smc
logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ১৫ কার্তিক ১৪২৭

ফুটবলের মাঠ থেকে সিনেমার হিরো

|  ১৩ অক্টোবর ২০২০, ১৩:৪১ | আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২০, ১৪:৪৭
খন্দকার ওয়াসিম ইকবাল
আবাহনী-মোহামেডানের বলয়ের বাইরে ঢাকাই ফুটবলে যারা তারকা হয়েছিলেন তাদের মধ্যে সবার উপরের সারিতে থাকবে খন্দকার ওয়াসিম ইকবালের নাম। মাঠ পেরিয়ে রূপালি পর্দায়ও দ্যুতি ছড়িয়েছিলেন জাতীয় দলের হয়ে খেলা সুদর্শন এই রাইট উইংঙ্গার। বাংলাদেশে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। খেলেছেন কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ইস্ট বেঙ্গলের হয়েও।

ক্যারিয়ারের পুরোটা সময়ই ওয়াসিম ছিলেন ব্রাদার্সে। মাঝখানে দুই মৌসুমের জন্য কমলা জার্সি ছেড়ে আবাহনীর হয়ে মাঠ মাতিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত ফিরে এসেছিলেন ঘরের মাঠেই।দেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ড্রিবলার খেলা ছেড়ে বারবার মাঠ থেকে ছিলেন দূরে। কোচ হিসেবে ব্রাদার্সের হাল ধরেছিলেন। শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবেরও তালিম দিয়েছেন। এখন আবারও মাঠ থেকে দূরে। মতিঝিল থেকে গোপীবাগে ঢুকতেই হাতের বাম দিকে ব্রাদার্স ক্লাব। রামকৃষ্ণ মিশন স্কুলের হয়ে ফুটবল শুরু। জুনিয়র ব্রাদার্স হয়ে মূল দলে খেলেছেন। ক্লাবের নীতি নির্ধারক পর্যায়ে না থাকলেও প্রায়ই প্রিয় ক্লাব প্রাঙ্গণে দেখা যায় তাকে।

ফুটবলার ওয়াসিম ইকবাল দেখতে এতটাই আকর্ষণীয় ছিলেন যে বিখ্যাত নির্মাতা জহিরুল হক তাকে সিনেমায় নিয়ে আসেন। ‘জনি ওস্তাদ’ সিনেমাটিতে নায়ক রাজ রাজ্জাক ও ইলিয়াস কাঞ্চনের সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন তিনিও।

দেশের প্রথম ও একমাত্র ফুটবলার হিসেবে সিনেমায় নাম লেখান তিনিই। যদিও এই তারকাকে আর কোনও দিন দেখা যায়নি রূপালি পর্দায়। মাঠ থেকে যিনি সিনেমায়ও হিরো হয়েছেন তাকে দেখলে পুরাতন ভক্তরা অবাকই হবেন! চুল আর ঘন সাদা দাড়ি তার। ক্লাবে ঢুকতেই মূল ফটকের ডান-দিকে একটি রুমে আড্ডা দেন সাবেকরা। সেখানে উপস্থিত হতে নিজেই বাড়িয়ে দিলেন চেয়ার। প্রথমে বর্তমান ফুটবলের হাল-চাল নিয়ে শুরু হলো আলোচনা। দিনের পর দিন দেশের ফুটবলের মান নিচের দিকে যাওয়ার কারণটা কীভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন জানিয়েছেন তিনি।

কায়সার হামিদ, ওয়াসিম ইকবাল ও মোনেম মুন্না

ওয়াসিম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ফেডারেশনে যাই না। গেল আট-দশ বছরে দুই তিনবার হয়তো গিয়েছি। আসলে ফেডারেশন থেকে খেলোয়াড় বের করার খুব একটা ক্ষমতা নেই। বিগত দিনে যারা জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের তুলে ধরতে পেরেছিলেন তারা প্রত্যেকেই ক্লাব থেকে উঠে এসেছে। যেমন আমাদের দলে (ব্রাদার্স) ছিলেন গফুর বালুচ। প্রায় ১৮ জন খেলোয়াড় এক সঙ্গে তৈরি করেছিলেন। থার্ড ডিভিশন থেকে সেকেন্ড ডিভিশন হয়ে ফার্স্ট ডিভিশন। পুরান ঢাকায় ছিলেন রহিম ভাই। ভিক্টোরিয়ার মাধ্যমে খেলোয়াড়দের সামনে এনেছিলেন। এদিকে আলী ইমাম ভাই আবাহনী, মোহামেডান ও ব্রাদার্স থেকে অনেক বড় মাপের খেলোয়াড় বের করেছিলেন। সব খেলোয়াড় ক্লাব থেকে জাতীয় দলে নিজেকে মেলে ধরেছিলেন। তাই অর্জনের সবটুকুই অবদান বলতে গেলে ক্লাবের। ফেডারেশনের কাজ এদের মধ্যে বাছাই করে সেরাদের নিয়ে দল গঠন করা, কোচ নিয়োগ দেয়া আর খেলার সূচি বের করা। খেলোয়াড় তৈরির লম্বা সময়টা তাদের হাতে নেই। তৃণমূল থেকে যদি ফুটবলার বের করতে হয় তাহলে ক্লাবগুলোকে ভূমিকা পালন করতে হবে।

এর থেকে পরিত্রাণের উপায় হিসেবে লম্বা সময় লাগবে। সব সীমাবদ্ধতার কথা মাথায় রেখে তিনি জানিয়েছেন জেলা পর্যায়ের খেলা চালু হলেই সমস্যার সমাধান সম্ভব। তিনি বলেন, আপাতত আমাদের অনেক সমস্যা। তাই ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি জেলাভিত্তিক লিগগুলো চালু করা উচিৎ। সেখানে কমপক্ষে ১০টা দল থাকলেও অনেক খেলোয়াড় উঠে আসবে। তাদের যত্ন নিতে হবে। কাজী মো. সালাউদ্দিন, শহিদুর রহমান সান্টু, আশরাফউদ্দিন আহমেদ চুন্নু, শেখ মোহাম্মদ আসলাম, কায়সার হামিদ, মোনেম মুন্নাদের মতো দেশের ফুটবলের বড় বড় নামের সঙ্গে মাঠ মাতিয়েছেন ওয়াসিম। তার দাবি সত্তর দশকের ফুটবলারাই সেরা ছিলেন।

‘আমি যখন জাতীয় দলে আসি সত্তর দশকের খেলোয়াড়দের পেয়েছি। অন্যদিকে যখন মাঠ ছেড়েছি নব্বই দশকের খেলোয়াড়রা প্রবেশ করেছে দলে। ১৯৭৯ সালের দিকে জাতীয় দলের ট্রায়ালে যাই। সিনিয়র-জুনিয়রদের তফাৎটা আমার কাছে বেশ স্পষ্ট। বিশেষ করে আমার সিনিয়র যারা ছিলেন তাদের খেলার মান ছিল অসাধারণ। প্রতিপক্ষগুলো ছিল বেশ শক্তিশালী। সেই সময় ইরান, আফগানিস্তান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া খুব ভালো ফুটবল খেলতো। আমরাও তাদের সঙ্গে লড়াই করতাম। আমাদের সময় খেলোয়াড়দের স্টাইলও ছিল আলাদা।’

স্টাইলের কথা তুলতেই সিনেমার প্রসঙ্গটি চলে এলো। প্রশ্ন করতে কিছুটা বিব্রত। ‘আসলে ওটা হঠাৎ করেই করা। ফুটবলের পিক টাইম ছিল তখন। তাই সিনেমার জগতের মানুষরাও এটার সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে চেয়েছিল। আমাকে অফার করা হয়েছিল। বয়স কম ছিল। না বলতে পারিনি।’ যোগ করেন ওয়াসিম।

আরও পড়ুনঃ

শুরুতেই ফিরলেন তামিম, বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ

সিলেটের স্টেডিয়ামগুলোয় যেন ঘাসের আবাদ চলছে

অদৃশ্য শক্তির প্রভাব হকি ফেডারেশনে (ভিডিও)

কোচিং, খেলোয়াড় ও ম্যানেজমেন্ট।বর্তমানে ফুটবলের তিনটি স্তরেই মান কমেছে মনে করেন তিনি। তাই আশানুরূপ ফল পাওয়া যাচ্ছে না।

ওয়াসিমের মতে, ‘আমি যাদের কোচিং করাতে দেখছি তারা ছিলেন প্রচণ্ড মেধাবী। তাদের দূরদর্শিতা দেখে অবাক হতাম আমি। ভালো কোচ না থাকায় ভালো খেলোয়াড়ও উঠে আসছে না। আর ম্যানেজমেন্টও ভালো কিছু দিতে পারছে না। প্রতিটা বিষয়ে প্রয়োজন প্রজ্ঞা ও আদর্শ যেটার বড়ই অভাব দেখতে পাই আমি। ভালো করার মতো আমাদের মানসিকতাও নেই। আমি আসলে কারও দোষ দেখছি না। সামাজিকভাবেই আমাদের এই অবস্থা হয়েছে।’

পুরাতন ছবির ভাণ্ডার দেখতে চাওয়া হয়েছিল কিংবদন্তির কাছে। নিজের কোনও আর্কাইভ নেই। তথ্য প্রযুক্তির ‍যুগেও সমসাময়িক অনেকেই যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সক্রিয় কিন্তু তিনি পুরোটাই উলটো।

খ্যাতি আর প্রাপ্তি নিয়ে নেই কোনও আফসোস। বাস্তবতা জানেন, বিশ্ব থেকে আজকের বাংলাদেশের ফুটবল অনেক পিছিয়ে। তবু আশাহত নন। বিশ্বাস, একদিন ফুটবল ফিরবে স্বমহীমায়।

ওয়াই/এমকে

RTVPLUS
bangal
corona
দেশ আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ৪০৩০৭৯ ৩১৯৭৩৩ ৫৮৬১
বিশ্ব ৪,৪৩,৫৭,৬৭১ ৩,২৫,০৫,১৫৫ ১১,৭৩,৮০৮
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • বিশেষ প্রতিবেদন এর সর্বশেষ
  • বিশেষ প্রতিবেদন এর পাঠক প্রিয়