• ঢাকা শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
logo
র‍্যাব হেফাজতে নারীর মৃত্যু, আরও ৩ সদস্য প্রত্যাহার
র‍্যাব হেফাজতে নারীর মৃত্যু: ক্যাম্প কমান্ডার প্রত্যাহার
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে র‍্যাব ক্যাম্পে নারীর মৃত্যুর ঘটনায় ক্যাম্প কমান্ডার ফাহিম ফয়সালকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও কয়েকজন বদলি হতে পারে বলে জানা গেছে।  রোববার (১৯) র‍্যাব হেডকোয়ার্টার থেকে তাকে প্রত্যাহারের আদেশ দেওয়া হয়। আজ থেকে আদেশটি কার্যকর হবে। কমান্ডার ফাহিম ফয়সালকে বদলির বিষয়ে জানতে চাইলে র‍্যাবের মুখপাত্র ও কমান্ডার আরাফাত ইসলাম বলেন, বদলি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। এই ঘটনার সঙ্গে নান্দাইলের ওই নারীর মৃত্যুর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।  প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার রাতে র‍্যাবের ভৈরব ক্যাম্পে সুরাইয়া খাতুন (৫২) নামের এক নারী আসামির মৃত্যু হয়। জানা যায়, তিনি তার পুত্রবধূ রেখা আক্তার হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইলে। র‍্যাব হেফাজতে মৃত্যুর দুদিনের মাথায় ওই ক্যাম্পের কমান্ডারকে বদলি করা হলো।  রেখা আক্তার হত্যা মামলার আসামি ছিলেন এই সুরাইয়া খাতুন ও তার স্বামী আজিজুল ইসলাম। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন এসআই নাজমুল হাসান। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দুই আসামিকে নান্দাইল মডেল থানায় ডেকে নেন এসআই নাজমুল। সেখানে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে কিছুক্ষণ পরে তাদের ছেড়ে দেন।  থানার সামনে আসতেই র‍্যাবের একটি দল সুরাইয়াকে আটক করে ভৈরব ক্যাম্পে নিয়ে যায়। এরপর শুক্রবার সকালে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক সুরাইয়া খাতুনকে মৃত ঘোষণা করে।  এ মৃত্যুর ঘটনায় সুরাইয়া খাতুনের স্বামী আজিজুল ইসলাম র‍্যাবের হেফাজতে স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। 
তাপপ্রবাহে এক বিদ্যালয়ের ৩০ শিক্ষার্থী অসুস্থ
অষ্টগ্রামে ট্রলিতে খেলাধুলায় প্রাণ গেল শিশুর
১৬ বছর ধরে টিনশেড ঘরে প্রাথমিক বিদ্যালয়
টানা ১৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ৩ উপজেলা
মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুপক্ষের মারামারি, আহত ৫০
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছেন।  মঙ্গলবার (৭ মে) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের আনন্দ বাজারে আগানগর গ্রামের দক্ষিণপাড়া এলাকার সরুল্লা বাড়ি ও উত্তরপাড়া এলাকার আফিল উদ্দিন মিয়ার বাড়ি ও ব্যাপারি বাড়ির লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। জানা যায়, জিল্লুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজের ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে ও বাজারে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের ৫০ জন আহত হন। জানা যায়, উপজেলার আগানগর গ্রামের দক্ষিণ পাড়া এলাকার সরুল্লা বাড়ি ও উত্তর পাড়া এলাকার আফিল উদ্দিন মিয়ার বাড়ি ও ব্যাপারি বাড়ির লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবত জিল্লুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজের ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের পাশে আনন্দ বাজার নামে একটি বাজার রয়েছে। এ বাজারে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার নিয়েও দুপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলমান রয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে ড্রেজার পাইপ চুরির বিষয় নিয়ে দুপক্ষের লোকজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একই সময় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে শুক্কর মিয়া ও বিএনপির বহিষ্কৃত প্রার্থীর পক্ষে আক্কাছ মিয়া এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। এ সময় এই ২ বংশের লোকজন মুখোমুখি হলে তাদের মধ্যে আবার বাগবিতণ্ডা হয়। পরে এক পর্যায়ে দুপক্ষের লোকজন দা, বল্লম, লাঠি ও ইটপাটকেল নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয়পক্ষের ৫০ জন আহত হন। যদিও ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক রওশন আরা রিপা বলেন, সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বিভিন্নভাবে আহত রোগী আসতে থাকে। ৩০ জন আহত রোগী দেখা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪ জনকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত ৬ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে ভৈরব থানার ওসি মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। দুপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অষ্টগ্রামে ইটভাটাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে ‘ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন’ লংঘনের অপরাধে মেসার্স তাবিয়া ব্রিকসকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার দেওঘর ইউনিয়নের আলীনগর এলাকায় ‘মেসার্স তাবিয়া ব্রিকস’ নামের ওই ইটভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মেহেদী হাসান। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেসার্স তাবিয়া ব্রিকস ইটভাটার বিরুদ্ধে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি ধারা লঙ্ঘন করার অভিযোগ উঠেছে। আইন লঙ্ঘন করে দীর্ঘদিন ধরে ইট তৈরি ও ইটভাটা পরিচালনা করছিল মেসার্স তাবিয়া ব্রিকস। বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তের নজরে এলে সোমবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।  এ সময় মেসার্স তাবিয়া ব্রিকসকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করে ‘ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রন) আইন’ মেনে ইটভাটা পরিচালনার নির্দেশ দেন আদালত। পরে অষ্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ইট ভাটার আগুন নিভিয়ে দেয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তর, সহকারী পরিচালক মো. আবদুল্লাহ আল মতিন, পরিদর্শক রাখিবুল হাসানসহ জেলা পুলিশ লাইন্সের পুলিশ বাহিনীর সদস্য ও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা। কিশোরগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তর, সহকারী পরিচালক মো. আবদুল্লাহ আল মতিন জানান, আইন লঙ্ঘন করে ইটভাটা পরিচালনা করার অপরাধে জরিমানা করা হয়েছে। আগামীতে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে। 
ভৈরবে বোরো ধানের বাম্পার ফলন, শঙ্কায় কৃষক
চলতি বছরে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে বাজার দাম নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা। তারা বলছেন, ফলন ভালো হয়েছে। তবে বাজারে দাম কম থাকায় পড়তে হবে লোকসানের মুখে।  স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভৈরব উপজেলার জোয়ানশাহী হাওরসহ বিস্তৃর্ণ ফসলি জমি রয়েছে। এর মধ্যে সাদেকপুর ও শ্রীনগর ইউনিয়নের জোয়ানশাহী হাওর এবং আগানগরের ডিগচর অন্যতম। চলতি বছরে ভৈরবে ৬ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।  আবাদকৃত জমির মধ্যে আগাম জাতের বিআর ২৮, ৮৮ ও বঙ্গবন্ধু ধান অন্যতম। তবে, ২৯ ধানের চাষাবাদ বেশি। স্থানীয় কৃষি অফিসের সহযোগিতায় এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যে হাওরের আগাম জাতের ১০ ভাগ ফসলি জমির ধান কাটা হয়েছে।  কৃষকদের দাবি, ধান উৎপাদনে সেচ, শ্রমিকের মজুরি, সার ও কীটনাশকের দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষকের উৎপাদন খরচও বেড়েছে। কিন্তু উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারে ধানের দাম কম। ফলে লোকসান দিয়েই তাদেরকে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে। ধানের মোকাম ঘুরে দেখা গেছে, মোটা বোরো ধান ৭৪০ টাকা থেকে ৭৫০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে, এখনও বাজারে চিকন ধানের আমদানি শুরু হয়নি। সবমিলিয়ে মুখে হাসি নেই কৃষকের। অথচ, সরকার এ বছর প্রতি কেজি ধান ৩২ টাকা নির্ধারণ করেছে। সে হিসেবে প্রতি মণ ধান ১ হাজার ২৮০ টাকা দাম পড়ে। ফলে ধানের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষক। উপজেলার জোয়ানশাহী হাওরের কৃষক ছানু মিয়া বলেন, জমিতে ফলন ভালো হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে আশা করি ফসল ঘরে তুলতে পারব।  আবুল মিয়া নামে আরেক কৃষক বলেন, জমি চাষাবাদ, সেচ, শ্রমিকের মজুরি, সার ও কীটনাশক ব্যবহারে যে হারে উৎপাদন খরচ পড়ে, সে হিসেবে আমরা ন্যায্য দর পাই না। তাই, কৃষকরা যেন ধানের ন্যায্যমূল্য পায়, সেদিকে দৃষ্টি দেওয়ার দাবি করছি।  এদিকে হাওরের কৃষকদের দাবির প্রেক্ষিতে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি স্লুইচ গেটসহ কাচা বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হারুন অর রশীদ ভূঁইয়া। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকলিমা বেগম বলেন, এ বছর লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। ফলে প্রায় ৭ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। কৃষি অফিসের মাঠকর্মীরা কৃষকদের সব সময় পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছেন। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পুরোদমে ধান কাটা শুরু হবে।  তিনি আরও বলেন, এরই মধ্যে আগাম জাতের ধান কাটা প্রায় শেষের দিকে। আবহাওয়া অনূকূলে থাকলে কৃষকরা সহজে ধান ঘরে তুলতে পারবেন। এ ছাড়াও সরকার এ বছর প্রতি কেজি ধান ৩২ টাকা নির্ধারণ করেছে।
অষ্টগ্রাম ট্রাজেডি দিবস আজ
‘কাকা-কাকি, পিসি আর পিসতুতো ভাইদের সাথে হাস্যরসে সময় কাটছিল বর কাজল কাকার, ছিলেন খোশমেজাজে। লঞ্চে ৮৫ জন বরযাত্রী। হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ে ডুবতে বসা লঞ্চের কাঁচ ভেঙে বাহিরের রেলিংয়ে আমি আটকে পড়ি; তারপর পানিতে। পরে সাঁতরে তীরে উঠলেও, সেদিনের ঘটনার ভয়াবহতা কাটেনি আজও। পরিবারের ১৭ জনসহ ৫২ জনকে হারিয়েছি সেদিন’। কথাগুলো এভাবেই বলছিলেন অষ্টগ্রাম ট্রাজেডি থেকে বেঁচে যাওয়া আশীষ দেবনাথ। তিনি ২০০৩ সালে ২১ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার পানিশ্বর এলাকায় কালবৈশাখী ঝড়ে বরযাত্রীবাহী লঞ্চ ডুবির ঘটনায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে আসা রামকৃষ্ণ পরিবারের ছোট সন্তান। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২১ বছর আগে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলা সদরের ব্যবসায়ী প্রয়াত রামকৃষ্ণ দেবনাথ তার ছোট ভাই কাজল দেবনাথের বিয়ে ঠিক করেন কুমিল্লায়। কনের বাড়ি যেতে আশুগঞ্জে প্রস্তুত রাখা ছিল বাস। অষ্টগ্রাম থেকে ৮৫ জন বরযাত্রী নিয়ে এমভি মজলিসপুর লঞ্চে রওনা হন তারা। বিকেল ২টা ৩০ মিনিটে মেঘনা নদীর খলাপাড়া ও পানিশ্বর এলাকার মধ্যে কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায় বরযাত্রীবাহী লঞ্চটি। এতে বর কাজল দেবনাথ, রামকৃষ্ণ ও তার পরিবারের ১৭ জনসহ ৫২ জন হিন্দু ও মুসলিম বরযাত্রীর মৃত্যু হয়। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান ৩৩ জন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর ও তার ভাই-বোন, ভাতিজা, বোন জামাই, ভাগ্নে ও আত্মীয় স্বজনরা ছিলেন সে লঞ্চে। টানা ৫দিন পর মরদেহ উদ্ধার শেষে এমভি মজলিসপুর লঞ্চটি উদ্ধার করে অভিযান সমাপ্তের ঘোষণা দেয় সরকার। এ সময় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন তৎকালীন ভূমি প্রতিমন্ত্রী উকিল আব্দুস সাত্তার, বিরোধী দলীয় উপনেতা অ্যাড. আব্দুল হামিদ এমপি, মুফতি আমিনী এমপিসহ কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। ভয়াল এ দিন স্মরণে নিহতদের পরিবারে তাদের আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয় প্রতি বছর। এ ঘটনায় স্বজন হারানো অষ্টগ্রাম সদর ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু বলেন, অষ্টগ্রামের ইতিহাসে এমন মর্মান্তিক ঘটনা আর ঘটেনি। সেদিন আমার ছোট ভাই সৈয়দ সোহাগকে হারিয়েছি। আমি শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।
প্রেমিকাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেতে পাগলা মসজিদের দান বাক্সে চিঠি
কিশোরগঞ্জ শহরের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ। প্রেমিক তার প্রেমিকাকে জীবনসঙ্গী করে পেতে মসজিদের দান বাক্সে লিখেছেন চিঠি। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। আমি একটা মেয়েকে ভালবাসি কিন্তু মেয়েটা আমাকে ভালো বাসে না। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যে আল্লাহ্ তাকে যেন আমার জীবন সঙ্গী হিসাবে কবুল করেন। মেয়েটার নাম মোছা. সারভীন আক্তার, আমার নাম সাইফুল ইসলাম। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ যেন আমাদেরকে কবুল করেন। এমন আরেকটি চিরকুটে লেখা, আল্লাহ আমি যেন একটা মানসম্মত নাম্বার পাই একটা ভালো কলেজে ভর্তি হতে পারি। আমার মাথার সব খারাপ চিনতা দুর রে হয়ে যায়, আল্লাহ আমার মা-বাবারে ভালো রাখে রেখ। আমি যেন রফিকুল ইসলাম কলেজে ভর্তি হতে পারি। কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ জানান, ৪ মাস ১০ দিন পর আজ শনিবার (২০ এপ্রিল) সকালে পাগলা মসজিদে ৯টি দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছে। এই মসজিদে রয়েছে নয়টি লোহার দানবাক্স প্রতি ৩ মাস পর পর দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এবার ৪ মাস ১০ দিন পর শনিবার (২০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টায় দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছে। এতে মিললো রেকর্ড ২৭ বস্তা টাকা ও বিপুল পরিমাণ স্বার্ণালংকা অলংকার। এছাড়া রয়েছে মনোবাসনা পূর্ণ করতে বিভিন্ন চিরকুট।তিন মাস পর পর দানবাক্সগুলো খোলা হলেও এবার রমজানের কারণে ৪ মাস ১০ পরে দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছে। টাকা গণনা কাজে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মহুয়া মমতাজ, মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি খলিলুর রহমান ও রূপালী ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) রফিকুল ইসলাম, সিবিএ নেতা আনোয়ার পারভেজসহ মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য এবং মসজিদ কমপ্লেক্সে অবস্থিত মাদরাসা ও এতিমখানার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাসহ মোট ২২০ জনের একটি দল অংশ নিয়েছেন। এর আগে সর্বশেষ ২০২৩ সালের ৯ ডিসেম্বর খোলা হয়েছিল পাগলা মসজিদের ৯টি দানবাক্স। তখন রেকর্ড ৬ কোটি ৩২ লাখ ৫১ হাজার ৪২৩ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কারও পাওয়া যায়। ২০২৩ সালে চারবার খোলা হয়েছিল কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স। চারবারে মোট ২১ কোটি ৮৭ লাখ ৮৫ হাজার ১৮১ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। টাকার পাশাপাশি হীরা, বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকারও পাওয়া গেছে বিপুল পরিমাণ। মসজিদের দান থেকে পাওয়া এসব অর্থ সংশ্লিষ্ট মসজিদসহ জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা ও এতিমখানার পাশাপাশি বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় হয়। এছাড়া করোনাকালে রোগীদের সেবায় নিয়োজিত শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮০ জন স্বেচ্ছাসেবককেও অনুদান দেয়া হয়েছিল এ দানের টাকা থেকে। মসজিদটিতে এবার আন্তর্জাতিক মানের দৃষ্টিনন্দন ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দ্রুতই এর কাজ শুরু হবে। যার নামকরণ হবে ‘পাগলা মসজিদ ইসলামিক কমপ্লেক্স’। এটি নির্মাণে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৫ কোটি টাকা। সেখানে ৬০ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন।  
অষ্টগ্রামে খালের পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে বাড়ির সামনে খেলতে গিয়ে খালের পানিতে ডুবে বায়েজিদ (৮) ও জাহিদ (৭) নামে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলো কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার খয়েরপুর-আব্দুল্লাপুর ইউনিয়নের কদমচাল পশ্চিম পাড়ার মোহন মিয়ার ছেলে জাহিদ মিয়া (৭) ও সাদেক মিয়ার ছেলে বায়েজিদ মিয়া (৮)। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২০ এপ্রিল) বেলা ২টার সময় বায়েজিদ ও জাহিদ দু’জন মিলে বাড়ির সামনে খেলতে গিয়ে হঠাৎ সবার অগোচরে খালের পানিতে ডুবে নিখোঁজ হয়। অনেকক্ষণ শিশুদের না দেখতে পেয়ে স্বজনরা খোঁজ করতে গিয়ে দেখেন খালের পানিতে ডুবে রয়েছে দুই শিশু।  পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কদমচাল বাজারের এক চিকিৎসকের নিকট নিয়ে গেলে তিনি তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন খয়েরপুর-আব্দুল্লাপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন এসডো।