Mir cement
logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২ আশ্বিন ১৪২৮

তিমি কেন আত্মহত্যা করে, গবেষকের চাঞ্চল্যকর তথ্য!

তিমি কেন আত্মহত্যা করে, গবেষকের চাঞ্চল্যকর তথ্য!
তিমি কেন আত্মহত্যা করে, গবেষকের চাঞ্চল্যকর তথ্য!

তিমি সাধারণত জোড়া বেধে চলতে পছন্দ করে। নারী-পুরুষ একজন আরেকজনকে সহজে ছেড়ে যায় না। আহত হলে অন্যজন তাকে সার্বিক সহযোগিতা দেয় সারাক্ষণ। এটা তিমির সহজাত প্রবৃত্তি। তবে একজন মারা গেলে অন্যজন আত্মহত্যা করে কি-না তা বিজ্ঞানীদের কাছে এখনো অমীমাংসিত বিষয়। সম্প্রতি আরটিভি অনলাইন’র সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয় এক মৎস্য বিজ্ঞানীর।

চলতি এপ্রিল মাসের শুরুতে দেশের কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতে পরপর দু’টি তিমির মৃতদেহ ভেসে আসে। কিভাবে তিমি দু’টির মৃত্যু হয়েছে তা এখনো অজানা। এ নিয়ে চলছে গবেষণা। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তে।

এদিকে গবেষকরা বলছেন, চলমান লকডাউনের কারণে ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেতে দেরি হচ্ছে। সবাই যখন ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় তখন কয়েকটি গণমাধ্যমে ‘পুরুষ সঙ্গীর মৃত্যুর শোকে স্ত্রী তিমির আত্মহত্যা’ উল্লেখ করে সাক্ষাতকার দিয়ে অন্য গবেষকদের সমালোচনার মুখে পড়েন মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের জ্যৈষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আশরাফুল হক।

আরটিভি অনলাইন’র সঙ্গে আলাপকালে এই বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বলেন, তিমি আত্মহত্যা করতে পারে কি-না বিষয়টি বিজ্ঞানীদের কাছে এখনো অমীমাংসিত। তবে দূষণ, আহত হওয়া বা অন্য কোনো কারণে তিমিদের গভীর সমুদ্র থেকে সৈকতমুখী যাত্রা করা ও নিজেকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়ার যে প্রবণতা, তাকে ধারণাগত বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব বা হাইপোথিসিস অনুযায়ী ‘হোয়েল স্ট্র্যান্ডিং ইভেন্ট’ বা তিমিদের আত্মহত্যা বলা হয়।

এ কর্মকর্তা আরও বলেন, তিমির আত্মহত্যার এই পরিভাষাটি ২ হাজার বছরের পুরাতন। সেই এরিস্টটলের আমল থেকে। ২০১৫ সালে বিজ্ঞানীরা দক্ষিণ চিলির পাতাগোনিয়াতে ৩৩৭টি মৃত তিমি পান। যা বিজ্ঞানীদের কাছে এখনো তিমিদের সবচেয়ে বড় আত্মহত্যার ঘটনা হিসেবে বিবেচিত।

আরও পড়ুন : বৃদ্ধকে বাঁচানোর মিথ্যা গল্প প্রচার করেছেন নোবেল!

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক’র এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় ঘটনাটি। সেখানে বলা হয় ডলফিন, তিমি বা অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণী একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর শ্বাস নেয়ার জন্য ওপরে ওঠে আসে। আবার শিকারের জন্য তারা সাগরের অনেক গভীরে চলে যায়। এমনকি তারা এক কিলোমিটার নীচে যেয়েও শিকার ধরে আনতে পারে। কিন্তু ভারসাম্য বিঘ্নিত হলে বা যথাযথভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস চালাতে ব্যর্থ হলে তিমিরা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে। এ সময় তারা জোয়ারের সঙ্গে সৈকতের দিকে আসতে থাকে এবং সৈকতে এসে আটকা পড়ে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে পড়ে। অসুস্থতার কারণে শ্বাস গ্রহণে বাধা পেয়েও তিমির মৃত্যু হয়। বিশ্বব্যাপী তিমি মৃত্যুর অর্ধেক কারণ সৈকতমুখী যাত্রা করা।

এছাড়া শিপিংয়ের শব্দ দূষণসহ বেশ কিছু কারণে তিমিরা সৈকতমুখী হয় বলে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অসুস্থ তিমির সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে না সুস্থ তিমিটি। সামাজিক এই দায়বদ্ধতা থেকে অসুস্থ তিমির সঙ্গে সুস্থ তিমিও সৈকতের দিকে নিজেকে নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়। তিমিদের এই প্রবণতাকে বিজ্ঞানীরা ‘আত্মহত্যা’ হিসেবে দেখে।

বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আশরাফুল হক আরটিভি অনলাইন’কে বলেন, গত ৯ ও ১০ এপ্রিল কক্সবাজারের ভেসে আসা মৃত তিমি দুটি পর্যবেক্ষণ শেষে আমার মনে হয়েছে পুরুষ তিমিটির মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও সৈকতের দিকে এসে নিজেকে আত্মাহুতি দিয়েছে নারী তিমিটি। ৯ এপ্রিল ভেসে আসা নারী তিমিটির গায়ে কোনও ক্ষত ছিল না। ১০ এপ্রিল মারা যাওয়া পুরুষ তিমিটির গায়ে ক্ষত আছে। এটি আগে মারা গিয়েছে।

এসআর/

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS