Mir cement
logo
  • ঢাকা বুধবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৪ আশ্বিন ১৪২৮

করোনা মহামারিতেও চিকিৎসকদের সাড়ে ১১ হাজার পদ শূন্য (ভিডিও)

দেশে করোনা মহামারির দেড় বছর হতে চললেও এখনো চিকিৎসকদের সাড়ে ১১ হাজার পদ শূন্য। নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মীদের ঘাটতি প্রকট। ফলে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোগীরা। বিশেষজ্ঞরা দ্রুত চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে হলেও জনবলের ঘাটতি পূরণের তাগিদ দিয়েছেন। তারা বলছেন, স্বচ্ছতা বজায় রেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণ সরবরাহ করতে হবে।

ঢাকার আশপাশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসকসহ জনবলের ঘাটতি প্রকট। চিকিৎসকের অভাবে আয়া রোগীর সেলাই করছেন- এমন ঘটনাও দেখা যাচ্ছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে সারাদেশে সাড়ে ১১ হাজার চিকিৎসক পদ শূন্য, যার মধ্যে সব থেকে বেশি ঢাকা জেলায়। জনবলের ঘাটতি থাকায় অনেক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। এরই মধ্যে করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশেষজ্ঞরা দ্রুত জনবলের ঘাটতি পূরণের তাগিদ দেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া) সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল হক বলেন, কতজন ডাক্তারের প্রয়োজন হতে পারে এই সেবা দানের জন্য, এই লক্ষ্যটা ঠিক করে সেই পরিমাণ ডাক্তার যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিশেষ ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে। পরবর্তীতে স্বাভাবিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এদেরকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

ঢাকা জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান জানান, দুই হাজার চিকিৎসক নেয়া প্রক্রিয়াধীন। তিনি আরটিভি নিউজকে বলেন, সরকারি নিয়োগ একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। এটা চাইলেই সরকারের মুহূর্তে স্বল্প সময়ের মধ্যে নিয়োগ দেয়া সম্ভব না। করোনা শুরুর পর যখন উপলব্ধি করলাম নিয়োগগুলো অত্যন্ত জরুরি তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একদম ব্যক্তিগত নির্দেশে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। ইতোমধ্যেই মেডিকেল টেকনোলজিসে একটা বড় অংশের নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে।

কেবল জনবল সংকট নয়, নিজ কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন না করার কারণেও অনেক স্থানে রোগীরা সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ আছে।

অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল হক বলেন, ডাক্তারদের নিয়োগ, অবস্থান, ট্রান্সফার এবং তাদের পদোন্নতি সবকিছু নির্ভর করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উপর। একটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার থাকছেন না, এজন্য তাকে আগে দায়ী না করে কি কারণে তারা থাকছে না এই জিনিসগুলো তদন্ত করা উচিত।

তবে সিভিল সার্জনের দাবি অনেক চিকিৎসকের পরিবার করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় তাদেরকে কর্মস্থলে পাওয়া যাচ্ছে না। ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান আরও বলেন, কেউ কেউ করোনায় আক্রান্ত থাকে বা তার পরিবারের কেউ থাকে, যা আমাদের গতানুগতিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এত চিকিৎসকরা আক্রান্ত হচ্ছে, সে ক্ষেত্রে সে অনুপস্থিত থাকছে। এছাড়াও কেউ যে একদম ইচ্ছাকৃতভাবে অনুপস্থিত থাকে না, তা কিন্তু না। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

নিয়োগের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও ওষুধসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণ দ্রুত সরবরাহের তাগিদ দেন বিশেষজ্ঞরা।

এসআর/এসএস

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS