• ঢাকা রবিবার, ১৬ জুন ২০১৯, ২ আষাঢ় ১৪২৬

নানা দেশের বাহারি ইফতার

আরটিভি অনলাইন ডেস্ক
|  ০৭ মে ২০১৯, ১২:০৩ | আপডেট : ০৭ মে ২০১৯, ১২:১৫
ফাইল ছবি
রোজাদারের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত ইফতারের সময়। কারণ এ সময় আল্লাহ তাআলা তাঁর রোজাদার বান্দাদের দোয়া কবুল করেন এবং ইফতারের মাধ্যমেই একজন রোজাদার তাঁর রোজা সম্পন্নের পর মহান আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জন করেন।

whirpool
ইফতার, হোক না সেটা একগ্লাস পানি ও একটি খেজুর, কিংবা শুধুই একমুঠো শুভ্র মুড়িতে, একজন রোজাদার এতেই পূর্ণ তৃপ্তি পায়। যা সেই রোজাদারই শুধু উপলদ্ধি করতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইফতারের ধরন বিভিন্ন রকম। আবার অঞ্চলভেদে একই দেশে বিভিন্ন রকম ইফতার হয়ে থাকে।

প্রিয় নবী (সা.) খেজুর ও কয়েক ঢোঁক পানি দিয়েই ইফতার শুরু করতেন। সময়ের পরিবর্তনে তাতে যোগ হয়েছে হরেক রকম খাবার। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ইফতারের বৈচিত্র্য নিয়ে আমাদের এই আয়োজন-

বাংলাদেশ : বাংলাদেশে ইফতারে কমন আইটেম হচ্ছে খেজুর, পেঁয়াজু, বেগুনি, হালিম, আলুর চপ, জিলাপি, মুড়ি ও ছোলা। একটু ব্যতিক্রমী হলে মাংসের কিমা ও মসলা দিয়ে তৈরি কাবাবের সঙ্গে পরোটা, মিষ্টি ও ফল। শরবতসহ এসব খাবার এ দেশের ইফতার টেবিলকে দেয় পরিপূর্ণ রূপ।

সৌদি আরব: এখানে মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববীতে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ইফতারের আয়োজন হয়। এখানে প্রতিদিন লাখো মানুষ একসঙ্গে ইফতার করে থাকে।  ইফতারিতে থাকে কোনাফা, ত্রোম্বা, বাছবুচান্ডর নামক নানা রকম হালুয়া। এ ছাড়া খেজুরের নানা রকম লোভনীয় আইটেম তো রয়েছেই।

ইন্দোনেশিয়া:  ইফতারকে বুকা পুয়াসা বলা হয়। এখানে বেদুক বাজানোর মাধ্যমে ইফতারের সময় নিশ্চিত করার রেওয়াজ রয়েছে। আসরের নামাজের পর বাজারগুলোতে বিভিন্ন ইফতার বিক্রি হয়।

ইরান: ইরানিরা চায়ে চুমুক দিয়ে ইফতার শুরু করে।  লেভাস বা বারবারি নামের এক ধরনের রুটি, পনির, তাজা ভেষজ উদ্ভিদ, মিষ্টি, খেজুর ও হালুয়া দিয়েই চলে সেখানকার ইফতার।

মালয়েশিয়া: স্থানীয় লোকেরা ইফতারে আখের রস ও সয়াবিন মিল্ক খান, যাকে তাদের ভাষায় বারবুকা পুয়াসা বলা হয়। এ ছাড়া স্থানীয় খাবারের মধ্যে থাকে লেমাক লাঞ্জা, আয়াম পেরিক, নাসি আয়াম, পপিয়া বানাস ও অন্যান্য খাবার।

মালদ্বীপ: এখানে ইফতার ‘রোয়াদা ভিলান’ নামে পরিচিত। তাদের ইফতারের মূল উপাদান শুকনো বা ফ্রেশ খেজুর। বিলাসবহুল রেস্তোরাঁ বা হোটেলে ইফতার ও ডিনারের বিশেষ আয়োজন থাকে। অন্যদিকে সেখানকার মসজিদগুলোতে ফ্রি খেজুর জুসের ব্যবস্থা করা হয়।

রাশিয়া: ইফতার আয়োজনে খেজুর ও অন্য ফল রাখা হয়। এরপর স্যুপ, রুটি ও বিভিন্ন স্থানীয় খাবারের আয়োজন তো রয়েছেই। রাশিয়ান ঐতিহ্যবাহী কাভাসকেও তৃষ্ণা মেটাতে সেরা পানীয় হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

আফগানিস্তান: গরু বা খাসির মাংসের কাবাব, হরেক রকম ফ্রেশ ও শুকনো ফল এবং জুস ও চা এ অঞ্চলের ইফতার টেবিলের মধ্যমণি।

দুবাই: নানা রকম মুখরোচক খাবার দিয়ে দুবাইয়ে ইফতার করা হয়। রুটি, মাংসের চপ, মসুর ডালের স্যুপ, সালাদ ও চা ইত্যাদি থাকে। তাদের এই আয়োজনকে সম্মিলিতভাবে ‘মেজে’ বলা হয়।

মিসর: দেশটির পথে পথে ছোট ছোট সোনামণিদের লেটুসপাতা বিক্রি করতে দেখা যায়। সেখানকার ইফতারে এ পাতার দারুণ সমাদর। ইফতারিতে তাদের প্রধান মেন্যু কোনাফা, কাতায়েফ। এগুলো মূলত কেকজাতীয় খাদ্য। যেগুলো আটা, চিনি, মধু ও বাদাম দিয়ে তৈরি হয়। তবে খাবার শুরু করে চা দিয়ে।

সিরিয়া: আরব দেশগুলোর মধ্যে ভালো হালুয়া তৈরি করে সিরিয়ার লোকেরা। তারা এ খাবারকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে। তাদের হালুয়া যে কত নকশার হতে পারে, তা না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। এ ছাড়া তারা ইফতারের পর দিজাজ সয়াইয়া, খবুজ, সরবা ও চা খায়।

পাকিস্তান: খেজুর ও পানি দিয়ে তাদের ইফতার শুরু হয় সাথে থাকে চা। তবে তাদের আয়োজনে থাকে হরেক রকমের চোখ ধাঁধানো খাবার। চিকেন রোল, স্প্রিং রোল, শামি কাবাব এবং ফলের সালাদের পাশাপাশি মিষ্টি ও ঝালজাতীয় খাদ্য, জিলাপি, সমুচা, নিমকি ইত্যাদি।

ভারত: ভারতের ইফতারিতে রয়েছে নানা বৈচিত্র্য। সেখানকার একেক রাজ্যে ইফতারির একেক রকম পদ হয়। হায়দরাবাদের লোকজনের ইফতার হয় হালিম দিয়ে। তামিলনাড়ু ও কেরালায় ইফতার হয় ননবো কাঞ্জি দিয়ে। এটি  তৈরি হয় ভাত, খাসির মাংস, সবজি ও মসলা দিয়ে। পাশাপাশি থাকে বন্ডা, পাকুড়া—এসব খাবার।

তুরস্ক: ‘রমজান কিবাবি’ নামক খাদ্যটির ইফতার হিসেবে আলাদা কদর রয়েছে এখানে। এটা বিশেষ ধরনের কাবাব। এ ছাড়া রোজা ভাঙতে এখানে নানা রকম শরবতের ব্যবহার বেশ পুরনো।

ব্রিটেন: ইফতারিতে ব্রিটিশ রোজাদাররা খেজুর, ফল, স্যুপ, জুস, রুটি, ডিম, মাংস, চা-কফি ইত্যাদি গ্রহণ করে থাকে।

ইতালি: ১ শতাংশ মুসলমানের এই দেশে রোজাদাররা বার্গারজাতীয় খাদ্য, নানাবিধ ফল যেমন—মাল্টা, আপেল, আঙুর, বিভিন্ন ফলের রস ও চা ইত্যাদি দিয়ে ইফতার করেন।

আমেরিকা: আমেরিকায় ইফতারসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের খেজুর, খুরমা, সালাদ, পনির, রুটি, ডিম, মাংস, ইয়াগার্ট, হট বিনস, স্যুপ, চা ইত্যাদি।

কানাডা: এখানকার মুসলমানদের ইফতারিতে খেজুর, খুরমা, পনির, সালাদ, ফল, স্যুপ, জুস, রুটি, ডিম, মাংস, চা-কফি ইত্যাদি থাকে।

অস্ট্রেলিয়া: ২ শতাংশ মুসলমানের এই দেশে ইফতারিতে স্যান্ডউইচ, পনির, মাখন, দুধজাতীয় খাবার, নানাবিধ ফল ও ফলের রস এবং চা খাওয়া হয়।

এমকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়