• ঢাকা সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১
logo
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে ২৪ ঘণ্টার আগে কিছু বলা যাচ্ছে না
কাঁদলেন ফখরুল, চাইলেন দোয়া
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য রোববার (২৩ জুন) রাজধানীর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে বিএনপি। দোয়ার এক পর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কান্নারত অবস্থায় তিনি বলেন, খালেদা জিয়া জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। আসুন, আমরা সবাই তার জন্য দোয়া করি। আমরা যেন তার নেতৃত্বে আবার জেগে উঠতে পারি। বিএনপির এই নেতা বলেন, এই ফ্যাসিস্ট সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে খালোদা জিয়া দীর্ঘকাল ধরে কারারুদ্ধ। রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার জন্য তাকে কারাগারে আটক করে রাখা হয়েছে। তাকে বাসায় থাকার সুযোগ দেওয়া হলেও তিনি পুরোপুরি বন্দি আছেন। ফখরুল অভিযোগ করেন, কারাগার থেকেই তিনি অসুস্থ হয়েছেন। তার কোনো চিকিৎসা হয়নি। এই সরকারপ্রধান ব্যক্তিগত রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে খালেদা জিয়াকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত রেখেছেন। এদিকে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার হৃদযন্ত্রে রোববার (২৩ জুন) সন্ধ্যায় পেসমেকার বসানো হয়েছে।  এর আগে, শুক্রবার (২১ জুন) দিনগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে খালেদা জিয়াকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।  ৭৯ বছর বয়সী বিএনপির এই নেত্রী ডায়াবেটিস, আর্থারাইটিস, হৃদরোগ, ফুসফুস, লিভার ও কিডনির বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন।
বর্ণাঢ্য আয়োজনে সারাদেশে আ.লীগের প্লাটিনাম জয়ন্তী উদযাপন
খালেদা জিয়ার হার্টে বসানো হলো পেসমেকার
হার্টে পেসমেকার বসাতে অপারেশন থিয়েটারে খালেদা জিয়া 
শেখ হাসিনাকে ‘রাজনীতির জাদুকর’ বললেন ওবায়দুল কাদের
জনগণের অধিকার আদায়ের সংগঠন আ.লীগ: শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সবসময় মানুষের পাশে রয়েছে। আজকে বাংলাদেশের যত অর্জন, সেগুলো আওয়ামী লীগের দ্বারাই। কিন্তু বারবার এই আওয়ামী লীগের ওপর আঘাত এসেছে। আওয়ামী লীগই গণমানুষের সংগঠন। আওয়ামী লীগ জনগণের অধিকার আদায়ের সংগঠন। রোববার (২৩ জুন) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, বারবার আঘাত করেও আওয়ামী লীগকে শেষ করে দেওয়া যায়নি। ফিনিক্স পাখির মতো জেগে উঠেছে। কারণ আওয়ামী লীগের শক্তি দেশের সাধারণ জনগণ। তৃণমূলের কর্মীরা, সৈনিকরা। তারা কখনও মাথানত করে না। বিভিন্ন সময় নেতারা অনেকে ভুল করেছেন। আওয়ামী লীগ ছেড়ে চলে গেছেন। যেসব নেতা ভুল করেছেন, তারা বোঝেননি। চলে যাওয়ায় হারিয়ে গেছেন। হ্যাঁ, অনেকে ফিরে এসেছেন, আমরা গ্রহণ করেছি। আবার অনেকে এখনও সরকার পতনের আন্দোলন করেন। তিনি বলেন, বাঙালির প্রতিটি অর্জনে আওয়ামী লীগ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দলটি প্রতিষ্ঠা লাভ করেছেই তো বাংলার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য। যা আমরা প্রমাণ করেছি। তিনি আরও বলেন, মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার, ২১ ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ঘোষণা, মাতৃভাষা সংরক্ষণে প্রকল্প গ্রহণ, ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি আদায় আওয়ামী লীগই এনে দিয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রতিটি পদক্ষেপের ফলে আজ বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা বলেন, ’৭৫ পর বার বার ক্ষমতা বদল হয়েছে। কিন্তু ক্ষমতা বদল হয়েছে হয় অস্ত্রের মাধ্যমে এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ছিল না, মানুষের মৌলিক অধিকার ছিল না। মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তনই তারা করতে পারিনি। তিনি বলেন, মুজিব আদর্শের সৈনিকরা কখনও পরাভব মানে না। সংগঠন মজবুত থাকলে কেউ আওয়ামী লীগকে দমাতে পারবে না।
আ.লীগের প্লাটিনাম জয়ন্তীর অনুষ্ঠান উদ্বোধন করলেন শেখ হাসিনা
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের প্লাটিনাম জয়ন্তীর অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেছেন দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার (২৩ জুন) বিকেল ৩টা ৪২ মিনিটে শেখ হাসিনা জাতীয় পতাকা ও দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এ সময় জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন তারা। এ সময় মঞ্চে উঠে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হা‌সিনা। নেতাকর্মীরাও বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করছেন। অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি আমন্ত্রিত অতিথিরাও অংশ নি‌য়ে‌ছেন। আলোচনাসভার মঞ্চে উপস্থিত র‌য়ে‌ছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, সিমিন হোসেন রুমি, এ এইচ এম খায়রুজাজামান লিটন, সৈয়দা জেবু‌ন্নেছা হক। ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী তথা প্লাটিনাম জুবিলির এই আয়োজনের শিরোনাম দেওয়া হয়েছে, ‘গৌরবময় পথ চলার ৭৫ বছরে আওয়ামী লীগ, সংগ্রাম, সংকল্প, সততা, শপ‌থে জনগ‌ণের সা‌থে।’ ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরান ঢাকার রোজ গার্ডেনে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা হয়। প্রতিবছর নানান কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠার এই দিনটি উদযাপন করে আওয়ামী লীগ।
জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে খালেদা জিয়া: ফখরুল
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার (২৩ জুন) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে এমন মন্তব্য করেন তিনি।  মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে বন্দি রয়েছেন। সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় তাকে সাজা দিয়ে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দিতে কারাগারে আটক রাখা হয়েছিল। তাকে বাসায় থাকতে সুযোগ দেওয়া হলেও তিনি প্রকৃতপক্ষে পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে আছেন। ফখরুল অভিযোগ করেন, রাজনীতি থেকে দূরে সরাতেই খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ দিচ্ছে না সরকার। মেডিকেল বোর্ড বারবার বলার পরও তাকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। অবরুদ্ধ অবস্থায় খালেদা জিয়া কারাগারে থেকে অসুস্থ হয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, কারাগারে তার কোনো সুচিকিৎসা হয়নি। তখন তিনি বারবার অসুস্থতা নিয়ে কারা কর্তৃপক্ষকে জানালেও তৎকালীন সরকার তা শোনেনি। তার চিকিৎসা করেনি। পরবর্তীকালে তাকে যখন হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে সেখানেও তার সুচিকিৎসা হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর সদ্য ভারত সফরের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার সমগ্র দেশটাকেই ধ্বংস করে দিয়েছে। তিস্তা নিয়ে সরকার কোনো কথা বলছে না। কিন্তু জনগণ সবার আগে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা চায়। সরকার ভারতসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সেবাদাসে পরিনত হয়েছে। এজন্যই তারা নতজানু হয়ে থাকে।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসতে শুরু করেছেন আ.লীগের নেতাকর্মীরা
আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের আয়োজন করেছে দলটি। দুপুরে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে সমাবেশে উপস্থিত থাকবেন। এরইমধ্যে সমাবেশস্থলে ঢাকা ও আশপাশের এলাকা থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আসতে শুরু করেছেন। রোববার (২৩ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পেছনে উদ্যান গেটে গিয়ে দেখা যায়, বাসে ও পায়ে হেঁটে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সমাবেশে আসছেন। ঠিক সাড়ে ১১ টায় সমাবেশে প্রবেশের জন্য গেট খুলে দেওয়া হয়। তবে সমাবেশের প্রবেশের গেটে এখনও ভিড় দেখা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে দুপুর ১টার মধ্যে নেতাকর্মীদের ঢল নামবে। উদ্যানে প্রবেশের ক্ষেত্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা পার হয়ে নেতা কর্মীদের এসএসএফ ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের আর্চওয়ে পার হয়ে উদ্যানে প্রবেশ করতে হচ্ছে। মোবাইল, মানিব্যাগ ছাড়া অন্য কোন জিনিস নিয়ে সমাবেশস্থলে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। সমাবেশে আসা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা গেছে। ফকিরাপুল থেকে আসা হাজী নেয়ামত আলী বলেন, ভালোবেসে আওয়ামী লীগ করি। দেশের জন্য আওয়ামী লীগের অবদান অনেক। আমরা চাই আওয়ামী লীগ বারবার ক্ষমতায় আসুক। শেখ হাসিনা দীর্ঘজীবী হোক। গেটে দায়িত্বে থাকা নিউমার্কেট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো.রেফাতুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, উদ্যানে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এসএসএসফ, পুলিশ এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) মিলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সমন্বয় করা হচ্ছে। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে প্রবেশের জন্য গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। মানিব্যাগ এবং মোবাইল ছাড়া অন্য কিছু নিয়ে সমাবেশ স্থলে আমরা কাউকে প্রবেশ করতে দিচ্ছি না। এছাড়া সমাবেশ স্থলে প্রবেশের জন্য ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটের পাশের গেট ভিআইপিদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। সমাবেশে প্রবেশের সব গেটে নিরাপত্তা আর্চওয়ে বসানো হয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন-শপথ নিয়ে আ.লীগের সৃষ্টি: কাদের
স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন, অঙ্গীকার ও শপথ সামনে রেখে আওয়ামী লীগের সৃষ্টি বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। রোববার (২৩ জুন) আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ এই দেশের বৃহত্তম ও প্রাচীনতম রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। আমরা এক কথায় বলতে পারি, সংগ্রাম, সাফল্য ও সংস্কৃতির বর্ণিল প্রতিভাসের নাম আওয়ামী লীগ। তিনি বলেন, দুটি পর্বে আমাদের এই সংগ্রাম, আন্দোলন, অর্জন উন্নয়নকে যদি ভাগ করি একটি অংশে স্বাধীনতা। স্বাধীনতার অবিসংবাদিত নেতা কেন্দ্রাতীত শক্তি হচ্ছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পলাশীতে যে সূর্য অস্তমিত হয়েছিল ১৯৪৯ সালে সে সূর্য আবার উদিত হয়েছিল। উদিত হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন, অঙ্গীকার ও শপথকে সামনে রেখে।  কাদের বলেন, জনগণের কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হয়ে প্রতিরোধের দাবানল ছড়িয়ে বিজয় ছিনিয়ে আনার নাম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আমরা মৃত্যুর মিছিলে দাঁড়িয়ে জীবনের জয়গান গাই। আমরা ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে সৃষ্টির পতাকা উড়াই।  সেতুমন্ত্রী বলেন, সংগ্রাম, আন্দোলন মুক্তি সব কিছুর কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার হাতেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা। এরপর একাত্তরের ৭ মার্চ যা বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ স্বাধীনতা বিজয়ী আমরা হয়েছি কিন্তু আমাদের মুক্তির স্বপ্ন তখনো বাস্তবায়িত হয়নি। বঙ্গবন্ধুর হত্যার মধ্য দিয়ে মুক্তির যে সংগ্রাম তা ব্যাহত হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, মুক্তিযুদ্ধকে জিয়াউর রহমান নিঃশেষ করে দিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ, স্বাধীনতার আদর্শ সবকিছুই আঘাতে আঘাতে জর্জরিত। ঐতিহাসিক ৭ জুন ছিল না, ৭ মার্চ ছিল না। বঙ্গবন্ধু ছিলেন নিষিদ্ধ। জয়বাংলা ছিল নিষিদ্ধ। তখন মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি ঘুরে বেড়াতো বুক ফুলিয়ে জিয়াউর রহমানের আশ্রয় ও প্রশ্রয়ে। কারাগারে চার নেতার হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড ছিলেন জিয়াউর রহমান। ওবায়দুল কাদের বলেন, জিয়ার পরে এরশাদ, এরশাদের পর বেগম খালেদা জিয়া— একুশ বছর ধরে আমরা অন্ধকারে ছিলাম। একুশ বছর ধরে আমাদের গণতন্ত্র ছিল নির্বাসনে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছিল। বিজয় ও স্বাধীনতা দিবসে বঙ্গবন্ধুকে বাদ দিয়ে বিজয়ের নায়ক, স্বাধীনতার স্থপতিকে বাদ দিয়ে উদযাপন করা হতো। সেতুমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যার ছয় বছর পর শেখ হাসিনা স্বদেশ প্রত্যাবর্তন অন্ধকারে আশার আলো হয়ে এসেছিল। শেখ হাসিনা বাংলাদেশে এসেছিলেন বলেই গণতন্ত্র শৃঙ্খলমুক্ত হয়েছে। তিনি এসেছিলেন বলেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পুনরুত্থান হয়েছে। গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন ঘটেছে। তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ছিল স্বাধীনতার আদর্শের প্রত্যাবর্তন।  আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, শেখ হাসিনার অর্জন বাংলাদেশের জন্য সারা পৃথিবীতে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় রচনা করেছেন। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করে বিশ্বব্যাংককে তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন আমরাও পারি। আমাদের সামর্থ্যের প্রতীক, আমাদের সক্ষমতার প্রতীক এই পদ্মা সেতু নিজের টাকায় করেছেন।  তিনি বলেন, ঢাকায় মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, পায়রা সমুদ্রবন্দর, মাতারবারি গভীর সমুদ্র বন্দর, স্যাটেলাইট, ৬৮ বছরের সীমান্ত সমস্যা, ছিটমহল সমস্যার সমাধান এসব অর্জন বঙ্গবন্ধুর কন্যার। আওয়ামী লীগের ৭৫ বছরে অর্জন কী, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের অর্জনের কথা আমরা বলবো না। ৭৫ বছরে আমাদের অঙ্গীকার হচ্ছে, আমরা আমাদের রক্তের মূল্যে অর্জিত বিজয়কে সুসংহত করবো। আমাদের চলার পথে প্রধান বাধা বিএনপি, মুক্তিযুদ্ধের নামে এরা ভাওতাবাজি করে। আমাদের সাম্প্রদায়িক জঙ্গিবাদী শক্তি আমাদের অভিন্ন শত্রু। এই অভিন্ন শত্রু বিএনপির নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। আমাদের আজকে শপথ এই অভিন্ন শক্তিকে পরাজিত করতে হবে। পরাভূত করতে হবে। আমাদের বিজয়কে আমরা সুসংহত করবো। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার অভিমুখে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ নির্মাণ করবো। প্রধানমন্ত্রীর দিল্লির সফর নিয়ে বিএনপির সমালোচনার জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী যা নিয়ে এসেছেন সেটা নিয়ে এখনো বিশ্লেষণ হয়নি। প্রধানমন্ত্রী দিল্লি গিয়ে গঙ্গার পানির কথা ভুলে যাননি। বাংলাদেশের স্বার্থ সংরক্ষণে এখানে যা বলার দরকার কোনো কিছু বলতে সংকোচ করেননি। ভুলে যাননি।
বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে এ শ্রদ্ধা জানান তিনি। রোববার (২৩ জুন) সকাল ৭টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু প্রতিকৃতিতে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী ও পরে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের প্লাটিনাম জয়ন্তীতে একই সঙ্গে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। অপরদিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে সকাল সাড়ে ১০টায় আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধিদল শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করবেন। এ প্রতিনিধিদলে উপস্থিত থাকবেন- আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খান, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, শিক্ষা ও মানবসম্পদবিষয়ক সম্পাদক বেগম শামসুন্নাহার, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ সদস্য সাহাবুদ্দিন ফরাজীসহ অনেকে। বিকেল ৩টায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ সভায় শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করবেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা, আমন্ত্রিত অতিথিসহ দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন। এ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বিএনপিকেও। প্রতিষ্ঠার ৭৫তম বছরে পা রাখছে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। দীর্ঘ এই পথচলায় বাঙালি জাতির অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সব প্রতিবন্ধকতা জয় করে সফলতার মুকুটে একের পর এক পালক যুক্ত হয়েছে সংগঠনটির হাত ধরে। পৃথিবীর খুব কম সংগঠন আছে যারা ধারাবাহিক সাফল্য নিয়ে ‘প্লাটিনাম জয়ন্তী’ উদযাপন করার সৌভাগ্য অর্জন করেছে। দিবসটি উপলক্ষে এরই মধ্যে দলটির পক্ষ থেকে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরনো ঢাকার ঐতিহ্যবাহী রোজ গার্ডেনে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের আত্মপ্রকাশের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় এ রাজনৈতিক দলটি। এটিই ছিল তৎকালীন পাকিস্তানের প্রথম বিরোধী দল। দলটির প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি হন মওলানা হামিদ খান ভাসানী। রোজ গার্ডেনে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের পর মওলানা ভাসানীকে একটি নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করার দায়িত্ব দেওয়া হলে তিনি অন্যদের সঙ্গে পরামর্শ করে ৪০ জনের একটি কমিটি ঘোষণা করেন। সেই কমিটির সাধারণ সম্পাদক হন শামসুল হক। সহসভাপতি করা হয় আতাউর রহমান খান, আহমেদ আলী খান, আলী আমজাদ খান, শাখাওয়াত হোসেন ও আবদুস সালাম খানকে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখন কারাগারে আটক থাকলেও, আওয়ামী লীগের প্রথম কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয় তাকে। কেন্দ্রীয়ভাবে নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ করা হলেও পরবর্তী সময়ে অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক আদর্শের অধিকতর প্রতিফলন ঘটানোর জন্য এর নামকরণ করা হয় ‘আওয়ামী লীগ’। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে বিজয়ের পর ১৯৫৫ সালে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে দলের নাম থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দেওয়া হয়। আর ‘পূর্ব পাকিস্তান’ শব্দ দুইটি বাদ পড়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় থেকে। বাংলাদেশে স্বাধীনতা ঘোষণা করার পর থেকে প্রবাসী সরকারের সব কাগজপত্রে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নাম ব্যবহার শুরু হয়। ১৯৭০ সাল থেকে এই দলের নির্বাচনী প্রতীক নৌকা। পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যতম প্রাচীন সংগঠনটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে এ দেশের গণমানুষের সংগঠনে পরিণত হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বের জন্যই আওয়ামী লীগকে ’৭০-এর নির্বাচনে পূর্ব-বাংলার মানুষ তাদের মুক্তির ম্যান্ডেট দিয়েছিল। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ ভূখন্ডে প্রতিটি প্রাপ্তি ও অর্জন সবই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে হয়েছে। মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষা থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত বাঙালির যা কিছু অর্জন এবং বাংলাদেশের যা কিছু উন্নয়ন, সবটার মূলেই রয়েছে আওয়ামী লীগ। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ এবং বিশিষ্টজনরাও মনে করেন, আওয়ামী লীগের অর্জন পাকিস্তান আমলের গণতান্ত্রিক অর্জন। এই দলের অর্জন বাংলাদেশের অর্জন। জাতির জন্য যখন যা প্রয়োজন মনে করেছে, সেটি বাস্তবায়ন করেছে দলটি। ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ, সব আন্দোলন সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠনে সর্বোচ্চ ভূমিকা পালন করেছে আওয়ামী লীগ। স্বাধীনতার পর থেকে দেশ বিরোধীদের ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ধ্বংস্তুপ থেকে উঠে এসে স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়েছে, প্রতিষ্ঠা করেছে গণতন্ত্র। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই প্রথম স্বপ্ন দেখেন অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার শুরুতেই একটি অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল গঠনের কথা ভাবেন বঙ্গবন্ধু। তিনি মনে করতেন পাকিস্তান হয়ে যাওয়ার পর সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের আর দরকার নাই। একটা অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হবে, যার একটা সুষ্ঠু ম্যানিফেস্টো থাকবে। এই ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু তার ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে লিখেন, ‘আমি মনে করেছিলাম, পাকিস্তান হয়ে গেছে; সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের দরকার নাই। একটা অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হবে। যার একটা সুষ্ঠু ম্যানিফেস্টো থাকবে। ভাবলাম, সময় এখনও আসে নাই। তাই যারা বাইরে আছেন তারা চিন্তাভাবনা করেই করেছেন।’ ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ’৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, আইয়ুবের সামরিক শাসন-বিরোধী আন্দোলন, ’৬৪-এর দাঙ্গার পর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা, ’৬৬-এর ছয় দফা আন্দোলন ও ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের পথ পেরিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের ২৪ বছরের আপোষহীন সংগ্রাম-লড়াই এবং ১৯৭১ সালের নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধ তথা সশস্ত্র জনযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ওই বছরের ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের মধ্যদিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় বাঙালির হাজার বছরের লালিত স্বপ্নের ফসল স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। স্বাধীনতা পরবর্তীতে পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার ব্যর্থ চেষ্টা হলেও দীর্ঘ একুশ বছর লড়াই সংগ্রামের মাধ্যমে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জয়ী হয়ে দলটি ক্ষমতায় ফিরে আসে ২৩ জুন। পরবর্তীতে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের অপশাসন, দমন পীড়নের বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং অগণতান্ত্রিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে আওয়ামী লীগ ‘দিন বদলের সনদ’ ঘোষণা দেয় এবং ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিয়ে দলটাকে আবারও ক্ষমতায় বসায় জনগণ। সেই থেকে টানা ৪ বার নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ সরকার জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচারের রায় কার্যকর করেছে। ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছে এবং রায়ও কার্যকর করা হচ্ছে। সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পথ বন্ধ করা হয়েছে। গত ১৫ বছরে নিজের অসামান্য নেতৃত্বগুণে দেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধন করে বাংলাদেশকে একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে পরিণত করেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত সেই উন্নয়নের সুফল প্রাপ্তি নিশ্চিত করেছেন তিনি। ১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে সংগঠনের সভাপতি নির্বাচিত হন শেখ হাসিনা। দীর্ঘ ৬ বছরের নির্বাসন শেষে ১৯৮১ সালের ১৭ মে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। নব উদ্যোমে সংগঠিত হয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বাঙালি জাতির হারানো গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের এক নবতর সংগ্রামের পথে যাত্রা শুরু করে আওয়ামী লীগ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরে শেখ হাসিনা গত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে এই দলের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্ব এই দলের নেতাকর্মীদের প্রেরণার উৎস এবং তা সংগঠনকে করেছে সমৃদ্ধ। তার আপোষহীন, সুদক্ষ ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে স্বৈরতন্ত্রের জাল ছিঁড়ে গণতন্ত্রের স্বাদ পেয়েছিল বাংলার জনগণ। কালের বিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আজ ডিজিটাল বাংলাদেশের পথ পেরিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশের স্বাপ্নিক অভিযাত্রী আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পথপরিক্রমায় অনেক অশ্রু, ত্যাগ আর রক্তের বিনিময়ে বাঙালি জাতি ফিরে পায় ‘ভাত ও ভোটের অধিকার’; দীর্ঘ স্বৈরশাসনের অবসানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা। আজ শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে ও সুদক্ষ রাষ্ট্র পরিচালনায় সুশাসন, স্থিতিশীল অর্থনীতি, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, উন্নয়নে গতিশীলতা, ডিজিটাল বাংলাদেশ, শিক্ষার প্রসার, স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণ, কর্মসংস্থান, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী, খাদ্য নিরাপত্তা, নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুগান্তকারী উন্নয়নের ফলে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে উন্নীত হয়েছে। ৭৫ বছরে দেশ আজ উন্নয়ন, অগ্রগতি এবং সাফল্যের জয়গানে মুখরিত। অপ্রতিরোধ্য আওয়ামী লীগ কেবল অতীত বর্তমান নয়, বাংলাদেশের ভবিষ্যতের নির্মাতা। রোববার (২৩ জুন) ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এরই মধ্যে ১০ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ। প্লাটিনাম জয়ন্তী ঘিরে কর্মসূচির মধ্য রয়েছে, রোববার সূর্য উদয় ক্ষণে কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও দেশব্যাপী আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। এরপর সকাল ৭ টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন। এছাড়াও সকাল সাড়ে ১০টায় টুঙ্গিপাড়ায় চিরনিদ্রায় শায়িত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের একটি প্রতিনিধি দল। এ দলের সদস্যরা হলেন, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুহাম্মদ ফারুক খান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খান, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক বেগম শামসুন্নাহার, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ সদস্য সাহাবুদ্দিন ফরাজী প্রমুখ। এদিকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন, বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। এরপর দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে। আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, আওয়ামী লীগের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসূচি গ্রহণের পাশাপাশি বিভিন্ন উপযোগী কর্মসূচির মাধ্যমে জাঁকজমকপূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করার জন্য আওয়ামী লীগ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের জেলা বা মহানগর, উপজেলা বা থানা, পৌর বা ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড শাখাসহ সব স্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দেশব্যাপী দোয়ার কর্মসূচি বিএনপির
এভারকেয়ার হাসপাতালে গুরুতর অসুস্থ খালেদা জিয়ার আরোগ্য কামনায় রোববার (২৩ জুন) ঢাকাসহ সারাদেশে দোয়া মাহফিল ও মিলাদ মাহফিল করবে বিএনপি।  শনিবার (২২ জুন) সন্ধ্যায় নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রিজভী বলেন, ম্যাডাম এভারকেয়ার হাসপাতালে ডাক্তারদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন আছেন। দলের নেতা-কর্মী সবাই আমরা বিষন্ন। মহান আল্লাহর কাছে তার সুস্থতার জন্য সবসময় দোয়া চাইব। রিজভী আরও বলেন, আগামীকাল (রোববার) ঢাকাসহ সারাদেশে মহানগর ও জেলা সদরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আশু সুস্থতা কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকায় নয়া পল্টনে সকাল সাড়ে ১১টায় এই দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এতে দলের সংগ্রামী মহাসচিবসহ জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ অংশ গ্রহণ করবেন। এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সরকার অমানবিক ব্যবহার ও আচরণ করছে। তার মানবাধিকার ও মানবতা যেভাবে তারা হরণ করছে, এটা যদি সত্যিকার গণতান্ত্রিক সরকার থাকতো তাহলে করতে পারতো না। দেশের সত্যিকার অর্থে আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা থাকলে এটা হতো না। বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, উনাকে (খালেদা জিয়া) অন্যায়ভাবে মামলা দেয়া হযেছে। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে এর সাথে ন্যুনতম কোনো সম্পর্ক নেই। সেই মামলায় দেশনেত্রীকে সাজা দিয়ে, এই সাজা একেবারেই একজন ব্যক্তির ইচ্ছাপ্রসুত সাজা সেটা স্পষ্ট। নিম্ন আদালত পাঁচ বছর দিলো, হাইকোর্ট তাকে ১০ বছর করে দিলো। তাতেই মনে হয়েছে যে, সব কিছু উনার(শেখ হাসিনার)নিয়ন্ত্রণে এবং এটা(সাজা) যে উনার ইচ্ছা পুরণে হয়েছে তা আজকে সুস্পষ্ট। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আবদুস সালাম আজাদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স প্রমুখ। প্রসঙ্গত, হঠাৎ অসুস্থতার কারণে শুক্রবার গভীর রাতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে অ্যাম্বুলেন্সে করে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া ডায়াবেটিস, আর্থারাইটিস ছাড়াও হৃদরোগ, ফুসফুস, লিভার, কিডনিসহ বিভিন্ন জটিলরোগে ভুগছেন।