• ঢাকা বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১
logo
জনগণের ওপর প্রতিশোধ নিতে কারফিউ জারি: ফখরুল
এবার ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিতে বিএনপির সমর্থন
কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ডাকা বৃহস্পতিবারের (১৮ জুলাই) ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিতে সমর্থন দিয়েছে বিএনপি। বুধবার (১৭ জুলাই) রাতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির নেওয়া এ সিদ্ধান্তের কথা জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এ সময় দেশবাসীকে এই ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, আপনারা জানেন, সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের ন্যায্য এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ ও সশস্ত্র ছাত্রলীগের হিংস্র আক্রমণে এ পর্যন্ত ৭ জন নিহত হয়েছেন। আজও আন্দোলনরত সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর র‌্যাব-পুলিশ-বিজেপির ব্যাপক হামলায় অনেকেই আহত হয়েছে। এই রক্তাক্ত হামলায় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের যৌক্তিক দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা আগামীকাল বৃহস্পতিবার সারাদেশে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচিতে সর্বাত্মক সমর্থন জানানো হয়েছে। অর্থাৎ শিক্ষার্থীরা যে কর্মসূচি দিয়েছে তাতে বিএনপি সর্বাত্মক সমর্থন জানিয়েছে। একই সঙ্গে ‘কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচিতে’ দেশের আপামর জনগণকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, আমি বিএনপির পক্ষ থেকে এই কর্মসূচিতে জনগণ অংশগ্রহণের জন্য জোরাল আহ্বান জানাচ্ছি। বিএনপি যুগপৎ আন্দোলনের শরিক জোট ও দলগুলোর সঙ্গে গত ছয় দিন ধারাবাহিক বৈঠকের পরে বুধবার এই কর্মসূচি ঘোষণা হলো। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ (ঢাবি) সারাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দিতে তাদের লক্ষ্য করে টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়েছে পুলিশ।  এরপরেই বুধবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টা ৫৫ মিনিটে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফেসবুক পেজে পোস্টের মাধ্যমে হামলা ও খুনের প্রতিবাদে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা দেয়। সেখানে লেখা হয়- কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামীকাল হাসপাতাল ও জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠান ছাড়া সবকিছু বন্ধ থাকবে এবং রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া কোনো যানবাহন চলবে না। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব, সোয়াটের ন্যক্কারজনক হামলা, খুনের প্রতিবাদ, খুনিদের বিচার, সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা এবং কোটা সংস্কারের এক দফা দাবিতে আগামীকাল (১৮ জুলাই) সারাদেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা করছি। দেশের সব প্রতিষ্ঠানকে কর্মসূচি সফল করতে আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, শুধুমাত্র হাসপাতাল ও জরুরি সেবা ব্যতীত কোনো প্রতিষ্ঠানের দরজা খুলবে না, অ্যাম্বুলেন্স ব্যতীত সড়কে কোনো গাড়ি চলবে না। সারাদেশের প্রতিটি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, মাদরাসা শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানাচ্ছি, আগামীকালের কর্মসূচি সফল করুন।
বিএনপির সোহেল-টুকুসহ ৫০০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা
এন্ডোসকপি করাতে হাসপাতালে খালেদা জিয়া
কোটা আন্দোলনকে নৈতিক সমর্থন দিয়ে যাবো: ফখরুল
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তালা
ডিবির অভিযান / বিএনপি কার্যালয় থেকে ১০০ ককটেল উদ্ধার, শ্রাবণসহ গ্রেপ্তার ৭
রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে ককটেল, পেট্রোল, বাঁশের লাঠি ও অস্ত্র উদ্ধার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে ডিবিপ্রধান মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযান শেষে ব্রিফিংয়ে ডিবিপ্রধান বলেন, অভিযানে ১০০টির বেশি ককটেল, ৫/৬ বোতল পেট্রোল, ৫০০টি বাঁশের লাঠি, সাতটি দেশি-বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় সাতজনকে আটক করা হয়েছে। আটকদের মধ্যে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ রয়েছেন। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অমান্য করে একটি গ্রুপ বিভিন্ন জায়গায় বসে সরকারবিরোধী স্লোগান দিচ্ছে, গাড়িতে আগুন দিচ্ছে, রেলের স্লিপার খুলে ফেলছে, মেট্রোরেল বন্ধ করে দিচ্ছে। গোয়েন্দা পুলিশ অবজারভেশনে জানতে পেরেছে যে, কেউ কেউ আন্দোলনকারীদের লাঠি দিয়ে, এমনকি অস্ত্র সরবরাহ করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে। তারই ধারাবাহিকতায় এই অভিযান। 
ছাত্রলীগ-পুলিশ মিলে ছাত্রদের হত্যা করেছে: ফখরুল
ছাত্রলীগ ও পুলিশ ঠান্ডা মাথায় কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত ৭ ছাত্রকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ৭১-এ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যে ভূমিকা পালন করেছিল, আজ আওয়ামী লীগ তা করছে।  মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) কোটা সংস্কার আন্দোলনে সংঘর্ষ ও হতাহত ইস্যুতে গুলশানে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।    সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে দাবি করে ফখরুল ইসলাম বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনাতে হবে এবং  হত্যার দায় সরকারকেই নিতে হবে।    বিএনপির মহাসচিব বলেন, এ আন্দোলন সম্পূর্ণ শিক্ষার্থীদের। তবু ছাত্রদের রক্ষায় বিএনপি জোরালো আন্দোলন গড়ে তুলবে।  কোটা সংস্কারের দাবি মেনে নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ফখরুল বলেন, ছাত্রদের আন্দোলন দমাতেই স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু এ আন্দোলন দমানো যাবে না।  
কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দেবো: সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় পুলিশ বাধা না দিয়ে সন্ত্রাসীদের সহায়তা করছে। পত্রিকায় লেখা হয়েছে নিরীহ ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর হামলা করা হয়েছে। সেখানে পুলিশ ছিল, কিন্তু তাদের কোনো ভূমিকা ছিল না। এ সময় কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে সমিতির ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। এ সময় তিনি দেশের জাতীয় দৈনিক পত্রিকা উঁচিয়ে দেখান।  দেশে কি ইমারজেন্সি চলছে প্রশ্ন করে ব্যারিস্টার খোকন বলেন, গত রাতে ঢাকাতেই কয়েক শ’ (শিক্ষার্থী) আহত হয়েছেন। আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীদের মৌলিক অধিকার, সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। আমাদের প্রশ্ন, দেশে কি মৌলিক অধিকার নেই? সাংবিধানিক অধিকার নেই? আমরা কি সভ্য দেশে আছি? আহত অনেক ছাত্রছাত্রী ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি হয়েছেন। সেখানে ছাত্রলীগ হামলা করেছে। এই ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী সরাসরি কোটার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আদালত অবমাননা করেছেন দাবি করে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি বলেন, বিষয়টি এখন আদালতে বিচারাধীন। প্রধানমন্ত্রী ২০১৮ সালে রাগের বশবর্তী হয়ে কোটা পদ্ধতি বাতিল করার কথা বলেছেন। অথচ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার সময় তিনি অঙ্গীকার করেছেন রাগ-অনুরাগের বশবর্তী হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। এ কথা বলে প্রধানমন্ত্রী শপথ ভঙ্গ করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট বারের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট সৈয়দ ফজলে ইলাহী অভি, শফিকুল ইসলাম শফিক, ফাতিমা আক্তার উপস্থিত ছিলেন।
পাকিস্তানিদের মতো একই কায়দায় হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ: ফখরুল 
সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের যৌক্তিক আন্দোলন দমন করতে ছাত্রলীগ পাকিস্তানিদের মতো একই কায়দায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।  মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার গত একদিনে যা ঘটিয়েছে, তা দেশের ইতিহাসের জঘন্যতম ঘটনা। হাসপাতালেও আহতদের ওপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ।  তিনি বলেন, ন্যায্য দাবি আদায় করতে নেমে শিক্ষার্থী যে হামলার শিকার হয়েছে, তাতেই উপলব্ধি করা যায় এই সরকার কতটা ভয়াবহ।  শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি সাধারণ জনগণকে সাড়া দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের অবস্থা আজ ভয়াবহ। এখানে কোনো বিচার নেই। এই সময়ে রুখে দাঁড়াতে না পারলে জাতির অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়ে যাবে। অধিকার আদায়ে দেশের মানুষকে জেগে উঠতে হবে এখনই।   
রাজধানীতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল
কোটা নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।  মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় সামনে থেকে মিছিল বের করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। এর আগে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কোটা সংস্কার ইস্যুতে চলমান আন্দোলনে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ছাত্রদল। সংগঠনটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব জানিয়েছেন, আজ (১৬ জুলাই) থেকেই শিক্ষর্থীদের সঙ্গে তারা মাঠে নামবেন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ ও সরকারি বাহিনীর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ছাত্রদল সভাপতি রাকিব বলেন, চীন সফর পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনের নামে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হিংসাত্মকমূলক কটূক্তি করেছেন। তা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। সেইসঙ্গে সাংগঠনিকভাবে না থাকলেও ছাত্রদল রাজপথে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে থাকবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন রাকিব।     কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রদল মাঠে থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, রাজপথে থেকে লড়াই করার প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করছি। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে আজ থেকে মাঠে থাকবে ছাত্রদল। তবে ইস্যু ভিন্ন খাতে যেনো না যায়, তাই ছাত্রদলের ব্যানারে নয়, বরং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে ছাত্রদল কোটা সংস্কার আন্দোলনে থাকবে।   ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কটূক্তি ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে আগামীকাল বুধবার (১৭ জুলাই) দেশের প্রতিটি ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করবে ছাত্রদল।   
ক্ষমতায় থাকতে শিক্ষার্থীদের ওপর হিংস্র হামলা: বিএনপি
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বৈষম্যমূলক কোটাব্যবস্থা সংস্কারের যৌক্তিক দাবিতে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির ওপর সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে। কোটা সংস্কারের ন্যায্য দাবিতে রাজধানীসহ সারা দেশে বিশ্ববিদ্যালয়-স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের রাজপথের উত্তাল আন্দোলনে সরকার বেসামাল হয়ে পড়েছে। সে জন্যই আন্দোলন দমাতে এখন রাষ্ট্রশক্তি নির্দয়ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, এটা আওয়ামী ফ্যাসিবাদের চিরাচরিত বৈশিষ্ট্য। এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সোমবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তিনি। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিকে রক্তাক্ত পন্থায় দমনের যে দৃশ্য দেশবাসী অবলোকন করল, তা আওয়ামী ফ্যাসিবাদের আরেকটি হিংস্র অধ্যায় হিসেবে ইতিহাসে সংযোজিত হবে বলে মনে করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, এদের হাতে জনগণ, রাষ্ট্র, সমাজ, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব কখনোই নিরাপদ নয়। পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের দ্বারা শিক্ষার্থীদের রক্ত ঝরানোর বীরত্বে আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী এখন আত্মহারা। দমন-পীড়নের ভয়াবহ পন্থা অবলম্বন করে তারা দেশবাসীকে নিথর-নিস্তব্ধ করতে চায়। আওয়ামী সরকার গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দলের আন্দোলনের ওপর যেভাবে স্টিমরোলার চালাচ্ছে, ঠিক একইভাবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনকে দমনে পন্থা গ্রহণ করেছে বলে দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি আরও বলেন, আজ পুলিশ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা যৌথভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৈশাচিক হামলা চালিয়ে অসংখ্য ছাত্রছাত্রীকে আহত করেছে। কোটা নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরকার ক্রমাগত প্রতারণা করে যাচ্ছে বলে দাবি করে ফখরুল বলেন, জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য। অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ২০১৮ সালে কোটা বাতিলের পর চলতি বছর পুনরায় ভিন্ন কায়দায় কোটা পুনর্বহাল করেছে। পৈশাচিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের শাস্তি পেতে হবে বলে হুশিয়ার করে দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আমি আহত শিক্ষার্থীদের আশু সুস্থতা কামনা করছি এবং গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।
কেবিন থেকে সিসিইউতে খালেদা জিয়া
রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কেবিন থেকে সিসিইউতে নেওয়া হয়েছে। মেডিক্যাল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী সোমবার (১৫ জুলাই) রাত সাড়ে ৭টার দিকে তাকে সিসিইউতে শিফট করা হয়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কেবিন থেকে সিসিইউতে শিফট করা হয়েছে। তিনি সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। হৃদযন্ত্রে পেসমেকার বসানোর ছয় দিনের মাথায় গত ৮ জুলাই খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া আর্থ্রাইটিস, হৃদ্‌রোগ, ফুসফুস, লিভার, কিডনি, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুর্নীতির দুই মামলায় সাজা পেয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাবন্দী হন। দুই বছরের বেশি সময় তিনি কারাবন্দী ছিলেন। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এক নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়ার সাজা ২০২০ সালের ২৫ মার্চ স্থগিত করে তাকে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দেয়। তখন থেকে ছয় মাস পরপর মুক্তির মেয়াদ বাড়াচ্ছে সরকার।