logo
  • ঢাকা সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০, ১৬ চৈত্র ১৪২৬

পদ্মায় চলছে চাষাবাদ

আমির ফয়সাল, রাজশাহী
|  ২৯ জানুয়ারি ২০২০, ১৯:৩০ | আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২০, ২০:০৩
পদ্মা নদী শুকিয়েছে হারিয়েছে জৌলুস, চাষ হচ্ছে নানা ফসল
পর্যাপ্ত পানি না থাকায় এখন বিভিন্ন কৃষিজাত ফসল চাষ হচ্ছে পদ্মার বুকে। ছবি: আরটিভি অনলাইন

প্রমত্তা পদ্মার নেই আগের মত জৌলুস। শুষ্ক মৌসুম শুরু হতেই নাব্যতা হারিয়েছে খরস্রোতা পদ্মা। এক সময়কার ভরা যৌবনা পদ্মা শুকিয়ে ধু ধু বালু চরে পরিণত হয়েছে। পানি কমায় বাড়ছে চরের বিস্তৃতি। এবার বর্ষা যাওয়ার ঠিক পরপরই রাজশাহীর পদ্মার বুকে জেগে উঠেছে বিশাল চর। বর্তমান পদ্মার একেবারে নিচে কোথাও হাঁটু পানি আবার কোথাও গলা পানির দৃশ্য।

শুধু রাজশাহী এলাকায় নয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাংখা পয়েন্ট থেকে ঈশ্বরদী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পর্যন্ত ২০০ মাইলজুড়ে পদ্মা এখন মরুময় ধু ধু বালুচর। পদ্মার সঙ্গে রাজশাহী অঞ্চলের খাল বিল শুকিয়ে গেছে। শুকিয়ে গেছে পদ্মার শাখা, উপশাখা নদীগুলোও। এছাড়াও বারনই নদীসহ বেশ কিছু ছোট নদী এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে।

রাজশাহী নগরী থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে সরে গেছে পদ্মার পানি। বর্তমান পদ্মায় পানি থাকলেও কোনও স্রোত নেই। অন্য বছরের চেয়ে এবার অনেক আগেই পদ্মা পানি শূন্য হয়ে গেছে। এতে রাজশাহীর ওপর এর প্রভাব পড়বে এমনটা মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে পরিবেশ ও নদী বাঁচাও আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ বলছেন এক মাত্র ফারাক্কার কারণে পদ্মার এ দুরবস্থা।

মূলত পদ্মা চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে শুরু হয়ে রাজশাহী ও পাবনা দিয়ে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত। এ দীর্ঘ পদ্মার চারদিকে রয়েছে শাখা প্রশাখা নদ-নদী। পদ্মা মরে যাবার সঙ্গে সঙ্গে শাখা প্রশাখা নদ নদী শুকিয়ে গেছে। বিশেষ করে পদ্মার প্রভাবে বড়াল, মরা বড়াল, মুছাখান, ইছামতি, ধলাই, হুড়া সাগর, চিকনাই, গড়াই, মাথাভাঙ্গা, ভৈরব, নবগঙ্গা, চিত্রা, বেতা কালিকুমার, হরিহর, কালিগঙ্গা, কাজল, হিসনা, সাগরখালি, চন্দনা, কপোতাক্ষ, বেলাবতসহ পঁচিশটি নদ-নদীর অস্তিত্ব প্রায় বিলীন।

এসব নদীর সঙ্গে সংযুক্ত এ অঞ্চলের বিখ্যাত কিছু খাল বিল রয়েছে। এরমধ্যে যেমন চলনবিল। চলন বিল রাজশাহী বিভাগের সর্বোচ্চ বিস্তৃত বিল হিসেবে পরিচিত। এছাড়াও রয়েছে বিল হালতি, হিলনা, মহানগর, বিলভাতিয়া, উথরাইল, খিবির বিল, চাতরা, মান্দার বিল, বিলকুমলী, পাতি খোলা, অঙ্গরা, চাঙ্গা, দিকমী, পারুল, সতী, মালসী, ছোনী, বাঘনদী, পিয়ারুল, মিরাট, রক্তদহ, কুমারীদহ, খুকসী, জবই বিল, বাঁধ বাড়িয়া গ্রামের বিল। এসব বিল মূলত পদ্মাকে ঘিরেই এর সৌন্দর্য বিরাজ করে। কিন্তু শুষ্ক মওসুমের আগেই পদ্মার পানি শূন্য হয়ে পড়ায় এর প্রভাব পড়েছে এসব খাল বিলে। পদ্মার মতই নাম করা বিলগুলো শুকিয়ে গেছে। চির যৌবনা ছুটে চলা পদ্মা এখন মরা নদীর নাম। দুর দিগন্তে যতদূর চোখ যায় শুধু ধু ধু বালুর চর। তবে এবার বৈশাখ আসার আগেই যতটুকু পানি পদ্মায় রয়েছে তা আর দেখা যাবে না বলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে মূলত নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে বালুচরের উচ্চতা বেড়ে গেছে। বর্ষা মওসুমে মাস তিনেকের জন্য নদীতে পানি থাকলেও সারা বছরজুড়েই তলানিতে থাকে পানি। পদ্মায় শেষ পর্যন্ত যে পানি থাকে কোনও কাজে লাগে না। বেশিরভাগ সময় একেবারে নাগালের বাইরে এ পানি অবস্থান করে। যা দিয়ে সেচের কাজও করতে পারে না কৃষকরা।

এছাড়াও পানি শুকিয়ে যাওয়ার কারণে জেলেদের একটি বড় অংশ বেকার হয়ে যায়। যারা নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন তাদের এখনই দুর্দিন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেকেই পদ্মা নদী থেকে নৌকা ও জাল গুটিয়ে নিয়েছে। তারা মাছ শিকার না করে নগরীতে দিনমজুর ও রিক্সা চালানোর পেশা বেছে নিচ্ছেন।

এদিকে, পদ্মায় জেগে উঠা চরে চলছে চাষাবাদের ব্যবস্থা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে শুরু করে হার্ডিঞ্জ পয়েন্ট পর্যন্ত বিস্তৃত পদ্মার চর এলাকায় হয় নানান ধরনের ফসল। স্থানীয়রা চরের জায়গা ইতোমধ্যেই লাঙ্গল চাষ দিয়ে বপন শুরু করেছে নানা ধরনের চৈতালি ফসলের বীজ। দেখা গেছে রাজশাহীর লালন শাহ পার্কের সামনে জেগে উঠা চরে চলছে ফসল ফলানোর প্রস্তুতি। প্রতিবছরের ন্যায় এবারো বিভিন্ন ধরনের কলাইয়ের চাষ করছেন কৃষকরা। এছাড়া বেশ কিছু এলাকায় ধান রোপণের জন্য তৈরি করা হচ্ছে। তবে চৈতালি ফসল ডালের চাষ হচ্ছে বেশি। এছাড়া নিচু এলাকায় বোরো ধান চাষের জন্য জমি তৈরির কাজও করা হচ্ছে। আর হয়তো কিছু দিনের মধ্যে সবুজের সমারোহ হবে পুরো পদ্মার চর এলাকা।

পরিবেশবিদ ও নদী বাঁচাও আন্দোলন রাজশাহীর সভাপতি অ্যাডভোকেট এনামুল হক বলেন, আমরা অনেক আগে থেকেই নদী বাঁচাও আন্দোলন করে যাচ্ছি। তবে মূল বিষয়টি হলো ভারত আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন করে গঙ্গাসহ অভিন্ন নদীগুলোর পানি একতরফাভাবে সরিয়ে নিচ্ছে। এ কারণে পদ্মা থেকে শুরু করে শাখা উপশাখা নদীগুলো শুষ্ক মওসুমের আগেই শুকিয়ে যাচ্ছে। আর এর প্রভাব পড়ছে এ অঞ্চলের মানুষের ওপর।

এজে

corona
দেশ আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৪৮ ৩০
বিশ্ব ৬৮৫৬২৩ ১৪৫৭০৬ ৩২১৩৭
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • বিশেষ প্রতিবেদন এর সর্বশেষ
  • বিশেষ প্রতিবেদন এর পাঠক প্রিয়