• ঢাকা সোমবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৪, ১৬ বৈশাখ ১৪৩১
logo
এ আর রহমানের স্টুডিওতে গাইলেন আসিফ
নতুন গান রেকর্ডিং করতে ভারতের মুম্বাইয়ে গিয়েছেন কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর। সেই গানের রেকর্ডিং করেছেন তিনি এ আর রাহমানের স্টুডিওতে। অস্কারজয়ী সুরকারের স্টুডিওতে গানে কণ্ঠ দিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত আসিফ। সোশ্যালে এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে এমনটা নিজেই জানিয়েছেন গায়ক। রেকর্ডিং শেষে আসিফ আকবর ফেসবুকে লিখেছেন, মুম্বাই এসেছি কিছু রেকর্ডিংয়ের কাজে। গতকাল দুটো গানের ভয়েস দিলাম শ্রদ্ধেয় এ আর রাহমান স্যারের কে এম স্টুডিওতে। কমপক্ষে ১৫ হাজার স্কয়ার ফিটের সুবিশাল স্টুডিও। ভেতরে ঢুকেই মনটা ভালো হয়ে গেল, কী চমৎকার পরিবেশ! যারা উনার কাছে মিউজিক ক্লাস করেন তাদের জন্য ছাদে শেড দেওয়া সুন্দর খোলামেলা স্কুল। তার ব্যক্তিগত স্টুডিওতে গাওয়ার অনুমতি পেয়েছি, এটা পরম সৌভাগ্য আমার জন্য। ভয়েস রুমের টেম্পারেচার কেমন হওয়া উচিত সেটার অভিজ্ঞতাও পেলাম। নতুন উপলব্ধির কথা জানিয়ে তিনি আরও লিখেছেন, এখানে শিল্পী–মিউজিশিয়ানদের পেশাগত নিরাপত্তার চমৎকার সুরক্ষাব্যূহ তৈরি করে রাখা হয়েছে। আমাদের দেশ এসবের ধারেকাছেও নেই। আসিফ আরও লিখেন, সমিতি আর নির্বাচনী কাবাডি খেলা নিয়ে ব্যস্ত সবাই। আস্তে আস্তে ক্ষয়ে গেছে সব প্রতিষ্ঠান। আমারও খুব একটা কিছু করার সক্ষমতা নেই। বিভক্তি বিভাজনের করাল গ্রাসে কোমায় চলে গেছে ইন্ডাস্ট্রি। সংগীতকে ভালোবেসে ফেলেছি, তাই টিকে থাকার সংগ্রামে আছি। বয়সও বেড়েছে, হইচই করতে আর ভালো লাগে না। শৌখিন এবং মৌসুমী প্রযোজকদের সঙ্গে কাজ বন্ধ করে দিয়েছি, মান নিয়ন্ত্রণ করতেই হচ্ছে। আসিফের ভাষ্যে, একসময়ের পেশাদার সব রেকর্ডিং স্টুডিও বাংলাদেশে এখন বন্ধ। যদিও নতুন রেকর্ডিং স্টুডিও তৈরি হয়েছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারে কিছুই না। বেশির ভাগ স্টুডিও এখন ঘরকেন্দ্রিক, তাই উঠে এসেছে আসিফের কথায়। তিনি লিখেছেন, বাংলাদেশে পেশাদার রেকর্ডিং স্টুডিওগুলো সব বন্ধ হয়ে গেছে। সেখানে তৈরি হয়েছে সুউচ্চ বিল্ডিং। বাসাবাড়িতে কিংবা ছোট খুপড়ির মতো সব স্টুডিও বানিয়ে মাটি কামড়ে মিউজিক করছে মিউজিশিয়ানরা। যেখানে ইন্ডাস্ট্রি আরও বিশাল হওয়ার কথা, সেখানে সংকুচিত হয়ে এসেছে আমাদের পৃথিবী।
১০ মিনিট আগে

পেপার রাইম ব্যান্ডের সাদ আর নেই
না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড পেপার রাইমের গায়ক আহমেদ সাদ। মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) রাত ১২টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৫২।  জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে ভুগছিলেন সাদ। তিনদিন আগে হার্ট অ্যাটাক হয় তার। দ্রুত সাদকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে মঙ্গলবার সকালে ফের হার্ট অ্যাটাক করেন তিনি। পরে হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।   গায়কের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেন তার স্কুলজীবনের বন্ধু ও পেপার রাইম ব্যান্ডের সদস্য অনিন্দ্য কবির অভিক। তিনি বলেন, কয়েক বছর ধরে ক্যানসারে ভুগছিলেন সাদ। মাঝে কিছুটা সুস্থও হয়েছিলেন। কিন্তু গত কয়েক মাস আগে তার শরীরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ক্যানসার। আগামী ২৫ এপ্রিল গায়ক আহমেদ সাদের দাফন হতে পারে বলে জানিয়েছেন তার বন্ধু অভিক। তবে বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে তার পরিবার থেকে। নব্বই দশকে মাত্র একটি অ্যালবাম প্রকাশের মাধ্যমে শ্রোতাহৃদয়ে জায়গা করে নেন ব্যান্ড পেপার রাইম ও এর শিল্পী আহমেদ সাদ। ব্যান্ডটির হার্ডরক, মেলোরক, সফট রক ঘরণার গানগুলোর কথা ও সংগীত ভীষণ গ্রহণ করে নেয় দর্শকেরা-শ্রোতারা। এর মধ্যে ‘অন্ধকার ঘরে’, ‘আকাশের কী রং’, ‘এলোমেলো’ গানগুলো পছন্দের তালিকায় শীর্ষে শ্রোতাদের।      প্রসঙ্গত, ১৯৯২ সালের ২৪ জানুয়ারি স্কুল বন্ধুরা মিলে প্রতিষ্ঠা করেন পেপার রাইম ব্যান্ড। এর লাইনআপে ভোকালে ছিলেন সাদ, গিটারে রাশেদ, কিবোর্ডে নাসের, বেইজ গিটারে সুমন ও ড্রামসে অভিক।   
২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১৫:২৬

সাংবাদিক আতিকুর রহমান আর নেই
দৈনিক ভোরের কাগজ পত্রিকার যুগ্ম বার্তা সম্পাদক মো. আতিকুর রহমান হাবিব মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) ভোর ৫টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আতিকুর রহমান ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবে বেলা দেড়টায় আতিকুর রহমানের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলে তাকে দাফন করা হবে। উল্লেখ্য, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক সম্পন্ন করেন আতিকুর রহমান। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া অবস্থায় দৈনিক আলআমিন পত্রিকায় যোগদানের মাধ্যমে সাংবাদিকতা শুরু করেন। এরপর দৈনিক মানবজমিনসহ বেশ কয়েকটি পত্রিকায় কাজ করেন। সবশেষ ১০ ধরে দৈনিক ভোরের কাগজ পত্রিকায় কর্মরত ছিলেন তিনি।  
২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১৩:০০

অভিনেতা অলিউল হক রুমি আর নেই
ছোটপর্দার জনপ্রিয় মুখ অলিউল হক রুমি মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সোমবার (২২ এপ্রিল) ভোরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে রুমির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘টেলিভিশন নাটকের জনপ্রিয় মুখ অলিউল হক রুমি ভাই কিছুক্ষণ আগে মারা গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।’ জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কোলন ক্যানসারে ভুগছিলেন অলিউল হক রুমি। চিকিৎসা নিতে ভারতের চেন্নাইয়েও যান। সেখান থেকে ফিরে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি।  ১৯৮৮ সালে ‘এখন ক্রীতদাস’ নাটকের মাধ্যমে অভিনয়ে যাত্রা শুরু হয় রুমির। পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন তিনি। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটক হলো—‌‘ঢাকা টু বরিশাল’, ‘আমেরিকান সাহেব’, ‘জার্নি বাই বাস’, ‘বাকির নাম ফাঁকি’, ‘যমজ সিরিজ’, ‘কমেডি ৪২০’, ‘চৈতা পাগল’, ‘জীবনের অলিগলি’, ‘মেঘে ঢাকা শহর’ ইত্যাদি।
২২ এপ্রিল ২০২৪, ১০:৩১

ফ্যাশন ইনফ্লুয়েন্সার সুরভি আর নেই
মাত্র ৩০ বছরেই নিভে গেল ফ্যাশন ইনফ্লুয়েন্সার সুরভি জৈনের জীবনপ্রদীপ। দীর্ঘদিন মরণব্যাধি ক্যানসারের সঙ্গে লড়ে অবশেষে পাড়ি জমালেন না ফেরার দেশে। গত ১৮ এপ্রিল মারা যান তিনি।  শনিবার (২০ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুরভির মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করে তার পরিবার। গত ১৯ এপ্রিল গাজিয়াবাদে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে সুরভির।   ভারতীয় গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে  জনপ্রিয়তা ছিল সুরভির। অনেকেই তার ফ্যাশন স্টেটমেন্ট পছন্দ করেন। তাদের জন্য নিয়মিত ছবি ও ভিডিও শেয়ার করতেন সুরভি। আট সপ্তাহ আগে শেষ ছবি পোস্ট করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই ছবিতে ছিল দীর্ঘ রোগভোগের ক্লান্তি।  ছবির ক্যাপশনে হৃদয় বিদারক বার্তা দিয়ে সুরভি লিখেছেন—‘জানি, আমি আমার শরীর খারাপ নিয়ে আপনাদের বিশেষ কিছু জানাতে পারিনি, তা ঠিক হয়নি কারণ আপনারা রোজ আমাকে মেসেজ পাঠিয়েছেন। তবে কী জানেন তো, সময়টা ভালো যাচ্ছে না। আর শেয়ার করার তেমন কিছু নেইও। গত দুমাসের বেশিরভাগ সময় হাসপাতালেই কেটেছে আমার। চিকিৎসা চলছে, অত্যন্ত কঠিন আর আমি চাছি এসব কিছু শেষ হয়ে যাক।’    প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরে ওভারিয়ান ক্যানসারে ভুগছিলেন সুরভি। দুবার এই রোগে আক্রান্ত হন তিনি। প্রথমবার ২৭ বছর বয়সে রোগটি ধরা পড়ে তার। সেসময় বড় অস্ত্রোপচার হয়েছিল ফ্যাশন ইনফ্লুয়েন্সারের। শরীরে প্রায় দেড়শো সেলাই দেওয়া হয়েছিল। এরপর গত বৃহস্পতিবার হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সুরভি।  সূত্র: এই মুহূর্তে       
২১ এপ্রিল ২০২৪, ১৫:২২

বন্ধুদের সঙ্গে গোসলে নেমে আর ফিরল না লিয়ন
নেত্রকোণার আটপাড়া উপজেলায় বন্ধুদের সঙ্গে মগড়া নদীতে গোসলে নেমে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২০ এপ্রিল) রাতে নদী থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তার মরদেহ উদ্ধার করে।   নিহত কিশোর মো. লিয়ন মিয়া (১৪) উপজেলার মঙ্গলশ্রী গ্রামের দিপু মিয়ার ছেলে। লিয়ন মদন টি আমিন উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিল।  স্বজনদের বরাতে আটপাড়া থানার এসআই আরাফাত বলেন, শনিবার সকালে সোয়া ১০টার দিকে মাঠ থেকে গরুর খাওয়ার জন্যে ঘাস কাটা শেষ করে বাড়ি ফিরে লিয়ন। পরে বন্ধুদের সঙ্গে বাড়ির পাশে মগড়া নদীতে গোসলে নামে। এ সময় বন্ধুরা গোসল সেরে যার যার মতো নিজেদের বাড়িতে চলে যায়। পরে দুপুর ২টার দিকে চাচা সেলিম মিয়া নদীর পাড়ে লিয়নের কাপড় দেখতে পান। তখন তারা লিয়নের খোঁজ শুরু করেন। খবর পেয়ে মদন ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট নদীতে লিয়নের খোঁজ চালান। পরে তাদের সঙ্গে যোগ দেন ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা। এক পর্যায়ে রাত পৌনে ৮টার দিকে ডুবুরিরা মগড়া নদী থেকে লিয়নের মরদেহ উদ্ধার করে বলে জানান এসআই আরাফাত। তিনি আরও জানান, পরিবারের আবেদনে ময়নাতদন্ত ছাড়াই কিশোরের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
২১ এপ্রিল ২০২৪, ১৩:১৪

প্রথম পর্বে পশ্চিমবঙ্গে সন্ত্রাস, কারচুপি আর ‘কারসাজি'র ভোট
গুচ্ছ গুচ্ছ অভিযোগের মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে মিটলো প্রথম দফার লোকসভা নির্বাচন। নানা ঘটনায় উত্তপ্ত রইলো কোচবিহার। ভোটকর্মীদের তালাবদ্ধ করে রাখার ঘটনাও দেখলো পশ্চিমবঙ্গবাসী৷ গোটা দেশে শুরু হয়েছে অষ্টাদশ লোকসভা নির্বাচন। পশ্চিমবঙ্গে ভোট হবে সাত দফায়৷ ৪২টি কেন্দ্রে হবে ভোটগ্রহণ৷ আজ প্রথম দফায় উত্তরবঙ্গের তিনটি কেন্দ্রে ভোট নেয়া হয়। কোচবিহার, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের অসংখ্য অভিযোগ জমা পড়েছে নির্বাচন কমিশনের কাছে। আশঙ্কা সত্যি করে সবচেয়ে বেশি গন্ডগোল হয়েছে কোচবিহার কেন্দ্রে। কোচবিহার উত্তপ্ত সারা বছরই রাজনৈতিক উত্তেজনায় ফুটতে থাকে কোচবিহার। তৃণমূলের নেতা ও রাজ্যের মন্ত্রী উদয়ন গুহর সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা নিশীথ প্রামাণিকের অহি-নকুল সম্পর্ক। নিজেই এখানে প্রার্থী নিশীথ। তার বিপক্ষে তৃণমূল প্রার্থী জগদীশচন্দ্র বসুনিয়া। ভোট শুরুর পর থেকেই উভয় শিবির একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলতে থাকে। দিনহাটায় বিজেপির পোলিং এজেন্টকে বুথ থেকে অপহরণের অভিযোগ ওঠে। বিজেপি ছাপ্পা ভোট, এজেন্টদের বাধা দেওয়া ও মারধরের অভিযোগ তোলে। দিনহাটায় এক বিজেপি নেতার বাড়ির সামনে তাজা বোমা উদ্ধার হয়। গত লোকসভা নির্বাচনে কোচবিহারের শীতলখুচিতে আধাসেনার গুলিচালনায় কয়েকজন গ্রামবাসীর মৃত্যু হয়েছিল। সেই শীতলখুচিতে বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা চালানোর অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। লোহার রড, বাঁশ দিয়ে মারধর করা হয় কয়েকজনকে। গত লোকসভা ভোটে উত্তরবঙ্গের সব আসনই জিতেছিল বিজেপি। ফলত কোচবিহার ছিল তাদের দখলে। এবার তৃণমূল সেই জমি ছিনিয়ে নিতে মরিয়া। তাই অশান্তির আশঙ্কা ছিল। সকাল থেকেই ভোট ময়দানে তার প্রতিফলন দেখা গিয়েছে। দিনহাটার ভেটাগুড়িতে তৃণমূলের ব্লক সভাপতিকে মারধরের অভিযোগ ওঠে বিজেপির বিরুদ্ধে। আহত নেতাকে হাসপাতালে দেখতে আসেন উদয়ন গুহ। সিতাইয়ে তৃণমূলের ক্যাম্প অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। একটি স্কুলের লাগোয়া জায়গায় অফিস বসানো নিয়ে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে গন্ডগোল হয়। রুইয়াকুঠি এলাকায় তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তৃণমূলের ভোটারদের বিজেপি বাধা দিচ্ছিল বলে অভিযোগ। তালাবন্ধ ভোটকর্মীরা মাথাভাঙ্গার শিকারপুরে একটি স্কুলে ভোটকর্মীদের আটকে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিডিও অফিসের দরজায় তালা লাগিয়ে দেয়া হয়। ভোটকর্মীদের দাবি, তাদের সঙ্গে অভব্য আচরণ করা হয়েছে। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ভোটকর্মীদের অভিযোগ, তাদের সঙ্গে গরু-ছাগলের মতো আচরণ করা হয়েছে। প্রশাসনের হাতেই সরকারি কর্মীরা কেন আটক হলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই কর্মীরা যে ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণের দায়িত্বে ছিলেন, সেখানে কীভাবে নির্বাচন পরিচালিত হচ্ছে, তা নিয়েও দীর্ঘক্ষণ ধোঁয়াশা ছিল। কমিশনের কাছে এ নিয়ে অভিযোগ জমা পড়ে। ঘটনাস্থলে এসে বিজেপি বিধায়ক বরেন বর্মন বহিরাগত ভোটকর্মীদের বাইরে বার করেন। ভোটকর্মীরা বলেন, আমাদের জল বা খাবার দেয়া হয়নি। ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়নি। তালাবন্ধ করে রেখে চলে গিয়েছেন বিডিও অফিসের কর্মীরা। কোচবিহার থেকে বিপুল সংখ্যায় অভিযোগ আশায় উদ্বিগ্ন জাতীয় নির্বাচন কমিশন। তারা রিপোর্ট তলব করে কলকাতায় রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর থেকে। এদিন দুপুর পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে প্রায় ৫০০ অভিযোগ জমা পড়ে। তার মধ্যে কোচবিহার থেকে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ আসে।  আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি কেন্দ্রেও বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটেছে। জলপাইগুড়ির ডাবগ্রাম ফুলবাড়ি এলাকায় বিজেপি বিধায়ক শিক্ষা চট্টোপাধ্যায় গন্ডগোলে জড়িয়ে পড়েন। তৃণমূল তার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানায়, তিনি ঘুরে ঘুরে ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছেন। বিজেপি অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিধায়ককে আটক করার চেষ্টা করে পুলিশ। নির্বাচন শেষ হওয়ার ঘন্টাখানেক আগে শিলিগুড়ি হাকিমপাড়ায় তুমল উত্তেজনা ছড়ায়। বিজেপি অভিযোগ করে, তৃণমূল বুথ জ্যাম করে ছাপ্পা ভোট দিচ্ছে। সেখানে উপস্থিত হন শিখা। এরপর কেন্দ্রীয় বাহিনী জমায়েত সরিয়ে দেয়। রাজভবনে পিসরুম পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস আগেই ঘোষণা করেছিলেন, তিনি নির্বাচনের উপর কড়া নজর রাখবেন। এমনকি সরাসরি রাস্তায় নেমে পর্যবেক্ষণের কথা বলেছিলেন তিনি। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী বোস সরেজমিন সফরে বার হতে পারেননি বটে, তবে রাজভবনের পিসরুম থেকে তিনি পুরো বিষয়টি নজরদারি চালান। সকাল দশটায় রাজভবনের পিসরুম খুলে যায়। শুরু থেকেই সেখানে ছিলেন রাজ্যপাল। টেলিফোনে একের পর এক অভিযোগ আসতে থাকে। সবচেয়ে বেশি অভিযোগ আসে কোচবিহার থেকে। রাজভবন থেকে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। রাজ্যপাল বলেন, পঞ্চায়েত ভোটের তুলনায় লোকসভা নির্বাচনে হিংসা কম হয়েছে। সন্দেশখালির ঘটনা প্রমাণ করেছে, চিরকাল হিংসা চলতে পারে না। পশ্চিমবঙ্গে বরাবরের মতো এবারও ভোটদানের হার যথেষ্ট ভালো। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত কোচবিহারের ভোট পড়েছে প্রায় ৭৮ শতাংশ। আলিপুরদুয়ারে ৭৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। জলপাইগুড়িতে ভোটদানের হার ৭৯ শতাংশের বেশি। তিন আসনের গড় ৭৭.৫৭ শতাংশ যা গোটা দেশের মধ্যে সর্বাধিক।  বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত দেশে ভোটদানের গড় হার ৬০ শতাংশ। অন্য রাজ্যে ভোট আজ প্রথম দফায় দেশের ১৭টি রাজ্য ও চারটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মোট ১০২টি কেন্দ্রে ভোট নেয়া হয়। কোনো রাজ্য থেকে পশ্চিমবঙ্গের মতো গন্ডগোলের খবর আসেনি। একমাত্র ব্যতিক্রম উত্তর-পূর্বের রাজ্য মণিপুর। সেখানে গত বছরের মে মাস থেকে জাতি সংঘর্ষ চলছে। এখন পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও উত্তেজনা রয়েছে। ইনার মণিপুর আসনের অন্তর্গত একটি বুথে সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা গুলি চালায়। যদিও তাতে কেউ হতাহত হয়নি। পশ্চিমবঙ্গের থেকে মাত্র তিনটি কম আসন দক্ষিণের রাজ্য তামিলনাড়ুতে। সেখানকার ৩৯টি আসনে আজ একটি দফাতেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনের জন্য এই রাজ্যে দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। আজ তিনটি কেন্দ্রের জন্য ২৬৩ কোম্পানি আধাসেনা ছিল। রাজ্য পুলিশ ছিল ১২ হাজারের বেশি। কিন্তু তাও গন্ডগোল এড়ানো গেল না। সাংবাদিক শুভাশিস মৈত্র বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী বা পুলিশ দিয়ে হিংসা থামানো যাবে না। প্রথম দফায় বড় বিপদ হয়নি। যদিও এদিনই বোঝা গিয়েছে, কেন নির্বাচন কমিশন সাত দফায় পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন করাচ্ছে। কমিশন সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছে। তিনটি কেন্দ্রে নির্বাচন ছিল বলে মৃত্যু ঠেকানো গিয়েছে।  সাংবাদিক সুমন ভট্টাচার্য সদ্য উত্তরবঙ্গ সফর করে এসেছেন। তিনি বলেন, আমি গত তিন সপ্তাহ উত্তরবঙ্গে কাটিয়ে এসেছি। কোথাও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে খুঁজে পাইনি। সেই বাহিনী উত্তেজনা নিবৃত্ত করতে পারবে, এটা আমাদের অতিরিক্ত ভাবনা। কোনো বাহিনী এখানে কিছু করতে পারবে না। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি এমন জায়গায় চলে গিয়েছে, সেখানে উত্তেজনার নিবৃত্তি হবে না, এভাবেই চলবে। পশ্চিমবঙ্গ আছে পশ্চিমবঙ্গেই।
২১ এপ্রিল ২০২৪, ১২:৫৪

যে কারণে গরম আর শীত বেশি চুয়াডাঙ্গায়
শীত ও গরমের আবহাওয়ায় আলোচনায় থাকে চুয়াডাঙ্গা জেলা। কারণ, শীতের সময় হাড় কাঁপানো শীত আর গরমের সময় প্রচণ্ড গরম অনুভূত হয় এ জেলায়। এটি এ জেলার আবহাওয়ার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। গরমে হাঁসফাঁস আর শীতে কাঁপাকাঁপি। কেন এমন হয়?  তাপমাত্রার এমন তারতম্যের বেশ কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছেন চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান। তিনি জানান, চুয়াডাঙ্গায় শীতের সময় বেশি শীত ও গরমের সময় বেশি গরম অনুভূত হয় বেশ কয়েকটি কারণে। এরমধ্যে একটি হচ্ছে ভৌগোলিক কারণ। চুয়াডাঙ্গা জেলার অবস্থান কর্কটক্রান্তি রেখার খুব কাছাকাছি। আর এ কারণেই শীতের সময় বেশি শীত ও গরমের সময় বেশি গরম অনুভূত হয়। এ ছাড়া চুয়াডাঙ্গা জেলায় গাছপালা কমে যাওয়ায় উষ্ণতা বাড়ছে। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়াও অন্যতম প্রধান কারণ। এ জেলায় অপেক্ষাকৃত কম জলাভূমি রয়েছে। জলাভূমি বেশি থাকলে শীতের সময় তা শীত ধারণ করে ঠান্ডা কমিয়ে দিতে পারে। আর গরমের সময় জলাভূমির স্বল্পতার জন্য আর্দ্রতা ধরে রাখা যায় না। তাই বেশি গরম অনুভূত হয়। জামিনুর রহমান জানান, শীত ও গ্রীষ্ম উভয়েই উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বাংলাদেশে আসে। অর্থাৎ ভারতের কাশ্মীর, দিল্লি—এসব এলাকা থেকে বাংলাদেশের দিকে আসে। আবার পশ্চিমবঙ্গের তাপপ্রবাহের প্রভাব পড়ে এ জেলায়। পশ্চিমবঙ্গের তাপমাত্রা বাড়লে চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রাও বাড়ে।  এদিকে, গত ১০ বছর জেলার তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, ২০১৪ সালের ৯ জানুয়ারি চুয়াডাঙ্গার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০১৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ছিল ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২০১৬ সালের ২৪ জানুয়ারি ৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২০১৭ সালের ১৪ জানুয়ারি ৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২০১৮ সালের ৯ জানুয়ারি ৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২০১৯ সালের ১৬ জানুয়ারি ৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২০২০ সালের ২৫ জানুয়ারি ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ৫ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২০২২ সালের ২৯ জানুয়ারি ৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২০২৩ সালের ১২ জানুয়ারি ৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও ২০২৪ সালের ২৩ জানুয়ারি ৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।  তীব্র গরমেরও রেকর্ড রয়েছে এ জেলার। গত ১০ বছর জেলার তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, ২০১৪ সালের ২১ মে চুয়াডাঙ্গা জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০১৫ সালের ২২ মে তাপমাত্রা ছিল ৩৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি, ২০১৬ সালে ১১ ও ২২ এপ্রিল ৪০ দশমিক ৬ ডিগ্রি, ২০১৭ সালের ৩ এপ্রিল ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি, ২০১৮ সালের ১৮ জুন ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি, ২০১৯ সালের ২৮ এপ্রিল ৩৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি, ২০২০ সালের ৭ এপ্রিল ৩৯ দশমিক ২ ডিগ্রি, ২০২১ সালের ২৫ এপ্রিল ৪০ দশমিক ৫ ডিগ্রি এবং ২০২২ সালের ২৪ ও ২৫  এপ্রিল ওই বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০২৩ সালের ১৯ ও ২০ এপ্রিল ওই তাপমাত্রা ছিল ৪২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ছাড়া চলতি মৌসুমে এখনও পর্যন্ত চারবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে এ জেলায়। আজ চুয়াডাঙ্গায় মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
১৯ এপ্রিল ২০২৪, ২৩:২৯

বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করতে নেমে আর ফিরল না সোহান
রাজবাড়ীতে বন্ধুদের সঙ্গে নদীতে গোসল করতে নেমে সরোয়ার উদ্দিন সোহান (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।  বৃহস্পতিবার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে জেলা সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের অন্তরমোড়ের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সোহান পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের চর আন্ধার মানিক গ্রামের মৃত রশিদ মোল্লার ছেলে। সোহান ফরিদপুর পলিটেকনিক্যালের (সিভিল) ছাত্র। সোহানের মামাতো ভাই পারভেজউল্লাহ জানান, বন্ধুদের নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে পদ্মা নদীতে গোসল করতে যান সোহান। সেখানে আরও অনেকেই গোসল করছিলেন। এরইমধ্যে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায় সোহান। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তার দেহ পাওয়া যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।  বিষয়টি নিশ্চিত করে রাজবাড়ী থানার ওসি (তদন্ত) মো. এসরাকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।  
১৯ এপ্রিল ২০২৪, ১১:৪১

সূর্যের তাণ্ডব আর শেষের রোমাঞ্চে মুম্বাইয়ের দাপুটে জয়
লড়াইটা ছিল আইপিএলের লিগ টেবিলের ৮ আর ৯ নম্বরের দলের। আগের ম্যাচে পরাজয়ের স্বাদ নেওয়া মুম্বাই ইন্ডিয়ানস আর পাঞ্জাব কিংসের কাছে এই ম্যাচটি জয়ের ধারায় ফেরার একমাত্র চাবিকাঠি ছিল। পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকা ম্যাচে ব্যাট হাতে সূর্যকুমার যাদবের বিস্ফোরক ইনিংস আর শেষ দিকের রোমাঞ্চে পাঞ্জাবকে ৯ রানে হারিয়েছে মুম্বাই। এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলে বড়সড় পরিবর্তন না এলেও প্লে-অফের দৌড়ে টিকে রইল হার্দিক পান্ডিয়ারা। বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) মুল্লানপুরে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৯২ রান করে হার্দিক পান্ডিয়ার দল। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে স্বাগতিক দল। এরপর শশাঙ্ক সিং ও আশুতোষ শর্মার ব্যাটে ম্যাচে ফিরলেও শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশিত জয়ের দেখা পায়নি পাঞ্জাব। টস হেরে ব্যাট করতে শুরুতেই ধাক্কা খায় মুম্বাই। দলীয় ১৮ রানের মাথায় প্যাভিলিয়নে ফেরেন ওপেনার ঈশান কিষাণ। ফেরার আগে উইকেটকিপার এই ব্যাটারের ব্যাট থেকে আসে ৮ বলে ৮ রান। দ্রুত উইকেট হারালেও খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি টুর্নামেন্টের রেকর্ড চ্যাম্পিয়নদের। তিনে নামা সূর্যকুমার যাদবকে নিয়ে দলীয় রানের চাকা সচল রাখেন আরেক ওপেনার রোহিত শর্মা। এই জুটিতে পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে ৫৪ রান তোলে মুম্বাই। এরপরও রোহিত এবং সূর্যকুমারের তাণ্ডব চলতে থাকে। তবে দলীয় ৯৯ রানের মাথায় সাজঘরে ফেরেন রোহিত। স্যাম কারানের স্লোয়ারে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ব্রার তালুবন্দি হওয়ার আগে ৩ ছক্কা আর দুই চারে ২৫ বলে ৩৬ রানের ইনিংস সাজান দলটির সাবেক এই অধিনায়ক। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে খেলতে থাকেন সূর্যকুমার। রোহিতের পর তাকে সঙ্গ দেন তিলক ভার্মা। মারমুখী ব্যাটিংয়ে দ্রুতই ফিফটি ছুঁয়ে ফেলেন সূর্য। তার সামনে সেঞ্চুরি তুলে নেওয়ারও সুযোগ ছিল। তবে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে পারেননি তিনি। কারানের ফুল অ্যান্ড ওয়াইড লেন্থের ডেলিভারিতে প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে ৭ বাউন্ডারি আর ৩ ওভার বাউন্ডারিতে ৫৩ বলে ৭৮ রানের মারকাটারি এক ইনিংস খেলেন সূর্যকুমার। শেষ দিকে তিলকের তাণ্ডব আর টিম ডেভিডের ৭ বলে ১৪ রানের ক্যামিওতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৯২ রানের পুঁজি দাঁড় করায় মুম্বাই। ধুন্ধুমার ব্যাটিংয়ে শেষ পর্যন্ত ১৮ বলে ৩৪ রানে অপরাজিত ছিলেন তিলক। পাঞ্জাবের হয়ে হার্শাল প্যাটেল তিনটি, স্যাম কারান দুটি উইকেট নিয়েছেন। এ ছাড়া কাগিসো রাবাদার শিকার এক উইকেট। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বড়সড় ধাক্কা খায় পাঞ্জাব। দলীয় ১৪ রানের মাথায় টপ-অর্ডারের ৪ ব্যাটারকে হারিয়ে বসে তারা। দুই অঙ্কের কোটা ছোঁয়ার আগেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন স্যাম কারান, প্রভসিমরন সিং, রাইলি রুশো এবং লিয়াম লিভিংস্টোন। এরপর শুরুর সেই ধাক্কা সামাল দেন হারপ্রিত ও শশাঙ্ক। পাওয়ারপ্লে শেষে পাঞ্জাবের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ৪০ রান। এরপর স্কোরশিটে ৯ রান যোগ করতেই ফেরেন হারপ্রিত। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে আবারও নিজের জাত চেনান ভুলক্রমে পাঞ্জাবের দলে জায়গা পাওয়া শশাঙ্ক। শেষ দিকে তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন আশুতোষ শর্মা। এই জুটিতেই জয়ের স্বপ্ন বুনেছিল পাঞ্জাব। তবে দলীয় ১১১ রানে ব্যক্তিগত ৪১ রানে শশাঙ্ক ফিরলে আবারও ফিকে হয়ে যায় স্বাগতিকদের জয়ের স্বপ্ন। এরপর প্রীতি জিন্নাতার দলের নিবু নিবু হারের মুহূর্তে জ্বলে উঠেন আশুতোষ। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ২৩ বলেই হাফ-সেঞ্চুরি ছুঁয়ে ফেলেন এই ব্যাটার। তবে দলীয় ১৬৮ রানের মাথায় ২৮ বলে ৬১ রানে আশুতোষ ফিরলে আর ম্যাচে ফেরা হয়নি পাঞ্জাবের। শেষ পর্যন্ত ৯ রানের নাটকীয় জয় পায় মুম্বাই। মুম্বাইয়ের হয়ে বুমরাহ ও কোয়েৎজি তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন। এ ছাড়া আকাশ মাধেওয়াল, হার্দিক পান্ডিয়া এবং শ্রেয়াস গোপালের শিকার একটি করে উইকেট।
১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০১:১৪
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়