logo
  • ঢাকা শনিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২০, ১২ মাঘ ১৪২৭

ইটভাটার দূষণে ধুকছে গাজীপুর, ৮০ ভাগই অবৈধ

রাজীবুল হাসান, গাজীপুর
|  ০৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৬:২৩ | আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৯:৫২
গাজীপুরে ৩৫০টি ইটভাটার মধ্যে অবৈধ ২৬৯টি
গাজীপুরে ৩৫০টি ইটভাটার মধ্যে অবৈধ ২৬৯টি
ইটভাটা মারাত্মক বায়ুদূষণের বড় উৎস। বৈশ্বিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান এয়ারভিজ্যুয়ালের তথ্যমতে, গেল মাসের প্রায় পুরো সময়েও ঢাকা বিশ্বের অন্যতম দূষিত বায়ুর শহর হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। 

এই পরিস্থিতিতে উচ্চ আদালত ঢাকা ও এর পাশের চারটি জেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধ ইটভাটাগুলো ১৫ দিনের মধ্যে বন্ধ করতে নির্দেশ দেন।

গাজীপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের তালিকা অনুযায়ী- গাজীপুরে প্রায় ৭৭ ভাগ ইটভাটা অবৈধ।  ৩৫০টি ইটভাটা রয়েছে, অবৈধ ২৬৯টি । সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রায় ১৭০টি ভাটা থাকলেও একটিরও নেই বৈধ কোনও কাগজপত্র। এছাড়া শ্রীপুর উপজেলার ২২টি ভাটার মধ্যে মাত্র ৬টি বৈধ। বাকি ১৬টির নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। আর লাইসেন্স হালনাগাদ আছে মাত্র দুইটির। 

সম্প্রতি জেলার লতিফপুর বানার নদীর পার ঘুরে দেখা যায়, এলবিএম ব্রিকস, এসবিএম ব্রিকস, এবিএম, বরকুল গ্রামের শ্রাবণ ব্রিকস, তালতলি গ্রামের বিএবি ব্রিকস, ভিটিপাড়া জেএম ব্রিকস, শাহজাহান ব্রিকস, আনাস-সাব্বির ব্রিকস, এমএসবি ব্রিকসসহ বেশ কয়েকটি ইটভাটা নিয়ম না মেনেই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় গড়ে উঠেছে। যেগুলোর ৫০০ মিটারের মধ্যেই রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক স্থাপনা। 

শুধু সিটি কিংবা শ্রীপুর না, জেলার কালিয়াকৈরে ৩৮টির মধ্যে মাত্র ২০ বৈধ, কাপাসিয়ার ৩২টির মধ্যে ১০টি বৈধ, কালীগঞ্জে ২২টির মধ্যে ৫টি বৈধ, সদর উপজেলার ৬৬টির মধ্যে ৪০টি বৈধ। অবৈধ এসব ভাটার নেই ট্রেড লাইসেন্স, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র কিংবা জেলা প্রশাসকের অনুমোদনপত্র। 

ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন চারপাশ, অল্প দূরেই ভাওয়াল মির্জাপুর হাজী জমির উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ। মাঠে খেলা করছে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। সোহেল রানা নামে একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রকে জিজ্ঞাস করা হলো-তোমাদের প্রতিষ্ঠানের পাশেই ইট পোড়ানো হচ্ছে, কালো ধোঁয়া উড়ছে, কোনও সমস্যা হচ্ছে না? উত্তরদাতা সোহেলের সঙ্গে আরও অনেকেই বলে উঠলো-সমস্যা হলেই বা কি! কয়দিন পর পর সরকারি লোকজন এসে ভেঙে দেয়, পরে আবার চালু হয়ে যায়। রাতদিন ধোঁয়া উড়তেই থাকে। 

শুধু ভাওয়াল মির্জাপুর কলেজের পাশেই নয়, গাজীপুরে এমন বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে ইটভাটা। যদিও স্কুল-কলেজের এক কিলোমিটারের মধ্যে কোনও ভাটা তৈরির নিয়ম নেই। তবুও সরকারি নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে দেদার গড়ে ওঠেছে এসব অবৈধ ইটভাটা। কৃষিজমির মাটি কেটে ব্যবহার করা হচ্ছে ইট তৈরিতে। ইট পোড়াতে প্রতিদিন নষ্ট হচ্ছে গাছ। ভাটার কালো ধুয়ায় মাটির উর্বরতা নষ্ট হয়ে ব্যাহত হচ্ছে কৃষি উৎপাদন, দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে স্থানীয় বাসিন্দারা। কৃষিজমিতে ইটভাটা গড়ে উঠায় কৃষকরা অনেকটা বাধ্য হয়েই হারাচ্ছে তাদের ফসলী জমি। 

গাজীপুর সদর উপজেলার মির্জাপুর এলাকার বাসিন্দা মোর্শেদ আলম বলেন, কৃষিজমির পাশেই ইটভাটার কারণে এখন আর  ধান ভালো হয় না। যার কারণে ধানক্ষেত করা ছেড়ে দিয়েছি। এখন চাল কিনে ভাত খাই। 

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কড্ডা এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ মনির বলেন, এখন তো কম চলছে ভাটা। কিছুদিন পর সমানে চলবে। ইটভর্তি ট্রাকগুলো যখন রাস্তায় উঠে, তখন ধুলায়  চারদিক অন্ধকার হয়ে যায়।

কাপাসিয়ার আরেক ভুক্তভোগী খোরশেদ আলম বলেন, ইটভাটায় ছোট চিমনী ব্যবহার করার কারণেই পরিবেশ দূষণ বেশি হচ্ছে। ইটভাটা বন্ধ হোক সেটা আমি চাই না। শুধু নিয়ম করে সঠিক স্থানে পরিবেশ বান্ধব ভাটা তৈরি হলেই আর সমস্যা থাকবে না।

গাজীপুর জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবদুস সালাম সরকার আরটিভি অনলাইনকে বলেন, এখনও আমাদের হাতে হাইকোর্টের নির্দেশনা আসেনি। তবে আমরা অবৈধ ইটভাটার তালিকা তৈরি করেছি, অভিযানও শুরু করেছি। কিছুদিনের মধ্যেই সকল অবৈধ ভাটা গুঁড়িয়ে দেয়া হবে।

এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • বিশেষ প্রতিবেদন এর সর্বশেষ
  • বিশেষ প্রতিবেদন এর পাঠক প্রিয়