logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

‘দ্বিতীয় ওয়েভ ঠেকাতে সচেতনতা সৃষ্টিতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজে লাগানো হবে’ 

health ministry, health Department, Corona virus,
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত ডিজি
করোনা মহামারিতে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্কের মুখে পদত্যাগ করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিদায়ী মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ। এরপর ভারপ্রাপ্ত ডিজির দায়িত্বে আসেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান  ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। 

করোনাভাইরাস মহামারিতে সচল বিশ্ব অচলের পথে। বিশ্বে প্রতিদিন লাখের ওপরে মানুষ করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন। তরুণ ছেলেমেয়ে বেশি করোনায় সংক্রমিত হলেও মৃত্যুতে এগিয়ে বয়স্করা। বিশ্বে মোট করোনা আক্রান্ত ৪ কোটি ৭১ লাখ, মৃত্যু ১১ লাখ ২৪ হাজারের বেশি। আর বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত করোনায় মারা গেছেন ৫ হাজার ৬৯৯ জন। আক্রান্ত হয়েছেন তিন লাখ সাত হাজার ৭৪১ জন।

আসন্ন শীতের মৌসুমে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি, সামর্থ্য ও সীমাবদ্ধতা বিষয়ে সম্প্রতি আরটিভি নিউজের মুখোমুখি হন ভারপ্রাপ্ত ডিজি ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন স্টাফ রিপোর্টার ফারুক আলম।

প্রশ্ন: শীতের মৌসুমে করোনার প্রকোপ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রস্তুতি কেমন?

খুরশীদ আলম: দেশে করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে নিয়মিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে। করোনা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শুরুর দিকে বেশকিছু সমালোচনার মুখে পড়েছিল। বর্তমানে সেই সমালোচনা অতিক্রম করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। আর আসন্ন শীতের মৌসুমে করোনা সংক্রমণ বাড়ার শঙ্কা থেকে ইতোমধ্যে কিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। টেকনিক্যাল কমিটির সদস্যদের পরামর্শগুলো গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। আগে টেকনিক্যাল কমিটির পরামর্শ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। মানুষকে শরীরিক দূরত্ব বজায় রাখার পরমর্শ দেওয়া হচ্ছে। মাস্ক পড়ে বাসাবাড়ির বাইরে বের হতে হবে। সেকেন্ড ওয়েভ নিয়ে নতুন কর্মপরিকল্পনা প্রচার-প্রচারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে মানুষকে সচেতন করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রশ্ন: করোনা টেস্টের সংখ্যা বাড়ানোর ব্যাপারে কি ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে?

খুরশীদ আলম: ভাল প্রশ্ন করেছেন। সত্যিকার অর্থে বলতে গেলে করোনা সংক্রমণের শুরুর দিকে টেস্টের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনও বার্তা দেওয়া সম্ভব হয়নি। এতে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে হুমরি খেয়ে করোনা টেস্টের জন্য হাসপাতালে আসেন, টেস্টে চাপ বেড়ে যায়। মানুষ চিকিৎসা নিতে এতে ভোগান্তির শিকার হয়েছিল। আর বিশ্বে সকল দেশে রোগটি নতুন হওয়ায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল। রোগীর চিকিৎসা দিতে গিয়ে চিকিৎসকরাও ভয়ের মধ্যে ছিল। সঠিক পরিকল্পনা নিতে পারলে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হত না। করোনা টেস্ট ও রোগীর চিকিৎসার জন্য রাজধানী, সিটি করপোরেশন, জেলা ও উপজেলা শহরে হাসপাতালের ব্যবস্থা করেছে সরকার। হাসপাতালে বেড খালি থাকায় কয়েকটি কভিড-১৯ হাসপাতালে সাধারণ রোগীর চিকিৎসার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। মানুষ করোনা টেস্ট ও করোনা আক্রান্ত হলে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে যেন আসেন সেই আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে নতুন উদ্যোগ হিসেবে অ্যান্টিজেন টেস্টের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এখন করোনা টেস্টের জন্য মানুষ হাসপাতালে আসছেন

প্রশ্ন: করোনায় টেলিমেডিসিন সেবা সম্পর্কে কিছু বলুন?

খুরশীদ আলম: টেলিমেডিসিন সেবা নিঃসন্দেহ রোগীদের জন্য ভাল। কিন্তু এই টেলিমেডিসিন সেবা নেওয়ার কিছু প্রক্রিয়া বা ধাপ রয়েছে। মনে করেন- কেউ জটিল কোন রোগে আক্রান্ত হয়েছেন আবার করোনাও আক্রান্ত হয়েছেন। তখন যদি বাসায় থেকে টেলিমেডিসিন সেবা নেওয়া যাবে না। বিশেষ করে বয়স্কদের মধ্যে যারা শ্বাসকষ্টসহ অন্য কোন রোগে ভুগছেন তারা করোনা আক্রান্ত হলে বাসায় না রেখে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়ে টেলিমেডিসিন সেবা এগোতে হবে। অনেক সময়ে মানুষ নিজেরাই বাসায় বসে নিজেই চিকিৎসক হয়ে উঠেন। আর করোনা আক্রান্ত হয়ে জটিল অবস্থা সৃষ্টি হলে হাসপাতালে চলে আসেন। তখন ওই রোগীকে চিকিৎসক সেবা দিতে গিয়ে বেগ পেতে হয়। করোনায় আমেরিকাসহ উন্নত দেশগুলোতে ৭০ বছরের ওপরে বয়স্ক মানুষ বেশি মারা যাচ্ছেন। আমাদের দেশে ৭০ বছরের ওপরে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা কম তাই ৫০ কিংবা ৬০ বছরের ওপরে মানুষ মারা যাচ্ছেন।

প্রশ্ন: চীনা ভ্যাকসিনের ট্রায়ালের অনুমতি দিল সরকার, ফের তা বন্ধ হয়ে গেল কেন?

খুরশীদ আলম: চীনা কোম্পানি তাদের করোনা ভ্যাকসিন বাংলাদেশে ট্রায়ালের জন্য কয়েকবার সম্মতি চাওয়ায় পর সরকার অনুমতি দেয়। এই কোম্পানি প্রথমে ফ্রি-তে ট্রায়াল দেওয়ার কথা ছিল কিন্তু তারা ট্রায়াল শুরু করতে গেলে অর্থ দাবি করে। আমাদের লোকজনের ওপর চীনা কোম্পানি ভ্যাকসিন ট্রায়াল করবে আর আমাদের কাছ থেকেই অর্থ দাবি করবে। এটি কোনভাবেই হয় না। সেজন্য চীনা ভ্যাকসিনের ট্রায়াল বাতিল করা হয়েছে।

প্রশ্ন: অ্যান্টিজেন কিটের ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কি ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে? 

খুরশীদ আলম: অ্যান্টিজেন কিট বিশ্ব ব্যাংক ও ইউনিসেফের সহযোগিতায় কেনা হবে। ইতোমধ্যে ইউনিসেফ ১০ লাখ অ্যান্টিজেন কিট কিনে দেওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্ব ব্যাংক অ্যান্টিজেন কিট কেনার জন্য অর্থ বরাদ্দ রেখেছে। এই মুহূর্তে করোনার চিকিৎসা বাবদ অ্যান্টিজেন কিট কিংবা অন্যান্য কেনাকাটা দ্রুত করতে গিয়ে ঝামেলার মধ্যে যাবে না স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নিয়ম মেনে কেনাকাটা করা হবে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বারবার আসছে। এতে অস্বস্তিতে পড়তে হচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সবাইকে।

প্রশ্ন: করোনা চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে ফিরে যাওয়ার পরবর্তীতে মানুষ কোন সমস্যায় পড়ছেন সেটি জানার কোন ব্যবস্থা করা হয়েছে কিনা?

খুরশীদ আলম: হাসপাতাল থেকে করোনা রোগী চিকিৎসা নিয়ে বাসায় যাওয়ার পরবর্তীতে আর কোন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন কিনা সেটি জানতে প্রতিটি হাসপাতালে পুনঃসেবা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে যাওয়ার পরবর্তীতে যেকোন মানুষ এই সেবাটি নিতে পারেন।

এফএ/ এমকে

RTVPLUS