logo
  • ঢাকা শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৯ ফাল্গুন ১৪২৬

লাল গোলাপের দামে ‘চোখ রাঙানি’

বি এম ফারুক, যশোর
|  ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৭:৩৭ | আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৭:৪৫
ভালোবাসা দিবস
যশোরের গদখালিতে অবস্থিত গোলাপের বাগান। ছবি: আরটিভি অনলাইন

কবিতায় প্রিয়তমার জন্য বিশ্ব সংসার তন্ন তন্ন করে ১০৮টি নীলপদ্ম খুঁজে এনেছেন কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। বিশ্ব ভালবাসা দিবসে দুর্লভ নীলপদ্ম আনতে না পারলেও প্রিয়জনের জন্য অন্তত লাল টকটকে গোলাপ সংগ্রহ করতে চান সবাই। বিশেষ দিবসে প্রিয়জনের হাতে একগুচ্ছ লাল গোলাপ ছাড়া কল্পনায় করা যায় না। নীলপদ্মের মতো  দুর্লভ না হলেও লাল গোলাপের দামে চোখ রাঙানি শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার ফুলের রাজধানী খ্যাত যশোরের গদখালিতে গোলাপের দাম রেকর্ড ভেঙেছে।

প্রতি পিস ১৮ টাকায় বিক্রি করছেন চাষিরা। যা স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি দাম বলছেন সংশ্লিষ্টরা। দাম আরও বাড়বে বলে আশাবাদী কৃষকরা। প্রতি পিস গোলাপের দাম ২০ টাকা ছাড়াতে পারে। সেই হিসেবে স্থানভেদে খুচরা বাজারে গোলাপের দাম দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে এবার বিশেষ দিবসে প্রিয়জনকে গোলাপ উপহার দিতে বাড়তি টাকা গুনতে হবে।

গোলাপের রেকর্ড পরিমাণ দাম পেলেও খুশি নয় চাষিরা। কুঁড়ি পচা রোগ ও বৈরী আবহাওয়ায় গোলাপ উৎপাদনে ধস নেমেছে বলে দাবি যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালি এলাকার ফুলচাষিদের। এজন্যই চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে। বসন্ত-বরণ, বিশ্ব ভালবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘিরে ফুল চাষিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

সরেজমিনে ঝিকরগাছার গদখালি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ফুলচাষিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। বাহারি ফুলের মেলায় কৃষকের মুখে স্বপ্নের ঝিলিক। বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরাও ভিড় জমিয়েছে। বিশ্ব ভালবাসা দিবস ও বসন্ত-বরণ উৎসব ঘিরে চাষিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

হাড়িয়া গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ সলেমান জানান, চার বিঘা জমিতে গোলাপ ফুলের চাষ করেছেন। সকালে গদখালির বাজারে ২ হাজার পিস গোলাপ ফুল বিক্রি করেছেন। প্রতি পিস ফুলের দাম পেয়েছেন ১৮ টাকা। আগামী তিন দিন গোলাপের দাম আরও বাড়বে বলে আশাবাদী তিনি। তিনি আরও বলেন, গোলাপের কুঁড়ি পচা রোগ চাষিদের শেষ করে দিয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার ফলন তিন ভাগের দুই ভাগ কমেছে। ভালোবাসা দিবস আর বসন্ত-বরণ অনুষ্ঠান ঘিরে ৬ হাজার পিস গোলাপ বিক্রির টার্গেট রয়েছে তার।

পাটুয়া-পাড়া গ্রামের চাষি আলমগীর হোসেন জানান, সাত বিঘা জমিতে ফুল চাষ করেছেন। এর মধ্যে গোলাপ ফুল রয়েছে ৩ বিঘা জমিতে। এবার গোলাপের উৎপাদনে ধস নেমেছে। কাঁচাপাতা ঝরা ও কুঁড়ি পচা রোগে উৎপাদন ৮০-৯০ শতাংশ কমেছে। এজন্য গোলাপের দাম রেকর্ড ছাড়িয়েছে। ১৫ বছর ধরে ফুলচাষ করছি, কখনো ১৮ টাকা পিস গোলাপ বিক্রি করতে পারিনি। এবার ফুলের দাম আরও বাড়বে। রেকর্ড পরিমাণ দামে গোলাপ বিক্রি করলেও চাষির বিঘা প্রতি ৫০ হাজার টাকা লোকসান হবে। ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া সম্ভব হবে না বলে জানান এই ফুলচাষি।

কুলিয়া গ্রামের চাষি আনিসুর রহমান বলেন, বসন্ত-বরণ ও ভালবাসা দিবসে হলুদ ফুল ও গোলাপের চাহিদা বেশি থাকে। এজন্য দামও বেশি হয়।

ফুলের রাজধানী হিসেবে পরিচিত গদখালিতে জমজমাট ছিল ফুল বাণিজ্য। দেশের বিভিন্ন স্থানের পাইকাররা কিনেছেন নানা প্রজাতির ফুল। বাজারে সব রকমের ফুলের দাম বেড়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি ছিল গোলাপের দাম।

আড়ৎদাররা জানালেন, প্রতি পিস গোলাপ ১৮ টাকা, রজনীগন্ধা ৩ থেকে ৪ টাকা, গ্লাডিওলাস তিন থেকে আট টাকা, জারবেরা পাঁচ থেকে ১০ টাকা, চন্দ্রমল্লিকা ২ থেকে ৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এছাড়াও গাঁদা ফুল প্রতি হাজার ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, জিপসি ও রথস্টিক ফুল ১৫ থেকে ২০ টাকা আঁটি (মানভেদে) বিক্রি হয়েছে।

গদখালির পাইকারি ফুল ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, ভালবাসা দিবসে গোলাপ, বসন্ত-বরণে জারবেরা আর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে গাঁদা ফুলের চাহিদা বেশি থাকে। এক সপ্তাহে ফুলের দাম বেড়েছে। আগামী তিন চার দিনে আরও বাড়বে ফুলের দাম। চাষিদের কাছ থেকে কিনে সাতক্ষীরা, ফরিদপুরে সরবরাহ করছি।

আরেক পাইকারি ব্যবসায়ী সেলিম হোসেন বলেন, এবার গোলাপ ফুল উৎপাদন কম হচ্ছে। বাজারে চাহিদা বেশি। এজন্য দামও চড়া। ফুলের ব্যবসা করছি পনের বছর। এত বেশি দামে কখনো গোলাপ কিনি নাই।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আবদুর রহিম বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাব, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে বৃষ্টিপাতের প্রভাবে ফুলের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এছাড়াও গোলাপ ক্ষেতে ভাইরাস লেগে উৎপাদনে ধস নেমেছে। ভাইরাসের আক্রমণে গোলাপের কুঁড়ি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এজন্য চাহিদার তুলনায় গোলাপ মিলছে না। সরবরাহ কম থাকায় চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। তারপরও কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে উঠা সম্ভব হবে না।

এজে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • বিশেষ প্রতিবেদন এর সর্বশেষ
  • বিশেষ প্রতিবেদন এর পাঠক প্রিয়