• ঢাকা বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১
logo
কানাডায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাত
হারিকেন ‘বেরিল’-এর তাণ্ডবে লন্ডভন্ড ক্যারিবীয় দ্বীপ
পূর্বাভাস মতোই মহাশক্তি নিয়ে ক্যারিবীয় উপকূলে আঘাত হেনেছে হারিকেন বেরিল। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২ জুলাই) সকালে ঘণ্টায় ২৪০ কিলোমিটার গতিবেগে সেন্ট ভিনসেন্ট এবং গ্রেনাডাইনসের ইউনিয়ন দ্বীপে চার ক্যাটাগরির হারিকেন হিসেবে আঘাত হানে বেরিল। প্রবল ঝড়ে লন্ডভন্ড  হয়ে গেছে দ্বীপটি। খবর বিবিসির। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেরিলের তাণ্ডবে ভেঙে তছনছ হয়ে গেছে ইউনিয়ন দ্বীপের সব বাড়িঘর। দ্বীপটিতে বসবাসকারী হাজার হাজার মানুষ বর্তমানে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন। অনেকে সেন্ট ভিনসেন্ট এবং গ্রেনাডাইনস, গ্রেনাডা এবং সেন্ট লুসিয়াতে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। শক্তিশালী ঝড়টির তাণ্ডব দেখে হতবাক হয়ে গেছেন স্থানীয়রা। সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডাইনসের কাছে অবস্থিত দ্বীপের প্রতিটি বাড়ি একেবারে বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। মহাশক্তিশালী বেরিল তার ভয়াবহ ক্ষতচিহ্ন রেখে গেছে পুরো ইউনিয়ন দ্বীপে। দ্বীপটির বাসিন্দারা সবাই এখন গৃহহীন হয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানা গেছে এক ভিডিও বার্তায়। সেইসঙ্গে বিদ্যুতের খুঁটি রাস্তায় ভেঙে পড়ে বন্ধ হয়ে গেছে যোগাযোগ ব্যবস্থাও। ভয়ার্ত কণ্ঠে স্থানীয় এক জেলে জানান, ১৯৮৫ সাল থেকে এই অঞ্চলের বাসিন্দা তিনি। ২০০৪ সালের হারিকেন ইভানও তাদের এমন ক্ষতি করে যায়নি। হারিকেন বেরিলের মতো ভয়াবহ ঝড় তিনি আগে দেখেননি। ঝড়ের তাণ্ডবে তার সব কিছু তছনছ হয়ে গেছে। এখন তার থাকার জায়গাটা পর্যন্ত নেই। তিনি আরও জানান, দ্বীপের ৯০ শতাংশই ধ্বংস করে গেছে ঘূর্ণিঝড়টি। বেরিলের তাণ্ডবে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দ্বীপটিতে বসবাসকারী জনগণের প্রয়োজনীয় খাবার, শিশুদের জন্য দুধ, স্যানিটারি পণ্য, প্রাথমিক চিকিৎসা ও আশ্রয় নিয়ে সংকট তৈরি হয়েছে। ঝড় থামার পর স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকালে সেন্ট ভিনসেন্ট এবং গ্রেনাডাইনসের প্রধানমন্ত্রী রালফ গনসালভেস ক্যারিবীয় দ্বীপজুড়ে হারিকেন বেরিলের আঘাতের সারসংক্ষেপ জানিয়ে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছেন। তাতে তিনি বলেছেন, বিপজ্জনক ও বিধ্বংসী হারিকেন বেরিল অপরিমেয় ধ্বংসের মধ্যে রেখে গেছে আমাদের দেশকে। যত দ্রুত সম্ভব ঝড় পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলা করা হবে।   তবে দ্বীপের সংস্কার কাজ এবং এজন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিয়ে বেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী রালফ। তিনি বলেন, ক্ষয়ক্ষতি পোষাতে প্রচুর আন্তর্জাতিক সাহায্যের প্রয়োজন হবে, বিলিয়ন বিলিয়ন অর্থের দরকার হবে। এক বছর বা তারও বেশি সময় লাগবে সংস্কার কাজে। তাই আমাদের ধৈর্য্য সহকারে এ কাজে সরকারকে সহায়তা করতে হবে।    
ঘূর্ণিঝড় ‘বেরিলে’ আটকা পড়ল ভারতের বিশ্বকাপজয়ী দল 
ব্রাজিলে অল্প গাঁজা রাখা অপরাধ নয়
মেক্সিকোর ইতিহাসে প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শিনবাউম
বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ চলছে, দেখুন সরাসরি
খলিস্তানি জঙ্গি নিজ্জর খুনে কানাডায় গ্রেপ্তার আরও এক ভারতীয়
খলিস্তানি জঙ্গি হরদীপ সিং নিজ্জর  খুনের মামলায় কানাডায় গ্রেপ্তার আরও এক ভারতীয়। নিজ্জরের খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গতকাল শনিবার অমনদীপ সিং নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে কানাডা পুলিশ। এই নিয়ে চতুর্থ ভারতীয় গ্রেফতার হলেন নিজ্জর হত্যাকাণ্ডে। ২২ বছরের অমনদীপ  অন্য একটি মামলায় কানাডা পুলিশের হেফাজতেই ছিলেন। তাঁর কাছ থেকে বেআইনি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছিল। সেই মামলার তদন্ত চলাকালীনই নিজ্জর হত্যার সঙ্গে আমনদীপের যোগ খুঁজে পাওয়া যায় বলে দাবি করেছে কানাডা পুলিশ।  গতকাল শনিবারই তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে কানাডা পুলিশের ইন্টিগ্রেটেড হোমিসাইড ইনভেস্টিগেশন টিম। তাঁর বিরুদ্ধে ফার্স্ট ডিগ্রি খুনের ধারা যোগ করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০২৩-এর ১৮ জুন সুরে শহরে একটি গুরুদ্বারের কাছে খুন হয় নিজ্জর। জঙ্গি সংগঠন ‘খলিস্তান টাইগার ফোর্সে’র প্রধান ছিল সে।  এই খুনের মামলাতে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে তিন ভারতীয়কে। তাঁদের নাম যথাক্রমে–করণ ব্রার (২২), কমলপ্রীত সিং (২২) ও করণপ্রীত সিং (২৮)। সেই তালিকায় নতুন সংযোজন এই অমনদীপ সিং (২২)। উল্লেখ্য গত বছর নিজ্জর আচমকা নিজের ‘হোম গ্রাউন্ডে’ খুন হতেই শোরগোল পড়ে যায়। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো অভিযোগ করেন ভারতের অঙ্গুলিহেলনেই নিজ্জরকে নিকেশ করা হয়েছে। কানাডার গোয়েন্দা এজেন্সিগুলোর দাবি, এই অপারেশনের নীল নকশা তৈরি হয় ভারতের গুপ্তচর সংস্থা র-এর সদর দপ্তরে।  
মেক্সিকোতে সমুদ্র সৈকতে ৮ চীনা নাগরিকের মরদেহ উদ্ধার
মেক্সিকোর ওক্সাকা রাজ্যের সমুদ্র সৈকত থেকে ৮ জন চীনা নাগরিকের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।  স্থানীয় সময় শুক্রবার তাদের মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।  নিহতদের মধ্যে সাতজন নারী এবং একজন পুরুষ ছিলেন। খবর বিবিসির এ বিষয়ে স্থানীয়রা বলছেন, চীনা নাগরিকদের মরদেহ এমন একটি স্থানে পাওয়া গেছে যেখান দিয়ে সাধারণত অবৈধ অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর চেষ্টা করে। ওই চীনা নাগরিকদের সঙ্গে ছিলেন বেঁচে যাওয়া এমন একজন জানান, গত বৃহস্পতিবার দুর্ঘটনাকবলিত ওই নৌকাটি গুয়াতেমালার সীমান্তবর্তী মেক্সিকোর চিয়াপাস রাজ্য থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। আর নৌকাটি পরিচালনা করছিলেন মেক্সিকোর একজন নাগরিক। দুর্ঘটনায় ৮ চীনা নাগরিকের মৃত্যু হলেও বেঁচে যান তিনি। তবে ওই নৌকার চালকের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা কেউ জানে না। ওক্সাকার প্রসিকিউটর অফিস বলছে, প্লায়া ভিসেন্টে শহরের একটি সমুদ্র সৈকতের কাছে মরদেহগুলো পাওয়া যায়। বর্তমানে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। মেক্সিকোর চীনা দূতাবাসের সঙ্গে যৌথভাবে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করা অভিবাসন প্রত্যাশীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ২০২১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৩ লাখ অভিবাসী অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে। গত বছর মার্কিন-মেক্সিকো সীমান্তে ৩৭ হাজারের বেশি চীনা নাগরিককে আটক করা হয়েছিল। দুবছর আগের তুলনায় যা প্রায় ৫০ গুণ বেশি।
ইসরায়েলকে আর অস্ত্র দেবে না কানাডা
গাজায় সংঘাতের জেরে ইসরায়েলে আর প্রাণঘাতী অস্ত্র কিংবা সরঞ্জাম রপ্তানি করবে না কানাডা। দেশটির সরকারের একটি সূত্র বার্তাসংস্থা এএফপিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি মার্চ মাসের শুরুর দিকে কানাডার পার্লামেন্টে একটি অভিযোগ জমা দেন দেশটির আইনজীবীদের একাংশ এবং ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত কানাডীয়রা। তারা বলেন, গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান চলমান থাকা অবস্থায় দেশটির কাছে অস্ত্র বিক্রি করা কানাডার অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। পরে অভিযোগটি আমলে নিয়ে সোমবার একটি রেজোল্যুশন পাস করে দেশটির পার্লামেন্ট।  রেজোল্যুশনে বলা হয়, কানাডা ইসরায়েলে সামরিক যোগাযোগ সরঞ্জাম বা এই জাতীয় সরঞ্জাম ব্যতীত কোনো প্রকার প্রাণঘাতী অস্ত্র কিংবা সরঞ্জাম পাঠাবে না। একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের আল আকসা অঞ্চলে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল নামের দুটি পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানানো হয়েছে রেজোল্যুশনে। এদিকে রেডিও কানাডার তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে ইসরায়েলে ২ কোটি ১০ লাখ কানাডিয়ান ডলার এবং ২০২১ সালে ২ কোটি ৬০ লাখ কানাডিয়ান ডলার সমমূল্যের সমরাস্ত্র রপ্তানি করেছে দেশটি। উল্লেখ্য, গত বছরের ৭ অক্টোবর দখলদার ইসরায়েলের বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালায় হামাস। ওইদিন ১ হাজার ২০০ ইসরায়েলি হত্যার পাশপাশি আরও প্রায় ২৫০ জনকে গাজায় ধরে নিয়ে আসে তারা। হামাসের ওই হামলার পর গাজায় অব্যাহত হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। হামলায় গাজার হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জাসহ হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রায় ২০ লাখেরও বেশি বাসিন্দা তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। ইসরায়েলি অভিযানে এ পর্যন্ত গাজায় প্রায় ৩২ হাজার নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও প্রায় ৭৪ হাজার ফিলিস্তিনি। নিহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
মেক্সিকোতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৯
উত্তর আমেরিকার দেশ মেক্সিকোর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও ২২ জন। বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।  বুধবার (৩১ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেক্সিকোতে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার একটি ডাবল ডেকার বাস এবং ট্রাকের মধ্যে সংঘর্ষে ১৯ জন নিহত এবং আরও ২২ জন আহত হয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সিনালোয়া প্রদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল সারা কুইনোনেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা এক ভিডিওতে বলেছেন, ‘১৯টি মৃতদেহ গণনা করা হয়েছে। দেহাবশেষ শনাক্ত করতে সময় লাগবে।’ এএফপি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ জালিস্কোর গুয়াদালাজারা শহর থেকে সিনালোয়ার লস মোচিসে যাচ্ছিল। দুর্ঘটনার পর কর্মকর্তাদের যাত্রীবাহী এই বাসের ধ্বংসাবশেষ পরিদর্শন করতে দেখা গেছে। সিনালোয়ার নাগরিক সুরক্ষার পরিচালক রায় নাভারেতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক এবং বাসে প্রায় ৫০ জন আরোহী ছিল। সড়কে উভয় যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় এবং পরে আগুন ধরে যায়। উল্লেখ্য, এর আগে গত বছরের আগস্টে মেক্সিকোতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত হয়েছিলেন। নিহতদের মধ্যে ১৫ জনই ছিলেন মেক্সিকান নাগরিক। এ ছাড়া দুর্ঘটনায় সেসময় আহত হয়েছিলেন আরও ৩৬ জন যাত্রী। একই মাসের শুরুতে পশ্চিম মেক্সিকোতে মহাসড়ক থেকে একটি বাস খাদে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় নিহত হন ১৮ জন। এর আগে গত বছরের জুলাই মাসে মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ ওক্সাকাতে বাস দুর্ঘটনায় ২৯ জন নিহত হয়েছিলেন। এছাড়া একই বছরের এপ্রিলে পশ্চিম মেক্সিকোতে একটি বাস পাহাড়ি রাস্তা থেকে ছিটকে পড়ার পর ১৮ জন মারা গিয়েছিলেন। এর আগে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে মধ্য মেক্সিকান প্রদেশ পুয়েবলাতে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত হন। নিহতদের সবাই ছিলেন অভিবাসী। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে চিয়াপাস প্রদেশে প্রায় ১৬৬ জনকে বহনকারী একটি ট্রাক দুর্ঘটনার মুখে পড়ার পর ৫৪ জন নিহত এবং আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হন।
কানাডায় বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৬ জনের প্রাণহানি
কানাডায় একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে দেশটির ফোর্ট স্মিথে দুর্ঘটনাটি ঘটে। সুদূর উত্তরে একটি খনিতে শ্রমিক নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরেই বিধ্বস্ত হয় ছোট বিমানটি।  বুধবার (২৪ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি। একটি সূত্রের বরাতে এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, দুর্ঘটনায় একজন ব্যক্তি বেঁচে গেছেন। তবে জীবিত সেই ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা ঠিক কেমন তা জানানো হয়নি। অন্টারিওর ট্রেন্টনের জয়েন্ট রেসকিউ কোঅর্ডিনেশন সেন্টার জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে ফোর্ট স্মিথ থেকে উড্ডয়নের পরপরই বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, ফোর্ট স্মিথ অঞ্চলটি আঞ্চলিক রাজধানী ইয়েলোনাইফ থেকে ৩২০ কিলোমিটার (২০০ মাইল) দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। জেটস্ট্রিম টুইন টার্বোপ্রপ এয়ারলাইনার পরিচালনাকারী নর্থওয়েস্টার্ন এয়ার জানিয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটি একটি চার্টার ফ্লাইট ছিল যেটাতে করে শ্রমিকদের খনিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এটি উড্ডয়নের পর রানওয়ে থেকে ১.১ কিলোমিটার (০.৭ মাইল) দূরে বিধ্বস্ত হয়। এই পরিস্থিতিতে ফোর্ট স্মিথ থেকে সমস্ত ফ্লাইট বুধবার পর্যন্ত গ্রাউন্ডেড করা হয়েছে। কানাডার ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড দুর্ঘটনার তদন্ত করার জন্য একটি দলকে দায়িত্ব দিয়েছে।
বিদেশি শিক্ষার্থী কমানোর সিদ্ধান্ত কানাডার
অর্থনীতি সচল রাখতে এবং ক্রমবর্ধমান বয়স্ক জনগোষ্ঠীকে সহায়তার জন্য অভিবাসীদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডা। তবে, বর্তমানে আবাসন সংকট বেড়ে যাওয়ার জন্য অভিবাসী ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের দায়ী করা হচ্ছে দেশটিতে। এ নিয়ে বেশ সমালোচনার মুখেও রয়েছে জাস্টিন ট্রুডোর সরকার। আরও পড়ুন : বেক্সিমকো ফার্মা থেকে পাপনের পদত্যাগ   আবাসন সংকট মোকাবিলায় তাই এবার বিদেশি শিক্ষার্থী কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কানাডা। দেশটির অভিবাসন মন্ত্রী মার্ক মিলার স্থানীয় একটি টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর রয়টার্সের।  কানাডায় ক্রমবর্ধমান বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি বিরক্তিকর। সত্যিই এটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। তবে, কানাডার সরকার কী পরিমাণ বিদেশি ছাত্র কমানোর পরিকল্পনা করছে, সে বিষয়ে কিছু বলেননি মিলার। এ বিষয়ে জানতে তার মুখপাত্রের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। কাজের অনুমতি পাওয়া তুলনামূলক সহজ হওয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য কানাডা। দেশটির সরকারি তথ্যমতে, ২০২২ সালে সক্রিয় ভিসাসহ কানাডায় বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল আট লাখেরও বেশি, যা ২০১২ সালে ছিল মাত্র ২ লাখ ৭৫ হাজার জন। অর্থাৎ, এক দশকে ৫ লাখেরও বেশি বিদেশি শিক্ষার্থী কানাডায় প্রবেশ করেছে উচ্চশিক্ষার জন্য।  আরও পড়ুন : জোভানের সঙ্গে বিয়ের প্রসঙ্গে মুখ খুললেন অভিনেত্রী   এর আগে গত আগস্টেই বিদেশি শিক্ষার্থী কমানোর পরিকল্পনার কথা সামনে এনেছিল দেশটির লিবারেল সরকার। তবে সেসময় অভিবাসন মন্ত্রী শন ফ্রেজার বলেছিলেন, সরকার এই পথ অনুসরণ করবে কি না সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পরে বিদায়ী বছরের ডিসেম্বরে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য খারাপ খবর দিয়েছিল কানাডা। দেশটিতে পড়তে যাওয়ার জন্য খরচ একলাফে দ্বিগুণ করে ট্রুডো সরকার। আগের তুলনায় এখন ব্যাংকে দ্বিগুণ অর্থ দেখাতে হচ্ছে কানাডায় পড়তে ইচ্ছুক বিদেশি শিক্ষার্থীদের।
কানাডার ইউনিভার্সিটিতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
আইটি বিষয়ে ১৩০ জন শিক্ষার্থীর ইচ্ছাকৃত ব্যর্থতার অভিযোগে আলগোমা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিক্ষোভ শুরু করায় উত্তেজনা বেড়েছে। বিতর্কটি মূল্যায়নের ন্যায্যতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে এই সমস্যাটি সমাধান করতে হবে বলে চাপ দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। বিতর্কটি ছড়িয়ে পড়ে যখন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দাবি করে যে, তারা ইচ্ছাকৃত ভাবে একটি আইটি বিষয়ে ফেল করেছে, যার প্রতিবাদে তারা রাস্তায় নেমে আসে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ইচ্ছাকৃত ভাবে তাদের অন্যায়ভাবে চিহ্নিত করেছেন, যা মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতার উপর প্রভাব ফেলছে। অভিযোগের জবাবে আলগোমা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, সুষ্ঠু মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে অনুষদগুলো হস্তক্ষেপ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মনে করে যে, এই হস্তক্ষেপের উদ্বেগগুলি মোকাবেলা করা এবং একাডেমিক মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার অখণ্ডতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা। তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাদের বিশ্বাসে অবিচল রয়েছে যে, তাদের ইচ্ছাকৃত ভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। তাদের একাডেমিক অগ্রগতি এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনার উপর এর প্রভাব পরবে। অনেকে যুক্তি দেখান যে, আইটি বিষয়ে তাদের পারফরম্যান্স ব্যাপক ব্যর্থতা ছিল না। যার ফলে তারা গ্রেডিং সিস্টেমের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। বিতর্কটি বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ধরণের শিক্ষার্থীদের গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলিতে মূল্যায়ন অনুশীলন সম্পর্কে বিস্তৃত প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। যেহেতু উন্নত দেশগুলিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী তালিকাভুক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে অবশ্যই তাদের বৈচিত্র্যময় ছাত্র সংগঠনের একাডেমিক সাফল্য এবং সন্তুষ্টি নিশ্চিত করার জন্য স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ মূল্যায়ন পদ্ধতি বজায় রাখার চেষ্টা করতে হবে।