logo
  • ঢাকা সোমবার, ০১ মার্চ ২০২১, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৭

ঘরের চাবি হাতে পেয়ে আনন্দে কাঁদলেন ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা

sixty-year-old, woman, cried, joy, got, key, house
ঘরের চাবি হাতে পেয়ে আনন্দে কাঁদলেন ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা

ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা নুরবানু থাকেন বেড়ীবাঁধের পাশে খুপড়ি ঘরে। বৃদ্ধার সংসার চলে তার বিধবা মেয়ের ভিক্ষাবৃত্তিতে। দুই ছেলে থাকলেও নিয়তির কারণে তাকে দেখা শুনা করার ভারটি পড়ে সেই বিধবা মেয়ের উপর। মুজিব বর্ষের গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মাণে তার নামে বরাদ্দ দেওয়া হয় ঘরটি।

আজ শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ইমরান হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে নুরবানুকে তার ঘরের চাবি হাতে তুলে দেন। চাবি হাতে দিয়ে অনুভূতি জিজ্ঞাসা করলে আনন্দে অঝোর ধারায় কাঁদলেন ষাটোর্ধ্ব এই বৃদ্বা। প্রায় ৩ মিনিট স্তব্দ হয়ে যায় পরিবেশ। কিছু সময় পর স্বাভাবিক হয়ে ঘরে ঢুকে মনভরে দেখলেন জীবনের শেষ সময়ের স্থায়ী ঠিকানাটি।

নুরবানু নোয়াখালী দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চরকিং ইউনিয়নের চরবগুলা গ্রামের মৃত আনছার আলীর স্ত্রী। তাকে দেওয়া হয়েছে বোয়লিয়া আশ্রায়ণের ৬ নম্বর ঘরটি। নুরবানুর মত একই দিন আনুষ্ঠানিকভাবে মুজিব বর্ষ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার ৫০টি গৃহহীন পরিবারের প্রধানের হাতে ঘরের চাবি তুলে দেওয়া হয়। কে কোন ঘরের মালিক হবে সে জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে দেওয়া হয় লটারি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাতিয়া তমরদ্দি ইউনিয়নের জোড়খালী গ্রামে ৩০টি ও চরকিং ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামে ২০টি পরিবারের জন্য সরকারি জায়গায় আধাপাকা ঘর নির্মাণ করা হয়। ইট সিমেন্টের শক্ত কাঠামো। অফ-হোয়াইট রঙের দেয়াল। আর উপরে টিনের ছাউনী। নীল ছাউনী আকাশের নীলের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। প্রতিটি ঘর নির্মিত হয়েছে দুই শতাংশ জমির ওপর। নির্মাণে ব্যয় হয়েছে এক লাখ ৭১ হাজার টাকা। ভূমিহীনদের ঘরের পাশাপাশি দুই শতাংশ জমির মালিকানাও দেয়া হচ্ছে রেজিষ্ট্রি করে।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের কয়েকটি ঘরে প্রবেশ করে দেখা যায়, বাহিরের মতো ভেতরটাও এক ও অভিন্ন। প্রতিটি ঘরে বসবাসের জন্য রয়েছে দুটি কামরা। পেছনের দিকে সংযুক্ত রয়েছে একটি রান্নাঘর। উন্নত সিরামিক বসানো একটি টয়লেট। দরজা জানালাগুলো লোহার পাত দিয়ে তৈরি। বাড়ির সামনে আছে এক চিলতে ওঠোন। বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। একটি পরিবারের জন্য যা যা প্রয়োজন সবই রয়েছে।

প্রতিটি ঘরের সামনের দেয়ালে উন্নত টাইলসে লিখা আছে “আশ্রায়ণের অধিকার শেখ হাসিনার উপহার”ও ঘরের নাম্বার । সে অনুযায়ী, তমরদ্দি জোড়খালী আশ্রায়ণের ৬ নম্বর বাসায় গিয়ে পাওয়া গেল বিবি পুরুশা নামের ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধাকে। সন্তান কোলে বসে আছেন দুই নারী। আলাপকালে বৃদ্ধা জানায় এতদিন তমরদ্দি ক্ষিরোদিয়া গ্রামে বেড়ীবাঁধের উপর বসবাস করে আসতেছে। এক ছেলে পরিবারের প্রধান সে ইট ভাটায় মৌসুমী শ্রমিক হিসাবে কাজ করে। সাথে থাকা দুই নারীর মধ্যে একজন মেয়ে ও একজন ছেলে বৌ। মেয়ে লিপি আক্তারেরে (৩০) স্বামীর বাড়ী অন্য ইউনিয়নে, সেও এসেছে মাকে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারটি দেখতে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় চাবি হাতে পেয়ে তমরদ্দি আশ্রায়নের ঘরের মালিকরা তাদের মালামাল গুছিয়ে নিচ্ছেন। সাথে অনেকের আত্মীয় স্বজন এসেছে দেখতে। হঠাৎ নিস্তব্দ পল্লিটি হয়ে উঠে গৃহহীন মানুষের আনন্দ উল্লাসে সরগরম।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ইমরান হোসেন বলেন, হাতিয়ায় ৫০টি গৃহহীন পরিবারকে এই ঘর দেওয়া হয়। ৫০টি পরিবার নির্ণয়ে অনেক যাচাই-বাছাই করা হয়। আগামীকাল শনিবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে সারা বাংলাদেশে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এসব ঘরের উদ্বোধন করবেন।

এফএ

RTV Drama
RTVPLUS