Mir cement
logo
  • ঢাকা শনিবার, ১২ জুন ২০২১, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

আরটিভি নিউজ

  ০৯ মে ২০২১, ২৩:২৫
আপডেট : ১০ মে ২০২১, ১৬:১৭

ঈদে আসছে 'তালমিছরি, না হাওয়াই মিঠাই' সিজন ২

ঈদে আসছে 'তালমিছরি, না হাওয়াই মিঠাই' সিজন ২
মোশাররফ করিম

গেল বছরের ধারাবাহিকতায় আরটিভিতে এবার প্রচার হবে ঈদ ধারাবাহিক 'তালমিছরি, না হাওয়াই মিঠাই' এর সিক্যুয়াল। এবার মোশাররফ করিমের সঙ্গে হাজির হবেন সারিকা। সাগর জাহানের রচনা ও পরিচালনায় এই সিজনের গল্প শুরু হবে গত সিজনের শেষ থেকে।

প্রথম সিজনের শেষ দৃশ্যটি থাকে আসলে রুস্তমের কল্পনা। দৃশ্যটি ভেবে শোকে মুহ্যমান হয়ে আছে। আবার যখন সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই অনিলা বাস্তবিকই ফেরত আসে। রুস্তম আনন্দে আত্মহারা হয়ে যেতেই ভাবে আবার তার কল্পনা না তো। সবার সাথে কথা বলে, সবাইকে দেখিয়ে কনফার্ম হয় যে, না এখন সে ঠিকই দেখছে। তখন পাগলের মত নাচতে শুরু করে।

কিন্তু রুস্তম এই আনন্দ বেশী সময় ধরে রাখতে পারেনা। একটু কথা বলার পরই আবার রুস্তম জানতে পারে অনিলা ও তার প্রেমিক রুমন ইচ্ছে করে সবকিছু ঘটিয়ে বাংলাদেশে চলে আসছে। অলরেডী সে কক্সবাজারের পথে। তাকে সারপ্রাইজ দিয়ে কক্সবাজারেই আসছে বিয়ে করার জন্য। রুস্তমকে অনুরোধ করে বলে, এই বিয়ের সব আয়োজন করে দেয়ার জন্য। রুস্তম আয়োজন করে দিবে এই বিশ্বাসের কারণেই সে আসলে আবার এই রিসোর্টে এসেছে। রুস্তম আবারো যেন ভাষা হারিয়ে ফেলে। আবারো কি আগের সিজনের মতো অভিনয় করে কাঁদবে, না হাসবে বুঝতে পারেনা। মনে আঘাত পেলেও তার উপর অনিলার এই নির্ভরতা দেখে সে সহযোগীতা করতে রাজী হয়। বিয়ের যাবতীয় আয়োজন সে নিজে করবে বলে কথা দেয়। মূলত নাটকের শুরুটা এভাবেই।

রুস্তম অনিলাকে কথা দিলেও রিসোর্টের কেউ এই বিষয়টা পছন্দ করেনা। রাজা, রিনা, ফারহান, লিটন, নিঝুম, ফারহান কেউ বিষয়টা মেনে নিতে চায় না। সবাই জানে রুস্তম অনিলাকে কতটা ভালোবাসে। কোন ভাবেই রুমনকে মানতে পারেনা। রুমনের মনোভাব পুরাই বিদেশিদের মতো।

রুমন একটা রুম বুকিং দিয়েছিলো কিন্তু হোটেল মালিক লিটন এসে জানায়- অবিবাহিত জুটিদের এভাবে এক রুমে থাকা নিষেধ। অনিলাও বিয়ের আগে এভাবে এক রুমে থাকতে চায়না। তখন রুমন বলে, ঠিক আছে বিয়ে না করলে যদি এক রুমে না থাকা যায়, তাহলে সে আজকেই বিয়ে করবে। কাজীর খোঁজে বের হয় রুমন। প্রথমে রুস্তমকে বলে রাতের ভেতরেই কাজী নিয়ে আসতে। রুস্তম কাজি খুঁজতে শুরু করে কিন্তু রাতের ভেতরেই কাজী বের করা তো এত সহজ না। যাকেই সে কাজীর কথা বলে, সবাই বলে রুস্তম বিয়ে করলে কাজী আছে, অন্য কারোর জন্য নেই।

রুমন রাজাকে বলে কাজী নিয়ে আসতে। রাজা রাজি হয়, কাজী আনা বাবদ অনেক ডলারও নেয়। কাজী আসবে ভেবে মনে খুব আনন্দ নিয়ে বসে থাকে রুমন। অনেক সময় পর রাজা ব্যাগে করে কিছু কাজী পেয়ারা নিয়ে এসে রুমনকে দিয়ে বলে- কাজী এনেছে সে, এটাই পিওর কাজী। রুমন রাজাকে দৌড়ানি দেয়। আসলে কোন ভাবেই কেউ এই বিষয়টা নিতে পারেনা।

এদিকে রুস্তম সত্যিকারের ভালবাসা যে কি সবাইকে বোঝানোর চেষ্টা করে। ভালবাসলেই যে কাউকে পেতে হবে তেমন কোন কথা নেই। কিন্তু কোন লাভ হয় না। যাই হোক কোন ভাবেই কাজি জোগাড় হয়না, রুমন বিয়েও করতে পারেনা সেই রাতে।

এর ভেতর রুস্তম সবার মুখ বন্ধ করলেও ফারহানকে যেন পারছেই না। ফারহান রুস্তমকে হুমকি দিয়ে বলে সে অনিলাকে বলে দিবে যে রুস্তম তাকে ভালোবাসে। ফারহান সবাইকে নিয়েই বলবে। তাই রুস্তম বুদ্ধি করে নিজেই অনিলাকে বলে দেয় যে- ফারহান তার নামে মিথ্যা করে এসব বলবে, সে যেন বিশ্বাস না করে।

কিন্তু পরদিন নিঝুম অনিলাকে প্রথম বলে যে, রুস্তম তাকে ভালোবাসে। অনিলা রুস্তমকে ধরলে রুস্তম অস্বীকার করে। বলে সে ভালোবাসে না। কিন্তু একই দিন ফারহান আবার একই কথা বলে। রুস্তম আবার অস্বীকার করে। কিন্ত পরদিন লিটনও যখন একই কথা বলে তখন অনিলা রুস্তমকে খুবই শক্ত করে ধরে। রুস্তম এবারও অস্বীকার করার চেষ্টা করে কিন্তু আগের মত জোরালো করে পারেনা। রুস্তম বলে তার ভালোবাসা এখানে বিষয় না, ভালোবাসা মানে পেতেই হবে এমন কিছুও না। ভালোবাসার মানুষের ইচ্ছা পূরণ। সব শুনে অনিলার এক অন্য রকম ভালো লাগার জন্ম দেয়। যেটা সে প্রকাশও করতে পারছে না।

পরদিন রুমন কোথাও বেড়াতে নিয়ে যায় অনিলাকে। গিয়ে বলে- রিসোর্টে ফিরে তারা বলবে তাদের বিয়ে হয়ে গেছে এবং একই রুমে তারা থাকবে। অনিলা প্রতিবাদ করে কিন্তু রুমন যেন মানতেই চায় না। অনিলা রাগ করেই চলে আসে।

রিসোর্টে আসার পর ফারহান কিছু ফুটেজ দেখায়। সে রুস্তমকে নিয়ে ইউটিউবে যে চুপা মজনু সিরিজ করছে সেগুলো দেখায়। অনিলা না থাকাতে রুস্তম কেমন করছে, কত কষ্ট বুকে নিয়ে বিয়ের আয়োজন করছে সব দেখায়। অনিলা কিছুটা হলেও বুঝতে পারে রুস্তম তাকে ভালোবাসে। কিন্তু রুস্তমের একটাই কথা- অনিলা একটা ছেলেকে ভালোবাসে..মানে অনিলা তাকে বিয়ে করতে পারলেই সুখি হবে। রুস্তম সেভাবেই অনিলাকে সুখি করবে। আর আজ যদি অনিলা ওই রুমনকে বা রুমনের সাথে দীর্ঘদিনের প্রেম ছেড়ে তার কাছে চলে আসে তাহলে তো কাল তাকে ছেড়েও অন্যের কাছে চলে যাবে। অনিলা এই কথা শুনে আসলেই বিপদে পড়ে। আসলেই তো তাই। সে কি করবে তাহলে?

এর ভেতর পরের দিনই রুমন একটা ঘটনা ঘটায়- কোথা থেকে সে যেন একজন কাজি জোগাড় করে ফেলে। কাজি নিয়ে আসে রিসোর্টে। কিন্তু নিঝুমের সাথে প্রথমে দেখা হয়, নিঝুম বিয়ে ঠেকানোর জন্যই মিথ্যা করে বলে ফেলে- অনিলার তো বিয়ে হয়ে গেছে। কয়েকদিন আগে যখন সে এখানে একা ছিলো তখন তার বাবা রুস্তমের সাথে বিয়ে দিয়ে দিয়েছে। এই কথা শুনে রুমন অনিলার বাবার কাছ থেকে জানতে পারে যে অনিলা আসলেই রুস্তমকে বিয়ে করার জন্য তার কাছে নিয়ে আসছিল। রুমনের মাথায় আগুন চড়ে যায়, সে অনিলার সাথে চরম খারাপ ব্যবহার করে। অনিলাও বোঝানোর চেষ্টা করে যে সে রুমনের জন্যই রুস্তমকে নিয়ে বাবার কাছে অভিনয় করেছিল। কিন্তু রুমন বোঝেনা। রুমনের এই নতুন চেহারা দেখে অনিলা অবাক হয়ে যায়। নানা ভাবে অনিলা রুমনকে নতুন করে চিনতে থাকে। এতদিন সে যে রুমনকে চিনতো এই রুমন সেই রুমন না।

এক সময় রুমন বলে সে অনিলাকেই বিয়ে করবে। রুস্তমের সাথে যা হয়েছে তাতে তার কিচ্ছু যায় আসেনা। কিছুই লাগবেনা কিন্তু বিয়ে করবে। অনিলার আসলে বুঝতে বাকি থাকেনা কি উদ্দেশে রুমন এমন বিয়ে করার জন্য পাগল হয়েছে। কোন এক সময় রুমন অনিলার সাথে রিসোর্টের বাইরে সিন ক্রিয়েট করে। রুস্তম সব দেখে। আবার যখন রুমন অনিলার গায়ে হাত তুলতে যায়, রুস্তম এসে রুমনের হাত চেপে ধরে। রুস্তম বলে সব পরিস্কার হয়ে গেছে তার কাছে। সে বুঝতে পেরেছে এই রুমন অনিলার যোগ্যনা। অনিলা রুমনের কাছে ভালো থাকবেনা। সে আসলে এতদিন এইটা বোঝার জন্যই অপেক্ষা করেছে। এখন যখন সে বুঝতে পেরেছে রুমনের কাছে অনিলা ভালো থাকবেনা তখন রুমনকে সে কোন ভাবেই অনিলাকে বিয়ে করতে দেবেনা। এমনি অনিলা চাইলেও দিবেনা। কারন সে অনিলার ভালো চায়। ভালো চায় কারন সে অনিলাকে ভালোবাসে।

অনিলা এবার রুস্তমকে পুরোপুরি বুঝতে পারে। বুঝতে পারে কেন রুস্তম এতদিন তার নিজের ভালোবাসা বুকে চেপে ছিলো। রুমনের সাথে রুস্তমের পার্থক্যও তার কাছে পরিস্কার হয়ে যায়। সবাই মিলে পারলে বিয়ের আয়োজন করে ফেলে। সবাই মিলে অনিলার বাবার কাছে প্রস্তাব নিয়ে যায়। কিন্তু অনিলার বাবা সেই আগের অবস্থানেই থাকে। অনিলার বাবা কোন ভাবেই মেনে নিবে না এই বিয়ে। রুস্তমের পায়ের বিষয়টা সে মানবেই না। রুস্তম কোন দিক থেকেই তার মেয়ের যোগ্য না। সবার মন খারাপ হয়ে যায়। তারপর দিনই খবর আছে অনিলা খুব ভোরে নিজ থেকে এক্সিড্যান্ট করে হসপিটালে। সবাই হসপিটালে যায়। তারপর....।

প্রসঙ্গত, মোশাররফ করিম-সারিকা ছাড়াও নাটকটিতে বিভিন্ন চরিত্রে আরও অভিনয় করেছেন মুকিত জাকারিয়া, প্রাণ রায়, রোবেনা রেজা জুঁই, রিমু খন্দকার,মাসুদ হারুন প্রমুখ। ঈদের দিন থেকে শুরু করে পরবর্তী ছয় দিন রাত ৯টা ৩০ মিনিটে আরটিভিতে প্রচার হবে ৭ পর্বের ধারাবাহিক নাটক 'তালমিছরি, না হাওয়াই মিঠাই'। পাশাপাশি রাত ১০টা থেকে আরটিভির ইউটিউব চ্যানেলেও দেখা যাবে নাটকটি।

এনএস

RTV Drama
RTVPLUS