logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬

বৃদ্ধাশ্রমের মায়েদের সঙ্গে ইফতার করলেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ২২ মে ২০১৯, ১২:৩৩ | আপডেট : ২২ মে ২০১৯, ১৩:১০
ছবি: সংগৃহীত
নিঃশব্দ নিস্তব্ধ। উৎসবহীন ইফতার। প্রতিদিনই এমন চিত্র থাকে রাজধানীর উত্তরখানের আপন নিবাস বৃদ্ধাশ্রমে। তবে মঙ্গলবারের ইফতারটা ছিল অন্যরকম। এক ভিন্ন পরিবেশ। ছিল রোজা বা ইফতার নিয়ে বাড়তি উৎসাহ। কারণ তাদের সঙ্গে ইফতারে এসেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের একদল শিক্ষার্থী।

whirpool
এদিন বৃদ্ধাশ্রমের মায়েদের নিয়ে ইফতারের আয়োজন করা হয়। তাদের সঙ্গে আড্ডা, গল্প করে অন্যরকম করে তোলেন সন্তান বয়সী এই তরুণরা।

বৃদ্ধাশ্রমের সবাই খুব খুশি, কারণ তাদের নাতিরা আসছে তাদের দেখতে। এক মুরব্বি তো মহাখুশি। কারণ তিনি কখনো ফোন চালাননি, তো আজকে তাকে ছবি তোলা শিখানো হলো। কী যে হাসি ও লজ্জা ক্লিক করার সময়। কারণ, প্রত্যেকটি লোকের ভেতরে চাপানো আছে হাজারো কষ্ট, হাজারো তৃষ্ণা। কেউ একবারের জন্যও ভাবেননি যে তাদের বৃদ্ধাশ্রমে এসে থাকতে হবে। তবে এই দিনটি তাদের পারিবারিক জীবনের পুরোনো দিনগুলো মনে করিয়ে দিয়েছে। তাই উচ্ছ্বাসে ভেসেছেন তারা।

বৃদ্ধাশ্রমের বাসিন্দা মীরা চৌধুরী বলেন, একদিন আমার সব ছিল। স্বামী সন্তান, বাড়বাড়ন্ত সংসার। এখন আমার কিছুই নেই। আমি নিঃস্ব, একা। রোজা-ইফতারের কথা বলতেই হেসে ফেলেন ৬৫ বছর বয়সী এই বৃদ্ধা। এখন রোজা কী আর ঈদ কী কিছুই বুঝি না। সবদিনই একরকম লাগে। স্বামী নেই। সন্তান প্রবাসী। জানালেন, সন্তান বয়সীদের পেলেই মেতে ওঠেন তিনি। মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী এলে ইফতারের আগে খোশগল্পে আড্ডায় মেতে ওঠেন।

বৃদ্ধাশ্রমের রোকেয়া বেগমও বললেন একই কথা। তিনি বলেন, খুবই ভালো লেগেছে। একা থাকি। অন্যদিন তো এমনি এমনিই যায়। চুপচাপ ইফতার করি। আজকে বেশ আনন্দে কেটেছে। সবাই একসঙ্গে ইফতার করেছে।

আয়োজক আপনজনের সংগঠক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমেদ আরটিভি অনলাইনকে বলেন, বৃদ্ধাশ্রমের এই মায়েরা নিজেদের ভালোবাসার মানুষজন ছেড়ে এখানে আছেন। তাদের জন্য সামান্য কিছু করতে পারাটাই আনন্দের। বন্ধুরা মিলে সেটাই চেষ্টা করেছি।

এসজে/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়