• ঢাকা বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১
logo
গরমে শরীর ঠান্ডা রাখবে শসা-লেবুর জুস
বৈশাখে পাঁচ পদের ভর্তা
পহেলা বৈশাখে খাবারে বাঙালিয়ানা থাকবে না তা হতেই পারে না। নববর্ষের খাবার মানেই পান্তাভাত। সঙ্গে যদি থাকে বাহারি ভর্তা তাহলে আরও জমে ওঠে। সুস্বাদু কিছু ভর্তার রেসিপি দেওয়া হলো- টাকি মাছের ভর্তা উপকরণ : টাকি মাছ (১ কাপ), পেঁয়াজ কুচি (৩ টেবিল চামচ), আদা বাটা (১/২ চা চামচ), রসুন বাটা (১/২ চা চামচ), পেঁয়াজ বাটা (২ টেবিল চামচ), জিরা বাটা (১ চা চামচ) রসুন ছেঁচা (২ টেবিল চামচ), ধনে বাটা (১ চা চামচ), লবণ, হলুদ বাটা (১/২ চা চামচ), মরিচ বাটা (১/২ চা চামচ)। প্রণালি : মাছ সিদ্ধ করে কাটা বেছে নিন। তেলে পেঁয়াজ হালকা বাদামি রং করে ভেজে বাটা মসলা ও সামান্য পানি দিয়ে কষিয়ে নিন। কষানো হয়ে গেলে মাছ মেশান ও ভেজে নিন। লবণ দিন। হালকা মাখানো অবস্থায় নামিয়ে ফেলুন। হাতে চেপে গোল করে পরিবেশন করুন টাকি মাছের ভর্তা। চিংড়ি শুঁটটি ভর্তা যা লাগবে : চিংড়ি শুঁটকি এক কাপ, পেঁয়াজ কুচি এক কাপ, শুকনা মরিচ ১০টি, কাঁচা মরিচ পাঁচটি, লবণ স্বাদমতো, সরিষার তেল দুই টেবিল চামচ, সয়াবিন তেল দুই টেবিল চামচ। যেভাবে করবেন : তাওয়ায় চিংড়ি শুঁটকি টেলে নিন। ভালো মতো ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। প্যানে সয়াবিন তেল গরম করে শুকনা মরিচ দিয়ে ভেজে উঠিয়ে নিন। ওই প্যানেই পেঁয়াজ কুচি দিয়ে নরম হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। ধনিয়া পাতা কুচি ও কাঁচামরিচ দিয়ে নেড়ে নামান। চিংড়ি ভাজা পেঁয়াজ-মরিচ-ধনিয়া পাতা-লবণ একত্রে বেটে সরিষার তেল দিয়ে মেখে নিলেই খাওয়ার জন্য রেডি চিংড়ি শুঁটকি ভর্তা। ভুনা বেগুন ভর্তা যা লাগবে : মাঝারি সাইজের বেগুন একটি, পেঁয়াজ কুচি এক-দুই কাপ, রসুন কুচি পাঁচটি, ধনিয়া পাতা কুচি দুই টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো, সরিষার তেল এক টেবিল চামচ, সয়াবিন তেল এক টেবিল চামচ। যেভাবে করবেন : বেগুন মৃদু আঁচে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে পুড়িয়ে ছিলে নিন। সয়াবিন তেল গরম করে পেঁয়াজ-রসুন-মরিচ কুচি দিয়ে আধা ভাজা করুন। পোড়ানো বেগুন চটকে পাঁচ-ছয় মিনিট নেড়েচেড়ে ভাজুন। লবণ, ধনিয়া পাতা কুচি, সরিষার তেল দিয়ে নেড়েচেড়ে মাখিয়ে নিন। ব্যাস তৈরি হয়ে গেল ভুনা বেগুন ভর্তা। বরবটি ভর্তা যা লাগবে : বরবটির টুকরা ২৫০ গ্রাম, পেঁয়াজ কুচি এক-দুই কাপ, রসুন কুচি চার কোয়া, কাঁচা মরিচ কুচি ছয়টি, ধনিয়া পাতা কুচি দুই টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো, সরিষার তেল দুই টেবিল চামচ। যেভাবে করবেন : প্যানে এক টেবিল চামচ সরিষার তেল দিন। বরবটি পেঁয়াজ, রসুন, মরিচ কুচি ও লবণ দিয়ে মৃদু আঁচে টেলে নিন। বরবটি সিদ্ধ হয়ে পানি টেনে গেলে ধনিয়া পাতা কুচি দিয়ে নেড়ে নামান। ঠান্ডা করে ব্লেন্ড করে নিন বা শীল পাটায় বেটে অবশিষ্ট এক টেবিল চামচ সরিষার তেল দিয়ে মেখে নিন। গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন। ইলিশ মাছের মাথার ভর্তা যা যা লাগবে : ইলিশ মাছের মাথা ১টি পেঁয়াজ (মাঝারি আকারের) ২টি শুকনো মরিচ ৩টি সরষের তেল পরিমাণমতো, পেপার টাওয়েল কয়েকটা। যেভাবে তৈরি করবেন : ইলিশ মাছের মাথা ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন। তার পর তা পেপার টাওয়েল দিয়ে শুকনো করে মুছে নিন। এবার কড়াইতে সরষের তেল বেশি করে নিয়ে তা গরম করে নিন। তেল গরম হলে ইলিশ মাছের মাথা দিয়ে অল্প করে ভেজে নিন। তেল থেকে তুলে আবারও একটি পেপার টাওয়েল দিয়ে বাড়তি তেলটা শুষে নিন। একটি বড় বাটিতে পানি গরম করে ইলিশ মাছের ভেজে নেওয়া মাথা ভাপিয়ে নিন। বেশ কিছুক্ষণ ভাপানোর পর ইলিশ মাছের মাথা পানি থেকে তুলে নিন। একটি পেঁয়াজ ও শুকনো মরিচ ড্রাই রোস্ট করে ভাপা ইলিশ মাছের মাথার সঙ্গে মিহি করে বেটে নিন। কড়াইতে সরষের তেল গরম করে পেঁয়াজ কুচি দিয়ে লালচে করে ভাজুন। বাকি শুকনো মরিচ দিয়ে দিন। পেঁয়াজ ভাজা হলে ইলিশ মাছের মাথাবাটা দিয়ে দিন। বেশ কিছু সময় কষিয়ে নিন। তেল ছেড়ে এলে আঁচ বাড়িয়ে মাথার মিশ্রণ ভাজতে ভাজতে শুকনো করে ফেলুন। একেবারে শুকনো হলে নামিয়ে ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন।
ঈদের নাশতায় নেসেস্তার বরফি
পহেলা বৈশাখে ঘরেই তৈরি করুন উৎসবের আমেজ
ঈদের দুপুরে মুখরোচক গরুর ভুনা মাংস
ইফতারে বানিয়ে নিতে পারেন টকদইয়ের কাস্টার্ড
ঈদের সকালে সুস্বাদু জর্দার ২ রেসিপি
আর কয়েকদিন পরেই ঈদ-উল-ফিতর। আর ঈদ মানেই রকমারি খাওয়া-দাওয়া। বিরিয়ানি, লাচ্ছা পরোটা, কাবাব এই সব কিছুর পাশাপাশি ঈদের একটি খুব পরিচিত খাবার হলো জর্দা। বলা যায় জর্দা ছাড়া ঈদ কার্যত ভাবাই যায় না। আর যে কোনও উৎসবেই মিষ্টিমুখ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘরে বসেই খুব সহজে এবং একেবারে কম সময়ে বানাতে পারেন জর্দা। এছাড়া জর্দা কিন্তু সবার খুব পছন্দের একটি খাবার। অনেকেরই জানা নেই, জর্দা রাঁধতে কোন উপকরণ কি পরিমান দিতে হবে। তাই তারা জর্দা রান্না করতে গিয়ে বেশি নরম করে ফেলেন। তারা এই রেসিপি অনুসরণ করে তৈরি করতে পারবেন ঝরঝরে জর্দা সেমাই অথবা জর্দা পোলাও।  জেনে নিন রেসিপি- ১. জর্দা সেমাই উপকরণ: সেমাই-১ প্যাকেট, চিনি- ২ কাপ, নারকেল কুড়ানো- ১ কাপ, কিমমিশ- ২ টেবিল চামচ, দারুচিনি- ৩ টুকরো, ঘি- ৪ টেবিল চামচ, পানি- ২ কাপ, তেজপাতা- ২টি, লবণ- পরিমাণমতো। যেভাবে তৈরি করবেন: ঘি গরম করে তাতে সেমাই দিয়ে ভালোভাবে ভেজে নিন। এরপর তাতে মেশান কোড়ানো নারিকেল। কিছুটা সময় ভেজে নিয়ে তাতে পানি দিয়ে দিন। চুলার আঁচ কমিয়ে আরও কিছুক্ষণ রান্না করুন। পানি শুকিয়ে এলে তাতে কিশমিশ, বাদাম, তেজপাতা, দারুচিনি মিনিট দশেক দমে রাখুন। সেমাই ঝরঝরে হয়ে এলে নামিয়ে নিন।  ২. শাহি জর্দা পোলাও  উপকরণ: শাহি জর্দা পোলাও তৈরি করতে আপনার যে উপকরণগুলো লাগবে তা হলো, পোলাও চাল ২৫০ গ্রাম, কমলা বা মাল্টার রস ২ কাপ, ঘি ৪ টেবিল চামচ, গুঁড়ো দুধ ৬ টেবিল চামচ, ছোট সবুজ এলাচ ৪টি, মাঝারি সাইজের দারুচিনি ৩টি, লং ২টি, তেজপাতা ৪টি, চিনি ৩ টেবিল চামচ, কিশমিশ ১/২ টেবিল চামচ, কাঠবাদাম ১/২ টেবিল চামচ, কাজুবাদাম ১/২ টেবিল চামচ, কালো ও লাল ছোট মিষ্টি ২০ পিস। যেভাবে তৈরি করবেন: প্রথমে পোলাওর চালগুলো ভালো করে ধুয়ে নিন। এবার একটি সসপ্যানে পানি দিয়ে তা সিদ্ধ করতে দিন। সিদ্ধ করার সময় এতে দিয়ে দিন কমলা বা মাল্টার রস। এতে পোলাওতে কমলা রং চলে আসবে। আর যদি ন্যাচারাল এই রংটি পছন্দ না করেন, তবে বাজার থেকে কৃত্রিম জর্দা রং কিনে আনতে পারেন। এক চিমটি কৃত্রিম জর্দা রঙে আপনি আপনার কাঙ্ক্ষি রংটি পেয়ে যাবেন। এরপর পোলাও চাল প্রায় সিদ্ধ হয়ে এলে এতে দিয়ে দিন চিনি। এই সময় খেয়াল রাখবেন, চাল সিদ্ধ হওয়ার আগে চিনি দিয়ে দিলে চাল ভালো করে সিদ্ধ হওয়ার সুযোগ পায় না। পোলাও চাল সিদ্ধ করার সময় যে পানি দেবেন, তা ফেলে না দিয়ে চালের মধ্যেই শুকিয়ে ফেলতে চেষ্টা করবেন। অবশ্যই খেয়াল রাখবেন, পানি শুকাতে গিয়ে যেন তা পুড়ে না যায়। পোলাওর চাল সিদ্ধ হয়ে গেলে একটি সসপ্যানে ঘি ঢেলে দিন। এ সময় চুলার আঁচ মিডিয়ামে রাখুন। ঘি গরম হয়ে গেলে তাতে ছোট সবুজ এলাচ ৪টি, মাঝারি সাইজের দারুচিনি ৩টি, লং ২টি, তেজপাতা ৪টি দিয়ে দিন। হালকা সুগন্ধ বের না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এবার সিদ্ধ করা পোলাওর চালগুলো এতে ঢেলে দিন। নেড়েচেড়ে এ পর্যায়ে ঢেলে দিন গুঁড়ো দুধ। এবার সব উপকরণ ভালো করে মিশে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করুন আরও ১-২ মিনিট। যখন দেখবেন সসপ্যান থেকে জর্দা পোলাও আলগা হয়ে উঠে চলে আসছে তখন চুলা থেকে নামিয়ে ফেলুন। শাহি জর্দা পোলাও পরিবেশনের আগে এর ওপর ছিটিয়ে দিন কিশমিশ, কাঠ, কাজুবাদাম, কালো ও লাল ছোট মিষ্টি।
ঈদের সকালে রাঁধুন সেমাইয়ের মালাই ক্ষীর
ঈদের সকালে আর কিছু থাকুক বা না থাকুক, একবাটি সেমাই তো চাই। সেমাই ছাড়া কি আর ঈদ হয়। এবারের সেমাই একটু ভিন্নভাবে রাঁধতে পারেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক ঈদের সকালে সেমাইয়ের মালাই ক্ষীর রাঁধার রেসিপি। জেনে নিন রেসিপি- উপকরণ: দুধ-দেড় লিটার, চিনি-পরিমাণ মতো, মালাই-আধা কাপ, কাজু, কিশমিশ, পেস্তা, কাঠ বাদাম-আধা কাপ, সেমাই-এক কাপ, এলাচ, দারুচিনি-৬/৭, ঘি-২ টেবিল চামচ, জাফরান- সামান্য প্রণালি: সর্বপ্রথম বাদামগুলো খোসা ছাড়িয়ে মোটা কুচি করে নিন। এরপর দেড় লিটার দুধ জ্বাল দিয়ে অর্ধেকের কম পরিমাণ করে রাখুন। এবার প্যানে ঘি দিয়ে গরম করুন। এলাচ দারুচিনি দিয়ে একটু ভাজুন। এবার বাদাম কুচি, কিশমিশ ও সেমাই দিয়ে দিন এবং মৃদু আঁচে হালকা ভাজুন। ঘ্রাণ ছাড়লেই ঘন দুধ দিয়ে দিন। সেমাই সেদ্ধ হয়ে আসার সাথে সাথে দুধ ঘন হয়ে আসবে। সেমাই সিদ্ধ হয়ে গেলে মালাই দিয়ে দিন, জাফরান দিন। এরপর ভালো করে মিশিয়ে চুলা বন্ধ করে ফেলুন। এরপর ছোট ছোট বাটিতে এই ক্ষীর সাজান। এরপর ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে বাদাম ও কিশমিশ ছিটিয়ে পরিবেশন করুন মজাদার সেমাইয়ের মালাই ক্ষীর।
ইফতারে মজাদার ব্রেড হালুয়া
রোজা শেষে ইফতারে নানা রকম খাবার দেখলে ছোটরা অনেক খুশি হয়। আর নানা রকম খাবারের মধ্যে যদি পছন্দের কোনো খাবার তৈরি হয়, তাহলেতো তাদের খুশির কমতি থাকে না। তাই বাড়ির বড়রাও ইফতারে ছোটদের প্রিয় কোনো পদ রাখতে চেষ্টা করেন। ইফতারের প্লেটে ছোটদের প্রিয় পাউরুটি দিয়ে এবার মজার এই পদটি বানিয়ে নিতে পারেন। পাউরুটি দিয়ে অল্প সময়ে মজাদার পদ বানানো যায়। জেনে নিন পাউরুটি দিয়ে বানানো ভিন্ন স্বাদের ব্রেড হালুয়ার রেসিপি। যা যা লাগবে- পাউরুটি, ঘি, দুধ, এলাচ গুঁড়ো, চিনি, কনডেন্সড মিল্ক, কাজু, কিশমিশ, আমন্ড যেভাবে তৈরি করবেন- পাউরুটি দিয়ে বানাতে পারেন ব্রেড হালুয়া। এরজন্য পাউরুটির পাশে থাকা শক্ত অংশ গুলো কেটে নিন। এবার পাউরুটির ছোট ছোট টুকরো করুন। এদিকে ফ্রাইং প্যানে ঘি গরম করুন। পাউরুটির টুকরোগুলো  লাল করে ভাজুন। ভাজা হলে এতে ঘন করে রাখা দুধ, এলাচ গুঁড়ো, চিনি মিশিয়ে নিন। ভালোভাবে নাড়ুন। মিশ্রণটি ঘন হলে কনডেন্সড মিল্ক দিন। আবারও নাড়তে থাকুন। মিশ্রণটি হালুয়ার মতো হয়ে যাবে। এবার ঘিয়ে ভেজে রাখা কাজু, কিশমিশ, আমন্ড ছড়িয়ে দিয়ে পরিবেশন করুন।
টক-ঝাল-মিষ্টি স্বাদের বেগুন রান্না
বেগুন সহজলভ্য সবজি। সারাবছরই এটি কম বেশি পাওয়া যায়। গোল ও লম্বা দুই আকৃতিতেই বেগুনের ফলন হয়। দুইটির স্বাদেরও ভিন্নতা রয়েছে। সবভাবেই তো বেগুন খেয়ে দেখেছেন। এবার বেগুন দিয়ে নতুন একটি রেসিপি বানিয়ে নিন। যা একসঙ্গে টক- মিষ্টি- ঝালের স্বাদ দিবে। গরম ভাতের সঙ্গে বাড়ির সদস্যরা মজা করে খেয়ে নিবে। চলুন দেখে নেই টক-মিষ্টি-ঝাল স্বাদের বেগুন তরকারি রান্নার রেসিপি। যা যা লাগবে- গোল বেগুন-২টি, লবণ, মরিচ গুড়া, হলুদ গুড়া, ধনিয়া গুড়া, জিরা গুড়া, কর্নফ্লাওয়ার, দারচিনি, এলাচ, আদা বাটা, রসুন বাটা, পেয়াজ বাটা, টমেটো ও টমেটো সস, চিনি ধনে পাতা যেভাবে বানাবেন- বেগুন গোল করে কেটে নিন। এতে লবণ, মরিচের গুঁড়া, হলুদের গুঁড়া ও কর্ন ফ্লাওয়ার দিয়ে মেখে রাখুন। এরপর তেলে হালকা ভেজে নিন।  এবার প্যানে তেল গরম করে দুই টুকরা দারচিনি ও লবঙ্গ দিয়ে দিন। কিছুক্ষণ ভেজে আধা কাপ পেঁয়াজ বাটা দিন। এবার ১ চা চামচ আদা বাটা ও রসুন বাটা দিয়ে ভালোভাবে ভেজে নিন। এতে সামান্য পানি দিয়ে আধা চা চামচ করে ধনিয়া ও জিরার গুঁড়া দিন। ১ চা চামচ হলুদের গুঁড়া, স্বাদ মতো মরিচের গুঁড়া ও লবণ দিয়ে নাড়তে থাকুন। এরপর এতে টমেটো সস ও টমেটো কুচি ছেড়ে দিন। স্বাদ মতো চিনি দিন। ভালোভাবে কষিয়ে নিন। তেল ভেসে উঠলে বেগুন দিয়ে দিন। এরপর আধা কাপ পানি দিয়ে ঢেকে দিন। ঝোল শুকিয়ে এলে ধনেপাতা কুচি দিয়ে নামিয়ে নিন। টক-ঝাল-মিষ্টি স্বাদের বেগুন গরম ভাত অতবা খিচুড়ি প্রেমিরা ভুনা খিচুড়ি দিয়েও খেতে পারেন।
ডিহাইড্রেশন দূর করবে টক দইয়ের শরবত
দই কমবেশি সবারই অনেক পছন্দের একটা খাবার। আর টক দই আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী। টক দইকে সুপারফুডও বলা হয়ে থাকে। দইতে ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, প্রোটিন এবং আরও অনেক ভিটামিন রয়েছে যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী। ছোট থেকে বড় সবার জন্য কিন্তু দই অনেক উপকারী একটা খাবার। সারাদিন রোজা রেখে আমাদের শরীরে ইলেকট্রোলাইটের যে ঘাটতি হয় তা একগ্লাস দইয়ের লাচ্ছি, মাঠা বা ঘোল পূরণ করতে সাহায্য করে।  যার জন্য সেহরির খাবার তালিকায় দই রাখতে বলা হয় সব সময়। কারণ দই আমাদের অল্প অল্প করে সারাদিন এনার্জি দিতে সাহায্য করে। সারাদিন রোজা রেখে যাদের ঘন ঘন পানির পিপাসা লাগে তারা অবশ্যই সেহরি তে দই রাখবেন। দইয়ের শরবত খেলে আর ডিহাইড্রেশনের ভয় পেতে হবে না। এ ছাড়াও দই চিড়া, দই বড়া, দই দিয়ে ওটস, দই ভাত ও দই দিয়ে ফ্রুট সালাদও খেতে পারেন যা শুধু পেট ঠান্ডা রাখবে না পাশাপাশি দিবে নানান স্বাস্থ্য উপকারিতাও। বাড়িতেই এই শরবত বানিয়ে ফেলুন সহজ উপায়ে। জেনে নিন রেসিপি- যা যা লাগবে:  টক দই চার কাপ, একটা কাঁচামরিচ, ৫-৬টা পুদিনা পাতা, ২ টেবিল চামচ চিনি, পরিমাণমতো লবণ ও অল্প ঠান্ডা পানি। তৈরি করবেন যেভাবে:  প্রথমে একটি ব্লেন্ডার বা মিক্সারে টক দইয়ের সঙ্গে কাঁচামরিচ ও পুদিনা পাতা নিন। এবার উপকরণগুলো ভালো করে মিশিয়ে নিয়ে তাতে চিনি ও লবণ দিয়ে দিন। এবার মিশ্রণটি একটি পাত্রে ঢেলে নিয়ে ঠান্ডা করে নিন কিছুক্ষণ। চাইলে ফ্রিজেও রাখতে পারেন। এবার ফ্রিজ থেকে বের করে তাতে অল্প ঠান্ডা পানি মিশিয়ে ভালো করে গুলে নিন। পরিবেশনের আগে চাইলে ওপর থেকে অল্প ভাজা মশলা ছড়িয়ে দিতে পারেন। এতে স্বাদটা দারুণ আসবে। টক দইয়ের শরবত নিয়মিত খেলে পেট খারাপ হওয়ার আশঙ্কা কমে। গরমে শরীরে পানি কমে যায়, যার সেরা সমাধান টক দই।
ইফতার শেষে ডুমুর-চিংড়িতেই হোক রাতের ভোজন
নতুন কিছু পদ রান্না করলে ঘরের ছোট-বড় সবাই বেশ পছন্দ করে। কিন্তু নতুন কিছু রান্না করতে চাইলে প্রথমেই মাথায় আসে কি রান্না করা যায়। এমন ভাবনার সমাধানে তৈরি করতে পারেন ডুমুর চিংড়ির নতুন পদ। নিরামিষ বা আমিষ উভয়তেই ডুমুর কিন্তু স্বাদে অতুলনীয়। এমনকী, শরীরের জন্যও খুব ভালো এই ডুমুর। যা যা লাগবে : ডুমুর, চিংড়ি মাছ, লবণ, হলুদ, আস্ত জিরা, কাঁচামরিচ, আলু, জিরের গুঁড়ো, মরিচের গুঁড়ো, ধনে গুঁড়ো, চিনি, নারকেল কোরা, ঘি ও গরম মশলা, সরিষার তেল। যেভাবে তৈরি করবেন : প্রথমে ডুমুর কেটে আগের দিন রাতে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর রান্নার আগে ভালো করে লবণ-হলুদ দিয়ে সেদ্ধ করে নিন। ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার পর ভালো করে চটকে নিন। কড়াইতে সরিষার তেল দিয়ে জিরে, কাঁচামরিচ ফোড়ন দিয়ে ছোট ছোট ডুমো করে কেটে রাখা আলু দিয়ে ভেজে তুলে রাখুন। একটি বাটিতে জিরার গুঁড়ো, মরিচ গুঁড়ো, হলুদ গুঁড়ো, ধনে গুঁড়ি পানিতে গুলে তেলে ঢেলে দিন। মসলা ভালো করে কষে গেলে লবণ, চিনি আর নারকেল কোরা দিয়ে আরও খানিকক্ষণ রান্না করে সেদ্ধ করা ডুমুর দিয়ে ঢেকে দিন। হালকা আঁচে কিছুক্ষণ রাঁধুন। রান্না মাখা মাখা হয়ে এলে, ভেজে রাখা চিংড়ি মাছ, ঘি আর গরম মশলা গুঁড়ো ছড়িয়ে নামিয়ে নিন। গরম ভাতের সঙ্গে ডুমুর চিংড়ি কিন্তু অসাধারণ লাগবে খেতে।
এই গরমে পেট ঠান্ডা রাখবে মিলেট কার্ড রাইস
এই গরমে সারাদিন রোজা রেখে তেল-মসলাযুক্ত খাবার খেতে অনেকেই পছন্দ করে না। তখন পেট ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে এমন খাবারটাই তালিকায় রাখতে পছন্দ করেন। ফলে গরমে পেট খারাপ, বদহজমের সমস্যা এড়াতে খেতেই পারেন মিলেট কার্ড রাইস। শুনতে অদ্ভুত মনে হলেও খুব সহজেই বানিয়ে নিতে পারবেন এই পদ। জেনে নিন রেসিপি- এর জন্য প্রথমে একটি পাত্রে ভালো করে ধুয়ে রাখা বাজরা (মিলেট) দিয়ে ১৫-২০ মিনিট রান্না করুন। মাঝে মাঝে খুন্তি দিয়ে নেড়ে নিন। মাঝারি আঁচে বাজরা রান্না করুন। রান্না হয়ে গেলে এটি ঠান্ডা করার জন্য আলাদা রাখুন। তারপরে একটি পাত্রে দই নিয়ে তাতে কুঁচি করা শসা, গাজর, পেঁয়াজ, সবুজ ধনেপাতা এবং ক্যাপসিকাম দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। তারপর দইয়ে দুধ এবং লবণ দিয়ে নিন এবং ভালোভাবে মেশান। আপনি দুধের পরিবর্তে বাটারমিল্ক দিতে পারেন। এবার এই পুরো মিশ্রণটা একপাশে রাখুন। এবার একটি প্যানে কিছু তেল দিয়ে তাতে সরিষা দিন। এরপর অরহর ডাল, ছানার ডাল, হিং, চিনাবাদাম, শুকনা মরিচ, কাঁচা মরিচ এবং কারিপাতা দিন। কয়েক সেকেন্ডের জন্য ভাজুন, যাতে তা থেকে কাঁচা গন্ধ না বের হয়, সেই দিকে নজর রাখতে হবে। মাঝারি আঁচে ভাজার চেষ্টা করবেন, নাহলে পুড়ে যেতে পারে। এবার আগে থেকে সরিয়ে রাখা বাজরা দই মিশ্রণে গরম গরম সব মিশিয়ে দিন। তারপরে ভালো করে মিশিয়ে নিন। ব্যস, এবার তৈরি হয়ে গেল আপনার মিলেট কার্ড রাইস।