logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬

লোক নাট্যদলের ‘আমরা তিনজন’র উদ্বোধনী মঞ্চায়ন

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ০১ মে ২০১৯, ১৫:২৬

মঞ্চে এলো লোক নাট্যদলের আরেকটি নতুন নাটক ‘আমরা তিনজন’। বুদ্ধদেব বসুর গল্প অবলম্বনে নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন দলের অধিকর্তা নাট্যজন লিয়াকত আলী লাকী। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় নাটকটির উদ্বোধনী মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হয়।

নাটকের কাহিনিতে দেখা যায়, ১৯২৭ সালের ঢাকার পুরানা পল্টন। বিকাশ, অসিত ও হিতাংশু তিনবন্ধু। দিনের বেশিরভাগ সময় তিনবন্ধু একসঙ্গে থাকে; যতটা ও যতক্ষণ থাকা সম্ভব। তিনবন্ধু একে অপরের প্রেমে পড়ে আবার তিনজনই একসঙ্গে অন্য একজনের প্রেমে পড়ে, নাম তার- অন্তরা, বাড়ির সবাই ডাকে তরু বলে। তবে তিন বন্ধুর কাছে মেয়েটির নাম হয়ে যায় ‘মোনালিসা’।

এর মধ্যেই মোনালিসা টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়। এতে তিনবন্ধুর ভীষণ মন খারাপ হয়। মোনালিসার বাবা-মা তাদের সহায়তা চাইলে দিনরাত প্রায় একমাস পরিশ্রম করে তারা মোনালিসাকে সুস্থ করে তোলে। মেয়েটির সাথে তাদের একটি আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয়।

তারপর একদিন মোনালিসা ভালো হয় এবং চলে যায় রাঁচি। ঠিকানা রাখেনি বলে তিনবন্ধুর খুবই মন খারাপ হয়। তবে যেদিন ওরা ফিরল, সেদিন স্টেশনে কচি কলাপাতা রঙের শাড়ি আর লালচে মুখায়বয়বের মোনালিসাকে দেখে তিনবন্ধু মুগ্ধ হয়। ট্রেনের মধ্যে মোনালিসার সেকি গল্প, দেখতে দেখতে তিনবন্ধু চারজন হয়ে ওঠে।

হঠাৎ একদিন মোনালিসার মা তাদেরকে জানায় মোনালিসার বিয়ের সংবাদ। খবরটি শুনে তিনবন্ধু হতভম্ব হয়ে যায়। বিয়ের পর মোনালিসা চলে যায় কলকাতা। একদিন হঠাৎ জানা গেলো মোনালিসা ঢাকায় আসছে এবং সে অন্তঃসত্ত্বা। তিনবন্ধু মোনালিসাকে ঘিরে থাকে সবসময়। ও যাতে ভালো থাকে, কখনও মন খারাপ না করে, সেই চেষ্টাতেই দিন কাটে তিনবন্ধুর।

এক অমাবশ্যার রাতে প্রসব বেদনায় ছটফট করতে থাকে মোনালিসা। মোনালিসার চাপা কান্না তিনবন্ধুর বুক বিদীর্ণ করে দেয়। শীতের রাতে, মাঠের মধ্যে না খেয়ে, না ঘুমিয়ে, অদৃষ্টের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তিনবন্ধু রুদ্ধশ্বাসে প্রতীক্ষা করতে থাকে। ভোরের প্রথম ছাইরঙা আলোয় ওরা দেখতে পায় দে সাহেবের বেদনার্ত নির্বাক মুখ। রাশি রাশি ফুল আরও কত কিছু দিয়ে সাজানো হয় মোনালিসার শবদেহ। তারপর শুরু হয় মোনালিসার অন্তিম যাত্রা।

নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন- বিকাশ (প্রবীণ): লিয়াকত আলী লাকী, বিকাশ: মাস্উদ সুমন, হিতাংশু: আজিজুর রহমান সুজন, অসিত: ফজলুল হক, তরু/অন্তরা: অনন্যা নীশি, দে সাহেব: স্বদেশরঞ্জন দাসগুপ্ত, হীরেন বাবু: জিয়াউদ্দিন শিপন, সুমি: সোনিয়া আক্তার, ভৃত্য: শিশির কুমার রায়, ডাক্তার: অঙ্কিত বিপুল, গাড়োয়ান: আলী আজম।

নাটকটির মঞ্চ ব্যবস্থাপনায় আজিজুর রহমান সুজন, ব্যবস্থাপনা সহকারী শিশির কুমার রায়, সেট সুজন মাহাবুব, আলোক পরিকল্পনায় নাসিরুল হক খোকন, আবহসঙ্গীতে ইমামুর রশীদ, পোশাক মেহেজাবীন মুমু, প্রপস্ অঙ্কিত বিপুল, পোস্টার ডিজাইন আনিসুজ্জামান সোহেল, প্রচার ও প্রকাশনায় রুবেল শঙ্কর, সংগীত পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় লিয়াকত আলী লাকী।

 

এম/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়