logo
  • ঢাকা বুধবার, ০৩ মার্চ ২০২১, ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭

করোনাকালে মাদকের নেশায় বুঁদ বহু শিক্ষার্থী

Many, students, addicted, drugs, during, coronation
করোনাকালে মাদকের নেশায় বুঁদ বহু শিক্ষার্থী

করোনা মহামারির সময়ে দেশে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় কয়েকধাপে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে শিক্ষা কার্যক্রম অনলাইনে চললেও অনেক শিক্ষার্থী অনলাইনে অংশগ্রহণ করতে পারছে না বা করছে না। ফলে শিক্ষার্থীরা বাড়িতে অবসর থাকার পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছে। আর এ সুযোগে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা বাড়ছে। অনেক শিক্ষার্থী বখাটেদের পাল্লায় পড়ে মাদকে জড়িয়ে পড়ছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, করোনাকালীন সময়ে গত বছরের শুরুর দিক থেকে অভিযানে কিছুটা ভাটা পড়েছিল। তবে ১০ আগস্ট থেকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বিশেষ অভিযান শুরু করে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযান চালাতে গিয়ে দেখা গেছে, পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নতুন করে কিছু তরুণ ছেলেমেয়েরা জড়িয়ে যাচ্ছে। অনেকে তরুণ মাদকাসক্তে জড়িয়ে পড়ছেন। ২০ নভেম্বর ফেনীতে ২৯ হাজার পিস ইয়াবাসহ একজনকে গ্রেপ্তার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এভাবে প্রতিটি অঞ্চলে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

মাদক ব্যবসায়ীদের প্রধান টার্গেট হচ্ছে তরুণ প্রজন্ম। এতে দেশের তরুণ সমাজ মাদকের ভয়াবহ প্রভাবে বিপথগামী হচ্ছে। মাদকের নীল ছোবলে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে আগামী প্রজন্ম। যা একটি দেশের ভবিষ্যতের জন্য ভয়াবহ দুঃসংবাদ। ঢাকা তেজগাঁও জাতীয় নিরাময় কেন্দ্রে বর্তমানে ৫০ জন মাদকাসক্ত চিকিৎসাধীন রয়েছেন। যাদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী। এ বিষয়ে মাদক নিরাময় কেন্দ্রের প্রধান পরামর্শক সৈয়দ ইমামুল হোসেন বলেন, করোনার আগে এতো মাদক নিরাময় কেন্দ্রে খুব বেশি মাদকাসক্ত ব্যক্তি ছিল না। কিন্তু বর্তমানে মাদকাসক্তদের সংখ্যা বাড়ছে। রাজধানীসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক। ফলে মাদকের নেশায় বুঁদ বহু শিক্ষার্থী।

গত ২ নভেম্বর রাজধানীর মগবাজার এলাকায় এক বাসা থেকে দশম শ্রেণির ছাত্রের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে ওই পরিবারের সদস্যরা জানায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এলাকার মাদকাসক্ত বখাটে ছেলেদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। এতে পরিবারের সদস্যরা রাগারাগি করলে অভিমানে আত্মহত্যা করে।

প্রাণঘাতি করোনায় মধ্যেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুলিশ ও র‌্যাব আনুষ্ঠানিকভাবে মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে। এরপরও হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক। ইয়াবা, ফেন্সিডিল, গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। মিয়ানমার, ভারত থেকে চোরাপথে এদেশে ঢুকেছে মণর নেশা। তা ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন এলাকায়। নেশার উপকরণ হিসেবে জনপ্রিয় হচ্ছে ইয়াবা। মাদক ব্যবসায়ীরা করোনার মধ্যে টার্গেট করছে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। যে পরিমাণ ইয়াবা ও ফেন্সিডিলসহ মাদকদ্রব্য দেশে ঢুকছে সেই তুলনায় উদ্ধার হচ্ছে খুবই কম। প্যান্টের পকেট, ছোট ব্যাগে করে বা অন্য নানা উপায়ে সহজেই ইয়াবা নিয়ে আসা সম্ভব। মিয়ানমার ও ভারত সীমান্তে চোরাই পথে খুব সহজ ও লাভজনক এবং ধরা পড়ার সম্ভবনা কম হওয়ায় পাচারকারীরা ইয়াবা কারবারে আগ্রহী হচ্ছে। গরু, মোষ, বাইক পাচারকারীরা এখন বিকল্প হিসেবে বেছে নিয়েছে মাদক ব্যবসা।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আহসানুল জব্বার আরটিভি নিউজকে বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় দায়িত্বে থাকা কোস্টগার্ড, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। সম্প্রতি বিপুলসংখ্যক মাদক উদ্ধার হয়েছে। মাদক নির্মূলে সবার সহযোগিতা লাগবে।

করোনাকালীন সময়ে পুলিশ ও র‌্যাবের বিভিন্ন অভিযানে দেখা গেছে মাদক ব্যবসায়ীরা নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। গাড়ির সিলিন্ডারে মাদক, ত্রাণবাহী কিংবা জরুরি পণ্যবাহী গাড়িতে মাদক, মাছ ধরার ট্রলার, কাভার্ড ভ্যান, কখনো পায়ুপথে, কখনো যানবাহনের ইঞ্জিনের কাভারে করে গন্তব্যে পৌঁছে যাচ্ছে গাঁজা, ফেনসিডিল কিংবা ইয়াবা।

এসব বিষয়ে হেলথ অ্যান্ড হোপ স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী আরটিভি নিউজকে বলেন, করোনার কারণে বিশ্বব্যাপী শিক্ষার্থীদের জীবনে বড় ঝড় বয়ে গেছে। এই সময়ে যে দেশ ও সমাজ তরুণদের প্রতি বাড়তি নজর রাখতে পেরেছে সেই দেশ ও সমাজ আগামীতে এগিয়ে যাবে। আর যেসব দেশে ও সমাজ তরুণদের প্রতি নজর রাখতে পারেনি তারা ভবিষ্যতে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখিন হবে। দেশে মাদক, পর্নোগ্রাফিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তরুণরা জড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শহর জীবনে তরুণরা মাদক ও পর্নোগ্রাফি আসক্ত বেশি। কারণ শহরে স্কুল কলেজ বন্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীরা খেলাধূলা করতে পর্যাপ্ত মাঠ পাচ্ছে না। ফলে তারা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে গিয়ে মাদক ও পর্নোগ্রাফি আসক্ত হচ্ছে। এজন্য মাদক ও পর্নোগ্রাফি থামানোর জন্য জাতীয় পর্যায়ে শক্তিশালী উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। বিভিন্ন জায়গায় মাদক বিরোধী অভিযান শুরু করলেও পরবর্তীতে দেখা যায় সেই অভিযান শিথিল হয়ে যায়। মাদক বিরোধী অভিযান চূড়ান্তভাবে শক্তিশালী করা দরকার।

দেশ করোনা সংক্রমণের হার ধীরে ধীরে কমে আসছে। এখন পরিকল্পিতভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়ার পক্ষে মত দেন এই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ।

এফএ/এমকে

RTV Drama
RTVPLUS