• ঢাকা রোববার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১
logo
মালচিং পদ্ধতিতে মরিচ চাষে সাফল্য
মিঠামইনে ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে নিজ ঘর থেকে কামাল হোসেন (৪৬) নামে এক ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৩১ মে) বিকেলে কিশোরগঞ্জের হাওর বেষ্টিত মিঠামইন উপজেলার কেওয়ারজোড় ইউনিয়নের কেওয়ারজোড় গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত ব্যবসায়ী কামাল হোসেন কেওয়ারজোড় গ্রামের মৃত হারিছ উদ্দিন ভূঁইয়ার ছেলে। শুক্রবার বিকেলে নিজ ঘর থেকে মিঠামইন থানা পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহ সন্ধ্যায় মিঠামইন থানায় নিয়ে আসা হয়। নিহতের ছোট ভাই জামাল হোসেন বলেন, আমার ভাই কামাল হোসেন ব্যবসায়িক কারণে ভৈরব ও কিশোরগঞ্জে বসবাস করতেন। সদ্য সমাপ্ত মিঠামইন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরে কেওয়ারজোড় গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। জামাল হোসেন আরও বলেন, বুধবার নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থী বিজয়ী হওয়ায় আমার ভাই বৃহস্পতিবার রাতে তার সমর্থকদের জন্য স্থানীয় বাজারে খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করেন। পরে রাতে বাসায় ফিরে মায়ের সঙ্গে কথা বলে নিজ ঘরে ঘুমাতে যান। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে ঘুম থেকে না ওঠায় অনেক ডাকাডাকি করা হয়। এক পর্যায়ে কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে দেখা যায়, আড়ার সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে ঝুলছে। এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান হাবিব। তিনি বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ হাসাপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। রিপোর্ট আসলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইটনায় বাড়ির সীমানা নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১
অষ্টগ্রামে ট্রলিতে খেলাধুলায় প্রাণ গেল শিশুর
১৬ বছর ধরে টিনশেড ঘরে প্রাথমিক বিদ্যালয়
অষ্টগ্রামে ইটভাটাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা
অষ্টগ্রাম ট্রাজেডি দিবস আজ
‘কাকা-কাকি, পিসি আর পিসতুতো ভাইদের সাথে হাস্যরসে সময় কাটছিল বর কাজল কাকার, ছিলেন খোশমেজাজে। লঞ্চে ৮৫ জন বরযাত্রী। হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ে ডুবতে বসা লঞ্চের কাঁচ ভেঙে বাহিরের রেলিংয়ে আমি আটকে পড়ি; তারপর পানিতে। পরে সাঁতরে তীরে উঠলেও, সেদিনের ঘটনার ভয়াবহতা কাটেনি আজও। পরিবারের ১৭ জনসহ ৫২ জনকে হারিয়েছি সেদিন’। কথাগুলো এভাবেই বলছিলেন অষ্টগ্রাম ট্রাজেডি থেকে বেঁচে যাওয়া আশীষ দেবনাথ। তিনি ২০০৩ সালে ২১ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার পানিশ্বর এলাকায় কালবৈশাখী ঝড়ে বরযাত্রীবাহী লঞ্চ ডুবির ঘটনায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে আসা রামকৃষ্ণ পরিবারের ছোট সন্তান। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২১ বছর আগে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলা সদরের ব্যবসায়ী প্রয়াত রামকৃষ্ণ দেবনাথ তার ছোট ভাই কাজল দেবনাথের বিয়ে ঠিক করেন কুমিল্লায়। কনের বাড়ি যেতে আশুগঞ্জে প্রস্তুত রাখা ছিল বাস। অষ্টগ্রাম থেকে ৮৫ জন বরযাত্রী নিয়ে এমভি মজলিসপুর লঞ্চে রওনা হন তারা। বিকেল ২টা ৩০ মিনিটে মেঘনা নদীর খলাপাড়া ও পানিশ্বর এলাকার মধ্যে কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায় বরযাত্রীবাহী লঞ্চটি। এতে বর কাজল দেবনাথ, রামকৃষ্ণ ও তার পরিবারের ১৭ জনসহ ৫২ জন হিন্দু ও মুসলিম বরযাত্রীর মৃত্যু হয়। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান ৩৩ জন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর ও তার ভাই-বোন, ভাতিজা, বোন জামাই, ভাগ্নে ও আত্মীয় স্বজনরা ছিলেন সে লঞ্চে। টানা ৫দিন পর মরদেহ উদ্ধার শেষে এমভি মজলিসপুর লঞ্চটি উদ্ধার করে অভিযান সমাপ্তের ঘোষণা দেয় সরকার। এ সময় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন তৎকালীন ভূমি প্রতিমন্ত্রী উকিল আব্দুস সাত্তার, বিরোধী দলীয় উপনেতা অ্যাড. আব্দুল হামিদ এমপি, মুফতি আমিনী এমপিসহ কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। ভয়াল এ দিন স্মরণে নিহতদের পরিবারে তাদের আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয় প্রতি বছর। এ ঘটনায় স্বজন হারানো অষ্টগ্রাম সদর ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু বলেন, অষ্টগ্রামের ইতিহাসে এমন মর্মান্তিক ঘটনা আর ঘটেনি। সেদিন আমার ছোট ভাই সৈয়দ সোহাগকে হারিয়েছি। আমি শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।
অষ্টগ্রামে খালের পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে বাড়ির সামনে খেলতে গিয়ে খালের পানিতে ডুবে বায়েজিদ (৮) ও জাহিদ (৭) নামে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলো কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার খয়েরপুর-আব্দুল্লাপুর ইউনিয়নের কদমচাল পশ্চিম পাড়ার মোহন মিয়ার ছেলে জাহিদ মিয়া (৭) ও সাদেক মিয়ার ছেলে বায়েজিদ মিয়া (৮)। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২০ এপ্রিল) বেলা ২টার সময় বায়েজিদ ও জাহিদ দু’জন মিলে বাড়ির সামনে খেলতে গিয়ে হঠাৎ সবার অগোচরে খালের পানিতে ডুবে নিখোঁজ হয়। অনেকক্ষণ শিশুদের না দেখতে পেয়ে স্বজনরা খোঁজ করতে গিয়ে দেখেন খালের পানিতে ডুবে রয়েছে দুই শিশু।  পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কদমচাল বাজারের এক চিকিৎসকের নিকট নিয়ে গেলে তিনি তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন খয়েরপুর-আব্দুল্লাপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন এসডো।
বিশ্বের সর্ববৃহৎ আলপনার উদ্বোধন
দু’পাশে বিস্তীর্ণ হাওরে সবুজ সমারোহ, তার মাঝে পিচঢালা কালো সড়কে বাহারি রঙের মনোমুগ্ধ বাঙালি সংস্কৃতির আলপনায় সেজেছে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চল। উদ্বোধনের পর হাজারও মানুষের ভিড়ে মুখরিত বিশাল আলপনার সড়ক। রোববার (১৪ এপ্রিল) সকালে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন জিরোপয়েন্টে ১৪ কিলোমিটার আলপনার উদ্বোধন করেন ডাক ও তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক, জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান, মিঠামইন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ এরশাদ মিয়া প্রমুখ। বাঙালি সংস্কৃতি ও সৃষ্টিশীলতার বহিঃপ্রকাশে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ আলপনার আয়োজন করে, বাংলালিংক, এশিয়াটিক ও বার্জার যৌথভাবে। বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও সৃষ্টিশীলতাকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে ‘আলপনায় বৈশাখ ১৪৩১’-এ বরণে ১৪ কিলোমিটার রাস্তাজুড়ে আলপনা আঁকা হয়েছে।  ১৬ কিলোমিটার সড়কের ১৪ কিলোমিটার সড়কচিত্র অঙ্কনে ৬৫০ জন চিত্রশিল্পী, ২০০ ভলেন্টিয়ার, তিন ধরনের ৪০০ ব্রাশ বা তুলির আচরে, ১৬ হাজার লিটার লাল, নীল, বেগুনি, হলুদসহ হরেক রঙে সাজানো হয়েছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ রোডচিত্র। এ বিষয়ে ময়মনসিংহ নান্দাইল উপজেলার জহির আহমেদ বলেন, দুদিন ধরে ফেসবুকে পোস্ট দেখে মুগ্ধ হয়েছি। তাই ছেলে মেয়ে ও স্ত্রীসহ বেড়াতে এলাম। সত্যি বলছি এতো প্রাণবন্ত সৌন্দর্য এর আগে দেখেনি। সমাজকর্মী মুজাহিদ সরকার বলেন, হাওরে এই বছর বৈশাখে ভিন্নমাত্রার আনন্দ হচ্ছে। আলপনা ঘিরে তৈরি হয়েছে উৎসব। অন্যদিকে হাওরে চলতি বর্ষায় পর্যটক বাড়বে। হাওরে পর্যটক বাড়লে হোটেল-মোটেল তৈরি হবে। এতে নয়া কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।
বিশ্বের দীর্ঘতম আলপনা আঁকা হচ্ছে হাওরে
বাঙালির আবহমান ও সমৃদ্ধশালী সংস্কৃতিকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার লক্ষে অষ্টমবার কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে আয়োজিত হচ্ছে ‘আলপনায় বৈশাখ ১৪৩১' উৎসব। আলপনার রঙে রাঙানো হচ্ছে মিঠামইন-অষ্টগ্রাম হাওরের ১৪ কিলোমিটার সড়ক। শুক্রবার (১২এপ্রিল) বিকেল ৫টায় কিশোরগঞ্জের মিঠামইন জিরোপয়েন্ট এলাকায় আলপনা আঁকার উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি আসাদুজ্জামান নূর এমপি। কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহমদ তৌফিকের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার প্রধান (ডিবি) হারুন অর রশিদ; কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ, জেলা পরিষদ প্রশাসক এড. জিল্লুর রহমান, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ, মিঠামইন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ এরশাদ মিয়া, বরেণ্য শিল্পী মো. মনিরুজ্জামান; বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের চিফ অপারেটিং অফিসার ও ডিরেক্টর মো. মহসিন হাবিব চৌধুরী ও বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশনস লিমিটেডের চিফ হিউম্যান রিসোর্স অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অফিসার মনজুলা মোরশেদ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। বক্তারা বলেন, বিশ্বরেকর্ড গড়ার অদম্য এই প্রচেষ্টা দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে, সম্প্রীতির আরও সুদৃঢ় হবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ গ্রিনেজ বুক ওয়াল্ডে, বিশ্বের সর্ববৃহৎ আলপনা'র স্বীকৃতি পাবে, কিশোরগঞ্জ হাওরাঞ্চল বিশ্ববাসীর নিকট নতুনভাবে পরিচিত হবে। পর্যটন শিল্প আরো বিকশিত হবে। কিশোরগঞ্জ হাওরাঞ্চলে বাঙালি লোকসংস্কৃতি তুলে ধরতে মিঠামইন জিরোপয়েন্ট থেকে অষ্টগ্রাম জিরোপয়েন্ট পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার সড়কে ৬৫০জন শিল্পী সর্ববৃহৎ আলপনা উৎসব ‘আলপনায় বৈশাখ ১৪৩১’ শুরু করেছেন। আগামী ১৪ এপ্রিল (পহেলা বৈশাখ) মিঠামইনে ১৪ কিলোমিটার আলপনা আঁকা পরিদর্শন করবেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।  
হাওরে চুরি ৩ বৈদ্যুতিক টান্সফর্মার, ৪ চোর গ্রেপ্তার
কিশোরগঞ্জের হাওরবেষ্টিত অষ্টগ্রামের হাওরে সেচপাম্পের তিনটি বৈদ্যুতিক টান্সফর্মার চুরির ঘটনায় চার চোরসহ টান্সফর্মারের খণ্ডাংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২২ মার্চ) ইটনা, অষ্টগ্রাম ও করিমগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পৃথক সময়ে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন ইটনা উপজেলা সদর ইউনিয়নের পশ্চিম গ্রামের আওলাদ হোসেনের ছেলে মো. সায়েম (২২), একই ইউনিয়নের বড়হাটির গ্রামের সোনা উল্লাহ ছেলে মাইনুল ইসলাম (২৬), নয়াহাটি গ্রামের সিজিল ঠাকুরের ছেলে মো. লিটন ঠাকুর (২৫) ও কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার তেরহাসিয়া গ্রামের শামসুদ্দিনের ছেলে জুয়েল মিয়া (৩৭)। থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি অষ্টগ্রাম উপজেলার কাস্তুল ইউনিয়নের হাওরে একটি সেচপাম্পের তিনটি টান্সফর্মার চুরি হয়। এ ঘটনায় বুধবার মামলা দায়ের হলে উদ্ধার অভিযান শুরু করে অষ্টগ্রাম থানা পুলিশ। শুক্রবার গোপন খবরের ভিত্তিতে একাধিক স্থানে অভিযান চালিয়ে ইটনা উপজেলার বড়িবাড়ী ফেরীঘাট থেকে চুরি হওয়া বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মারের ৬টি তামার কয়েল ও চোরাই পণ্য পরিবহনে জড়িত ব্যাটারীচালিত একটি অটোরিকশা এবং অষ্টগ্রামের ভাতশালা হাওরের ভুট্টাখেত থেকে ট্রান্সফর্মারের ৩টি খালি টাংকি (ঢাকনাসহ) উদ্ধার ও জব্দ করা হয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, বুধবার মামলা দায়েরের পর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
জলেভাসা স্কুলে চলে শিশু শিক্ষার হাতেখড়ি
চারদিকে হাওরবেষ্টিত দুর্গম লোকালয় নিকলী উপজেলার ছাতিরচর গ্রাম। ভাঙন কবলিত এ গ্রামের পাশ দিয়ে বইয়ে চলা ঘোড়াউত্রা নদীর তীরে সাজানো গোছানো একাধিক নৌকা ও লঞ্চ। এসব লঞ্চে নেই কোনো যাত্রী, তাড়া নেই ছেড়ে যাওয়ার। দূর থেকে ভেসে আসে শিশুদের পাঠাদানের শব্দ। নৌকার ছাঁদে চলছে শিক্ষার্থীদের সমাবেশে ও জাতীয় সঙ্গীত। কাঠের সিঁড়ি মাড়িয়ে নৌকায় উঠতেই দেখা মিলে লাল-সবুজের পোশাকের সুবিধা বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা নিচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষার হাতেখড়ি। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘পপি’ এর এই ভাসমান স্কুল প্রকল্পের মাধ্যমে গত ১৫ বছরে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেছে এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার হাওরাঞ্চলের অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াতে গত ১৫ বছর ধরে ভাসমান স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা সুবিধা দিচ্ছে ‘পপি’। উপজেলার ছাতিরচর ও সিংপুর গ্রাম সংলগ্ন ঘোড়াউত্রা নদীতে ৭টি লঞ্চ ও নৌকায় দেওয়া হচ্ছে শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার হাতেখড়ি। বিনামূল্যে দেওয়া হয় বই, খাতা, কলম, পোশাকসহ সকল শিক্ষা উপকরণ এবং প্রতিদিন দুপুরে দেওয়া হয় টিফিন। এতে প্রাথমিক শিক্ষায় শিশুদের ‘ঝরে পড়া’ রোধে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে ভাসমান এ স্কুল। শিক্ষা সহায়ক উপকরণে সাজানো লঞ্চের ভেতরে সারি সারি বেঞ্চে বসে পাঠ নেয় শিশুরা। পড়াশোনার পাশাপাশি রয়েছে খেলাধুলা ও বিনোদন চর্চার ব্যবস্থা। সুপেয় পানি ও গরমে পাকা ব্যবহারের ব্যবস্থা। শিশুর মানসিক ও শারীরিক বিকাশে স্কুলের ভেতরে রয়েছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও চিকিৎসক। নিয়মিত শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ২৫ ধরনের ওষুধ বিতরণ করা হয় বিনামূল্যে। চলতি শিক্ষাবর্ষে ৭টি ভাসমান স্কুলে প্রাক্ প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৩৩০ জন শিক্ষার্থী ও ৯ জন শিক্ষক রয়েছেন। একজন প্যারামেডিক চিকিৎসক, ১৪ জন মাঝি ও মাঝির সহকারী দায়িত্ব পালন করেন এসব নৌকার। ২০০৯ সালে ‘পপি’ ভাসমান স্কুল ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র প্রকল্প চালু হয়। ইতিমধ্যে এ শিক্ষাতরী থেকে ১২০০ সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে প্রাথমিক শিক্ষা সেবা প্রদান করা হয়েছে। সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা কারিকুলামে এ ভাসমান স্কুলে প্রত্যেক শ্রেণিতে ৫০ জন শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন পাঠদান করান দুজন শিক্ষক। শুষ্ক মৌসুমে নদীর তীরে আর বর্ষায় ভাসমান পানিতে ভেসে থাকা এ শিক্ষাতরীতে পাঠদান চলে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত।  এ দিকে ‘পপি’ ভাসমান স্কুল ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের চিকিৎসক ফুলমালা আক্তার বলেন, শিক্ষার্থীদের দৈনিক সমাবেশ, জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় স্কুলের ছাঁদে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য নৌকায় রয়েছে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা। এছাড়াও ‘পপি’ ভাসমান স্কুল ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, অন্যান্য স্কুলের মতোই ভাসমান স্কুলে ব্যাপক আনন্দময় পরিবেশে শিক্ষার্থীরা মেধাবী ও মনোযোগী লেখাপড়ায়। ৬ বছর লেখাপড়া শেষ করে ‘পপি’র উদ্যোগে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য সহায়তা করা হয়। তিনি আরও বলেন, জলে ভাসা এ স্কুলের সুফল পেয়েছে অনেক হতদরিদ্র শিক্ষার্থী এখন দেশের বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছেন। কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন উপজেলায় শিক্ষাবান্ধব এ জলেভাসা ‘স্কুল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র’ সংখ্যায় আরো বেশি করে চালুকরণের দাবি করেছেন স্থানীয়রা।