• ঢাকা বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১
logo
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি আয়োজন করতে যত টাকা পাচ্ছে পাকিস্তান
রোহিত-কোহলিদের পাকিস্তানে আনতে আইসিসির দিকে তাকিয়ে পিসিবি
আগামী বছরের শুরুতে পাকিস্তানে পর্দা উঠবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির। তবে এই টুর্নামেন্টকে নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে এশিয়ার দুই পরাশক্তি ভারত-পাকিস্তান। কারণ, এই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পাকিস্তানে যেতে চায় না ভারত। সবশেষ আইসিসির বোর্ড সভাতেও ভারতের অংশ গ্রহণ নিশ্চিত হয়নি। তাই ভারতকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলাতে হাল ছেড়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। এই বিষয়টি পুরোপুরি আইসিসির ওপর ছেড়ে দিয়েছে পিসিবি। পিসিবির সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে ভারতের জনপ্রিয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার। পিসিবি বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পাক ক্রিকেট বোর্ড নিজেদের পক্ষ থেকে যা যা করার করেছে। তারা প্রস্তাবিত সূচি জমা দিয়েছে। খরচ কত হবে তাও জানিয়েছে। এবার যা ঠিক করার আইসিসি করবে। এদিকে আইসিসির বার্ষিক বোর্ড সভা শেষে আইসিসির এক কর্মকর্তা বলেছেন, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি কীভাবে হবে, তা আলোচ্য সূচিতে ছিল না। তাই এ ব্যাপারে (ভারতের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অংশগ্রহণ) কোনো আলোচনা হয়নি। অন্যদিকে সম্মেলনের বাইরে ভারত-পাকিস্তানের কর্মকর্তারাও কি নিজেদের মধ্যে কথা বলেননি? এমন প্রশ্নের জবাবে কর্মকর্তা বলেছেন, কোনো দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে যোগ দিতে যাইনি আমরা। তাই দুই বোর্ডের কর্তাদের আলাদা ভাবে কথা বলার সূচি ছিল না। পিসিবি কর্তাদের সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি।  ‘সম্মেলনের বাইরে কথা বলার তেমন সুযোগও ছিল না। এখনও অনেক সময় আছে প্রতিযোগিতার আগে। তা ছাড়া এটা আইসিসির প্রতিযোগিতা। আইসিসি কর্মকর্তারা সামলাবেন। সরাসরি পিসিবি কর্তাদের সঙ্গে আমাদের কথা বলার কিছু নেই।’ পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড প্রস্তাবিত সূচিতে ভারতের সব ম্যাচ লাহোরে রেখেছে। ভারত সেমিফাইনালে উঠলে সেই ম্যাচও হবে লাহোরে। ফাইনালও হবে সেখানে। শোনা গিয়েছে মাঠের পাশে একটি বিলাসবহুল হোটেল তৈরি করতে পারে পিসিবি।  সেখানেই রাখা হবে রোহিতদের। সে ক্ষেত্রে বেশি দূরে যাতায়াত করতে হবে না তাঁদের। রোহিত-কোহলিদের নিরাপত্তার কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত।  কিন্তু টুর্নামেন্টটিতে অংশ নিতে পাকিস্তানে যেতে চায় না ভারত। ২০১২ সালের পর থেকে ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বন্ধ। গত বছর এশিয়া কাপ খেলতেও পাকিস্তানে যায়নি ভারত। রোহিতদের ম্যাচগুলি হয়েছিল শ্রীলঙ্কায়। ফাইনালও হয় সেই দেশে। এবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিও হাইব্রিড মডেলে খেলতে চায় ভারত।
সেমিফাইনালের সমীকরণ মেলাতে মালয়েশিয়ার মুখোমুখি বাংলাদেশ
রাত পোহালেই নারী এশিয়া কাপের দামামা শুরু
বোর্ড সভায় বসছে আইসিসি, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি নিয়ে আসতে পারে যেসব সিদ্ধান্ত 
তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হওয়াতে মুগ্ধ সোহান
এবার শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ালেন ক্রিকেটারদের স্ত্রীরা
দেশজুড়ে চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং অস্থিরতা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা দিয়েছিলেন ক্রিকেটাররা। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন ক্রিকেটারদের স্ত্রীরাও। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মেহেদী হাসান মিরাজ এবং নাজমুল হোসেন শান্তর স্ত্রী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন। দুটি প্রার্থনার ইমোজি দিয়ে মুশফিকের স্ত্রী জান্নাতুল কেফায়েত মিষ্টি লিখেছেন, পাখির মতো মানুষ মারা হচ্ছে, এ কেমন দেশ! আল্লাহ আপনি একমাত্র উত্তম পরিকল্পনাকারী, সাহায্যকারী। সব সন্তানদের তাদের বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিন। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের স্ত্রী জান্নাতুল কাওসার মিষ্টি কোটা আন্দোলনের সমর্থনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বহুল ব্যবহৃত হ্যাশট্যাগগুলো পোস্ট করেছেন। এ ছাড়াও মিরাজের স্ত্রী রাবেয়া প্রীতি একটি ছবি শেয়ার করেছেন। যেখানে চলমান কোটা আন্দোলনে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদের বাবার একটি মন্তব্য লেখা। যেখানে তিনি আর্তনাদ করে বলেছিলেন, ‘আর কে চাল কিনে দেবে? টিউশনের টাকা না পাঠালে তো বাসায় না খেয়ে থাকতে হতো।’ অন্যদিকে বাংলাদেশ জাতীয় দলের তিন ফরম্যাটের অধিনায়ক শান্ত’র স্ত্রী সাবরিনা সুলতানা রত্না একটি ছবি শেয়ার দিয়েছেন। যেখানে লেখা ‘সেভ আওয়ার স্টুডেন্টস।’ উল্লেখ্য, কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে দেশজুড়ে উত্তাল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পাবলিক-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে প্রায় প্রতিটি জেলায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে পুলিশ ও সরকারী অঙ্গ সংগঠনগুলোর।  যদিও এসব সংঘাতে নিহত ও আহতের সুস্পষ্ট সংখ্যা জানা যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৬ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। 
ইংল্যান্ড দলের নতুন দায়িত্বে অ্যান্ডারসন
কয়েক দিন আগেই দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময়ের টেস্ট ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন ইংলিশ পেসার জেমস অ্যান্ডারসন। অবসর নিলেও তার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চায় ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড। তাই দলের বোলিং মেন্টর হিসেবে অ্যান্ডারসনকে নিয়োগ দিয়েছে তারা। অ্যান্ডারসনের নতুন এই ভূমিকা নিয়ে উচ্ছ্বসিত ইংল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়ক বেন স্টোকস। তার মতে দলের নতুনরা অ্যান্ডারসনের থেকে শিখতে মরিয়া হয়ে আছে। স্টোকস বলেছেন, শেষ কিছু দিন খুব ভালো ছিল। আপনার দেখতে পেয়েছেন, ছেলেরা তার কাছ থেকে শিখতে মরিয়া ছিল। অবশ্যই আগে এটা কিছুটা আলাদা ছিল। জিমি তার খেলার প্রস্তুতি নিতে ব্যস্ত থাকতো, তাকে তার কাজটা করতে দিয়ে যতটুকু সম্ভব তার কাছ থেকে নেওয়া যেত।   ‘কিন্তু এখন সে দাঁড়িয়ে থাকে, ছেলেরা তার কাছে দৌড়ে গিয়ে ভাবনাটুকু নিতে চায়, কীভাবে সে কিছু বল করতো সেটা বুঝতে চায়। অবশ্যই পালাবদলটা খুব ভালো হয়েছে। তবে এটা তবে বটেই, জিমির বিদায় কিছুটা আবেগের বিষয় ছিল। ’ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের একাদশে ছিলেন অ্যান্ডারসন। সেখান থেকেই অবসরে যান তিনি। তবে বাকি দুই ম্যাচে মাঠে না থাকলেও পিছন থেকে ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণ সাজাবেন এই তারকা পেসার। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হবে ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচ। এই ম্যাচের দলে ইতোমধ্যেই জায়গা করে নিয়েছেন মার্ক উড। অ্যান্ডারসনের জায়গায় তাকে নেওয়া হয়েছে।
হৃদয়-মোস্তাফিজরা বাদ, প্লে-অফে শরিফুল ও তাসকিনের দল
লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে (এলপিএল) ৫ ম্যাচ পর খেলতে নেমে রানের খাতা খোলার আগেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন বাংলাদেশের ব্যাটার তাওহীদ হৃদয়। লিগ পর্বে শেষ ম্যাচে কলম্বো স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে খেলতে নেমে শূন্য রানেই ফেরেন হৃদয়। তবে এই ম্যাচে ২৮ রানে জয় পায় ডাম্বুলা। মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) রাতে কলম্বোতে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে সবকটি হারিয়ে ১২৩ রানে অলআউট হয় ডাম্বুলা সিক্সার্স। দলের হয়ে ৩৩ বলে সর্বোচ্চ ৪০ রান করেন অধিনায়ক মোহাম্মদ নবি। পাঁচ নম্বরে নেমে ৩ বল খেলে শূন্যতে ফেরেন হৃদয়। টুর্নামেন্টে প্রথম দুই ম্যাচের একটিতে ব্যাট করে মাত্র ১ রান করেছিলেন হৃদয়। তবে সহজ টার্গেট স্পর্শ করতে পারেনি কলম্বো স্ট্রাইকার্স। ১৮ দশমিক ১ ওভারে ৯৫ রানে অলআউট হয় কলম্বো। সর্বোচ্চ ৩০ রান করেন অধিনায়ক থিসারা পেরেরা। এতে ৮ ম্যাচে ৩ জয় ও ৫ হারে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তলানিতে থাকায় প্লে-অফে খেলার আশা শেষ হয়ে গেছে ডাম্বুলার। এদিকে সমান ম্যাচে ডাম্বুলার সমান ৩ জয়ে নেট রানরেটে এগিয়ে থেকে প্লে-অফ নিশ্চিত করেছে শরিফুল ইসলামের ক্যান্ডি ফ্যালকনস। আরেক বাংলাদেশি ক্রিকেটার তাসকিন আহমেদের দলও শেষ চারে উঠেছে। ৮ ম্যাচে ৪ জয়ে ০ দশমিক ৫৮৩ নেট রানরেট নিয়ে তিনে কলম্বো স্ট্রাইকার্স।
রিশাদের টেস্ট খেলা নিয়ে যা বললেন শান্ত
গত এক বছর ধরে রঙিন পোশাকে বাংলাদেশ দলের অন্যতম নিয়মিত মুখ রিশাদ হোসেন। অল্প সময়ের মধ্যেই হয়ে উঠেছেন আস্থার এক নাম। ব্যাট হাতে আধিপত্য দেখানোর পাশাপাশি লোয়ার মিডল-অর্ডারেও ভরসার নাম রিশাদ। তবে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে খেললেও এখনও ক্রিকেটের রাজকীয় ফরম্যাট টেস্টে অভিষেক হয়নি তার। এদিকে আগামী আগস্ট-সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। সেখানে সাদা পোশাকে রিশাদকে দেখা যেতে পারে কি না, বিষয়টি নিয়ে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। জবাবে শান্তর মন্তব্য, এই মুহূর্তে রিশাদের টেস্ট ম্যাচ খেলার সম্ভাবনা নেই। মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শান্ত বলেন, ‘আমার মনে হয় না এই মুহূর্তে লাল বলে (টেস্টে লাল বলে খেলা হয়, ওয়ানডেতে সাদা) খেলার জন্য রিশাদ এখনও প্রস্তুত। আর সে খেলবে কি না, তা আমাকে জিজ্ঞেস না করে নির্বাচকদের কাছে জানতে চাইলেই ভালো। তারা যা ভালো মনে করেন। তবে, আমার মতে রিশাদের এখন টেস্টে খেলার সম্ভাবনা নেই।’ পাকিস্তানের বিপক্ষে তাদের মাটিতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মনে করেন দলের অধিনায়ক শান্ত। তিনি বলেন, ‘এটা (পাকিস্তান সিরিজ) অবশ্যই অনেক চ্যালেঞ্জিং হবে, তারা খুবই ভালো দল। তবে আমার মনে হয় এই ফরম্যাটে আমাদেরও বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় আছেন। মুশফিক (ভাই), মমিনুলসহ (ভাই) আরও বেশ কয়েকজন। আমরা যদি আমাদের অভিজ্ঞতাটা কাজে লাগিয়ে শক্তি অনুযায়ী খেলতে পারি, সিরিজটা অবশ্যই ভালো হবে।’ শান্ত যোগ করেন, ‘অবশ্যই এটা শুধু কোনো সিরিজ বা টুর্নামেন্ট ভালো অথবা খারাপ খেলার ক্ষেত্রে না। খারাপ হলেও আমাদের সামনের দিকে যেতে হবে ভালো হলেও ওটা নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করে যে..। আমার মনে হয় বর্তমানে থাকাটাই খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং সামনে আমাদের কোন সিরিজটা আছে। আমাদের ভিন্ন একটা ফরম্যাটে বেশ কিছু নতুন প্লেয়ার আসবে।’ আগামী ২১ আগস্ট প্রথম এবং ৩০ আগস্ট দ্বিতীয় টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। সিরিজের আগে প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট সময়ও পাচ্ছে পুরো দল। তাই পাকিস্তানের মাটিকে টেস্ট সিরিজটা টাইগারদের জন্য ভালো হবে বলে মনে করেন তিনি। টাইগার দলপতির মতে, ‘যারা টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ছিল না, যারা আসবে তারা অনেক আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে পাকিস্তান সিরিজের জন্য। অবশ্যই সামনে সিরিজটা আবার নতুন করে শুরু করা। আমরা লাস্ট শ্রীলঙ্কার সাথে শেষ করেছিলাম অনেক দিন পর আবার একটা টেস্ট সিরিজ সামনে। এই সিরিজের আগে সবাই মোটামুটি একটা সময় পাচ্ছে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য সুতরাং আশা করছি ভালো কিছু হবে।’
শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান মুশফিকের
চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে সরব দেশের ক্রীড়াঙ্গন। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় ব্যথিত জাতীয় দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, শরিফুল ইসলামরা। এবার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম। বুধবার (১৭ জুলাই) ফেসবুক পোস্টে মুশফিক লেখেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র হিসেবে, আমি আমার ভাই-বোনদের ওপর আর কোনো সহিংসতা দেখতে চাই না। আমার শিক্ষকরা যারা অতুলনীয় সাহস দেখিয়ে তাদের ছাত্র-ছাত্রীদের রক্ষা করতে গিয়ে আহত হয়েছেন, তাদের প্রতি অতল শ্রদ্ধা।’ তিনি যোগ করেন, ‘এটা মেনে নেওয়া কঠিন, কোনো ছাত্রের জন্য যে তার শিক্ষক হেনস্তা হয়েছেন; যা খুবই নিন্দনীয় বলে আমি বিশ্বাস করি। যেকোনো উপায়েই হোক এই রক্তপাত বন্ধ হোক। শান্তি আসুক।’ দ্রুত সমাধান চেয়ে অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার আরও লেখেন, ‘সংশ্লিষ্টরা সমাধানের শান্তিপূর্ণ রাস্তা বের করবেন, এটাই অনুরোধ।  আল্লাহ আমাদের ঠিক পথে পরিচালিত হওয়ার তৌফিক দান করুন। আমিন।’ 
‘পাকিস্তান সিরিজ অনেক চ্যালেঞ্জিং হবে’
পাকিস্তানের বিপক্ষে তাদের মাটিতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মনে করেন দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) ঢাকায় একটি কুইজের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই কথা বলেন টাইগার কাপ্তান।  তিনি বলেন, ‘এটা (পাকিস্তান সিরিজ) অবশ্যই অনেক চ্যালেঞ্জিং হবে, তারা খুবই ভালো দল। তবে আমার মনে হয় এই ফরম্যাটে আমাদেরও বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় আছেন। মুশফিক (ভাই), মমিনুলসহ (ভাই) আরও বেশ কয়েকজন। আমরা যদি আমাদের অভিজ্ঞতাটা কাজে লাগিয়ে শক্তি অনুযায়ী খেলতে পারি, সিরিজটা অবশ্যই ভালো হবে।’ শান্ত যোগ করেন, ‘অবশ্যই এটা শুধু কোনো সিরিজ বা টুর্নামেন্ট ভালো অথবা খারাপ খেলার ক্ষেত্রে না। খারাপ হলেও আমাদের সামনের দিকে যেতে হবে ভালো হলেও ওটা নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করে যে..। আমার মনে হয় বর্তমানে থাকাটাই খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং সামনে আমাদের কোন সিরিজটা আছে। আমাদের ভিন্ন একটা ফরম্যাটে বেশ কিছু নতুন প্লেয়ার আসবে।’ আগামী ২১ আগস্ট প্রথম এবং ৩০ আগস্ট দ্বিতীয় টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। সিরিজের আগে প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট সময়ও পাচ্ছে পুরো দল। তাই পাকিস্তানের মাটিকে টেস্ট সিরিজটা টাইগারদের জন্য ভালো হবে বলে মনে করেন তিনি। টাইগার দলপতির মতে, ‘যারা টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ছিল না, যারা আসবে তারা অনেক আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে পাকিস্তান সিরিজের জন্য। অবশ্যই সামনে সিরিজটা আবার নতুন করে শুরু করা। আমরা লাস্ট শ্রীলঙ্কার সাথে শেষ করেছিলাম অনেক দিন পর আবার একটা টেস্ট সিরিজ সামনে। এই সিরিজের আগে সবাই মোটামুটি একটা সময় পাচ্ছে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য সুতরাং আশা করছি ভালো কিছু হবে।’
শিক্ষার্থীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে যা বললেন শরিফুল
কোটা সংস্কার ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে উত্তাল রাজধানীসহ পুরো দেশ। মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) সকাল থেকেই ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের শুরুটা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক হলেও এবার তা স্কুল-কলেজ পর্যায়ের ছাত্রছাত্রীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানীর সাইন্সল্যাব মোড়, গাবতলী-মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ, নতুন বাজার, মধ্য-বাড্ডা থেকে শুরু করে নদ্দা-বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, নতুন বাজার, কুড়িল বিশ্বরোড, মহাখালী-বনানী সড়ক, উত্তরা, মিরপুর ১০ নম্বর, তাঁতীবাজার, বেইলিরোড ও বাসাবো বৌদ্ধ মন্দির এলাকায় সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষও সমর্থন জানিয়েছেন। এবার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা জানালেন জাতীয় ক্রিকেট দলের তারকা পেসার শরিফুল ইসলাম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ওয়ালে সংক্ষিপ্ত এক স্ট্যাটাসে তার ভাষ্য, ‘আমি একজন ক্রিকেটার হলেও একজন ছাত্র। আমি চাই না আর কোনো ছাত্রছাত্রীর রক্ত ঝরুক।’ এদিকে জাতীয় দলের ব্যাটার তাওহীদ হৃদয়ও শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের এই শিক্ষার্থীর মন্তব্য, ‘সবকিছু থেকে দূরে আছি, তাই অনেক কিছুই দেখা হয়নি…। আমার প্রাণের ঢাকা ইউনিভার্সিটি, আর রক্তাক্ত না হোক।’ প্রসঙ্গত, রোববার (১৪ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে এতো ক্ষোভ কেন? মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনিরা কোটা পাবে না, তাহলে কি রাজাকারের নাতিরা কোটা পাবে? এই বক্তব্যের প্রতিবাদেই সেদিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি হল থেকে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে বের হন। এ ঘটনায় সোমবার (১৫ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগের। এদিন বিকেল ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হল থেকে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এরপর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর দফায় দফায় হামলা চালায় ছাত্রলীগ। রাত ৯টা পর্যন্ত চলা সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ঢাবি ক্যাম্পাস। হামলা ও সংঘর্ষে ঢাবি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি অংশ নেন সংগঠনটির ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন শাখার নেতাকর্মীরা। এদিনও তাদের হাতে ছিল হকিস্টিক, লাঠি, রড, জিআই পাইপসহ বিভিন্ন দেশি অস্ত্র। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে পিস্তল দিয়ে গুলি ছুড়তে দেখা যায় অন্তত পাঁচজন অস্ত্রধারীকে। সংঘর্ষের ঘটনায় আহত প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। তাদের মধ্যে ১৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখনও চিকিৎসাধীন রয়ে গেছেন ৬ শিক্ষার্থী।