• ঢাকা শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১
logo
‘পরিবারের লোকজনও আমাদের শুধু টাকার গাছ মনে করে’
মালয়েশিয়ায় ই-পাসপোর্টসংক্রান্ত হাইকমিশনের জরুরি নোটিশ
মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের ই-পাসপোর্টসংক্রান্ত বিষয়ে জরুরি নোটিশ জারি করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। এতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল থেকে মালয়েশিয়ায় ই-পাসপোর্টের কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে।  স্থানীয় সময় বুধবার (১৭ এপ্রিল) কুয়ালালামপুর বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাসপোর্ট ও ভিসা উইংয়ের কাউন্সেলর মিয়া মোহাম্মাদ কেয়ামউদ্দিন স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। প্রবাসী বাংলাদেশি, যাদের এমআরপি পাসপোর্ট রয়েছে ই-পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে তাদের নিম্নোক্ত কাগজপত্র প্রস্তুত রাখার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে- ১. ই-পাসপোর্টের আবেদনপত্র অনলাইনে পূরণ করার ক্ষেত্রে সুরক্ষা সেবা বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়োগকৃত আউটসোর্সিং কোম্পানি ‘এক্সপ্যাট সার্ভিসের কুয়ালালামপুর এসডিএনবিএইচডি’ (ইএসকেএল)-এর নির্ধারিত স্থান হতে পূরণ করতে হবে। ২. ই-পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে কোনো কাগজপত্র সত্যায়ন করার প্রয়োজন হবে না। ৩. ই-পাসপোর্ট ফরমে কোনো ছবি সংযোজন এবং তা সত্যায়নের প্রয়োজন হবে না।  ৪. জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) অথবা অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ (বিআরসি ইংরেজি ভার্সন) অনুযায়ী আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি)/ জন্মনিবন্ধন সনদের (বিআরসি) অনলাইন ভেরিফায়েড কপি দাখিল করতে হবে।  ৫. অপ্রাপ্ত বয়স্ক (১৮ বছরের কম) আবেদনকারী যার জাতীয় পরিচয়পত্র নেই, সেক্ষেত্রে তার বাবা ও মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে। বাবা ও মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি ও অনলাইন ভেরিফায়েড কপি দাখিল করতে হবে।  ৬. জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ (বিআরসি ইংরেজি ভার্সন) নিম্নোক্ত বয়স অনুসারে দাখিল করতে হবে- (ক) ১৮ বছরের কম হলে অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ (বিআরসি ইংরেজি ভার্সন), (খ) ১৮-২০ বছর হলে জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ (বিআরসি ইংরেজি ভার্সন), (গ) ২০ বছরের বেশি হলে জাতীয় পরিচয়পত্র আবশ্যক। তবে বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশন থেকে আবেদনের ক্ষেত্রে অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ (বিআরসি ইংরেজি ভার্সন) গ্রহণযোগ্য হবে। এক্ষেত্রে পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র ও অনলাইন ভেরিফায়েড কপি দাখিল করতে হবে। ৭. ফরমে তারকা চিহ্নিত ক্রমিক নম্বরগুলো অবশ্যই পূরণীয়। ৮. দত্তক/অভিভাবকত্ব গ্রহণের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের আবেদনের সঙ্গে সুরক্ষা সেবা বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত আদেশ দাখিল করতে হবে। ৯. ১৮ বছরের কম এবং ৬৫ বছরের বেশি সব আবেদনে ই-পাসপোর্টের মেয়াদ হবে ৫ বছর এবং ৪৮ পৃষ্ঠার। ১০. প্রাসঙ্গিক টেকনিক্যাল সনদসমূহ (যেমন- ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ড্রাইভার ইত্যাদি) আপলোড/সংযোজন করতে হবে। ১১. প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক জিও/এনওসি/প্রত্যয়নপত্র/অবসরোত্তর ছুটির আদেশ (পিআরএল অর্ডার)/পেনশন বই আপলোড/সংযোজন করতে হবে, যা ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষের নিজ নিজ ওয়েব সাইটে আপলোড থাকতে হবে। ১২. প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিবাহ সনদ/নিকাহনামা এবং বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে তালাকনামা দাখিল করতে হবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ম্যারিজ সার্টিফিকেট/ডিভোর্স সার্টিফিকেট (ইংলিশ ভার্সন) আইন মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে সত্যায়িত হতে হবে।  ১৩. স্থায়ী ঠিকানার অনুকূলে নিজ এলাকার কমিশনার/চেয়ারম্যানের প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে হবে। স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নিজ এলাকার কমিশনার/চেয়ারম্যানের প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে হবে। ১৪. কূটনৈতিক পাসপোর্টের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার ও ওয়েলফেয়ার উইং অথবা ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় বরাবর আবেদনপত্র দাখিল করতে হবে। ১৫. বৈদেশিক মিশন থেকে নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করা হলে, স্থায়ী ঠিকানার কলামে বাংলাদেশের যোগাযোগের ঠিকানা উল্লেখ করতে হবে। ১৬. আবেদনের সময় মূল জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ (বিআরসি ইংরেজি ভার্সন) এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে টেকনিক্যাল সনদ, সরকারি আদেশ জিও/অনাপত্তি (এনওসি) প্রদর্শন/দাখিল করতে হবে। ১৭. বৈদেশিক মিশনে পাসপোর্ট রি-ইস্যুর ক্ষেত্রে মূল পাসপোর্ট ও ভিসা প্রদর্শন করতে হবে। ১৮. হারানো পাসপোর্টের ক্ষেত্রে পুলিশ রিপোর্ট করতে হবে এবং আবেদনের সাথে তার কপি প্রদর্শন/দাখিল করতে হবে।  ১৯. ৬ বছর বয়সের নিম্নের আবেদনের ক্ষেত্রে থ্রি-আর অথবা ফোর-আর সাইজের (ল্যাব প্রিন্ট গ্রে ব্যাকগ্রউন্ড) ছবি দাখিল করতে হবে। ২০. পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে অথবা চুরি হলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় পুলিশ রিপোর্ট করতে হবে। পুনরায় পাসপোর্টের জন্য আবেদনের সময় পুরনো পাসপোর্টের ফটোকপি এবং পুলিশ রিপোর্ট কপিসহ আবেদনপত্র দাখিল করতে হবে।  ই-পাসপোর্ট আবেদন দাখিলের জন্য আবেদনকারীকে সুরক্ষা সেবা বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়োগকৃত আউটসোর্সিং কোম্পানি ‘এক্সপ্যাট সার্ভিসের কুয়ালালামপুর এসডিএনবিএইচডি’ (ইএসকেএল)-এর মাধ্যমে এপয়েন্টমেন্ট নেয়া বাধ্যতামূলক। নিম্নোক্ত উভয় পদ্ধতিতেই এপয়েন্টমেন্ট নেয়া যাবে। ওয়েব লিংক: www.expatserviceskl.com  অথবা https://www.expatservicesmy.com/#/book appointment ঠিকানা: সাউথগেট কমার্শিয়াল সেন্টার, লেভেল-২, ব্লক ই, নং-২, জালান দুয়া অফ জালান চ্যান সো লিন-৫৫২০০, কুয়ালালামপুর।  ই-পাসপোটের সরকারি ফি: ভিসা ক্যাটাগরি (সাধারণ শ্রমিক) ৪৮ পাতা ৫ বছর মেয়াদির জন্য ১৬৪ রিঙ্গিত (ইএসকেএল সার্ভিস চার্জ বাবদ ৩২ রিঙ্গিত। ভিসা ক্যাটাগরি (অন্যান্য) ৪৮ পাতা ৫ বছর মেয়াদির জন্য ৫৪৫ রিঙ্গিত (ইএসকেএল সার্ভিস চার্জ বাবদ ৬০ রিঙ্গিত। এ ছাড়া কোনো প্রবাসী ই-পাসপোর্ট করতে চাইলে ব্যাংক ড্রাফ্ট থেকে শুরু করে ফর্ম পূরণ পর্যন্ত সব কাজেই সহযোগিতা করবেন এক্সপ্যাট সার্ভিসের কর্মীরা। প্রয়োজনে প্রবাসীদের +৬০৩৯২১২০২৬৭ নম্বরে যোগাযোগ করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রিয়াদে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালিত
মালয়েশিয়ায় ২৩ বাংলাদেশিসহ ২৬ জন আটক
মালয়েশিয়ায় ২৩ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার
ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসীর মালয়েশিয়ায় মৃত্যু
লস অ্যাঞ্জেলসে নানান আয়োজনে নববর্ষ উদযাপন
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলসে নানান আয়োজনে উদযাপিত হলো বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। ১৪ এপ্রিল হলিউড খ্যাত লিটল বাংলাদেশে ৮ম বারের মতো বেঙ্গলি আমেরিকান হিন্দু সোসাইটির উদ্যোগে নববর্ষ উদযাপন করা হয়। বাংলা নববর্ষ ১৪৩১ উপলক্ষে এদিন রঙ-বেরঙের পোশাক পরে আর ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এ যেন দূর প্রবাসে থাকা বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি আবেগ ও ভালোবাসার মেলবন্ধন। বর্ষবরণ উপলক্ষে আয়োজন করা হয় এক জাঁকজমকপূর্ণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। দেশীয় সঙ্গীত, নৃত্য পরিবেশন আর দর্শকদের করতালিতে আনন্দ মুখর হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠানটি। বৈশাখ আর পান্তা ইলিশ যেন এক সূত্রে গাঁথা। তাই বৈশাখের আয়োজনে ছিল পান্তা ইলিশসহ ৫০ পদের রকমারি খাবার। বেঙ্গলি আমেরিকান হিন্দু সোসাইটির সভাপতি অমর হালদারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সঞ্চয় ঘোষের পরিচালনায় অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ও সুন্দর পরিবেশে নববর্ষ উদযাপন সম্পন্ন হয়। এসময় সোসাইটির পরিচালক সুবর্ন নন্দী তাপস, পঙ্কজ দাস, সহ-সভাপতি বিপুল চৌধুরী, শিবনারায়ণ, দিপংকর সাহা ও অনুপম কুন্ডুসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিকে হত্যা করল আরেক বাংলাদেশি
মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিকে হত্যায় আশরাফুল মিয়া নামে আরেক বাংলাদেশির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) এ খবর জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বার্নামা। জানা গেছে, গত ১ এপ্রিল মালয়েশিয়ার গেন্টিং হাইল্যান্ডসের এক নির্মাণস্থলে নজরুল মোল্লা (৪৪) নামে এক বাংলাদেশির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গত ৩১ মার্চ বিকেল ৩টা থেকে ১ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যে এ হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়। এতে বাংলাদেশি প্রবাসী আশরাফুল মিয়া ও পালাতক আরেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। সোমবার (১৫ এপ্রিল) আদালতের বিচারক নাদরতুন নাঈম জয়নানের সামনে ওই হত্যার অভিযোগ পড়ে শোনানো হয়। তবে মামলাটি হাইকোর্টের এখতিয়ারে থাকায় কোনো আবেদন রেকর্ড করা হয়নি। এরপর আদালত ফরেনসিক রিপোর্ট দাখিলের জন্য ১৫ মে দিন ধার্য করেন।  দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় এই অভিযোগ প্রমাণিত হলে আসামির মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। এ মামলায় আসামির কোনো প্রতিনিধি ছিলনা। তাই মামলাটি পরিচালনা করেন ডেপুটি পাবলিক প্রসিকিউটর মুহম্মদ জামহারির মুহম্মদ জুহিদ।  
পর্তুগালে বাংলা বর্ষবরণ উদযাপন পরিষদের প্রথম সফল আয়োজন
এবারই কোনো সংগঠন পর্তুগালের লিসবনে প্রথম বাংলা নববর্ষ উদযাপন করল।   রোববার (১৪ অক্টোর) পহেলা বৈশাখ দুপুর ১২টা থেকে ভেন্যুটি উন্মুক্ত ছিল। যেখানে শত শত প্রবাসী বাংলাদেশিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সপরিবারে অংশ নেন। অনুষ্ঠানমালায় ছিল শিশুদের দেশীয় ছড়া, আবৃত্তি ও নববর্ষ নিয়ে শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা এবং আগত নারীদের নিয়ে ছিল বালিশখেলা। এই আয়োজনের বিশেষ চমক ছিল পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে সবার জন্যে পান্তা-ইলিশ ও দেশীয় ভিন্ন স্বাদের ভর্তার আয়োজন। এ ছাড়াও নাচ ও গানে অতিথিদের মাতিয়ে রাখতে আয়োজকদের কোনো কমতি ছিল না। আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং আরও বড় পরিসরে পরবর্তীতে এমন আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ও স্থানীয় রাজনীতিবিদ রানা তাসলিম উদ্দিন, বর্ষবরণ উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক খলিলুর রহমান সাগর ও সদস্য সচিব শিপলু আহমেদ। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পর্তুগালের আরটিভি প্রতিনিধি আনোয়ার এইচ খান ফাহিম, সময় টিভি প্রতিনিধি তারিকুল হাসান আশিক, পর্তুগাল বাংলা প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রনি মোহাম্মদ, সাবেক সভাপতি ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী, বর্তমান সভাপতি রাসেল আহম্মেদ, সাধারণ সম্পাদক শহীদ আহমদ সহ প্রেস ক্লাবের সদস্যরা। ব্যবসায়ী মো. জহিরুল ইসলাম, লেখিকা ফৌজিয়া খাতুন রানা, ব্যবসায়ী মাসুম আহমেদ, পর্তুগাল সাহিত্য সংসদের সভাপতি এনামুল হক, সাধারণ সম্পাদক আবুল আসাদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাফিজ আল আসাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান মাহমুদ, কমিউনিটির তরুণ উদ্যোক্তা ব্যবসায়ী আবু ইমন, যুবনেতা আহমেদ লিটন, সাংবাদিক এস.এম আজাদ, টিপু, আসাদ, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব গোলাম মাহমুদ আযম, সোহেল আহমদ, ইমরানুল হক ইমু, শিহাব আহমেদ, আমির আলী, মাসুম আহমেদ, ব্যবসায়ী নাঈম হাসান ও আব্দুল কাদের জিলানী প্রমুখ। অনুষ্ঠানের আয়োজক তরুণ উদ্যোক্তা রনি হুসাইন, বলেন পর্তুগালের সকল প্রবাসীদের নিয়ে ভবিষ্যতে  আরও বড় পরিসরে এমন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। সেই সাথে ঘোষণা করেন আজ থেকে নতুন ভাবে বাংলাদেশের সকল জাতীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলো খোলা মাঠে বড় পরিসরে আয়োজন করে, এখানে বেড়ে উঠা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধারার জন্য কাজ করবেন তারা। তিনি দলমত নির্বিশেষে এমন আয়োজন সফল করতে কমিউনিটির সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
চীনে ঈদ পুনর্মিলনী ও পহেলা বৈশাখ উদযাপন
লোকায়ত সংস্কৃতির ডালা সাজিয়ে বর্ণিল আয়োজনে চীনে ঈদ পুনর্মিলনী এবং বাংলা বর্ষবরণ উৎসব উদযাপিত হয়েছে। ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো’র কোরাস উপস্থাপন করে বাংলা নববর্ষকে স্বাগত জানান প্রবাসী বাংলাদেশিরা। রবিবার (১৪ এপ্রিল) গুয়াংঝু শহরের সানইউয়ালি পার্কে বাংলাদেশি কমিউনিটি গুয়াংঝু (বিসিজি) এর আয়োজনে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানটি কয়েকটি পর্বে অনুষ্ঠিত হয়। হাজার মাইল দূরে থেকেও বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি কোনো কিছুরই কমতি ছিলা না এই আয়োজনে। কিছুক্ষণের জন্য হলেও মনে হয়েছে এ যেন এক টুকরো বাংলাদেশ।  আড়ম্বর আয়োজনে ছিল- নববর্ষের র‌্যালি, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বড়দের দেশীয় ঘরোয়া খেলা, কবিতা আবৃত্তি, বাংলা লোকসঙ্গীত পরিবেশন, আলোচনা সভা এবং ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি নানা পদের খাবারের মাধ্যমে মধ্যাহ্নভোজ। গোলাম কাদের সিদ্দীকি এবং আবু সায়েদ সায়েমের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি কোরআন তেলাওয়াত এর মাধ্যমে শুরু হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে সবাই সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- ড. মিরাজ আহম্মেদ, হুমায়ন কবির দুলাল, কল্লোল কান্তি দেবনাথ, মামুন শিকদার, সাখাওয়াত হোসেন, আতিকুল্লাহ, মাহাদী অমিতসহ আরো অনেকে। অনুষ্ঠানে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, কবিতা আবৃতি ও লোক সংগীতে অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করা হয়। তাছাড়া, দুই শতাধিক বাংলাদেশি ও চীনা নাগরিক এই প্রোগ্রামে উপস্থিত ছিলেন।
বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে চীনের নানজিং ইউনিভার্সিটিতে পহেলা বৈশাখ উদযাপন
চীনের নানজিং শহরের নানজিং ইউনিভার্সিটি অফ পোস্ট অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশনের (এনজেইউপিটি) বাংলাদেশি কমিউনিটির আয়োজনে পহেলা বৈশাখ- ১৪৩১ উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, দেশীয় ঘরোয়া খেলা, আবৃত্তি, বাংলা লোকসঙ্গীত পরিবেশনসহ বাংলাদেশি নানান পদের খাবারের আয়োজন করা হয়েছিল। এতে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে নানান পর্বে বিদেশিদের অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। রোববার (১৪ এপ্রিল) চীনের নানজিং শহরের নানজিং ইউনিভার্সিটি অফ পোস্ট অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশনের বাংলাদেশি কমিউনিটির এই আয়োজনে চীন, পাকিস্তান, ভারত, মরক্কো, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিল। মরক্কোসহ কয়েকটি দেশের শিক্ষার্থীরা বাংলা ভাষায় গান ও নাচে অংশগ্রহণ করেন। এনজেইউপিটির পিএইচডি শিক্ষার্থী নাঈম মণ্ডল পুরো অনুষ্ঠানের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন মাস্টার্স শিক্ষার্থী তাজবিদ শ্রিজন। অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ-চায়না ইয়ুথ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ বি সিদ্দিক, সাবেক সেক্রেটারি খাইরুল ইসলাম, প্রথম আলো বন্ধুসভার সভাপতি আহনাফ আনন, সেক্রেটারি আশরাফুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ-চায়না ইয়ুথ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও নানজিং ইউনিভার্সিটির পিএইচডি গবেষক এ বি সিদ্দিক বলেন, ‘দেশীয় সংস্কৃতি সবার মাঝে আমরা ছড়াতে চাই। আমরা যে তা করতে পারছি, এর প্রমাণ হলো আজকের অনুষ্ঠানে বিদেশিদের অংশগ্রহণ।’ প্রথম আলো বন্ধুসভা চীনের সভাপতি আহনাফ আনন সবাইকে ধন্যবাদ জানান এমন সুন্দর আয়োজনের জন্য। তিনি জোর তাগিদ দেন এমন আয়োজন প্রতিবছর করার প্রতি। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আবৃত্তি ও লোক সংগীতে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে ‘পহেলা বৈশাখ উদযাপন’ অনুষ্ঠানে সমাপ্ত করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে ‘বাংলাদেশ হেরিটেজ ডে’ উদযাপন
যুক্তরাষ্ট্রে ‘বাংলাদেশ হেরিটেজ ডে’ উদযাপন করেছেন সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া বাংলাদেশিরা। দিবসটি উপলক্ষে রোববার (১৩ এপ্রিল) পেপ্যাল পার্ক স্টেডিয়ামে একটি ফুটবল খেলার আয়োজন করা হয়। সান হোজে আর্থ কুইক বনাম কলোরাডো র‌্যাপিডসের মধ্যে খেলা শুরুর আগে বাংলাদেশি নৃত্যশিল্পীরা দেশের সংস্কৃতিকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরেন।  এ সময় বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করতে স্টেডিয়ামে স্থানীয় বাংলাদেশিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তাদেরকে ‘বাংলাদেশ বাংলাদেশ’ বলে স্লোগান দিতে শোনা যায়। এ ছাড়া ‘ও পৃথিবী এবার এসে বাংলাদেশ নাও চিনে’ এবং ‘চার ছক্কা হই হই’ এই গান দুটো সঙ্গে মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা করেন ‘Bangladeshis in the Bay’ দল।  এই আয়োজনে পৃষ্টপোষকতা করেন সান হোজে আর্থকুয়েকস মাকেটিং ভাইস প্রেসিডেন্ট টুটুল রহমান এবং জিয়া করিম। সার্বিক তত্বাবধানে ছিলেন কাজী শাহরিয়ার রহমান। নৃত্য পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করেন তাহরিনা আহমেদ রুমু, হুমায়রা আজিজ, তাসনিম রিয়া, অর্চি দাসগুপ্তা, সাঞ্জিনা হাসান, সোফিয়া রহমান, আরুশা, ফাহিম করিম, আরমান এলাহি, রাহামিন হোসেন, আবরার জামাল, আনজার জামাল, জেরিন পুলম, খাদিজা পিউ, প্রিয়তি, তাহমিনা ইমাম এবং কাওসার জামাল।  এছাড়া স্থানীয় বাংলাদেশি ফুটবল খেলোয়াড়দের একটি প্রতিনিধি দলকে মাঠে নিয়ে বিশেষ সংবর্ধনা প্রদান করেন সান হোজে আর্থকুয়েকস কর্তৃপক্ষ। সুন্দর এমন একটি উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সান হোজে আর্থকুয়েকস অথরিটি এবং সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান স্থানীয় বাংলাদেশি জ্যামিং এন্টারটেইনমেন্টের সিইও আজিজ চৌধুরী ।
বৈধ পথে ইউরোপ প্রবেশে সুখবর 
দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ পথে প্রবেশ বন্ধ করার চেষ্টা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। আর এজন্য এবার কঠোর নীতি আরোপ করতে যাচ্ছে তারা। তবে, নতুন নীতিতে বৈধ পথে প্রবেশকারীদের জন্য আছে বড় সুখবর।  গত বুধবার (১০ এপ্রিল) অভিবাসন ও রাজনৈতিক আশ্রয়-সংক্রান্ত নিয়ম কঠিন করার পক্ষে ভোট দিয়েছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। দীর্ঘদিন আলোচনার পর জোটভুক্ত ২৭ সদস্য রাষ্ট্রের ভোটের মাধ্যমে নতুন এই অভিবাসন ও রাজনৈতিক আশ্রয়-সংক্রান্ত নীতি অনুমোদিত হয়েছে। নতুন এই নীতি অনুযায়ী, দ্রুততার সঙ্গে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রক্রিয়া শেষ করা হবে আগামীতে। নীতিতে আরও বলা হয়েছে, অবৈধ পথে সবচেয়ে বেশি অভিবাসী প্রবেশ করে ইতালি, গ্রিস ও স্পেনে। অন্যান্য ইইউভুক্ত সদস্য রাষ্ট্র এই রাষ্ট্রগুলোকে অর্থ দিয়ে সহায়তা করবে অথবা প্রবেশকারী অভিবাসীদের একটি অংশকে নিজেরা আশ্রয় দেবে।   নতুন নীতি অনুযায়ী, যেসব প্রবেশকারীর রাজনৈতিক আশ্রয়ের সম্ভাবনা কম, মূল ইউরোপে প্রবেশের আগেই তাদের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে। ১২ সপ্তাহের মধ্যে তাদের আবেদন নিষ্পত্তির সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং যারা ব্যর্থ হবে, তাদের পরবর্তী ১২ সপ্তাহের মধ্যে জোর করে দেশে ফেরত পাঠানো হবে। সেইসঙ্গে যারা প্রবেশ করবে, এমন ছয় বছরের বেশি প্রত্যেকের বায়োমেট্রিক ডাটা সংরক্ষণ করা হবে। বলা হচ্ছে, নতুন এই নীতি পুরোপুরি কার্যকর হলে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশ থেকে বৈধ পথে ইউরোপে প্রবেশ করা আগের চেয়ে যথেষ্ট সহজ হবে এবং একইসঙ্গে অবৈধ পথে প্রবেশ কঠিন হয়ে যাবে। এ বিষয়ে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার মো. শহীদুল হক বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই পুরো বিষয়টিকে অবৈধভাবে না যাওয়ার একটি প্রণোদনা হিসাবে দেখা যেতে পারে। এটি একটি ভালো ও বাস্তবধর্মী পন্থা। সবার জন্যই লাভজনক হবে এই নীতি।’ এদিকে ইউরোপসহ সব দেশে বৈধ পথে লোক পাঠাতে চায় বাংলাদেশ সরকারও। একইসঙ্গে অবৈধদের ফেরত নিয়ে আসতে চায় সরকার। এ বিবেচনায় ইউরোপের নীতির সঙ্গে বাংলাদেশের নীতির মিল আছে। ইউরোপ থেকে অবৈধদের ফেরত আনার জন্য ইইউ’র সঙ্গে ২০১৮ সালে একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেশনাল প্রসিডিওর (এসওপি) সই করে বাংলাদেশ। ওই চুক্তিটি ভালো কাজ করছে এবং এর ফলে ইতোমধ্যে জার্মানি, ইতালি, গ্রিস ও রোমানিয়া বাংলাদেশ থেকে বৈধ পথে শ্রমিক নেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ বিষয়ে শহীদুল হক বলেন, ‘আমি মনে করি এটি বাংলাদেশের জন্য একটি সুযোগ। ইউরোপের দেশগুলো অনেকের সঙ্গে শ্রমিক পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা করছে। এখন তাদের অর্থনীতি চাঙা আছে। তাদের শ্রমিকের প্রয়োজন আছে। তাদের নিজস্ব শ্রমিকের সংখ্যা কমছে। সব মিলিয়ে তারা একটি বাস্তবধর্মী পরিকল্পনা করছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশেরও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।’ উল্লেখ্য, গত বছর প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার মানুষ অবৈধ পথে ইউরোপে প্রবেশ করেছে। নিজেদের শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য অনেক দিন ধরেই চেষ্টা করছে বাংলাদেশ সরকার। তবে, পদ্ধতিগত কিছু ত্রুটির কারণে ব্যাঘাত ঘটছে সেই প্রচেষ্টায়।