smc
logo
  • ঢাকা বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ৬ কার্তিক ১৪২৭

সিলেটের স্টেডিয়ামগুলোয় যেন ঘাসের আবাদ চলছে

  সিলেট

|  ১২ অক্টোবর ২০২০, ১৭:১১ | আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২০, ২৩:০০
The dilapidated condition of the stadiums in Sylhet due to lack of maintenance
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম
মাস ছয়েক আগেও সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বসেছিল তারার মেলা। এখানেই অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ বনাম জিম্বাবুয়ের তিন ম্যাচের সিরিজ। এরপর আর অনুষ্ঠিত হয়নি কোনো খেলা। করোনা মহামারির কারণে স্থানীয় লিগও আয়োজন হয়নি। এর মাঝে করোনার প্রকোপ কমে এসেছে, মাঠে ফিরতে শুরু করেছে ক্রিকেট।

তবে মাঠগুলোতে দেখা দিয়েছে পরিচর্যার অভাব। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম, আউটার স্টেডিয়াম, জেলা স্টেডিয়াম, বাস্কেটবল মাঠ, আবুল মাল আব্দুল মুহিত কমপ্লেক্সের মাঠটারও বেহাল দশা। গত পাঁচ মাস আগেও যে মাঠগুলো ছিল খেলার উপযোগী, সেগুলো এখন দেখলে মনে হবে ঘাসের চাষ হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ

মেসিদের প্রতিপক্ষ ১১ হাজার ৮০০ ফুট উচ্চতা

বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে ইংলিশদের জয়

দিল্লিকে হটিয়ে শীর্ষ স্থানে মুম্বাই

স্টেডিয়ামগুলোর সঠিক পরিচর্যার অভাবে মাঠের ভেতরে, প্র্যাক্টিস গ্রাউন্ডসহ গ্যালারিতে গজিয়ে উঠেছে লম্বা লম্বা ঘাস, গাছ । স্টেডিয়ামগুলোর ফুলের বাগানগুলোতেও আগাছা গজিয়ে উঠেছে। অথচ স্টেডিয়াম পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আগের মতোই নিয়মিত বরাদ্দ পাচ্ছেন তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্তরা। সঠিক পরিচর্যা না হবার কারণ কী জানতে চাইলে অজুহাত হিসেবে বৃষ্টির দোহাই দিলেন কর্তৃপক্ষ।

এশিয়ার অন্যতম নয়নাভিরাম স্টেডিয়ামগুলোর একটি সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। ২০০৭ সালে লাক্কাতুরা চা বাগান ঘেঁষা মনোরম পরিবেশে গড়ে ওঠা এই স্টেডিয়ামে আয়োজন হয় বাংলাদেশ দলের সবশেষ আন্তর্জাতিক ওয়ানডে সিরিজ।

এছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে এই মাঠেই আয়োজন হয় বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সিলেট পর্বের খেলাগুলো। করোনাকালে জাতীয় দলের চার ক্রিকেটার নিজেদের অনুশীলনও করেন এখানে। অথচ এই মাঠটির সঠিক পরিচর্যা হচ্ছে না বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে আগাছা

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম ঘুরে দেখা গেছে প্র্যাক্টিস গ্রাউন্ড, গ্যালারি, গ্রীন গ্যালারিসহ আনাছে কানাচে গজিয়ে উঠেছে লম্বা লম্বা ঘাস। মাঠের বাইরের ফুলের বাগান ঢাকা পড়েছে আগাছাতে।

দেখা গেছে প্রেস বক্সসহ ভিআইপি গ্যালারির আশপাশে সর্বত্রই দৃশ্যমান বাড়তি আগাছার। অথচ আগের মতো এনএসসি ও বিসিবি’র দেয়া বরাদ্দসমূহ যথারীতি এখনও পেয়ে যাচ্ছে মাঠ কর্তৃপক্ষ।

মাঠের সঠিক পরিচর্যা না হবার কারণ জানতে চাইলে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ভেন্যু ম্যানেজার জয়দীপ দাশ বলেন, মাঠের পরিচর্যা তারা নিয়মিতই করে যাচ্ছেন।

‘মাঠে সার দেয়া, অতিরিক্ত ঘাস ছাটাইয়ের কাজ নিয়মিতই চলছে। কাজ থেমে নেই, তবে দৈনন্দিনের কাজে প্রতিনিয়ত বিঘ্ন ঘটাচ্ছে বৃষ্টি।

নির্মাণাধীন আউটার স্টেডিয়াম

জয়দীপ দাশ গ্রীন গ্যালারিসহ কয়েকটি স্পট দেখিয়ে বলেন, এগুলোর কাজ বন্ধ করতে হয়েছে বৃষ্টির কারনেই। বরাদ্ধ প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে জয়দীপ বলেন, বৃষ্টি উঠে গেলেই পরিচর্যার অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করে ফেলা হবে।

স্টেডিয়ামের পাশেই ৮ একর ভূমির উপর নির্মাণাধীন রয়েছে আউটার স্টেডিয়াম। এটির কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জানায়, চলতি সপ্তাহে তারা মাঠটির প্রস্তুতি শেষ করে বুঝিয়ে দেবে বিসিবিকে।

এ নিয়ে জয়দীপ দাশ বলেন, আউটার স্টেডিয়াম হয়ে গেলে এটি হবে এশিয়ার অন্যতম একটি মাঠ। কেননা এভাবে  পাশাপাশি দুটো স্টেডিয়াম এবং আন্তর্জাতিক সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন মাঠ এশিয়ায় আর দ্বিতীয়টি নেই।

আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের মতো পরিচর্যার অভাব রয়েছে সিলেটের অন্য সব খেলার মাঠগুলোতেও। যার মধ্যে অন্যতম সিলেট জেলা স্টেডিয়াম। এই মাঠটিতে অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিল ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের বাংলাদেশের বাচাই পর্বের ম্যাচ। তবে সেসব থামিয়ে দিয়েছে করোনাভাইরাস। তবে ম্যাচগুলোকে সামনে রেখে গ্যালারিতে নতুন চেয়ার লাগিয়ে আকর্ষণীয় করে তোলা হয়েছে। তবে মাঠের লম্বা লম্বা ঘাস আর আগাছা স্টেডিয়ামটির দৃষ্টিনন্দন চেহারায় কিছুটা ছাপ ফেলেছে। মাঠের বাইরের বাস্কেটবল গ্রাউন্ডেরও একই হাল। সেখানেও আগাছার ছড়াছড়ি।

এখানেও পরিচর্যার অভাবের কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে বৃষ্টিকে। সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম জানালেন, এনএসসি থেকে বরাদ্ধ যা আসে তা খুবই ক্ষীণ। পরিচর্যার ক্ষেত্রে বরাদ্ধের চাইতে অনেকগুণ বেশি স্থানীয়ভাবে তিনি নিজের পকেট থেকেই ম্যানেজ করে থাকেন।

‘আমরা সবসময়ই মাঠ পরিচ্ছন্ন রাখতে চাই। কিন্তু বৃষ্টির কারনে সেই কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বৃষ্টি কমে আসলেই মাঠকে পুরনো রূপে ফিরিয়ে আনা হবে।’

আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম, জেলা স্টেডিয়াম ছাড়াও সিলেট উপশহরে রয়েছে আবুল মাল আব্দুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্স। এসব মাঠও ধুঁকছে পরিচর্যার অভাবে। এখানকার ক্রীড়ামোদীরা জানান, শুধু বৃষ্টি নয় সংশ্লিষ্টদের অবহেলার কারনেই এমনটা হচ্ছে।

এমআর/ এমকে 

RTVPLUS
bangal
corona
দেশ আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৩৯০২০৬ ৩০৫৫৯৯ ৫৬৮১
বিশ্ব ৪,০৩,৮২,৮৬২ ৩,০১,৬৯,০৫২ ১১,১৯,৭৪৮
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • খেলা এর সর্বশেষ
  • খেলা এর পাঠক প্রিয়