logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ৩০ চৈত্র ১৪২৭

কিশোর কুমার ছাড়াও মধুবালার জীবনের ৬ পুরুষ

কিশোর কুমার ছাড়াও মধুবালার জীবনের ৬ পুরুষ
ফাইল ছবি

মৃত্যুর ৫ দশক পরও অনন্য বলিউড অভিনেত্রী মধুবালা। ভারতীয় চলচ্চিত্র কোনোদিন কোনো ধরনের তারকার অভাব দেখিনি, তবুও এই একজনের শূন্যতা আজও গোটা ভারতবর্ষের মানুষকে কাঁদায়।

পর্দায় মধুবালা হিসেবে সবাই চিনলেও তার আসল নাম মুমতাজ জাহান বেগম দেহলভী। ১৯৩৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে এক পাঠান পরিবারে তার জন্ম। পৈতৃক নিবাস পাকিস্তানের পেশোয়ারে। যদিও জীবিকা সূত্রে তার পরিবার দিল্লিতে বসবাস করতেন।

একের পর এক সম্পর্কে হাঁপিয়ে উঠেছিলেন মধুবালা। একটি সম্পর্কে থিতু হতে চেয়েছিলেন তিনি। ‘চলতি কা নাম গাড়ি’, ‘হাফ টিকিট’ ছবির শুটিংয়ের সময় কিশোর কুমারের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন মধুবালা। ১৯৬০ সালে কিশোর কুমারের সঙ্গে সাতপাকে বাঁধা পড়েন এই অভিনেত্রী। বিয়ের পর মধুচন্দ্রিমা কাটাতে লন্ডনে উড়ে গেছিলেন। সেখানেই চিকিৎসকরা জানান, মধুবালার হৃৎপিণ্ডে জন্মগত ছিদ্র রয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন মধুবালা সর্বোচ্চ দু’বছর বাঁচবেন।

মধুবালার বোন জানিয়েছিলেন, কিশোর কুমার অভিনেত্রীকে তাদের কাছে রেখে চলে যান। বলেছিলেন, তিনি প্রায়শই বাইরে থাকেন, তার পক্ষে দেখাশোনা করা সম্ভব হবে না। যদিও মধুবালা কিশোর কুমারের সঙ্গেই থাকতে চেয়েছিলেন। মধুবালার সঙ্গে দুই মাসে একবার দেখা করতে আসতেন কিশোর কুমার। ১৯৬৯ সালে মৃত্যু হয় মধুবালার। কিশোর কুমারের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর আগে প্রায় ছয় পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন মধুবালা।

শোনা যায়, ছোটবেলায় দিল্লিতে থাকাকালীন লতিফ নামে এক প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন মধুবালা। তিনি যখন দিল্লি ছেড়ে মুম্বাইতে চলে যান তখন লতিফের জন্য একটি লাল গোলাপ রেখে এসেছিলেন মধুবালা। যেটা ছিল তাদের ভালোবাসার চিহ্ন। মধুবালার দেওয়া গোলাপ সযত্নে রেখে দিয়েছিলেন লতিফ। অভিনেত্রীর মৃত্যুর পর সেই ফুল মধুবালার কবরের সঙ্গে দিয়ে দিয়েছিলেন অভিনেত্রীর প্রথম ভালোবাসা।

মধুবালার প্রেমে পড়েছিলেন পরিচালক কেদার শর্মা। যার 'নেকি অউর বড়ি' ছবিতে অভিনয় করেছিলেন মধুবালা। তাকে বেশ পছন্দ ছিল কেদার শর্মার। তবে কেদার বয়সে অনেকটাই বড় হওয়ার কারণে মধুবালা সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন।

আরেক পরিচালক কমল আমরোহীর সঙ্গে মধুবালার সম্পর্কের কথা শোনা গিয়েছিল। যিনি কিনা বলিউডের বিগ বাজেটের হরর ফিল্ম 'মহল' এর পরিচালক ছিলেন। কমলের সঙ্গে মেয়ের সম্পর্ক নিয়ে মধুবালার বাবারও আপত্তি ছিল না। তবে কমল আমরোহীর দ্বিতীয় স্ত্রী হওয়াতে আপত্তি ছিল মধুবালার। তিনি কমলকে প্রথম স্ত্রী মীনা কুমারীকে তালাক দেওয়ার জন্য জোর করেন। তবে তাতে কমল আমরোহী রাজি ছিলেন না।

মধুবালার সঙ্গে প্রেমনাথ এর পরিচয় হয়েছিল 'বাদল' এর শুটিং সেটে। ততদিনে মধুবালা সুপারস্টার হয়ে গেছেন। তবে ছয় মাসের বেশি তাদের সম্পর্ক টেকেনি। মধুবালা নিজেই প্রেমনাথের থেকে দূরত্ব তৈরি করতে শুরু করেন। তবে মধুবালার বোনের কথায়, ধর্মীয় কারণে মধুবালা-প্রেমনাথের সম্পর্ক ভেঙেছিল।

বলিউডে একসময় অন্যতম চর্চিত বিষয় ছিল দিলীপ কুমারের সঙ্গে মধুবালার প্রেম। যেটা শুরু হয়েছিল ১৯৫১ সালে 'তারানা' ছবির শুটিং সেট থেকে। টানা ৯ বছর সম্পর্কে ছিলেন তারা। তবে দিলীপ কুমার-মধুবালার সম্পর্কে ইতি ঘটে 'মুঘল-ই আজম' এর শুটিংয়ের সময়। তাদের বাগদান হয়ে গিয়েছিল বলেও জানা যায়। তবে মধুবালার বাবার কারণেই নাকি তাদের সম্পর্ক ভেঙে যায়।

দিলীপ কুমার বলেছিলেন, ‘বাবাকে ছেড়ে এলে আমি তোমাকে বিয়ে করতে প্রস্তুত।’ তবে মধুবালার দিলীপকে বলেছিলেন, ‘বাড়িতে এসে তার বাবার কাছে ক্ষমা চাইতে।’ শুধু ইগোর কারণে শেষ হয়ে যায় দিলীপ কুমার-মধুবালার প্রেম।

পঞ্চাশ দশকের শেষের দিকে মধুবালার জীবনে এসেছিলেন প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলি ভুট্টো। যিনি ছিলেন পাকিস্তানের নবম প্রধানমন্ত্রী। তবে সেসময় জুলফিকার ছিলেন বোম্বে হাইকোর্টের আইনজীবী। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্ক ছিল। মুঘল-ই-আজম-এর শুটিংয়ের সময় প্রায়ই ছবির সেটে পৌঁছে যেতেন জুলফিকার। মধুবালার সঙ্গে তিনি ফ্লার্ট করতেন। এমনকি অভিনেত্রীর সঙ্গে প্রায়ই লাঞ্চ করতে যেতেন তিনি। তবে মধুবালা তখনও দিলীপ কুমারের সঙ্গে বিচ্ছেদের বেদনা থেকে বের হয়ে আসতে পারেননি।

সূত্র- জি নিউজ

এনএস

RTV Drama
RTVPLUS