• ঢাকা বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১
logo
পর্নো তারকাকে ঘুষ দেওয়ার মামলায় ট্রাম্পের বিচার শুরু
যুক্তরাষ্ট্রে কার্যকর হচ্ছে গর্ভপাত নিষেধাজ্ঞা
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় কার্যকর হতে যাচ্ছে ১৯ শতকের গর্ভপাত নিষেধাজ্ঞা৷ ১৮৬৪ সালের এক আইনে গর্ভপাতে সহায়তা করা চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে৷ মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) অ্যারিজোনা রাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে জানিয়েছে, রাজ্যটি গর্ভপাত নিষিদ্ধ করার জন্য ১৮৬৪ সালের এই আইন পুনরায় কার্যকর করতে পারে৷ আইনটি কার্যকর হলে গর্ভপাতে সহায়তাকারী চিকিৎসকদের বিচারের মুখোমুখি করার আশঙ্কা বেড়ে যাবে৷ অ্যারিজোনার ১৮৬৪ সালের গর্ভপাত নিষেধাজ্ঞা অ্যারিজোনা রাজ্যের বিদ্যমান আইন অনুসারে ধর্ষণ অথবা অনিচ্ছাকৃত ঘটনায়ও গর্ভপাত করা নিষেধ৷ শুধুমাত্র মায়ের জীবনের আশঙ্কা থাকলে গর্ভপাতের অনুমতি দেয়া হবে৷ আইনটিতে গর্ভপাতের ক্ষেত্রে সহায়তা করার জন্য দুই থেকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে৷ গর্ভাবস্থার প্রথম ১৫ সপ্তাহে গর্ভপাত করার জন্য চিকিৎসকদের অভিযুক্ত করা যাবে না বলে ২০২২ সালের একটি আবেদন পর্যালোচনা করেছে রাজ্যটির সুপ্রিম কোর্ট৷ ২০২২ সালের জুনে কেন্দ্রীয় সুপ্রিম কোর্টের ১৯৭৩ সালে দেয়া রো ভি ওয়েডের গর্ভপাতের সাংবিধানিক অধিকারের নিশ্চয়তার সিদ্ধান্তকে বাতিল করে দেয়ার পর থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক রাজ্য পুরানো গর্ভপাত নিষেধাজ্ঞা আইন কার্যকর করতে শুরু করেছে৷ বর্তমানে ১৪টি রাজ্য কিছু ব্যতিক্রম পরিস্থিতি ছাড়া, গর্ভাবস্থার সকল পর্যায়ে গর্ভপাতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করছে৷ নিষেধাজ্ঞার প্রতি বাইডেন ও ডেমোক্রেটদের নিন্দা প্রকাশ প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এক বিবৃতিতে গর্ভপাত নিষেধাজ্ঞার নিন্দা করেছেন৷ তিনি বলেন, লাখ লাখ অ্যারিজোনাবাসী শীঘ্রই আরও কট্টর ও বিপজ্জনক গর্ভপাত নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হবে৷ যে আইন নারীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি অথবা ধর্ষণ এর মতো মর্মান্তিক পরিস্থিতিতেও তাদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হবে৷ তিনি আরও বলেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট হ্যারিস ও আমি সেই সংখ্যাগরিষ্ঠ আমেরিকানদের পাশে আছি৷ যারা একজন নারীর পছন্দের অধিকারকে সমর্থন করে৷ আমরা প্রজনন অধিকার রক্ষার জন্য লড়াই চালিয়ে যাবো ও রো ভি ওয়েডের সিদ্ধান্ত পুনরুদ্ধার করার জন্য কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানাবো৷ নভেম্বরে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার আগে বাইডেন তার নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে গর্ভপাত ইস্যুকে গুরুত্ব দিচ্ছেন৷  অ্যারিজোনার অ্যাটর্নি জেনারেল সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সমালোচনা করে বলেন, অ্যারিজোনা যখন একটি রাজ্য ছিল না, যখন এখানে গৃহযুদ্ধ চলছিল ও নারীরা ভোটও দিতে পারতো না, সে সময়কার একটি আইনকে নতুন করে আরোপ করার আজকের এই সিদ্ধান্ত আমাদের রাজ্যের ইতিহাসে একটি কলঙ্ক হিসেবে অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে৷
ইরানের হামলার শঙ্কা / ইসরায়েলে কর্মরত মার্কিনীদের সতর্কতা যুক্তরাষ্ট্রের
যুক্তরাষ্ট্রে ঈদের অনুষ্ঠানে ব্যাপক গোলাগুলি, আহত ৩
সামরিক সহযোগিতা বাড়াতে জাপান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক
নিজেকে যে কারও চেয়ে বেশি ইসরায়েলপন্থী দাবি ট্রাম্পের
স্ত্রীকে ২০০ টুকরা করার পর সুবিধা জানতে গুগলের দ্বারস্থ যুবক
নিকোলাস মেটসন। যুক্তরাষ্ট্রের নেবরাস্কার অধিবাসী ২৮ বছর বয়সী এক যুবক। এক বছর আগে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত হন তিনি। সম্প্রতি আদালতে সেই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন লিংকন শহরের এই বাসিন্দা। তার বয়ানে উঠে এসেছে স্ত্রী হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক এক বর্ণনা।  লিংকন ক্রাউন কোর্টে দেওয়া ওই বয়ানে জানা যায়, গত বছরের মার্চে স্ত্রী হলি ব্রামলিকে ২০০ টুকরা করে হত্যা করেন মেটসন। এরপর টুকরোগুলো বস্তাবন্দি করে রান্নাঘরে রেখে গুগলে সার্চ করেন বেশ কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর। এর মধ্যে একটি প্রশ্ন ছিল- ‘আমার স্ত্রী মারা গেলে আমি কী সুবিধা পাব?’ আরেকটি প্রশ্ন ছিল- ‘মৃত্যুর পর কেউ কি ভূত হয়ে তাড়া করতে পারে?’  পরে ব্রামলির মরদেহের টুকরাগুলো ফেলে দেওয়া হয় উইথাম নদীতে। আর এ কাজে অর্থের বিনিময়ে জোসুয়া হ্যানকক নামে নিজের এক বন্ধুকে কাজে লাগান মেটসন।   এর কয়েক দিন পরেই হলি ব্রামলির মরদেহের টুকরাগুলো পাওয়া যায় উইথাম নদীতে। এরপর মেটসন-ব্রামলি দম্পতির বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে পুলিশের সন্দেহ হয় বাড়ির অবস্থা দেখে। ফ্ল্যাটটিতে অ্যামোনিয়া এবং ব্লিচের তীব্র গন্ধ পেয়েছিলেন পুলিশ সদস্যরা। এ ছাড়া তারা বাথটাবে রক্তে ভেজা চাদর এবং মেঝেতে কালো দাগও খুঁজে পান। পরে মৃতের সঙ্গে মিলে যায় সেই রক্তের নমুনা। জানা যায়, ২০২১ সালে হলি ব্রামলির সঙ্গে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন নিকোলাস মেটসন। যখন হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়, তখন ছাড়াছাড়ির পর্যায়ে ছিলেন এ দম্পতি।    
কলেরার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে বৈশ্বিক কর্মসূচি ঘোষণা
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পানিবাহিত রোগ কলেরার প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। কলেরার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে বৈশ্বিক কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে সংস্থাটি। শুক্রবার (৫ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে বড় আকারের টেস্ট কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। ডব্লিউএইচও’র হিসেব অনুযায়ী, ২০২২ সালে বিশ্বজুড়ে ৪ লাখ ৭৩ হাজার জন কলেরায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। এরপর ২০২৩ সালে সেটি প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে ৭ লাখ আক্রান্ত হয়েছিল। চলতি ২০২৪ সালে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধির আলামত রয়েছে। এজন্য কলেরার বৈশ্বিক টেস্ট কর্মসূচি হাতে নিয়েছে ডব্লিউএইচও।  কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কলেরা টেস্টের সরঞ্জাম পৌঁছে যাবে। প্রাথমিকভাবে মালাউই, ইথিওপিয়া, সোমালিয়া, সিরিয়া, জাম্বিয়াসহ মোট ১৪টি দেশে  এসব সরঞ্জাম পাঠানো হবে। আন্তর্জাতিক টিকা সহায়তা সংস্থা গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (গ্যাভি), জাতিসংঘের শিশু নিরাপত্তা ও অধিকারবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ এবং কলেরা প্রতিরোধ সংক্রান্ত বৈশ্বিক সংস্থা গ্লোবাল টাস্কফোর্স অন কলেরা কন্ট্রোল বৈশ্বিক এই কর্মসূচিতে অংশীদার হিসেবে কাজ করবে বলে জানায় ডব্লিউএইচও।
৪ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল নিউইয়র্ক
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও আশপাশের অঞ্চলে আঘাত হেনেছে ৪ দশমিক ৮ মাত্রার একটি ভূমিকম্প। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৫ এপ্রিল) সকালে ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে নিউইয়র্ক। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, নিউইয়র্কের ৪০ মাইল উত্তরের নিউ জার্সির লেবানন নামক এলাকায় ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়েছিল। আজ সকালে নিউইয়র্ক সিটির অসংখ্য মানুষ কম্পন অনুভব করেন। ওই সময় অনেক বাড়ি ঘর কেঁপে ওঠে। পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয় এটি একটি ভূমিকম্প ছিল। নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোচুল মাইক্রো ব্লগিং সাইটে ভূমিকম্পের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি এক্সে লিখেছেন, “পূর্ব ম্যানহাটনে ৪ দশমিক ৮ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে এবং এটি পুরো নিউইয়র্কে অনুভূত হয়েছে। কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না সেটি নিরূপণ করছে আমার দল। আমরা এ ব্যাপারে সাধারণ মানুষকে আরও অবহিত করব।” সংবাদমাধ্যম সিবিএস জানিয়েছে, নিউইয়র্ক পুলিশ জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পায়নি। পূর্ব উপকূল এবং নিউইয়র্ক সিটিতে ভূমিকম্পের আঘাত এই প্রথম নয়। ২০১১ সালে, ভার্জিনিয়ায় একটি ৫ দশমিক 8 মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। ১৮৮৪ সালে নিউইয়র্ক সিটিতে একটি ৫ দশমিক 0 মাত্রার ভূমিকম্প পরিমাপ করা হয়েছিল। সূত্র : সিবিএস নিউজ 
মুন্সীগঞ্জে হত্যাকাণ্ড ঘটানো মার্কিন নাগরিক নিউইয়র্কে গ্রেপ্তার
বাংলাদেশের মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে হত্যাকাণ্ড ঘটানো যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক গেনেট রোজারিওকে (৫২) নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) স্থানীয় সময় অভিযুক্ত নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসের ওই বাসিন্দাকে গ্রেপ্তার করে দেশটির আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ফৌজদারি শাখার প্রধান ও মুখ্য উপসহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিকোল এম আর্জেন্টিয়েরি এক বিবৃতিতে বলেছেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিককে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে,  গেনেট রোজারিও ২০২১ সালের ১১ জুন বাংলাদেশে থাকা অবস্থায় মাইকেল রোজারিও নামে অপর এক যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিককে হত্যা করেন। তার বিরুদ্ধে বিদেশে একজন মার্কিন নাগরিককে হত্যা ও সশস্ত্র সহিংসতার সময় আগ্নেয়াস্ত্র সঙ্গে রাখা, বহন ও ব্যবহারের বিষয়ে অভিযোগ আনা হয়েছে। অপরাধ প্রমাণিত হলে যুক্তরাষ্ট্রে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।  মুখ্য উপসহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিকোল এম আর্জেন্টিয়েরি বলেন, বিদেশে এক জন আমেরিকান নাগরিক অপর এক আমেরিকান নাগরিককে হত্যা করলে তাকে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হয়।  উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১১ জুন মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের খ্রিস্টানপল্লী কেয়াইন ইউনিয়নের শুলপুর গ্রামে মাইকেল রোজারিও (৭২) নামে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসীকে গুলি করে হত্যা করেন তার ভাতিজা গেনেট রোজারিও। ওই রাতেই স্থানীয় পুলিশ গেনেট রোজারিওকে বন্দুক ও গুলিসহ গ্রেপ্তার করেন। পরে গেনেট রোজারিও আদালত থেকে জামিন নিয়ে পালিয়ে যান।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচন / জরিপে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে ট্রাম্প
চলতি বছরের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দেশটির সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ৭টি অঙ্গরাজ্যের ৬টিতেই জনপ্রিয়তায় বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের চেয়ে এগিয়ে আছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।  মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। জরিপের ফলাফলে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া, মিশিগান, অ্যারিজোনা, জর্জিয়া, নেভাদা এবং নর্থ ক্যারোলিনায় ২ থেকে ৮ শতাংশ পয়েন্টে বাইডেনের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন ট্রাম্প। তবে উইসকনসিনে বাইডেন এগিয়ে রয়েছেন।  প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমান প্রেসিডেন্ট বাইডেনের কাজে ওই ছয়টি অঙ্গরাজ্যের নাগরিকরা অসন্তুষ্ট। এ ছাড়া অর্থনীতির গুরুতর অবস্থাও তার জনপ্রিয়তা কমার কারণ। জরিপের এসব অঙ্গরাজ্যে প্রার্থী হিসাবে তৃতীয় পক্ষ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের রাখা হয়। এ ছাড়া শুধু বাইডেন ও ট্রাম্পকে রেখে করা জরিপেও একইরকম ফল দেখা গেছে। রিয়েলক্লিয়ার পলিটিকসের তথ্যানুযায়ী, এ পর্যন্ত সব জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে ট্রাম্প এবং বাইডেনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। বাইডেনের তুলনায় গড়ে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ এগিয়ে রয়েছেন ট্রাম্প।
যে কারণে হোয়াইট হাউসে বাইডেনের ইফতার আয়োজন বাতিল হলো
পবিত্র রমজানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ইফতারের আয়োজন বাতিল করেছে হোয়াইট হাউস। বিষয়টির সঙ্গে জড়িত এমন দুজন বলছেন, ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধে বাইডেনের সমর্থন দেওয়ার প্রতিবাদে কয়েকজন মুসলিম মার্কিনি আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেন। ফলে এ আয়োজন বাতিল করতে হয়েছে। খবর আল জাজিরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা আল-জাজিরাকে বলেছে, মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) ইফতারের আয়োজনটি বাতিল করা হয়। এর আগে, মুসলিম কমিউনিটির সদস্যরা হোয়াইট হাউসের এ আয়োজনে অংশগ্রহণ করার বিষয়ে নেতাদের সতর্ক করে দেন। কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন্সের (সিএআইআর) উপ-পরিচালক অ্যাডওয়ার্ড আহমেদ মিচেল আল জাজিরাকে বলেন, প্রাথমিকভাবে যেতে রাজি হওয়া আমন্ত্রিতরাসহ অনেকে উপস্থিত না হওয়ার কারণে অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে। আহমেদ মিচেল আরও জানান, আমেরিকান মুসলিম জনগোষ্ঠী বেশ আগেই বলেছিল, যে হোয়াইট হাউস গাজায় ফিলিস্তিনি জনগণকে ক্ষুধায় মারতে ও হামলা চালিয়ে মেরে ফেলতে ইসরায়েল সরকারকে সক্রিয় সমর্থন দেয়, তার সঙ্গে খাবার খাওয়াটা হবে একবারেই অগ্রহণযোগ্য।  সোমবার (১ এপ্রিল) মার্কিন গণমাধ্যম খবর প্রকাশ করে, হোয়াইট হাউস মুসলিম কমিউনিটির জন্য ইফতারের আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে এর কয়েক ঘণ্টা পরই হোয়াইট হাউস ঘোষণা করে, তারা ইফতারের আয়োজন নয় বরং শুধু মুসলিম সরকারি কর্মীদের জন্য এক ভোজের আয়োজন করবে। আর মুসলিম আমেরিকান কমিউনিটির নেতাদের সঙ্গে আলাদা একটি সাক্ষাতের ব্যবস্থা করবে। গত দুই দশকের বেশি সময় ধরেই প্রভাবশালী মুসলিম আমেরিকান প্রতিনিধিদের নিয়ে ইফতারের আয়োজন করে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টরা। পবিত্র রমজানে হোয়াইট হাউসে ইফতারের অনুষ্ঠান করার বিষয়টি সেখানে অন্য ধর্ম ও সংস্কৃতির অনুষ্ঠান আয়োজনেরই এক প্রতিফলন। এমন আয়োজন স্থানীয় মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে এক ধরনের উৎসবের অনুভূতি দেয় এবং ঐতিহ্যগতভাবে এটি সংবাদকর্মীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে। এদিকে মুসলিম আমেরিকান অধিকারকর্মীদের কয়েকজন বলেছেন, সাক্ষাতের এ আয়োজন হবে একসঙ্গে ‘ছবি তোলার এক সুযোগমাত্র’। তাদের যুক্তি, মুসলিম জনগোষ্ঠীর লোকজন ছয় মাস ধরেই তাদের অবস্থান জানিয়ে আসছেন।  আমেরিকান মুসলিমস ফর প্যালেস্টাইন সংগঠনের পরিচালক (উন্নয়ন) মোহাম্মদ হাবেহ আল জাজিরাকে বলেন, আমাদের কটা বৈঠক হলো, তাতে কতজন গেলেন, কতটা আলাপ-আলোচনা চলছে—এসব কোনো বিষয় নয়। হোয়াইট হাউস (নীতি) বদলাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। মোহাম্মদ হাবেহ গুরুত্ব দিয়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট বাইডেন ইসরায়েলকে সমর্থন দেওয়া বন্ধ না করলে মুসলিম আমেরিকান কমিউনিটির প্রতি তিনি যে যত্নবান, সেটি দাবি করতে পারবেন না। 
গাজা ও রাশিয়ায় পারমাণবিক বোমা ফেলার আহ্বান মার্কিন কংগ্রেসম্যানের 
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ও রাশিয়ায় পারমাণবিক বোমা ফেলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের হিরোশিমা ও নাগাসাকির মতো অবস্থা তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন টিম ওয়ালবার্গ নামে যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান পার্টির এক কংগ্রেসম্যান। সম্প্রতি নিজের নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণা সভায় এ ধরনের আহ্বান জানান তিনি। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।  প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিশিগানের রিপ্রেজেন্টেটিভ টিম ওয়ালবার্গ যুক্তরাষ্ট্রসহ ইসরায়েল ও ইউক্রেনের মিত্র রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, গাজার অবস্থা নাগাসাকি ও হিরোশিমার মতো হওয়া উচিত। এই সমস্যা দ্রুত শেষ করুন। একই অবস্থা হওয়া উচিত রাশিয়ারও। এ সময় গাজায় ত্রাণসহায়তা পাঠানোর কঠোর বিরোধিতা করেন ওয়ালবার্গ। তিনি বলেন, ‘গাজায় ত্রাণসহায়তার জন্য আমাদের আর একটি পয়সাও ব্যয় করা উচিত নয়। এই পয়সা উল্টো ইসরায়েলের জন্য ব্যয় করা উচিত। কেননা, পৃথিবীর যেকোনো স্থানে, যেকোনো ইস্যুতে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় মিত্র।’  উল্লেখ্য, টিম ওয়ালবার্গ নামে রিপাবলিকান পার্টির এই কংগ্রেসম্যান একজন ধর্মযাজক ছিলেন রাজনীতিতে আসার আগে। গণসংযোগকালে তার মুখে উচ্চারিত এই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ছড়িয়ে পড়েছে ইতোমধ্যে। ওয়ালবার্গের এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে প্রগতিশীল রাজনৈতিক মহলও। একজন সাবেক খ্রিষ্টান যাজক হয়ে তিনি কীভাবে এমন মন্তব্য করতে পারেন এই নিয়ে জোর সমালোচনা চলছে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বত্র। বিবৃতি দিয়ে কংগ্রেসম্যানের এ বক্তব্যকে ‘গণহত্যার স্পষ্ট আহ্বান’ আখ্যা দিয়েছে কাউন্সিল অন আমেরিকান–ইসলামিক রিলেশনস (কাইর)। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক দাউদ ওয়ালিদ ওই বিবৃতিতে বলেছেন, ‘সব আমেরিকানের উচিত ওয়ালবার্গের বক্তব্যের নিন্দা করা, যারা মানুষের জীবন এবং আন্তর্জাতিক আইনকে মূল্য দেয়।’  এদিকে ব্যাপক সমালোচনার মুখে নিজের বক্তব্য থেকে সরে আসার চেষ্টা করছেন টিম ওয়ালবার্গ। রোববার (৩১ মার্চ) এক বিবৃতিতে মার্কিন এ কংগ্রেসম্যান জানান, তার মন্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে মিডিয়া। তার দাবি, পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পক্ষে কথা বলেননি তিনি। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি শুধু ইসরায়েল এবং ইউক্রেনের যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধে জয়ী হওয়ার প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে একটি রূপক ব্যবহার করেছেন। ওয়ালবার্গ এরপর বলেন, ‘যত দ্রুত ইসরায়েল ও ইউক্রেন হামাস ও রাশিয়াকে পরাজিত করবে, তত বেশি নিরপরাধ মানুষের প্রাণ বাঁচবে।’