাবে কিছু বলা না হলেও ইরানের পারমাণবিক চুল্লি ও গবেষণাকেন্দ্রগুলোতে আঘাত হানা হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছে জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা। আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রসঙ্গত, গত ১ এপ্রিল সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে অবস্থিত ইরানি কনস্যুলেটে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় কনস্যুলেট ভবনটি। হামলায় নিহত হন দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) শীর্ষস্থানীয় দুই কমান্ডারসহ সাতজন সামরিক কর্মকর্তা। জবাবে গত শনিবার (১৩ এপ্রিল) ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে একযোগে তিনশ'র বেশি ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে হামলা চালায় ইরান। ইসরায়েলের ভূখন্ডে এর আগে আর কখনও সরাসরি হামলা চালায় নি দেশটি। এ হামলার জবাবে এবার ইরানে পাল্টা আঘাত হানার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে ইসরায়েল। এদিকে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি জানিয়েছেন, মঙ্গলবার থেকে আবারও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচী পর্যবেক্ষণ শুরু করবে সংস্থাটি।  ইসরায়েলের হামলার পূর্বাভাস পেয়ে রোববারই (১৪ এপ্রিল) নিজেদের শক্তিকেন্দ্র ও গবেষণাকেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দেয় ইরান। সোমবার সেগুলো খুললেও সতর্কতাবশত আইএইএ পরিদর্শকদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি সেখানে। মঙ্গলবার থেকে আবারও যথারীতি পরিদর্শন শুরু হবে। উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিভিন্ন কেন্দ্র নিয়মিত পরিদর্শন করে আইএইএ। 
ইরান নাকি ইসরায়েল, কে বেশি শক্তিশালী
দামেস্কে ইরানের কনস্যুলেটে হামলার জবাবে ইসরায়েলে তিন শতাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সরাসরি নজিরবিহীন হামলা চালিয়েছে তেহরান। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এখন ইসরায়েল পাল্টা হামলা চালায় কি না, তা নিয়ে সবাই উদ্বিগ্ন। যদিও ইরানে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পায়নি ইসরায়েল তারপরেও আশঙ্কা কাটছে না। এদিকে দুই পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে বিভিন্ন দেশ। তবে এরই মধ্যে প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসরায়েল। এর ফলে যেকোনো সময় মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধ লাগার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কারণ  সামরিকভাবে দুটি দেশই শক্তিশালী। গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার’র পরিসংখ্যান অনুযায়ী ইরান সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে ইসরায়েলের তুলনায় তিন ধাপ এগিয়ে আছে। র‍্যাংকিংয়ে ইরানের অবস্থান ১৪তম আর ইসরায়েলের অবস্থান ১৭তম। নিয়মিত ও রিজার্ভ সৈন্য ইসরায়েলের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ সৈন্য রয়েছে ইরানের। ইরানের নিয়মিত সেনা রয়েছে ১১ লাখ ৮০ হাজার। আর ইসরায়েলের নিয়মিত সৈন্য ৬ লাখ ৭০ হাজার। ইরানের রিজার্ভ সৈন্য সংখ্যা সাড়ে তিন লাখ আর ইসরায়েলের রিজার্ভ সৈন্য ৪ লাখ ৬৫ হাজার। যুদ্ধ বিমান ইরানের মোট সামরিক বিমান ৫৫১টি। আর ইসরায়েলের মোট সামরিক বিমান ৬১২টি। এর মধ্যে ইরানের যুদ্ধ বিমান আছে ১৮৬টি আর ইসরায়েলের যুদ্ধবিমান আছে ২৪১টি। ইরানের অ্যাটাকিং বিমান ২৩টি, ইসরায়েলের ৩৯টি। ইরানের পরিবহন বিমান ৮৬টি, ইসরায়েলের ১২টি। ইরানের প্রশিক্ষণ বিমান ১০২টি আর ইসরায়েলের ১৫৫টি। হেলিকপ্টার ইরানের হেলিকপ্টার রয়েছে ১২৯টি। আর ইসরায়েলের হেলিকপ্টার ১৪৬টি। ইসরায়েলের অ্যাটাক হেলিকপ্টার ৪৮টি। আর ইরানের অ্যাটক হেলিকপ্টারের ১৩টি। ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান ট্যাংক ও সাঁজোয়া যানের দিক থেকে ইসরায়েলের চাইতে এগিয়ে রয়েছে ইরান। ইসরায়েলের ট্যাংক আছে ১ হাজার ৩৭০টি আর ইরানের ১ হাজার ৯৯৬টি। ইরানের সাঁজোয়া যান আছে ৬৫ হাজার ৭৬৫টি। আর ইসরায়েলের সাঁজোয়া যান আছে ৪৩ হাজার ৪০৩টি। রকেট আর্টিলারি আর্টিলারি সক্ষমতায়ও এগিয়ে রয়েছে ইরান। তাদের রকেট আর্টিলারির সংখ্যা ৭৭৫টি এবং সেলফ প্রপেলড আর্টিলারির সংখ্যা ৫৮০টি। অন্যদিকে ইসরায়েলের ১৫০টি রকেট আর্টিলারি এবং ৬৫০টি সেলফ প্রপেলড আর্টিলারি রয়েছে। নৌ শক্তি নৌবাহিনীর শক্তির দিক থেকেও এগিয়ে রয়েছে ইরান। ইরানের ১০১টি যুদ্ধজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে ৭টি ফ্রিগেট এবং ২১টি টহল জাহাজ। অন্যদিকে ইসরায়েলের যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা ৬৭টি। পাশপাশি সাবমেরিনের দিক থেকেও ইরান শক্তিশালী। ইরানের সাবমেরিন রয়েছে ১৯টি। আর ইসরায়েলের মাত্র ৫টি সাবমেরিন রয়েছে। পারমাণবিক শক্তি স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) সবশেষ তথ্যানুযায়ী, গত বছরের শুরুতে বিশ্বের নয়টি দেশের কাছে প্রায় ১২ হাজার ৫১২টি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। দেশগুলো হলো- যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, ভারত, পাকিস্তান, উত্তর কোরিয়া এবং ইসরায়েল। এই তালিকায় ইরানের নাম নেই। কিন্তু গত কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন বেশ কয়েকবার দাবি করেছে যে, ইরান তাদের ইউরেনিয়ামের মজুত দিয়ে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা
যুদ্ধের দ্বারপ্রান্ত থেকে মধ্যপ্রাচ্যকে এখনই ফেরাতে হবে : জাতিসংঘ
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের মানুষ একটি পূর্ণমাত্রার ধ্বংসাত্মক সংঘাতের মুখোমুখি। এখনই সময় তাদের যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে থেকে ফিরিয়ে আনার।  স্থানীয় সময় রোববার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক জরুরি সভায় দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন দিকের বড় বড় সামরিক পক্ষগুলো সংঘাতে জড়িয়ে যেতে পারে। ইতোমধ্যে এখানকার (গাজাবাসী) বেসামরিক নাগরিকরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। তাদের চরম মূল্য দিতে হচ্ছে। তাই এখনই সময়, সবাইকে যুদ্ধের কিনার থেকে ফিরে আনার। তিনি বলেন, সংঘাত যাতে ফের উসকে না যায়, তা প্রতিরোধে সবার দায়িত্ব রয়েছে। সবাইকে সক্রিয়ভাবে এই দায়িত্ব পালন করতে হবে। এ অঞ্চলের (মধ্যপ্রাচ্য) বা বিশ্বের কেউ আর যুদ্ধ চায় না। এসময় সবার যৌথ অংশগ্রহণে এখনই গাজায় যুদ্ধ বিরতি প্রয়োজন উল্লেখ করেন জাতিসংঘের মহাসচিব। তিনি বলেন, গাজায় মানবিক অবস্থা বিপর্যস্ত। এ জন্য সব জিম্মিদের নিঃশর্ত মুক্তি ও বাধাহীনভাবে ত্রাণ তৎপরতা চালাতে দেওয়া দরকার। সভায় জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েল ও ইরানের রাষ্ট্রদূতরা তাদের স্ব স্ব দেশের অবস্থানের পক্ষে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন। 
ইসরায়েলে হামলা নিয়ে যা বলল ইরান
ইসরায়েলে ইসলামিক রেভল্যুশনারী গার্ড কোর তথা আইআরজিসির প্রতিশোধমূলক হামলার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি। আইআরজিসির সাহসী সন্তানেরা ইহুদিবাদী দখলদার ইসরায়েলকে চরম শিক্ষা দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। খবর প্রেস টিভি ও টিআরটি ওয়ার্ল্ড। হামলার কয়েক ঘণ্টা পর রোববার (১৪ এপ্রিল) এক প্রতিক্রিয়ায় ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ইহুদিবাদী ইসরাইলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় যোগ করেছে। আগ্রাসী ইসরাইলকে শাস্তি দেয়ার জন্য ইসলামি বিপ্লবের নেতা (ইরানের সর্বোচ্চ নেতা) আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির আন্তরিক প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করেছে। জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট রাইসি বলেন, গত (শনিবার) রাতে ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কোর তথা আইআরজিসির উদ্যমী ও সাহসী সন্তানরা ইহুদিবাদী ইসরাইলকে একটি চরম শিক্ষা দিয়েছে। দেশের সব প্রতিরক্ষা এবং রাজনৈতিক অঙ্গনের সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে ইরানের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় যোগ করেছে তারা।  ইসরায়েলে ইরানের হামলাকে ‘বৈধ আত্মরক্ষার অধিকার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন মেনে, নিজেদের আত্মরক্ষার স্বাভাবিক অধিকার থেকেই আইরজিসি শনিবার ১৩ এপ্রিল গভীর রাতে ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। শনিবার (১৩ এপ্রিল) রাতে ইসরায়েলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে কয়েকশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর তথা আইআরজিসি। এছাড়া ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি এবং লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকেও রকেট হামলা চালানো হয়। ইসরায়েল বলছে, তিন শতাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান।
এবার ইরানকে ইসরায়েলের হুমকি
ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে প্রতিশোধমূলক হামলা করায় ইরানকে চরম মূল্য দিতে হবে বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিওর হাইয়াত। লিওর হাইয়াত বলেন, গত (শনিবার) রাতে ইসরায়েলে ৩০০ কিলার ড্রোন, ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। তাই দেশটির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষেত্রও বাদ যাবে না। এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা। এর আগে, গত ১ এপ্রিল সিরিয়ায় ইরানি কনস্যুলেটে হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে ১৩ জনের মৃত্যু হয়। এ হামলার জন্য ইসরায়েলকে সরাসরি দায়ী করেছে ইরান। তবে, ইসরায়েল এই হামলায় দায় স্বীকার না করলেও এর জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেয় তেহরান। এর জবাবেই শনিবার (১৩ এপ্রিল) রাতে ইসরায়েলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। গাজা যুদ্ধ শুরুর পর এটিই প্রথম ইসরাইলে সরাসরি ইরানের হামলা। এদিকে, ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্র ড্যানিয়েল হাগারি জানিয়েছেন, ইসরাইলের আকাশসীমায় পৌঁছানোর আগেই বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে। তার দাবি ৯৯ শতাংশ হামলাই প্রতিহত করা হয়েছে। এতে ইসরাইলের সামান্য ক্ষতি হয়েছে। তবে, ইরানের দাবি, হামলায় ইসরায়েলের একটি গোয়েন্দা কেন্দ্র ও একটি বিমান ঘাঁটি ধ্বংস হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর গাজার ইরেজ সীমান্ত দিয়ে ইসরায়েলের ভূখণ্ডে ঢুকে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ১ হাজার ২০০ জন মানুষকে হত্যা করে হামাস। পাশপাশি জিম্মি হিসেবে ধরে নিয়ে যায় ২৪২ জনকে। এরপর গাজায় হামলা শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। দখলদারদের এমন হামলায় নিহতের সংখ্যা ৩৪ হাজার ছাড়িয়েছে। এরমধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই ২৪ হাজারের বেশি। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ২০ লাখ মানুষ। ২২৯টি মসজিদ সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে।
ইরানকে যে আহ্বান তুরস্কের
ইরানকে ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা এড়াতে আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক। রোববার (১৪ এপ্রিল) ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আব্দোল্লাহিয়ানের ফোনালাপে এই আহ্বান জানান তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। কূটনৈতিক সূত্রকে উদ্ধৃত করে এ খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ইরানের শীর্ষ কূটনীতিককে ফিদান বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে আরও উত্তেজনা ছড়াক তা চায় না আঙ্কারা। সিরিয়ার ইরানি কনস্যুলেটে হামলার জবাবে ইসরায়েলে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর তিনি এ আহ্বান জানান। জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হামলা সমাপ্ত হয়েছে। তুর্কি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেছেন, ইরান হামলার শিকার না হলে আর আক্রমণ করবে না। শনিবার গ্রিনিচ মান সময় রাত আটটার দিকে ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার কথা জানায় ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি)। এটি ছিল ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ইরানের প্রথম সরাসরি হামলা। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তিন শতাধিক কিলার ড্রোন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। বেশির ভাগ ক্ষেপণাস্ত্রই ইসরায়েলের আকাশসীমায় ধ্বংস করা হয়েছে। তবে দক্ষিণাঞ্চলের একটি সামরিক ঘাঁটিসহ কয়েকটি জায়গা আক্রান্ত হয়েছে। সেখানকার অবকাঠামো সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও জানায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
ইরানের হামলা রুখতে যেসব দেশকে পাশে পেল ইসরায়েল
সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ইরানের কনস্যুলেট ভবনে হামলার জবাবে শনিবার (১৩ এপ্রিল) রাতে ইসরায়েলে নজিরবিহীন হামলা চালায় ইরান। ইরানের ছোড়া বেশির ভাগ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আকাশে পথে ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েল। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রুখতে বেশ কয়েকটি দেশের কাছ থেকে সহায়তা পেয়েছে দেশটি। তাদের এ বন্ধু রাষ্ট্রের তালিকায় রয়েছে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও জর্ডান। খবর বিবিসির। বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ইরানের হামলা শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করতে ইসরায়েলকে সহায়তা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাজ্যের যুদ্ধবিমানও হামলা ঠেকিয়েছে। ইরানের নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের অনেকগুলো আকাশেই ধ্বংস করে দেয় সিরিয়ায় থাকা যুক্তরাজ্যের রয়েল এয়ারফোর্সের জঙ্গি বিমান। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক বলেছেন, ইরানের নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন লক্ষ্যভ্রষ্ট করতে ‘আন্তর্জাতিক সমন্বিত প্রচেষ্টায়’ অংশ নিয়েছে যুক্তরাজ্য। তাই ওই অঞ্চলে বিমান পাঠিয়েছিল রয়েল এয়ারফোর্স। ফ্রান্স ও ইরানের হামলা থেকে ইসরায়েলের সুরক্ষায় কাজ করেছে বলে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে জর্ডান বলেছে, ইরানের হামলার পর তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। শনিবার গ্রিনিচ মান সময় রাত আটটার দিকে ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার কথা জানায় ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি)। এটি ছিল ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ইরানের প্রথম সরাসরি হামলা। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তিন শতাধিক কিলার ড্রোন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। বেশির ভাগ ক্ষেপণাস্ত্রই ইসরায়েলের আকাশসীমায় ধ্বংস করা হয়েছে। তবে দক্ষিণাঞ্চলের একটি সামরিক ঘাঁটিসহ কয়েকটি জায়গা আক্রান্ত হয়েছে। সেখানকার অবকাঠামো সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও জানায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।