• ঢাকা বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১
logo
নৌকা বাদ দিলেও ভোট চুরির প্রকল্প থেকে সরেনি সরকার: আমীর খসরু
সরকারকে বিচারের জন্য তৈরি হতে বললেন রিজভী
নিজেদের নেতাকর্মীদের গুমের পেছনে সরকারকে দায়ী করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আর এজন্য সরকারকে বিচারের সম্মুখীন হতে হবে বলেও হুঁশিয়ার করেছেন তিনি।  রিজভী বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি এম ইলিয়াস আলীসহ গুমের শিকার সব নেতাকর্মীকে অক্ষত অবস্থায় যার যার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিন। অন্যথায় একদিন প্রতিটি গুম-খুনের দায়ে বিচারের জন্য তৈরি হোন। বুধবার (১৭ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। প্রতিটি গুমের ঘটনায় আওয়ামী লীগ সরকারই জড়িত দাবি করে রিজভী বলেন, বিভিন্ন সময় তাদের মুখ থেকেই এ কথা বেরিয়ে আসছে। তাদের কেউ কেউ স্বীকারও করেছেন। গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যা মানবতার সবচেয়ে ভয়াবহতম অপরাধ। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, এক সময়ের জনপ্রিয় ছাত্রনেতা এম ইলিয়াস আলীর গুমের আজ ১২ বছর পূর্ণ হলো। তাকে ফিরে পাওয়ার অধীর অপেক্ষায় আজও প্রহর গুনছেন তার স্ত্রী, সন্তান, পরিবারসহ দেশের অগণিত নেতাকর্মী। শেখ হাসিনা সরকারের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল মধ্যরাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গাড়িচালক আনসার আলীসহ তুলে নিয়ে যায় ইলিয়াস আলীকে। এরপর গাড়িটি পাওয়া গেলেও হদিস মেলেনি তাদের। একথা আজ জনগণের সামনে স্পষ্ট যে, এই ফ্যাসিবাদী সরকারই ইলিয়াস আলীকে গুম করেছে।  তিনি বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে আপোষহীন সংগ্রাম আর টিপাইমুখ বাঁধ ও সীমান্ত আগ্রাসনের প্রতিবাদে সিলেট অঞ্চলে গড়ে উঠা গণ—আন্দোলনে নেতৃত্বের কারণে ইলিয়াস আলী রাষ্ট্রযন্ত্র ও দেশি, বিদেশি অপশক্তির গাত্রদাহের প্রধান কারণ ছিলেন। ইলিয়াস আলী আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তার জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক দক্ষতায় ঈর্ষান্বিত সরকার তাকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে গুম করে রেখেছে।  
বিএনপিসহ সব অপশক্তিকে প্রতিহত করব : কাদের
সরকার জুলুমের মাত্রা বৃদ্ধি করেছে : মির্জা ফখরুল
উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন বিএনপি-জামায়াতের ৭০ নেতা
সড়কে প্রতিদিনের অপমৃত্যু যেন স্বাভাবিক ঘটনা : জি এম কাদের
উপজেলা নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত বিএনপির
আগামী ৮ মে থেকে শুরু হতে যাওয়া ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের কোনো ধাপেই অংশ নেবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।  মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে গতকাল সোমবার (১৫ এপ্রিল) রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সোমবার রাত ১০টায় শুরু করে গভীর রাতে শেষ হয় বৈঠকটি। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।   প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বর্তমানে বাংলাদেশে এক বিকট স্বৈরাচারের অভ্যুদয় হয়েছে। আওয়ামী দখলদার শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতাসীন হয়ে দেড় দশক ধরে অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বাংলাদেশ থেকে উচ্ছেদ করেছে। এদের আমলে কখনোই জাতীয় ও স্থানীয় সরকার কোনো নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি। জনগণের ভোটের তোয়াক্কা না করে ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীদেরই আজ্ঞাবাহী নির্বাচন কমিশন বিজয়ী ঘোষণা করে। প্রতিটি নির্বাচনের আগে জনগণকে প্রতারিত করার জন্য নতুন নতুন রণকৌশল গ্রহণ করে দখলদার শাসকগোষ্ঠী। এতে আরও বলা হয়, প্রাণবন্ত গণতন্ত্রে নিরপেক্ষ নির্বাচনের সংস্কৃতি আওয়ামী লীগ কখনোই রপ্ত করেনি। তাদের অধীনে সব জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী বিরোধী দলের প্রার্থীদের বিভিন্নভাবে হামলা, মামলা ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। মনোনয়নপত্র তোলা ও জমা দেওয়া এবং নির্বাচনি প্রচারণায় হামলা ও শারীরিক আক্রমণসহ পথে পথে বাধা দেওয়া হয়েছে। অনেককে মনোনয়নপত্র জমা দিতেও দেওয়া হয়নি। আওয়ামী লীগ একতরফা নির্বাচন করতে গিয়ে বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মীকে কারাগারে ভরে রাখে দাবি করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৭ জানুয়ারির ডামি নির্বাচনে বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ প্রায় ২৫ হাজারেরও বেশি নেতাকর্মীকে কারান্তরীণ করা হয়, এদের অনেকেই এখনও কারাগারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। গুম-খুন অব্যাহত থাকে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল— বিএনপি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ও তার সাজানো নির্বাচন কমিশনের অধীনে এবং প্রশাসন ও পুলিশের প্রকাশ্য একপেশে ভূমিকার জন্য ইতোপূর্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন বর্জন করেছে। এখনও সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়নি এবং বিদ্যমান অরাজক পরিস্থিতি আরও অবনতিশীল হওয়ায় আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার যৌক্তিক কারণ রয়েছে। এ ব্যাপারে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না, আগের সিদ্ধান্তই বহাল আছে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ নির্বাচনে অংশ নিলে আগের মতোই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
হিটলারের চেয়েও ভয়ংকর নেতানিয়াহু : কাদের
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, হিটলারের চেয়েও ভয়ংকর রূপে আবির্ভূত হয়েছে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।   কাদের বলেন, সারা বিশ্বই আজ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলারের যে দাম্ভিকতা, যুদ্ধাংদেহী মনোভাব সেটা মনে হয় আবারও নতুন করে দেখতে পাচ্ছি। হিটলার যে ৬০ লাখ ইহুদি হত্যা করে হলোকাস্ট ঘটিয়েছিল, আজকে গাজায় গণহত্যার নায়ক নেতানিয়াহু একই রূপে আবির্ভূত হয়েছে। তিনি বলেন, নেতানিয়াহু জাতিসংঘ মানে না, হোয়াইট হাউজকে তোয়াক্কা করে না। মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথা শুনে না। সে হিটলারের চেয়েও ভয়ংকররূপে আবির্ভূত হয়েছে। ইতোমধ্যে সে গাজায় ১৪ হাজার শিশুকে হত্যা করে ফেলছে।   আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ইরানের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশ ইসরায়েলকে শান্ত থাকতে বলেছে। কিন্তু নেতানিয়াহু কারও কথা শুনছেন না। তিনি ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নেতানিয়াহু আপন ইচ্ছায় চলেন, যা খুশি করেন। যাকে ইচ্ছা ভাতে মারেন, পানিতে মারেন, এয়ার স্ট্রাইক করে মারেন। তার দাপট হিটলারকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। এ সময় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের, দ্রব্যমূল্য সহনীয় অবস্থায় রাখতে প্রধানমন্ত্রী যে এফোর্ট দিচ্ছেন, তা বিরল। নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যক্রম চলমান থাকবে।  
ধর্ষণ মামলা : আ.লীগ থেকে বড় মনিরকে অব্যাহতি
টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি গোলাম কিবরিয়া বড় মনিরকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছে দলটি। তাকে চূড়ান্ত অব্যাহতির জন্য দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের কাছে সুপারিশ করেছেন শহর আওয়ামী লীগের নেতারা, এমন তথ্যও জানা গেছে। সোমবার (১৫ এপ্রিল) বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ রৌফ। তিনি বলেন, ঈদের আগে দলের সাধারণ সম্পাদকের কাছে গোলাম কিবরিয়াকে চূড়ান্ত অব্যাহতি প্রদানের জন্য সুপারিশ করে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে সাধারণ সম্পাদকের কোনো সিদ্ধান্ত এখনো পাওয়া যায়নি। জানা যায়, টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এসএম সিরাজুল হক এবং সাধারণ সম্পাদক এমএ রৌফ স্বাক্ষরিত এই পত্র পাঠানো হয়েছে। দলের ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজমের মাধ্যমে সাধারণ সম্পাদকের কাছে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ প্রসঙ্গে গোলাম কিবরিয়া জানান, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তার ও তাদের পরিবারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ এবং রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য তার বিরুদ্ধে এ ধর্ষণের অভিযোগ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গোলাম কিবরিয়া বড় মনির টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের দলীয় সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনিরের ভাই। গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে গত বছর এপ্রিলে এক নারী ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। ওই মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, ধর্ষণের ফলে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হন। পরে ওই নারী একটি ছেলেসন্তান জন্ম দেন। আদালতের নির্দেশে ওই সন্তানের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। এতে বলা হয় ওই সন্তানের জৈবিক পিতা গোলাম কিবরিয়া নন। এর কয়েক মাস পর ওই নারী আত্মহত্যা করেন। আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে ওই নারীর বড় বোন তার ভাই জনি মির্জা ও সৌরভ পালের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ করে যা বললেন রিজভী
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জিয়াউর রহমান কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন এটা যদি না জেনে থাকেন তাহলে আপনি স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি। সোমবার (১৫ এপ্রিল) নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘জিয়াউর রহমান কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন এটা যদি না জেনে থাকেন তাহলে আপনি স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি। না হয় কলকাতার সিনেমা দেখেছেন। জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে আপনি বা আপনার প্রধানমন্ত্রীর বলা না বলাতে কিছু যায় আসে না।’ তিনি বলেন, ‌‌‘ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী। অবান্তর কথা বলে মানুষের কাছে হাসির পাত্র হয়েছেন তিনি। হতাশা থেকেই আওয়ামী লীগ নেতারা জিয়াউর রহমানকে অপবাদ দেয়। তাকে অপমানের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের অবদান একটি ঐতিহাসিক দলিল, যাকে সবাই স্বীকৃতি দিয়েছেন। আপনি (ওবায়দুল কাদের) চাকরি রক্ষার জন্য শেখ হাসিনার ইচ্ছা অনুযায়ী কথা বলছেন। আপনার এই কথায় প্রমাণিত হয় আপনারাই স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি। সিলেট ও রৌমারীর একটা বড় অংশ স্বাধীন রেখেছিলেন জিয়াউর রহমান।’ সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবেদীন ফারুক, আবদুস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূইঁয়া, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক সরফুদ্দিন আহমেদ সপু, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী, তারিকুল আলম তেনজিং, রফিকুল ইসলাম এবং মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব আবদুর রহিম উপস্থিত ছিলেন।
পিটার হাসকে নিয়ে বিএনপির বোধোদয় 
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির জন্য ‘অবতার’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি নিয়ে সরব ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন তিনি। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে বহুভাবে সরকারের ওপর চাপ তৈরির জন্য তৎপরতা চালিয়েছেন তিনি। তবে বিএনপির ২৮ অক্টোবরের তাণ্ডবের পর অনেকটা পথ পাল্টে ফেলেন পিটার হাস। নির্বাচনের পর পিটার হাসের অবস্থান পরিবর্তন হয় আর বিএনপির বোধোদয় হয় যে, কেউ ক্ষমতায় এসে বসিয়ে দেবে না।  ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া থানা বিএনপি আয়োজিত সদ্য প্রয়াত জেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈমুর রহমানের স্মরণসভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, কারো ওপর নির্ভর করে আপনারা গণতন্ত্র আনতে পারবেন না। নিজের পায়ের ওপর নির্ভর করতে হবে, নিজের শক্তির ওপর নির্ভর করতে হবে এটা হচ্ছে সবচেয়ে বড় কথা। আমাদের নিজেকেই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে চাপ সৃষ্টি করে জনগণকে সঙ্গে দিয়ে এই সরকারকে বাধ্য করতে হবে, একটা সত্যিকার অর্থে নিরপেক্ষ নির্বাচন দেওয়া।  মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই বক্তব্য থেকেই বোঝা যায় যে, বিএনপির ঘুম ভেঙেছে এবং বোধোদয় হয়েছে।  জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের গতিবিধি ছিল অন্যরকম। অনেকটা বিএনপির পক্ষ নিয়ে দরকষাকষির ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন তিনি। যার কারণে বিএনপি নেতারা নেতাকর্মীদের আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, তাদের সঙ্গে পশ্চিমারা আছেন ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে’। গত বছরের ১৬ অক্টোবর রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে দেশীয়-আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে বিএনপি নেতারা পিটার হাসকে তাদের ‘অবতার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এ নিয়ে নানা আলোচ-সমালোচনার জন্ম নেয় রাজনৈতিক অঙ্গনে। বাংলাদেশের অন্যতম এ রাজনৈতিক দলটি জনগণের শক্তির ওপর কেন তাদের আস্থা হারিয়ে বিদেশি দূতদের কাঁধে ভর করেছে, তখন সেই প্রশ্ন সবার মনে। গত বছরের ২৮ অক্টোবর বিএনপির ডাকা ‘শান্তিপূর্ণ’ সমাবেশ রূপ নেয় তাণ্ডবে। বিএনপি কর্মীদের হামলায় সেদিন অনেক যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। শুধু তাই নয় বিএনপি কর্মীরা হামলা করে প্রধান বিচারপতির বাসভবনে। সেদিন নির্দয়ভাবে একজন পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তাদের তাণ্ডবের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আহত হয়েছে অন্তত ২৫ সাংবাদিক।  এই ঘটনার পর পশ্চিমাদের অবস্থান অন্যদিকে মোড় নেয়। অথচ, এ ঘটনার দুইদিন আগেও বিএনপি নেতাদের সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নিয়েছিলেন পিটার হাস। সংঘাতের পর মার্কিন রাষ্ট্রদূত শান্তিপূর্ণ সংলাপের আহ্বান জানান। অথচ ২৮ অক্টোবরের আগে আওয়ামী লীগ সংলাপে রাজি থাকলেও বিএনপি সংলাপে বসতে রাজি হয়নি। বরং তারা সরকারের পদত্যাগ দাবি করে আসছিল।  এ রকম ডামাডোলের মধ্যেই বিএনপিকে রেখে হঠাৎ পরিবারসহ দেশের বাইরে চলে যান পিটার হাস। তার এই চলে যাওয়া নিয়েও ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছিল। তবে অভিযোগ আছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস ভারতের চাপে আত্মগোপন করেছিলেন। তবে এই অভিযোগ নাকচ করেছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট।  দিল্লির থিংক ট্যাংক ‘অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনে’ (ওআরএফ) নিজের বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে ভারতের সাবেক শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিক ও ঢাকায় সাবেক ভারতীয় হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী বলেছিলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ ভারত যে মোটেই পছন্দ করছে না, বাইডেন প্রশাসনের কাছে দিল্লি এটা স্পষ্ট করে দেয়ার পরেই ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসকে অনেকটা আত্মগোপনে চলে যেতে হয়েছিল।  ছুটি থেকে ফেরত এসে পিটার হাস নিয়মিত কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তবে নির্বাচনের আগে তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত কূটনীতিকদের ব্রিফিংয়ে অংশ নিতে দেখা যায়। ব্রিফিং শুরুর আগে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত সারা কুকসহ বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিকদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন পিটার হাস। অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেই গণমাধ্যমের পরিচিত সাংবাদিকদের সঙ্গেও আলাপ করেন তিনি। এ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা ও বিশিষ্টজনদের সঙ্গে নানা প্রসঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় তাকে। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে বসে আলাপ করেন। এ সময় দুজনই হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে মশগুল ছিলেন।  তবে কখনও দুয়েকজন কূটনৈতিকের সঙ্গে গুরুগম্ভীরভাবে আলাপ করতেও দেখা যায় পিটারকে। নির্বাচন নিয়ে ব্রিফিং মনোযোগ দিয়ে শুনতে দেখা যায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে। মিট অ্যান্ড গ্রিট শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের নানা রকম খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। কিন্তু পিটার হাস এতে অংশ না নিয়ে দ্রুত অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন, যা অনেকেরই নজরে এসেছে। আর এ নিয়ে নানা কানাঘুষাও চলতে থাকে ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমির চত্বরে।  দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের পর বিদেশি পর্যবেক্ষকরা ইতিবাচক মন্তব্য করলেও যুক্তরাষ্ট্র বলছে ভিন্ন কথা। পিটার হাস বলেছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু না হলেও বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র। নির্বাচনের পর মন্ত্রীসভার শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন পিটার হাস। অন্যান্য অতিথির সঙ্গে বঙ্গভবনের দরবার হলে আসন গ্রহণ করেন। এ সময় তিনি ছিলেন হাস্যোজ্জ্বল। মন্ত্রিপরিষদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে পিটার হাস প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ায় ড. হাছান মাহমুদকেও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন পিটার হাস।  নির্বাচনের পর মার্কিন রাষ্ট্রদুত পিটার হাসের সঙ্গে অত্যন্ত নীরবে দেখা করেছেন ড.মঈন খান। সেটিই ছিল দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের পর প্রথম কোন বিএনপি নেতার সঙ্গে পিটার হাসের সাক্ষাৎ। সেখানে কি আলাপ হয়েছে তা না জানালেও পিটার হাস জানিয়েছিলেন, বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানের সঙ্গে দেখা করে আমি আনন্দিত।  অন্যদিকে ঢাকায় এসেছিল যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর গুলশানের হোটেল ওয়েস্টিনে দেড় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক হয় বিএনপি’র সঙ্গে প্রতিনিধি দলের। বৈঠকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আফরিন আক্তারের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন পররাষ্ট্র দপ্তর এবং এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ইউএসএআইডি) এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেটর মাইকেল শিফার, ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এনএসসি) দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সিনিয়র ডিরেক্টর এইলিন লাউবেখার ও ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস। রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদের মতে, আন্তর্জাতিক তৎপরতা ও দেশের এত মানুষের সমর্থন নিয়ে বিএনপি যে জনপ্রিয় দল তা প্রমাণে নির্বাচন ছাড়া অন্য তো কোনো পথ খোলা ছিল না। তাহলে বর্জন করে আন্দোলন করলে লাভ কী? ভোটে অংশগ্রহণ না করলে কেউ তো কোনো দলকে ক্ষমতায় বসাতে পারে না। এখন তা হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছে বিএনপি।
‘স্বাধীনতার চেতনা ধ্বংস করার জন্য বিএনপির জন্ম’
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনাকে ধ্বংস করার জন্য বিএনপির জন্ম। তারা বাংলাদেশের অস্তিত্বের মূলে আঘাত করতে চায়। ৭১ এ তাদের যে ভূমিকা, হঠাৎ করে বাঁশিতে ফুঁ দিলে অমনিই তিনি ঘোষক হয়ে গেলেন। ২৪ বছরের যে আন্দোলন এসবের কোন দাম নেই? সোমবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে আওয়ামী লীগের সভাপতির ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক বিফ্রিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, ১৭ এপ্রিল মুজিব নগর দিবস। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারের শপথ দিবস, সেই দিনটিকে তারা (বিএনপি) অস্বীকার করে। ১০ এপ্রিল প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের সরকার গঠন হয়, সেটা অস্বীকার করে। স্বাধিকার আন্দোলনের মাইলফলক ৭ জুনকে অস্বীকার করে। বিএনপি বাঙালি সংস্কৃতির চেতনা নিয়ে ইতিবাচক রাজনীতি করবে এটা আমি বিশ্বাস করি না। তিনি আরও বলেন, মির্জা ফখরুল দাবি করেছেন বিএনপির ৬০ লাখ নেতাকর্মী জেলে। আমরা বিএনপির এই ৬০ লাখ লোকের তালিকা চাই। ছিল ২০ হাজার এখন সেটা ৬০ লাখ হলো কি করে? ৬০ লাখ বন্দির তালিকা অবিলম্বে প্রকাশ করুক। না হয় মিথ্যাচারের জন্য জাতির কাছে মির্জা ফখরুলকে ক্ষমা চাইতে হবে। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, বি এম মোজাম্মেল হক, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন ।