logo
  • ঢাকা শনিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২০, ১২ মাঘ ১৪২৭

ঢাকা শিশুদের জন্য নয়

এসএম সাজ্জাদ হোসেন, আরটিভি অনলাইন
|  ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৯:৩৪ | আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:৪৭
ঢাকা শিশুদের জন্য নয়
‘হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা’র সেই কাহিনী তো সবারই জানা। যদি কোনও একদিন হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা এ শহরের সব শিশুদের নিয়ে হারিয়ে যায়, তাহলে কেমন হবে!

আসলেই এখন ‘হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা’ দরকার। যে শহরে বাবা-মা তাদের ছোট শিশুদের নিয়ে সিগারেটের ধোঁয়ার জন্য রাস্তায় বের হতে ভয় পায়, তারা এই শহরে বড়ই বেমানান।  

ঢাকার সোবহানবাগের রুনা নামে এক নারী একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করে। তার স্বামীও একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করে। মাস ছয়েক আগে এই দম্পতির একটি ফুটফুটে ছেলে শিশুর জন্ম হয়েছে। স্বামী-স্ত্রী দু’জনই চাকরি করে বলে তাদের শিশুকে রুনার অফিসের ডে কেয়ারে রাখেন।

রুনা বলেন, সকালে ৮টার দিকে আমি আমার শিশুকে নিয়ে বাসা থেকে অফিসের উদ্দেশ্যে বের হই। এমনিতে বাইরের ধূলা-বালির কারণে আমার ছেলের ঠাণ্ডা লেগেই আছে। তার মধ্যে ভয়ঙ্কর বিষয় হলো অনেকে এখন ফুটপাত দিয়ে সিগারেট খেতে খেতে হেঁটে যায়। পুরো সিগারেটের ধোয়া আমার ও আমার ছেলের নাকে যায়। এটা আমার শিশুর সব থেকে বেশি ক্ষতি করছে।

তিনি আরও বলেন, কোন দেশে বসবাস করছি! প্রকাশ্যে সিগারেট খাওয়া নিয়ে আইন আছে। সেটা কই। প্রশাসন কি করছে। এখনতো ঘর থেকে বের হতেই ভয় লাগে।

শুধু চাকরিজীবী বাবা-মা নন, আরও অনেক বাবা-মা একই অভিযোগ করেছেন। সুরাইয়া নামে এক গৃহবধূ বলেন, আমি রিকশা নিয়ে আমার মেয়েকে স্কুলে দিয়ে আসি, আবার নিয়ে আসি। জ্যামের মধ্যে দেখি অনেকে মোটরসাইকেল বা রিকশায় বসে আরাম করে সিগারেট টানে। কিন্তু তার ওই সিগারেটের ধোঁয়া সব মানুষের নাকে যাচ্ছে। বড়দের তো ক্ষতি হয়ই ছোটদের বেশি ক্ষতি হচ্ছে এতে। 

চলতি বছর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, পরোক্ষ ধূমপানের কারণে নবজাতক শিশুদের মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। বিশ্বের প্রায় অর্ধেকের বেশি শিশু দূষিত বায়ু গ্রহণ করে। প্রতি বছর প্রায় ৬৫ হাজার শিশু পরোক্ষ ধূমপানের কারণে অসুস্থ হয়ে মারা যায়।

২০১৩ সালের তামাক আইন অনুযায়ী, সরকারি-বেসরকারি কার্যালয়সহ পাবলিক প্লেসে ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইনে খোলা জায়গা, পার্ক, মাঠ, বাস টার্মিনাল, স্টেশন, লঞ্চঘাট, রেস্তোরাঁ, খাওয়ার জায়গা এবং যেখানে মানুষ জড়ো হয় সেখানে ধূমপান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ওইসব স্থানে ধূমপান করলে অনধিক ৩০০ টাকা জরিমানা করতে হবে। তবে দেখা যাচ্ছে এটি আইনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, বাস্তবে প্রয়োগ নেই।

গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালের নবজাতক ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল মালেক বলেন, ‘সরাসরি ধূমপান থেকে পরোক্ষ ধূমপান বেশি ক্ষতিকর। গর্ভবতী অবস্থায় যদি কোনও নারী প্রায় সিগারেটের ধোঁয়া গ্রহণ করে , তাহলে তার পেটের বাচ্চার ফুসফুস এবং বিভিন্ন অঙ্গ তৈরিতে বাধা প্রাপ্ত হতে পারে। ঠিকভাবে যখন ব্রেইন বিকশিত হয় সেই সময় সমস্যা হতে পারে। অঙ্গ প্রত্যঙ্গ যা তৈরি হয় সেটা ডিফেক্ট হতে পারে। যেমন- তালু কাটা। ঠোট কাটা। এছাড়া ওজন স্বল্পতা এবং সময়ের আগেই শিশু জন্ম নিতে পারে। আবার স্বল্প ওজনের কারণে শিশুটির আরও ভয়াবহ রোগ হতে পারে। একটা পর্যায়ে শিশুটি মারাও যেতে পারে’।

তিনি আরও বলেন, ‘বাচ্চার জন্মের পর প্রথম ১৮ মাস ঝুঁকিপূর্ণ। এই সময় যদি বাচ্চার নাকে প্রায়ই সিগারেটের ধোঁয়া যায় তাহলে বাচ্চার ফুসফুসের উপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে। কোনও কারণ ছাড়াই হঠাৎ বাচ্চা মারা যায়, একে ‘সাডেন ইনফ্যান্ট ডেথ সিন্ড্রোম’ বলা হয়। বারবার ঠাণ্ডা-কাশি, কানে সমস্যা, শ্বাস কষ্ট জনিত রোগ শুরু হয়। এছাড়া নিউমোনিয়াও হয়, যা ঘনঘন হলে বাচ্চার বিকাশ নষ্ট হতে পারে।

রাস্তায় বা প্রকাশ্যে সিগারেট খাওয়া বিষয়ে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, ‘প্রকাশ্যে ধূমপান করার বিষয়টি আগের থেকে কমছে, এখন আর লোকজন গণপরিবহনে ধূমপান করে না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা অভিযোগ চিহ্নিত হয়েছে, সেগুলোর ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে’।

তিনি আরও বলেন, ‘আসলে আমরা অভিযান চালানোর চেয়ে সচেতনতা বাড়ানোর উপর বেশি নজর দিচ্ছি। আগের থেকে মানুষের মধ্যে সচেতনতাও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের অভিযান এবং সচেতনতা বাড়ানোর কাজও দুটোই চলবে’।

এমকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • বিশেষ প্রতিবেদন এর সর্বশেষ
  • বিশেষ প্রতিবেদন এর পাঠক প্রিয়