• ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১
logo
বিএসএমএমইউর উপ-উপাচার্য হলেন ডা. আতিকুর রহমান
‘তীব্র গরমে মেডিকেল কলেজের সাধারণ ক্লাস অনলাইনে’
দেশের মেডিকেল কলেজগুলোতে সাধারণ ক্লাস অনলাইনে হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। সোমবার (২২ এপ্রিল) শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।  স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মেডিকেল কলেজগুলোর অধ্যক্ষদের সঙ্গে কথা বলেছি। সেখানে শিক্ষার্থীরা কীভাবে থাকছে, তাদের হোস্টেলে কী অবস্থা- সে বিষয়ে খোঁজ নিয়েছি। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তাদের সাধারণ ক্লাসগুলো অনলাইনে হবে। তবে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে রোগীদের এনে ক্লিনিক্যাল ক্লাসগুলো নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘রোগীদের বিষয়ে সারাদেশের হাসপাতালগুলোর পরিচালক ও সিভিল সার্জনদের সঙ্গে কথা বলেছি। সব হাসপাতালে নির্দেশ দিয়েছি, আপাতত অপারেশন না করলেও চলে— এমন রোগীদের ভর্তি না নিয়ে হাসপাতাল খালি রাখতে, যাতে শিশু ও বয়স্করা, যারা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে, তারা সুযোগ পায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘করোনার সময় ডিএনসিসির যে হাসপাতাল ছিল, তা আমরা প্রস্তুত রেখেছিলাম। যদি প্রয়োজন হয় তাহলে আমরা তা ব্যবহার করব। এমন আবহাওয়া সমস্যা দ্রুত শেষ হয়ে যাবে আশা করছি, এটা সাময়িক। তাই এ সময়টায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।’ এর আগে রোববার (২১ এপ্রিল) তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের সব হাসপাতাল প্রস্তুত রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সামন্ত লাল সেন। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে জরুরি রোগী ছাড়া ভর্তি না করার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‌গরমে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে। এই রোগী ব্যবস্থাপনায় নতুন নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে এবং হাসপাতালগুলোতে এ নীতিমালা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। স্যালাইন ও ওষুধ পর্যাপ্ত মজুত আছে। দাবদাহের কারণে কোল্ড কেস (যাদের এখন ভর্তি হওয়ার দরকার নেই) রোগীদের এই মুহূর্তে হাসপাতালে ভর্তি না করা ও এখনই অস্ত্রোপচার প্রয়োজন নয়— এমন রোগী হাসপাতালে না রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালগুলো প্রতিকূল পরিবেশের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গরমে বাচ্চা ও বয়স্কদের প্রয়োজন ছাড়া বাসার বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, পরিস্থিতি বুঝে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ানো হবে। আমরা বাচ্চাদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলব না। গরম আবহাওয়ায় যদি ঘাম বন্ধ হয়ে যায়, বমি বমি ভাব দেখা দেয়, তীব্র মাথাব্যথা হয়, শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, প্রস্রাব কমে যায়, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া হয়, খিঁচুনি এবং অজ্ঞান হওয়ার মতো কোনো লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে অবিলম্বে হাসপাতালে যান এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। তিনি আরও বলেন, আমাদের ওরাল স্যালাইনের কোথাও কোনো ঘাটতি হলে যেন আমাকে সঙ্গে সঙ্গে জানানো হয়। এখন পর্যন্ত আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। প্রকৃতির সঙ্গে তো আমাদের কারও হাত নেই। এটা আমাদের রেডি রাখতে হবে।
দেশের হাসপাতালগুলো প্রস্তুত রাখার নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
২৪ ঘণ্টায় ১৬ জনের করোনা শনাক্ত
ঘরে বসেই করা যাবে ডেঙ্গু পরীক্ষা, খরচ ১২০ টাকা
২৪ ঘণ্টায় করোনায় একজনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৬
ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যু, চলতি বছরে ২৪
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৩ জন। বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়াদের মধ্যে ছয়জন ঢাকার বাসিন্দা এবং ১৭ জন ঢাকার বাইরের। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১২০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৯৩৯ জন। এরমেধ্য সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন এক হাজার ৮১৯ জন। মারা গেছেন ২৪ জন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান জানান, ডেঙ্গু এখন সিজনাল নেই, সারা বছরই হচ্ছে। বৃষ্টি শুরু হলে এটা বাড়ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশা নিরোধক ওষুধ ব্যবহারের পাশাপাশি সিটি করপোরেশনে পক্ষ থেকে সব জায়গায় প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে। একই সঙ্গে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন বছরব্যাপী নানান উদ্যোগ নিলেও কীটতত্ত্ববিদ ড. মনজুর চৌধুরী বলছেন, মশানিধনে শুধু জেল-জরিমানা আর জনসচেনতনা বাড়িয়ে কাজ হবে না। সঠিকভাবে জরিপ চালিয়ে দক্ষ জনবল দিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে দেশের ইতিহাসে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন রোগী আক্রান্ত এবং ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়।  
গরমে বাড়ছে জ্বর-ডায়রিয়া, অসুস্থদের অধিকাংশই শিশু
রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় বইছে তাপপ্রবাহ। প্রখর রোদের পাশাপাশি ভ্যাপসা গরমে স্বস্তি মিলেছে না কোথাও। অস্বস্তিকর আবহাওয়ায় জ্বর, ডায়রিয়াসহ নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষ। তবে ঈদের ছুটিতে চিকিৎসক কম থাকায় বিভিন্ন হাসপাতালে সেবা পেতে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে রোগী ও তাদের স্বজনদের। এ সময়ে হাসপাতালে আসা রোগীদের অধিকাংশই শিশু। সোমবার (১৬ এপ্রিল) রাজধানীর মহাখালীর আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্রসহ (আইসিডিডিআর,বি) বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী বেশি। চিকিৎসকরা বলছেন, কয়েকদিন ধরে অতিরিক্ত গরমের কারণে পানির চাহিদা বেড়েছে। অনিরাপদ পানি ও খাবার গ্রহণের কারণে ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়ছে। ঢাকা শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে দেখা গেছে, অনেকে এসেছে জ্বর, সর্দি, হাঁচি-কাশি নিয়ে।  আইসিডিডিআর,বি সূত্রে জানা গেছে, সাধারণ সময়ে আইসিডিডিআরবি হাসপাতালে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি থাকে ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ পর্যন্ত। তবে বর্তমানে হাসপাতালটিতে দৈনিক ৫০০ থেকে ৬০০ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। হাসপাতালের প্রধান ডা. বাহারুল আলম বলেন, ঢাকার চেয়ে বরিশাল, পটুয়াখালী, জয়পুরহাট, ফরিদপুরে ডায়রিয়া আক্রান্ত বেশি হচ্ছে। রমজানে রাস্তার পাশে কেনা খাবার খাওয়া এবং অনিরাপদ পানি পান করায় হয়তো ডায়রিয়া বেড়েছে। জানা গেছে, রোববার (১৪ এপ্রিল) দিবাগত রাত একটা থেকে সোমবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর পর্যন্ত আইসিডিডিআর,বি হাসপাতালে আড়াইশো জনের মতো ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে। এর আগে গত রোববার ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ৪৩৪ জন, শনিবার ৫২৫, শুক্রবার (১২ এপ্রিল) রোগী ভর্তি হয়েছিল ৫৯৫ জন। হাসপাতালে সন্তানের চিকিৎসা নিতে আসা শিশু সায়মার মা বলেন, শুরুতে মেয়ের ডায়রিয়া দেখা দেয়। সঙ্গে শুরু হয় জ্বর এবং প্রচণ্ড বমি। ১৫ দিন আগে যখন ডায়রিয়া দেখা দেয়, তখন থেকেই তার জ্বর। তবে মাঝখানে জ্বর ছাড়ে, আবার আসে। এরকম কয়েকদিন হয়েছে। প্রথমে ফার্মেসি থেকে ওষুধ এনে খাওয়ানো হয়েছে। এরপর স্থানীয় বেসরকারি একটি হাসপাতালে চিকিৎসক দেখিয়ে চিকিৎসা নিয়েছি। সবশেষে যখন দেখছি তার অবস্থার কোনো উন্নতি হচ্ছে না, বরং দিন দিন খারাপ হচ্ছে, তখনই আত্মীয় স্বজনদের পরামর্শে আইসিডিডিআর,বি হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। তিনি বলেন, গতকালের তুলনায় আজকে অবস্থা কিছুটা ভালো। ডাক্তার বলেছেন অন্তত ৭ থেকে ১০ দিন এখানে থেকেই চিকিৎসা নিতে হবে।  এরকম শতাধিক শিশু ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর আইসিডিডিআর,বি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, বর্তমানে যে পরিমাণ রোগী হাসপাতালটিতে ভর্তি আছেন, ঈদের ছুটি শেষে ঘরমুখো সব মানুষ রাজধানীতে ফিরলে রোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তবে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছে আইসিডিডিআরবি। আইসিডিডিআর,বির অ্যাসিস্ট্যান্ট সাইন্টিস্ট (নিউট্রিশন অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল সার্ভিসেস ডিভিশন) ডা. সারিকা নুজহাত বলেন, এখনো আমাদের হাসপাতালে রোগীর পরিমাণ সহনীয় পর্যায়ে আছে। কিছুদিন যাবত কেবল গরম পড়েছে, আবার ঈদের ছুটিটাও এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। হয়তো আগামী ১/২ সপ্তাহের মধ্যেই রোগীর সংখ্যা কিছুটা বেড়ে যাবে। তিনি বলেন, যেহেতু গরমটা বেশি, স্বাভাবিকভাবে মানুষ বেশি তৃষ্ণার্ত ও পিপাসার্ত থাকে। আমাদের পরামর্শ হলো যেসব ছোট বাচ্চা বুকের দুধ খায়, তাদের অবশ্যই বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। এটি বাচ্চাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তাছাড়া বাইরের খাবারদাবারে বিশুদ্ধ পানির ব্যবহার খুবই কম হয়, যার কারণে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। বড়দের মধ্যে যারা বাইরে কাজ করেন তাদের বেশিরভাগই গরমে পিপাসা মেটাতে বাইরের বিভিন্ন শরবত ও খোলা পানি পান করেন। তাদের ক্ষেত্রে পরামর্শ হলো, বাইরের এসব খোলা পানীয় শরবত কোনোভাবেই খাওয়া যাবে না। বাইরে কাজ করতে হলে অবশ্যই বাসা থেকে বিশুদ্ধ পানি বোতলে করে সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে। সারিকা নুজহাত আরও বলেন, এখন যেহেতু গরমের সিজন, বাসায় খাবার নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি থাকে। এক্ষেত্রে খাবার সংরক্ষণের দিকেও আমাদের নজর দিতে হবে। এই গরম নষ্ট, পচা-বাঁশি খাবার কোনোভাবেই খাওয়া যাবে না। এমনকি বাইরের খোলা খাবার পরিহার করতে হবে। এদিকে ঢাকা শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে গিয়ে দেখা যায়, জরুরি বিভাগে লম্বা লাইন। সেখানে নেই বসার ব্যবস্থা। গরমে অসুস্থ শিশুদের নিয়ে বিপাকে অভিভাবকরা। কারও কারও সেবা নিতে দুই থেকে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে।  শরীয়তপুরের বাসিন্দা আব্দুর কাদের জানান, তার তিন বছর বয়সী সন্তান জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে দু’দিন আগে। তাকে জাজিরা সদর হাসপাতাল নিয়ে গিয়েছিলেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, শিশু চিকিৎসক ছুটিতে। তাই বাধ্য হয়ে ঢাকায় নিয়ে এসেছেন। এখানেও সেবা পেতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
২১ দিন পর ডেঙ্গুতে মৃত্যু দেখলো দেশ
দেশে ২১ দিন পর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত ২৩ জনের মৃত্যু হলো।  শনিবার (১৩ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।  এর আগে, সবশেষ গত ২৩ মার্চ ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হয়েছিল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ১৩ জন ও বরিশালের হাসপাতালে একজন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সারাদেশে ১ হাজার ৮২৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ১৪৬ জন ও নারী ৬৭৭ জন। গত বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। উল্লেখ্য, গত বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন এক হাজার ৭০৫ জন।  
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন 
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মাসিক ভাতা পাঁচ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে। এখন থেকে বর্ধিত হারে মাসে ২০ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। যা চলতি মাসের প্রথম দিন থেকে কার্যকর হবে। এছাড়া আগের বকেয়া ভাতা নির্ধারিত হারে পাবেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। সোমবার (৮ এপ্রিল) এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এতে স্বাক্ষর করেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সেবা বিভাগের বাজেট ১-শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব সুশীল কুমার পাল। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘উপরি-উক্ত বিষয় ও সূত্রের পরিপ্রেক্ষিতে চলতি ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ-সচিবালয় অংশে সাধারণ থোক বরাদ্দ খাতে বরাদ্দকৃত ৯৬ কোটি ২১ লাখ এক হাজার টাকার অব্যয়িত অর্থ হতে ভর্তিকৃত ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা বিবেচনায় সর্বশেষ ইন্টার্ন চিকিৎসকের সংখ্যা ৪ হাজার ৭০০ জন হিসাবে মাসিক ভাতা ৫ হাজার টাকা বৃদ্ধি করে ২০ হাজার টাকায় উন্নীতকরণের ফলে অতিরিক্ত একত্রিশ কোটি আশি লক্ষ টাকা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুকূলে নিম্নবর্ণিত শর্তে নির্দেশক্রমে বরাদ্দ প্রদান করা হলো।’ শর্তাবলী হলো ১. এ অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে যাবতীয় আর্থিক বিধি-বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। ২. এ অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে কোনো অনিয়ম উদ্ঘাটিত হলে সংশ্লিষ্ট বিল পরিশোধকারী কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবেন। ৩. এ অর্থ ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা পরিশোধ ব্যতীত অন্য কোনো কাজে ব্যয় করা যাবে না। ৪. এ অর্থ চলতি ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে সংশ্লিষ্ট খাতে প্রতিফলন করতে হবে। ৫. এ বিষয়ে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় কর্তৃক সকল আনুষ্ঠানিকতা প্রতিপালনপূর্বক সরকারি আদেশ (জি,ও) জারি করে ০৪ (চার) কপি পৃষ্ঠাংকনের জন্য অর্থ বিভাগে প্রেরণ করতে হবে। ৬. প্রাপ্যতা নিশ্চিত হয়ে ভাতা পরিশোধ করতে হবে। ৭. ২০২৪ সালের ০১ এপ্রিল থেকে এ বর্ধিত হার কার্যকর হবে এবং এ তারিখের পূর্বের বকেয়া ভাতা ইতোপূর্বে নির্ধারিত হারে প্রাপ্য হবেন।
ঈদের ছুটিতেও স্বাস্থ্যসেবায় ব্যাঘাত ঘটেনি : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ঈদের লম্বা ছুটিতেও দেশের কোনো হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবার ব্যাঘাত ঘটেনি বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন।  বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর মুগদা হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ঈদে লম্বা ছুটিতে দেশ। এর মধ্যেও দেশের কোনো হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবার ব্যাঘাত ঘটেনি। মন্ত্রী হিসেবে এটা আমার প্রথম ঈদ। আমি আশা করছি দেশের মানুষ খুব সুন্দরভাবে ঈদ পালন করছেন। তিনি বলেন, আমি বুধবারও কয়েকটা হাসপাতালে গিয়েছি। আজকে আরও কয়েকটি হাসপাতালে যাব। বুধবার দুটি হাসপাতালে গিয়েছি, দুই জায়গায়ই আমি পর্যাপ্ত ডাক্তার, নার্স পেয়েছি। আমি সন্তুষ্ট। রোগীদের সঙ্গেও আমি কথা বলেছি। কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। তিনি আরও বলেন, আজ সকালেও দেশের সব হাসপাতালের পরিচালকদের ম্যাসেজ পাঠিয়েছি। আমি এখন পর্যন্ত যতটুকু জানি, সব জায়গায়ই চিকিৎসা চলছে। কোথাও ব্যাঘাত ঘটেনি। হাসপাতাল পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশিদ আলমসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন পবিত্র ঈদুল ফিতর এবং পয়লা বৈশাখের ছুটি চলাকালে দেশের হাসপাতালগুলোর চিকিৎসা ব্যবস্থা নিজে মনিটরিং করার ঘোষণা দেন। এদিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা সেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য ছুটির সময় নিজে মনিটরিং করব। না জানিয়ে হাসপাতালে যাব। শুধু ঢাকা নয়, ঢাকার বাইরের হাসপাতালেও মনিটরিং করা হবে বলেও জানান তিনি।
ঈদের ছুটিতে ২ হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঝটিকা পরিদর্শন
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারি ছুটির মধ্যেই হঠাৎ করে রাজধানীর সরকারি দুটি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। বুধবার (১০ এপ্রিল) শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল পরিদর্শনে যান তিনি। পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন। এ সময় রোগীরা চিকিৎসা সেবা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। রোগীরা জানান, ঈদ উপলক্ষে ছুটি থাকলেও তারা ভালো চিকিৎসা পাচ্ছেন। এরপর ডা. সামন্ত লাল সেন কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং কোনো অসুবিধা হচ্ছে কিনা জানতে চান। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক-নার্সরা তাদের খোঁজ-খবর নেওয়ার জন্য ও ঈদের ছুটিতে খাবারের ব্যবস্থা করার জন্য  মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক এই সফরের সময় দুই হাসপাতালের দায়িত্বরত পরিচালক ছাড়াও কর্তব্যরত অধ্যাপক, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সকলে উপস্থিত ছিলেন। আর স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. মঈনুল আহসান। এর আগে মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন পবিত্র ঈদুল ফিতর এবং পয়লা বৈশাখের ছুটি চলাকালে দেশের হাসপাতালগুলোর চিকিৎসা ব্যবস্থা নিজে মনিটরিং করার ঘোষণা দেন। এদিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা সেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য ছুটির সময় নিজে মনিটরিং করব। না জানিয়ে হাসপাতালে যাব। শুধু ঢাকা নয়, ঢাকার বাইরের হাসপাতালেও মনিটরিং করা হবে বলেও জানান তিনি।
এপ্রিল থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ২০ হাজার টাকা ভাতা পাবেন
এপ্রিল মাস থেকেই ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ২০ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন। সোমবার (৮ এপ্রিল) স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ কথা জানানো হয়েছে।  ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন করে আসছিলেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। সর্বশেষ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেনের ভাতা বৃদ্ধির আশ্বাসে কর্মসূচি স্থগিত করেন তারা। সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হয়। বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্নশিপের জন্য কোনো ভাতা দেওয়া হয় না। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মতে, এক বছর দায়িত্ব পালনকালে যে ভাতা দেওয়া হয়, তা পর্যাপ্ত নয়। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হাসপাতালে সারাক্ষণ দায়িত্ব পালন করতে হয়। বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ ও অন্তর্বিভাগে শত শত রোগী দেখতে হয়, তাদের তথ্য লিখতে হয়, চিকিৎসা দিতে হয়। পরদিন সকালে অধ্যাপকের জন্য নোট তৈরি করে রাখতে হয়। কাজের চাপ বেশি। তারা আরও বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সার্বিক দিক বিবেচনায় ভাতা বাড়ানো জরুরি। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা কমপক্ষে ২৫ হাজার টাকা করা দরকার। তবে ভাতা বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার জন্য আন্দোলন করে আসছিলেন তারা। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে সাধারণ থোক বরাদ্দ খাতে বরাদ্দকৃত ৯৬ কোটি ২১ লাখ ১ হাজার টাকার অব্যয়িত অর্থ থেকে ভর্তিকৃত ছাত্র/ছাত্রীর সংখ্যা বিবেচনায় সর্বশেষ ৪ হাজার ৭০০ জন ইন্টার্ন চিকিৎসকের মাসিক ভাতা ৫ হাজার টাকা বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকায় উন্নীত করা হলো। ফলে অতিরিক্ত ৩১ কোটি ৮০ লাখ টাকা স্বাস্থ্য অধিদফতরের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হলো। ১ এপ্রিল থেকে এ বর্ধিত হার কার্যকর হবে।