• ঢাকা শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১
logo
জোরেশোরে চলছে কারওয়ান বাজার সরিয়ে নেওয়ার কাজ (ভিডিও)
‘ডেঙ্গু মোকাবিলায় সারাদেশে প্রস্তুত হাসপাতালগুলো’
দখল ও দূষণে জর্জরিত রাজধানীর খালগুলো হচ্ছে মশার সবচেয়ে নিরাপদ আবাসস্থল। ফলে বংশবিস্তারও ঠেকানো যাচ্ছে না। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেছেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় সারাদেশে প্রস্তুত রয়েছে হাসপাতালগুলো। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাসপাতালে মশক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রাখার পাশাপাশি ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার কমাতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। ঢাকা মহানগরে যত খাল রয়েছে, তার বেশির ভাগই এখন ময়লার ভাগাড়। বৃষ্টির পানি নির্গমনের পথগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতা যেমন বাড়ছে তেমনই বাড়ছে মশা। রাজধানীর মশার অন্যতম উৎপত্তিস্থল এসব খালে মাঝেমধ্যে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হলেও তা লোক দেখানো ছাড়া আর কিছু নয় বলে মনে করছে নগরবাসী। তাদের অভিযোগ, পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা অনেক আগে এসেছিলেন। এরপর আর তাদের দেখিনি। অথচ এখানে প্রচুর মশা। মশার কামড়ে বাচ্চাদের ডেঙ্গু হয়ে যায়। জনগণের অসচেতনতা আর সিটি করপোরেশনের উদাসীনতার বলি হচ্ছে শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই। ২০০০ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত যেখানে ডেঙ্গুতে মারা যায় ৮৬৮ জন, সেখানে ২০২৩ সালে এক বছরেই মারা যায় এক হাজার ৭০৫ জন। দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী ভর্তি হয় হাসপাতালে। রোগীর উপচে পড়া ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয়। গত বছরের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে যন্ত্রপাতির সক্ষমতা বাড়িয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে হাসপাতালগুলো। এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় শুধু রাজধানী নয়, সারাদেশেই ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসার জন্য আমাদের চিকিৎসকরা এখন অভিজ্ঞ। তারা সব জানেন। তাই ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোকে সেভাবেই নির্দেশনা দেওয়া হবে।
সক্ষমতার অভাবে দুই যুগেও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়নি (ভিডিও)
নাজুক ট্রাফিক ব্যবস্থায় বছরে ৫৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ক্ষতি (ভিডিও)
ডিজিটাল যুগেও হাতের ইশারায় চলছে ট্রাফিক ব্যবস্থা (ভিডিও)
ব্যর্থ হলো রাজধানীর ট্রাফিক ডিজিটালাইজের প্রকল্প (ভিডিও)
পুলিশকে মাসোহারা দিয়ে চলছে অবৈধ সিএনজি অটোরিকশা (ভিডিও)
রাজধানীতে লাগামহীনভাবে বাড়ছে অবৈধ সিএনজিচালিত অটোরিকশা। হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চলছে ধূসর বা রূপালী রঙের এসব অটোরিকশা। শুধু তাই নয়, নিয়ম ভেঙে আশপাশের জেলার অটোও ঢুকছে অবাধে। ১৫ হাজার বৈধর সঙ্গে নগরে এখন অবৈধ সিএনজি ২২ হাজারের বেশি। পুলিশকে মাসোহারা দিয়েই চলছে অবৈধ এই কারবার। রাজধানীতে ধূসর সিএনজি অটো আছে প্রায় চার হাজার। যার বেশির ভাগের মালিক ট্রাফিক বা পুলিশ সদস্য। ফলে ব্যক্তিগত যান অবলীলায় হয়ে যাচ্ছে ভাড়ায়চালিত। রাজধানীর কাওরান বাজার সিএনজি স্ট্যান্ডে দেখা গেল বেশির ভাগ অটোরিকশাই ঢাকা জেলার রেজিস্ট্রেশন করা। শুধু তাই না, রাজধানীতে অন্য জেলার অটোও চলছে অবাধে। অথচ মহানগরে বাইরের যান চলার কথা নয়।  রাজধানীতে অবৈধ সিএনজিচালিত অটো রয়েছে ২০ হাজারের বেশি। যেখানে বৈধর সংখ্যা সাড়ে ১৫ হাজার। এরমধ্যে অনেকগুলোর আবার বৈধ কাগজ নেই। বলতে গেলে অবৈধদের ভিড়ে বৈধরাই এখন কোণঠাঁসা।  চালক ও মালিকদের অভিযোগ, অবৈধ অটোর বড় অংশের মালিক ট্রাফিক পুলিশ। তাই তারা থাকেন নির্ঝঞ্ঝাট।  ঢাকা মহানগর সিএনজি অটোরিকশা ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি হাজী বরকতুল্লাহ বুলু বলেন, প্রাইভেট সিএনজির ৮৫ শতাংশই ট্রাফিক পুলিশের মালিকানায়। এই গাড়িগুলো দাপটের সঙ্গে চলে। অথচ, বৈধ গাড়িগুলো মোড়ে মোড়ে চেক করে।   রাজধানীতে হাজার হাজার অবৈধ সিএনজি অটোরিকশা থাকলেও তা জানা নেই ট্রাফিক বিভাগের কর্তাদের। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার জানান, সাদা প্রাইভেট সিএনজিগুলো কমার্শিয়ালি চলার কোনো অনুমতি নেই। কেউ ধরা পড়লে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।  বিশেষজ্ঞরা বলছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অসাধু সদস্যদের যোগসাজোস ছাড়া এটি সম্ভব নয়। তাই সরকারে বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। দেশের প্রতিটি জেলায় অটোরিকশার ভিন্ন রং থাকলেও ব্যতিক্রম কেবল রাজধানী ও আশপাশের জেলাগুলো। এখানে সব সবুজ মিলেমিশে একাকার।
ঈদ এলেই শুরু হয় মেয়াদহীন লঞ্চ মেরামতের হিড়িক (ভিডিও)
পদ্মা সেতু চালুর পর লঞ্চ ব্যবসায় ভাটা পরলেও ঈদ এলেই শুরু হয় মেয়াদহীন এ নৌযান মেরামতের হিড়িক। জরাজীর্ণতা ঢাকতে দেওয়া হয় রংয়ের প্রলেপ। ঝালাই দিয়ে ঢাকা হয় ক্ষতচিহ্ন। তবে বিআইডব্লিউটিয়ের দাবি, ফিটনেসবিহীন লঞ্চ চলতে দেওয়া হবে না। সরেজমিনে দেখা গেছে, কেরানীগঞ্জ ডকইয়ার্ডে সারি সারি রাখা লঞ্চগুলো ঈদ যাত্রার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। কোথাও রংয়ের প্রলেপ, আবার কোথাও ঝালাই করে ভাঙা অংশ ঢেকে দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন পড়ে ছিল পটুয়াখালী রুটের এমভি সাত্তার লঞ্চ। এর বয়স ২৫ বছর। ঈদ উপলক্ষে লঞ্চটিকে ঘষেমেজে ফিটফাট করা হচ্ছে। শরীয়তপুর রুটে চলছে ৫০ বছর ধরে এমভি মানিক ৪ নামের লঞ্চটি। ঈদের আগে এ লঞ্চটিকেও প্রস্তুত করা হচ্ছে। ফলে শ্রমিকদের যেন দম ফেলবার সময় নেই।  পুরনো এই লঞ্চগুলোকে কিছু সংস্কারের পর নতুন করে রং করা হচ্ছে। ফলে কালবৈশাখীর মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ নৌযানগুলো কর্তৃপক্ষের চোখ এড়িয়ে যাত্রী পরিবহনে নেমে পড়বে। এ বিষয়ে অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআইডব্লিউটিয়ের যুগ্ম পরিচালক মো. আলমগীর কবীর বলেন, পদ্ম সেতু চালু হওয়ায় লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আর আমরা ফিটনেসবিহীন চঞ্চগুলোকে চলাচলে অনুমতি দিই না। তাই  কালবৈশাখীর একটি আশঙ্কা থাকলে কোনো সমস্যা হবে না।
বিনাশুল্কে মদ আমদানির তথ্যটি ভিত্তিহীন (ভিডিও)
বাংলাদেশে মদ আমদানি হয় বিনাশুল্কে এবং খেজুর আমদানি করতে হয় শুল্ক দিয়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পাশাপাশি বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের দেওয়া এমন বক্তব্য একেবারেই সঠিক নয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআরের তথ্যে, দেশে মদ আমদানিতে কর পরিশোধ করতে হয় ৫৯৬ দশমিক ২ শতাংশ। এর মধ্যে সম্পূরক শুল্কই ৩৫০ শতাংশ। এদিকে খেজুরের আমদানিতে কর দিতে হয় ৪৩ শতাংশ। ফেসবুকে গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ঘুরে বেড়ানো ভাইরাল পোস্ট হলো- ‘দেশে খেজুর আমদানি হয় ২০৮ শতাংশ শুল্ক দিয়ে, আর মদ আমদানি হয় বিনাশুল্কে’। এমন তথ্যকে আমলে নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস গত ২০ মার্চ রাজধানীতে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে বলেন একই কথা।  তিনি বলেন, বাংলাদেশ ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশ। এ দেশে মদ আমদানি হয় বিনা শুল্কে, আর খেজুর আমদানি হয় শুল্ক দিয়ে। এ বিষয়ে অনুসন্ধানে এনবিআর এবং কাস্টমসের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য যাচাই করে আরটিভি। এতে দেখা যায়, মদ ও খেজুর এ দুটি পণ্য আমদানিতে কাস্টমসে পরিশোধ করতে হয় নির্দিষ্ট পরিমাণ শুল্ক। যাতে খেজুরের চেয়ে মদ আমদানিতে শুল্ক দিতে হয় বহুগুণ বেশি। ২ লিটারের বেশি অ্যালকোহল জাতীয় পানীয় আমদানিতে মোট কর পরিশোধ করতে হয় ৫৯৬ দশমিক ২ শতাংশ। এর মধ্যে সম্পূরক শুল্ক সাড়ে তিন শ’ শতাংশ। ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক, নিয়ন্ত্রক শুল্ক ৩ শতাংশ এবং ১৫ শতাংশ ভ্যাটের পাশাপাশি ৫ শতাংশ করে অগ্রিম কর ও অগ্রিম আয়কর দিতে হয়। অর্থাৎ ১০০ টাকার মদ আমদানিতে শুধু কর দিতে হয় প্রায় ৬০০ টাকা। অবশ্য, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে বিদেশি কূটনীতিক ছাড়াও বিশেষ সুবিধাভোগী বিদেশি নাগরিক কূটনৈতিক বন্ডেড ওয়্যারহাউস থেকে শুল্কমুক্ত সুবিধায় মদ কিনতে পারেন। এদিকে খেজুর আমদানিতে মোট কর পরিশোধ করতে হয় ৪৩ শতাংশ। এর মধ্যে আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ যা গত মাসেও ছিল ২৫ শতাংশ। এ ছাড়া নিয়ন্ত্রক শুল্ক, ভ্যাট, অগ্রিম কর ও আয়কর পরিশোধ করতে হয় সাধারণ নিয়মেই। এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মজিদের মতে, আমদানি শুল্ক ফাঁকি রোধে এনবিআরকে তৎপর থাকতে হবে। তিনি বলেন, শুল্ক ফাঁকি রোধ করা যার কাজ ছিল তিনি তা করছেন কি না এটার দেখার বিষয়। ব্রিটিশদের একটা কথা গুরুত্বপূর্ণ। তা হলো- চোর তো চুরি করবেই। কিন্তু গৃহস্থকে সজাগ থাকতে হবে।
বেঁধে দেওয়া পণ্যের দাম ৭ দিনেও কার্যকর হয়নি (ভিডিও)
লাগামহীন নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তির খবর নেই। সরকারের বেঁধে দেওয়া নিত্যপণ্যের দাম সপ্তম দিনেও কার্যকর হয়নি। বাজার নিয়ন্ত্রণে অভিযান, জরিমানা ও দাম নির্ধারণ কোনো কিছুই যেন কাজে আসছে না। প্রতিদিনই বাড়ছে কোনো না কোনো পণ্যের দাম। বাজারে নতুন করে চাল, মুরগি ও পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। একদিনের ব্যবধানে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকায়। কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৩০ টাকায়। হঠাৎ করেই বস্তাপ্রতি ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে চালের দাম। রমজানের এই সময়ে চালের চাহিদা কম থাকলেও বেড়েছে চালের দাম।  সাড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে গরুর মাংস। খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি এক হাজার ১০০ টাকায়। মাছের বাজারও ঊর্ধ্বমুখী। ভরা মৌসুমে দাম বেশি থাকলেও মওসুমে শেষে নিম্নমুখী সবজির দর। তবে লেবু, বেগুণ ও শসা বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও তাতে পাত্তা দিচ্ছে না বিক্রেতারা।  এমন বাস্তবতায় নিম্ন ও মধ্যবিত্তের সংসার চালানোই দায়। তারা জানান, ১০ টাকা আয় করে ২০ টাকা খরচ হচ্ছে। আগে লেবুর হালি ২৫ টাকা থাকলেও এখন একটা লেবুর দামই ২৫ টাকা। মানুষ জিম্মি হয়ে গেছে।
মুখরোচক খাবারই নিরব ঘাতক, হতে পারে মরণব্যাধিও (ভিডিও)
রমজানের মুখরোচক খাবার ছাড়া ইফতারি যেন জমেই না। সারাদিন রোজা রাখার পর নানা পদের খাবার না পেলে যেনো পূর্ণতা পায় না ইফতার। তবে মুখরোচক এসব খাবারই নিরব ঘাতক। পুষ্টিবিদরা বলছেন, তেলে ভাজা রাস্তার পাশের মুখরোচক খাবারের কারণে নানা রোগের পাশাপাশি হতে পারে ক্যানসার ও হার্টের সমস্যার মতো মারণব্যাধিও। রমজান এলেই যেন রাজধানী হয়ে ওঠে ইফতারের নগরী। পুরান ঢাকার চকবাজার থেকে শুরু করে অলিগলিতে বসে ইফতারের পশরা। প্রতিটি দোকানেই সাজানো হয় বাহারি রকমের ইফতার। রাস্তার পাশের এসব দোকানগুলোতে যেসব ইফতার পাওয়া যায় তার বেশির ভাগই তেলে ভাজা। একই তেল বা কালো পোড়া তেলে ভাজা হচ্ছে পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুচপ থেকে শুরু করে বিভিন্ন রকমের খাবার। এসব খাবার বিক্রির জন্য উন্মুক্তভাবে রাখা হচ্ছে খোলা জায়গায়। বিশ্বের প্রথম সারির বায়ুদূষণের শহরে এভাবে ফুটপাতের খাবার কতটা ঝুঁকিপূর্ণ তা না ভেবেই অবলীলায় খেয়ে যাচ্ছে রাজধানীবাসী। তবে এসব খাবারের স্বাস্থ্যগুণ নিয়ে উদ্বিগ্ন পুষ্টিবিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, যেসব খাবার খাওয়া হচ্ছে তার গুণগত মান নিশ্চিত না হওয়ায় স্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। পুষ্টিবিত মাহমুদা নাজনীন জানিয়েছেন, লম্বা সময় আমরা যখন না খেয়ে থাকছি তখন আমাদের স্ট্রোমাটার অবস্থা কিন্তু নাজুক হয়ে যায়। ওই নাজুক স্ট্রোমাকে আমাদের উচিত একটা সহজপাত্র খাবার দেওয়া, যে খাবারটা সহজে হজম করতে পারে। এক্ষেত্রে আমরা পুরোটা উল্টো কাজ করছি। আমরা তেলে ভাজা খাবার খাচ্ছি। এর ফলে আমাদের বিভিন্ন ধরনের পেটের অসুখ হচ্ছে। এই পুষ্টিবিদ আরও বলেন, এসব ভাজা পোড়া খাবার খেতে আমরা কেনো নিষেধ করছি, এর একটা মূল কারণ হচ্ছে— ভাজা পোড়া খাবারে যে তেলটা ব্যবহার করা হচ্ছে সেই একই তেল যখন বারবার ভাজা হয় তখন এটার মধ্যে পলি অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন তৈরি হয়ে যায়। এতে করে পেটের বিভিন্ন সমস্যার পাশাপাশি ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়ায়। মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ নিজের ঘরে তৈরি খাবারের গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ঘরে তৈরি করা খাবার খেলে সমস্যা হওয়ার কথা না। সেটা ইফতারি বা সেহরি হোক, প্রত্যেকের জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ। সরবত জাতীয় খাবার ইফতার ও ইফতার পরবর্তী সময়ে সবচেয়ে বেশি খাওয়া উচিত বলে মনে করেন পুষ্টিবিজ্ঞানীরা।
বাজার এখন মানুষের কাছে আতঙ্কের নাম (ভিডিও)
রমজানে অস্থির নিত্যপণ্যের বাজার। রমজান পণ্যের দাম রোজা শুরুর অনেক আগে থেকেই চড়া হতে শুরু করে। যা বর্তমানে চরম সীমায় পৌঁছেছে। বাজার যেন এখন নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে আতঙ্কের নাম। বাড়তি দামের আগুনে পুড়ছে মানুষ। বাজার সহনীয় করতে সরকার নানা পদক্ষেপ নিলেও কাজে আসছে না তেমন। রাজধানীর কাওরান বাজারে দেখা যায়, সরকারের বেধে দেওয়া দামেও মিলছে না খেজুর। সরকার সাধারণ মানের খেজুর ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা বেধে দিলেও বিক্রি হচ্ছে বেশিতে। ভালো মানের খেজুর বিক্রি হচ্ছে ১৬০০ থেকে ১৮০০ টাকায়।  রমজানে সবচেয়ে বেড়েছে খেজুরের দাম। এ জন্য বিলাসী পণ্যের তকমা দিয়ে ট্যাক্স বাড়ানোকে দায়ী করছে ব্যবসায়ীরা। খেজুরের দাম সরকার বেধে দিলেও মিলছে না সে দামে।  বিক্রেতারা জানান, বেশি দামে কেনায় বিক্রিও করতে হচ্ছে বেশি দামে। অন্য দিকে, বাজারে দাপট দেখাচ্ছে  লেবু, শসা, বেগুন, মাছ, মাংস ও মুরগী এবং তরমুজও। প্রায় সব সবজির দাম ৫০ টাকা কেজির উপরে হলেও বিক্রেতাদের দাবি কমতির দিকে মূল্য। তবে অস্বস্তির কথা জানাচ্ছে ক্রেতারা। বাজারে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে। অতি দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরণের বিদেশি ফল।   বিক্রেতারা বলছেন, আপেল বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়। কমলা বিক্রি হচ্ছে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকায়। আঙ্গুর বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায়। আনার ৪০০ থেকে ৪২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।  বাজারভেদে গরুর মাংসের কেজি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১২শ’ টাকায়। ব্রয়লার মুরগির দামও দুই শ’ টাকা কেজির উপরে।  বিক্রেতারা জানান, ব্রয়লার মুরগি ২১০ টাকা থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর সোনালী মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকা থেকে ৩৩০ টাকায়। বিক্রেতারা মাছের দাম কমতির দিকে বললেও ক্রেতার কাছে তা চড়া। এ ছাড়া লেবু প্রতি পিস ১০ থেকে ১৫ টাকা হলেও শসার কেজি ৮০ টাকা। পেঁয়াজের সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও কেজি প্রতি দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা।  বাজার সহনীয় করতে সরকারের কাছে কঠোর ব্যবস্থা চায় সাধারণ মানুষ।
নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে লুটপাটে ব্যস্ত অসাধু ব্যবসায়ীরা (ভিডিও)
বছর ঘুরে আবারও এসেছে মাহে রমজান। পবিত্র এই মাসে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে লুটপাটে ব্যস্ত অসাধু ব্যবসায়ীরা। যেকোনো ধর্মীয় উৎসবে বিশ্বের সব দেশে মূল্য ছাড় চললেও একমাত্র বাংলাদেশ তার ব্যতিক্রম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এদেশের বেশির ভাগ ব্যবসায়ীর কাছে ধর্মীয় মূল্যবোধ নয়, মুনাফাই মূল উদ্দেশ্য। তবে সরকার কঠোর হলে সমস্যার সমাধান সম্ভব। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ আরব আমিরাতে রোজার আগেই হাজারও পণ্যের দাম কমিয়েছে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশই খাদ্যপণ্য। আর রোজার অন্যতম অনুসঙ্গ খেজুরের দাম কমিয়েছে ৪০ শতাংশ। ৯ শতাধিক পণ্যের দাম কমিয়েছে কাতার। গেল মঙ্গলবার দেশটির বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এ ঘোষণা দেয়। পবিত্র রমজান মাসে খাদ্য ও ভোগ্যপণ্য মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছে দিতেই নেওয়া হয়েছে এ উদ্যোগ। বিশ্বের অন্য মুসলিম দেশগুলোর উল্টো চিত্র শুধু বাংলাদেশেই। কমার পরিবর্তে সব পণ্যের দাম বাড়তি। যেকোনো সময়ের চেয়ে এবারের রোজার বাজার অনেকটাই বেসামাল। ক্রেতারা বলছে, বাজারে সবকিছুর দাম ভয়াবহ। সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। রোজায় সব দেশে পণ্যের দাম কমলেও বাংলাদেশে শুধু বাড়ে আর বাড়ে। সরকার চেষ্টা করেও সিন্ডিকেট ভাঙতে পারছে না।  বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) সিনিয়র গবেষক ড. মাহফুজ কবির বলছেন, ব্যবসায়ীদের মাঝে সামাজিক দায়বদ্ধতা নেই বললেই চলে। তারা সে জায়গায় টাকাও খরচ করে না। তারমধ্যে রমজানে অতিরিক্ত লাভ করে। সেটা থেকেও সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, অতিরিক্ত লোভ থেকে দূরে থাকতে আমরা ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করছি। একইসঙ্গে মুক্তবাজার অর্থনীতির অজুহাতে কেউ যেন লাগামহীন মুনাফা করতে না পারে, সেই ব্যবস্থা নিতে সরকারকে অনুরোধ জানাচ্ছি। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান জানান, এবার শুধু সতর্ক বার্তা নয়, রমজানে কারসাজি করলে শাস্তি পেতে হবে। সরবরাহ ঠিক থাকলেও বাড়তি চাহিদার অজুহাতে প্রতিবছর রমজানের আগে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে ফায়দা লোটে ব্যবসায়ীরা। ধর্মীয় মূল্যবোধ, রাষ্ট্রীয় সংস্থার হুঁশিয়ারি, কোন কিছুই যেন কাজে আসে না।