• ঢাকা বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১
logo
ম্যাচ হেরে রেফারিকে কাঠগড়ায় তুললেন জাভি
এক ম্যাচে ৩১ গোল হজম করার অনুভূতি জানালেন গোলকিপার
২০০২ বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ওশেনিয়া অঞ্চলের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল আমেরিকান সামোয়া। কফস হারবারে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আমেরিকান সামোয়া হেরেছিল ৩১-০ গোলে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটাই সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হারের রেকর্ড এখনো। সেই ম্যাচে আমেরিকান সামোয়ার গোলকিপার ছিলেন নিকি সালাপু। লোকে এখনো নাকি তাকে ম্যাচটি নিয়ে জিজ্ঞেস করে। বিবিসির ‘স্পোর্টিং উইটনেস’ পডকাস্টে সেই ম্যাচ নিয়েই কথা বলেছেন সালাপু। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটির জন্য খুব দ্রুত দল গড়তে হয়েছিল আমেরিকান সামোয়াকে। বেশিরভাগই ছিলেন কিশোর বয়সি। আমেরিকান সামোয়ার ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএএস) ফিফায় অন্তর্ভুক্তি পেয়েছিল ম্যাচটি খেলার মাত্র তিন বছর আগে। সেই সময় ১ কোটি ৯০ লাখ অধিবাসীর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাত্র ৫৮ হাজার জনসংখ্যার আমেরিকান সামোয়া এমনিতেই পুঁচকে ছিল। আর ২০০২ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের আগে ফিফা জানিয়ে দেয়, শুধু আমেরিকান পাসপোর্টধারীরাই প্রশান্ত মহাসাগরের দেশটির জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন। প্রাথমিকভাবে ঘোষিত ২০ জনের স্কোয়াডে যোগ্য খেলোয়াড় বাছতে দল উজাড়, টিকেছিলেন শুধু সালাপু। তিনি বলেন, মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে যে কাউকে খুঁজে বের করতে হতো। আমরা হাইস্কুলের ছেলেদের বাছাই করেছিলাম। সালাপুর এ কথার ব্যাখ্যা দেবে পরিসংখ্যান। আমেরিকান সামোয়ার দলে ১৫ বছর বয়সী খেলোয়াড় ছিলেন তিনজন। দলের খেলোয়াড়দের গড় বয়স ছিল ১৮ বছর। সালাপু সেই দলে সবচেয়ে অভিজ্ঞ; তার বয়সই ছিল মাত্র ২০ বছর। ফলে এই দল নিয়ে প্রথম রাউন্ডে ফিজির কাছে ১৩-০ গোলের ব্যবধানে হেরেছিল আমেরিকান সামোয়া।  পরের ম্যাচে সামোয়ার কাছে হার ৮-০ গোলে। তৃতীয় ম্যাচে হারের ব্যবধান তো ছাড়িয়ে গেল সবকিছুকে ৩১-০! ওই ৩ ম্যাচে ৫২ গোল খাওয়ার পর টোঙ্গার কাছে ৫-০ গোলের হার আমেরিকান সামোয়ার কাছে জয়ের সমান হওয়ার কথা! খুব কাছে গিয়েও ১৯৯৮ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে উঠতে ব্যর্থ হওয়া অস্ট্রেলিয়া ২০০২ বিশ্বকাপে জায়গা পেতে মুখিয়ে ছিল। নিজেদের প্রমাণে জিদ কাজ করছিল অস্ট্রেলীয়দের মনে। আমেরিকান সামোয়ার আগে অস্ট্রেলীয়দের সেই জিদের অনলে পুড়েছিল টোঙ্গাও। পলিনেশিয়ান দেশটিকে ২২-০ গোলে গুঁড়িয়ে আমেরিকান সামোয়ার মুখোমুখি হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। সালাপু জানিয়েছেন, তার প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল কোনোভাবেই ২২-০ ব্যবধানের হার অতিক্রম করা যাবে না। গোল বন্যার ‘ফটক’ খুলেছিল ম্যাচের ৮ মিনিটে। অস্ট্রেলিয়ার ২২ বছর বয়সী স্ট্রাইকার আর্চি থম্পসন একাই করেছিলেন ১৩ গোল। ৮ গোল করেন ডেভিড জিদ্রিলিক। সালাপু জানিয়েছেন, পুরো ম্যাচে তিনি সতীর্থদের ‘সামনে এগোতে’ বলেছেন। কারণ তার সতীর্থরা বেশিরভাগ সময়েই রক্ষণভাগে জড়সড় হয়েছিলেন। এ কারণে বল দেখতে খুব সমস্যা হচ্ছিল সালাপুর।  ৮৬ মিনিটে অস্ট্রেলিয়ার পোস্টে একবারই আক্রমণ করতে পেরেছিল আমেরিকান সামোয়া। অস্ট্রেলিয়ার গোলকিপার মাইকেল পেটকোভিচের ম্যাচে সেটাই একমাত্র সেভ। সালাপু মনে করেন, অস্ট্রেলিয়া যেভাবে খেলেছে, সেটি অখেলোয়াড় সুলভ।  সালাপু জানিয়েছেন, তিনি অস্ট্রেলিয়ার কোচ হলে দল ২০ গোল করার পর খেলোয়াড়দের ‘ম্যাচ শেষ হওয়ার আগপর্যন্ত বলের দখল ধরে রেখে খেলতে’ বলতেন। হারের সেই স্মৃতি মনে সইয়ে নিতে সালাপুর প্রায় ১০ বছর লেগেছে। এ সময়ের ব্যবধানে আমেরিকান সামোয়া টানা ৩৮ ম্যাচ হেরেছে ২১৭ গোল ব্যবধানে। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে নেমেছে ২০৪তম স্থানেও (বর্তমানে ১৮৯)। ২০১০ সালে ডাচ বংশোদ্ভূত কোচ টমাস রনজেনকে কোচ করে আনে আমেরিকান সামোয়া। পরিস্থিতি এর পর ধীরে ধীরে পাল্টাতে থাকে। ২০১৪ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে ২০১১ সালের ২৩ নভেম্বর টোঙ্গার মুখোমুখি হয় আমেরিকান সামোয়া।  সালাপু জানিয়েছেন, সে ম্যাচে ‘আমাদের পুরো দল জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিল’। শেষ বাঁশি বাজার পর পূরণ হলো সেই প্রত্যাশাও। টোঙ্গাকে ২-১ গোলে হারায় আমেরিকান সামোয়া—ফিফা স্বীকৃত ম্যাচে সেটাই প্রথম জয় দলটির। সালাপুকে সেদিনও আবেগ সংবরণ করতে হয়েছিল। তিনি বলেন, খুবই ভালো লাগছিল। বারবার মনকে প্রবোধ দিয়েছি, ম্যাচে মনোযোগ ধরে রাখতে আবেগ সামলে রাখতে হবে।’  
ঘটনাবহুল ম্যাচে বার্সাকে কাঁদিয়ে সেমিতে পিএসজি
বায়ার্নকে টপকে ১২০ বছরের আক্ষেপ ঘুচালো লেভারকুসেন
রিয়াল-বার্সেলোনার কষ্টার্জিত জয়
মেসির ঝলকে মায়ামির জয়
লুটনকে উড়িয়ে শীর্ষে ম্যান সিটি
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে লুটন টাউনকে গোলবন্যায় ভাসিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠেছে ম্যানচেস্টার সিটি। শিরোপার দৌড়ে লুটনের বিপক্ষে ৫-১ গোলের বড় জয় পেয়েছে তারা।  সিটিজেনদের হয়ে মাতেও কোভাসিচ, আর্লিং হল্যান্ড, জেরেমি ডকু ও ইস্কো ভার্দিওল গোল করেন। অন্য গোলটি আত্মঘাতী। অন্যদিকে লুটনের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন রস বার্কলে। শনিবার (১৩ এপ্রিল) ইতিহাদ স্টেডিয়ামে লুটন টাউনকে আতিথ্য দেয় ম্যান সিটি। ঘরের মাঠ সফরকারীদের পাত্তাই দেয়নি গার্দিওলার শিষ্যরা। বড় জয়ের দিনে লুটনের ভুলে প্রথমার্ধের শুরুতেই এগিয়ে যায় ম্যানসিটি। গোলের জন্য হালান্ড শট নিলে হাশিওকার ভুলে বল জালে ঢুকে যায়। এরপর প্রথমার্ধে আরও বেশ কিছু সুযোগ পেলেও নিখুঁত ফিনিশিংয়ের অভাবে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি তারা। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় ম্যানসিটি। বিরতি থেকে ফিরে রীতিমতো গোলের পসরা সাজায় স্বাগতিকেরা। ম্যাচের ৬৪তম মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজের কাছ থেকে পাওয়া বলে লক্ষ্যভেদ করেন মাতেও কোভাসিচ। এরপর ১২ মিনিট পরে পেনাল্টি পায় সিটিজেনরা। স্পট কিক থেকে দলকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন হালান্ড। তবে ম্যাচের ৮১তম মিনিটে ব্যবধান কমান বার্কলে। ম্যাচের বাকি সময়ে আরও দুই গোলের রোমাঞ্চে শেষ পর্যন্ত ৫-১ ব্যবধানের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ম্যান সিটি। এই জয়ে ৩২ ম্যাচে ৭৩ পয়েন্ট সিটিজেনদের। অন্যদিকে একটি করে কম ম্যাচ খেলা লিভারপুল ও আর্সেনালের পয়েন্ট সমান ৭১। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে তালিকায় দুইয়ে মিকেল আর্তেতার শিষ্যরা।  
জরিমানা থেকে বাঁচলেন নেইমার
পরিবেশ সুরক্ষা আইন ভঙ্গ করে নিজের বাড়িতে লেক বানানোয় ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার নেইমারকে ৩ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়েছিল। এবার  ব্রাজিলের একটি আদালত তার সেই জরিমানা মওকুফ করেছে। সংবাদসংস্থা এএফপিকে বিচারক আদ্রিয়ানা রামোস ডি মেলো জানিয়েছেন, আদালতের রুল হাতে পেয়েছেন। নিজের বাড়িতে নেইমারের লেক বানানোর জন্য কোনো পরিবেশবিষয়ক লাইসেন্সের দরকার নেই। এর আগে, মানগারাতিবা শহর পরিষদ সচিবালয় নেইমারকে জরিমানা করেছিল। তাদের অভিযোগ ছিল, পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও নগর কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে বাড়ির পাশে কৃত্রিম লেক ও সৈকত নির্মাণ করা হয় এবং যা স্বচ্ছ পানির উৎসে বাধা সৃষ্টি করেছে। উল্লেখ্য, ব্রাজিলের শহর রিও ডি জেনেরিও থেকে ১৩০ কিলোমিটার দূরে পর্যটন এলাকা মানগারাতিবায় ২০১৬ সালে প্রায় ১০ হাজার বর্গমিটার আয়তনের বাড়িটি কেনেন  নেইমার। ওই বাড়িতে হেলিকপ্টার, স্পা ও জিম রয়েছে।
‘ফুটবলের উজ্জ্বল তারকারা অবশ্যই ফর্মে ফিরবে’
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এখনও খুব একটা ভালো পারফর্ম করতে পারেনি ফুটবলের উজ্জ্বল তারকারা। তবে রিয়াল মাদ্রিদ কোচ কার্লো আনচেলত্তির বিশ্বাস, অচিরেই কিলিয়ান এমবাপ্পেসহ অন্য তারকারা নিজেদের ফর্মে ফিরবেন। চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিত চারটি কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগের ম্যাচই দারুণ আনন্দ দিয়েছে সমর্থকদের। তবে বড় আসরে যে সমস্ত বড় তারকাদের দিকে চোখ ছিল, তারা কেউই সেভাবে নিজেদের প্রমাণ করতে পারেনি। পিএসজির তারকা স্ট্রাইকার এমবাপ্পে বার্সেলোনার বিপক্ষে ৩-২ গোলের পরাজয়ের ম্যাচটিতে হতাশ করেন। অন্যদিকে মাদ্রিদ ডিফেন্ডার এন্টোনিও রুডিগার ও ম্যানচেস্টার সিটি ফরোয়ার্ড আর্লিং হালান্ডও নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। মাদ্রিদের শীর্ষ গোলদাতা জুড বেলিংহাম সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে ৩-৩ গোলের ড্রয়ের ম্যাচটিতে ফর্মহীনতায় ভুগেছেন। এক সংবাদ সম্মেলনে মাদ্রিদ বসের মন্তব্য, ‘ধৈর্য ধরো, হতে পারে প্রথম লেগে নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি তারা। কিন্তু এখনও ম্যাচ বাকি আছে, তাদেরকে সময় দাও। অবশ্যই তারা স্বরূপে ফিরে আসবে।’ আনচেলত্তি আরও বলেন, ‘২০ বছর বয়সী বেলিংহাম তার ভূমিকা যথাযথভাবে পালন করে চলেছেন। যদিও মৌসুমের শুরুতে তিনি যেভাবে গোল পেয়েছেন, সেই ধারা আর ধরে রাখতে পারেননি।’ মাদ্রিদের হয়ে সব ধরনের প্রতিযোগিতায় এবার ২০ গোল করেছেন বেলিংহাম। তবে শেষ ১৩ ম্যাচে অবশ্য করেছেন মাত্র তিন গোল।  আনচেলত্তির ভাষ্য, ‘বেলিংহামের গোলের ধারা কিছুটা কমে গেছে, এটা বিস্ময়কর। কিন্তু সে নিজের দায়িত্বটুকু পালন করে চলেছে। মাঠে বেলিংহামের ভূমিকা একজন মিডফিল্ডারের। কিন্তু ফুটবলীয় ধারায় বলা যায় সে দারুণভাবে নিজের দায়িত্ব পালন করেছে, কিছুই সে মিস করেনি। গোল করেছে, সতীর্থদের দিয়ে গোল করিয়েছে।’
আটালান্টার কাছে বিধ্বস্ত লিভারপুল
হঠাৎই ছন্নছাড়া লিভারপুল। ইংলিশ লিগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে ড্রয়ের পর এবার ইউরোপা লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে ইতালিয়ান ক্লাব আটালান্টার কাছে মানতে হলো বড় পরাজয়। পরাজয়টা আবার এসেছে লিভারপুলের ঘরের মাঠেই। দলটাকে যেন চিনতে পারছেন না স্বয়ং কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপও। যদিও প্রথম থেকে লিভারপুলই বেশি সুযোগ সৃষ্টি করে। কিন্তু ভাগ্য অনুকূলে না থাকায় গোল পায়নি দলটি। উল্টো ম্যাচের ৩৯তম মিনিটে গোল পায় আটালান্টা। কাঙ্ক্ষিত গোলটি করেন জিয়ানলুকা স্কামাকা।  গোল হজম করে যেন খেই হারিয়ে ফেলে লিভারপুল। সে সুযোগে ম্যাচের ৬০তম মিনিটে দ্বিতীয় গোল আদায় করে নেয় স্কামাকা। আটালান্টা এগিয়ে যায় ২-০ গোলে।  এরপর ম্যাচের ৮৩তম মিনিটে মারিও পাসালিচ গোল করলে ৩-০ গোলের বড় জয় পায় ইতালিয়ান ক্লাবটি। এ জয়ে সেমিফাইনালের দিকে এক ধাপ এগিয়ে গেল আটালান্টা।    ইউরোপা লিগের আরেক ম্যাচে ইতালিয়ান জায়ান্ট এসি মিলানেরও নিজ মাঠে পরাজয় মানতে হয়েছে। নিজ দেশের এ এস রোমার বিপক্ষে তাদের পরাজয় ১-০ গোলের। ম্যাচের ১৭তম মিনিটে ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন জিয়ানলুকা মানচিনি।  ইউরোপের ক্লাব ফুটবলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মর্যাদার এ টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে একই দিনে আরও দুটি ম্যাচ হয়। যেখানে ফ্রান্সের মার্সেইকে ২-১ গোলে হারিয়েছে পর্তুগালের বেনফিকা। আরেক ম্যাচে ইংলিশ ক্লাব ওয়েস্ট হাম ইউনাইটেডের বিপক্ষে জার্মান ক্লাব লেভারকুসেনের জয় ২-০ গোলের।  ইউরোপা কাপের সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ১৯ এপ্রিল ফিরতি লেগের ম্যাচে মুখোমুখি হবে দলগুলো।
নেইমারকে গ্যালারিতে বসিয়ে আল-হিলালের ট্রফি উদযাপন
দৃশ্যটা হয়তো অন্যরকমও হতে পারত। আল-হিলালের জার্সি গায়ে গোল উৎসবে মাঠজুড়ে ছুটছেন ব্রাজিলিয়ান ড্রিবলিং স্পেশালিস্ট নেইমার জুনিয়র। এবার ইনজুরির কারণে গ্যালারিতে বসে খেলা উপভোগ করলেন নেইমার। তবে ম্যাচ শেষে অংশ নিয়েছেন ট্রফি-উৎসবে। বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) আবুধাবির মোহাম্মদ বিন জায়েদ স্টেডিয়ামে সৌদি সুপার কাপের ফাইনালে আল-ইত্তিহাদের মুখোমুখি হয় আল-হিলাল। শুরু থেকেই আধিপত্য দেখাতে থাকে ব্লু ওয়েভ। ম্যাচের পঞ্চম মিনিটে নিজেদের শক্তির জানান দেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ম্যালকম। আল-ইত্তিহাদের জাল খুঁজে নিয়ে হিলালকে প্রথম লিড এনে দেন তিনি।  তবে ম্যাচের ২১তম মিনিটে সমতায় ফেরে আল-ইত্তিহাদ। আবদেররাজ্জাক হামাদাল্লাহ গোল করে সমতায় ফেরান সৌদি প্রো লিগে তালিকায় চারে থাকা দলটিতে। ম্যাচের ৪৪তম মিনিটে আবারও এগিয়ে যায় আল-হিলাল। সালেম আল দাওসারি গোলে লিড পায় আল হিলাল। তার গোলে ২-১ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় রিয়াদের ক্লাবটি। বিরতি থেকে ফিরে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে খেলতে থাকে দু’দল। ম্যাচের ৮৯তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলের দেখা পান ম্যালকম। আর যোগ করা সময়ে গোল করে ইত্তিহাদের কফিনে শেষ পেরেক ঠোকেন আল দাওসারি।  আর তার গোলেই ৪-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে শিরোপা উৎসবে মাতে আল-হিলাল। এই ম্যাচ জয়ের ফলে আল হিলালের টানা জয়ের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪-এ।  
সেমির পথে এগিয়ে গেল আতলেতিকো
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল আতলেতিকো মাদ্রিদ। ঘরের মাঠে শুরু থেকেই সফরকারীদের চেপে ধরেছিল আতলেতিকো। ফলে শুরুর দিকেই এগিয়ে গিয়েছিল দিয়েগো সিমিওনের শিষ্যরা। তবে রক্ষণের ভুল এড়িয়ে প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখতে পারতো ডর্টমুন্ড। বুধবার (১১ এপ্রিল) ওয়ান্দা মেত্রোপলিতানোয় প্রথম লেগে ২-১ গোলের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ডর্টমুন্ড। ঘরের মাঠে শুরুতেই ডর্টমুন্ডকে চেপে ধরে আতলেতিকো। এতে ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই এগিয়ে যায় স্বাগতিক দল। তবে এজন্য সফরকারীদের রক্ষণভাগই দায়ী।  গোলরক্ষকের দেওয়া পাস চাপে নাগালে রাখতে পারেননি ইয়ান মাটসেন। সুযোগ লুফে নিয়ে দলকে এগিয়ে দেন বিশ্বকাপজয়ী তারকা রদ্রিগো ডি পল। এরপর পিছিয়ে পড়ে বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ায় সফরকারীরা। বিপরীতে একের পর এক আক্রমণ করে আতলেতিকো। ম্যাচের ২৫ মিনিটের মধ্যেই ৭টি শট নেয় সিমিওনের শিষ্যরা; যার তিনটিই লক্ষ্যে ছিল। প্রবল আক্রমণের একপর্যায়ে দ্বিতীয় গোলেরও দেখা পায় স্বাগতিকরা। ম্যাচের ৩২তম মিনিটে আতোয়া গ্রিজমানের বাড়িয়ে দেওয়া পাস থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন স্যামুয়েল লিনো। বিরতি থেকে ফিরে বেশ কয়েকটি আক্রমণ শাণায় ডর্টমুন্ড। তবে কাঙ্ক্ষিত গোল পেতে ব্যর্থ হয় তারা। এরপর ম্যাচের ৮১তম মিনিটে ডর্টমুন্ডের হয়ে গোল করে ব্যবধান কমান ক্যানসারজয়ী ফুটবলার সেবাস্তিয়ান হলার। শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে আতলেতিকো।
প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে পিএসজিকে হারাল বার্সা
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে পিএসজির মাঠে রোমাঞ্চকর জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। শুরুর দিকে কোণঠাসা থাকলেও কাতালনাদের জাগিয়ে তুলেন ব্রাজিলিয়ান রাফিনিয়া। তার জোড়া গোলেই মূলত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। বুধবার (১১ এপ্রিল) পার্ক দেস প্রিন্সেসে প্রথম লেগে ৩-২ গোলে জয় তুলে নিয়েছে কাতালানরা।  ম্যাচের শুরুটা ছন্দহীনভাবে করলেও ধীরে ধীরে দাপট দেখাতে থাকে বার্সা। অন্যদিকে বার্সার রক্ষণে শুরু থেকেই আক্রমণ চালায় লুইস এনরিকের শিষ্যরা। তবে কাতালানদের গোলরক্ষক মার্ক আন্দ্রে টের স্টেগানের নৈপুণ্যে ফরাসি জায়ান্টদের বেশ কয়েকটি সুযোগ নষ্ট হয়। তবে চাপ কাটিয়ে দ্রুতই চেনা ছন্দে ফেরে জাভির দল। ম্যাচের ৩৭তম মিনিটে রাফিনহার গোলে লিড নেয় বার্সা। লামিনে ইয়ামালের দুর্দান্ত শট ফিরিয়ে দিলেও দলকে বিপদমুক্ত করতে পারেননি পিএসজি গোলরক্ষক দোনারুম্মা। সুযোগে বল পেয়ে লক্ষ্যভেদ করেন ব্রাজিলিয়ান এই তারকা। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়া পিএসজি দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সমতায় ফেরে। বিরতি থেকে ফিরে পিএসজিকে সমতায় ফেরান উসমান ডেম্বেলে।  এরপর লিড নিতেও সময় নেয়নি ফরাসি জায়ান্টরা। ফাবিয়ান রুইজের বাড়িয়ে দেওয়া বলে ম্যাচের ৫১তম মিনিটে ফরাসি চ্যাম্পিয়নদের এগিয়ে নেন ভিতিনহা।  তবে ম্যাচের ৬২ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল আদায় করে বার্সেলোনাকে সমতায় ফেরান রাফিনহা। কাতালানদের হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেন। ম্যাচের ৭৭ মিনিটে তার গোলে জয় নিশ্চিত করে জাভির দল। উল্লেখ্য, আগামী মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) বার্সার ঘরের মাঠে দ্বিতীয় লেগের ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।