• ঢাকা বুধবার, ১৬ জানুয়ারি ২০১৯, ৩ মাঘ ১৪২৫

‘পর্দার পেছনে থাকা মানুষগুলোর জন্য কথা বলি'

আরটিভি অনলাইন ডেস্ক
|  ২৬ নভেম্বর ২০১৭, ১৪:২৯ | আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০১৭, ১৪:৪০
দীপংকর দীপন পরিচালিত ‘ঢাকা অ্যাটাক’ চলচ্চিত্রের কস্টিউম ডিজাইনার হিসেবে আলোচিত হয়েছেন। যুক্ত আছেন  শিক্ষাকতা পেশায়। পাশাপাশি বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে উপস্থাপক হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছেন। বলছি  নাজমি জান্নাতের কথা। বর্তমানে আত্মহত্যা প্রতিরোধে গঠিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘Save Our Souls- SOS’ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন নাজমি। সম্প্রতি আরটিভি অনলাইনের মুখোমুখি হয়েছিলেন নাজমি জান্নাত। কথপোকথনের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হল।

শিক্ষকতা, উপস্থাপনা, সোশ্যাল ওয়ার্ক- এত কিছু কিভাবে সমন্বয় করেন?

আমি আমার কাজকে দারুণ উপভোগ করি। এত চাপ নেই, এ জন্যই যে এই কাজগুলোকে আমি অনেক ভালবাসি, এগুলো আমার কাছে পরিশ্রম নয় বরং আমি মনে করি প্রতিটি মুহূর্তেই আমি নতুন কিছু শিখছি। তাই আর একসঙ্গে এতো কিছুকে আর চাপ মনে হয় না।

নেপথ্য শিল্পীদের মূল্যায়ন সব সময় ঠিকভাবে হয় না বিষয়টাকে কিভাবে দেখেন?

শুধু বাংলাদেশ না, পৃথিবীর সব প্রান্তেই এই সমস্যাটা আছে। পর্দার আড়ালের মানুষগুলোর অক্লান্ত পরিশ্রমের কাহিনীগুলো আমরা সেভাবে মূল্যায়ন করতে পারি না। তাদেরকে প্রাপ্য সম্মানটুকু বুঝিয়ে দিতে পারি না। একজন কস্টিউম ডিজাইনার হিসেবে ‘ঢাকা অ্যাটাক’র পুরো ইউনিটের কাছ থেকে আমি যথেষ্ট সহযোগিতা পেয়েছি। আর মানুষের কাছেও বেশ গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছি। এখন আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি যেখানেই সুযোগ পাই পর্দার পেছনে থাকা মানুষগুলোর ব্যাপারে কিছু কথা বলবার।

বাংলাদেশের সমকালীন চলচ্চিত্রে কস্টিউম ডিজাইনকে কতোটা গুরুত্ব দেয়া হয়?

দীর্ঘ দিনের অবহেলার ফলে কস্টিউম ডিজাইন বিষয়টি আমাদের চলচ্চিত্রে সেভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আপনি যদি ৭০ বা ৮০’র দশকের চলচ্চিত্রগুলো দেখেন; তাহলে লক্ষ্য করবেন যে তখনি কিন্তু আমাদের কস্টিউম ডিজাইন একটা যথেষ্ট ভাল মানের ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই সবার উদাসীনতার কারণে সেই জায়গাটার মান নষ্ট হয়ে গেছে।         

একজন ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে ফ্যাশন সেক্টরে আপনার পরিকল্পনা নিয়ে বলুন?

একজনের পক্ষে একটা সেক্টরে রাতারাতি পরিবর্তন কখনোই আনা সম্ভব নয়। তবে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় হয়ত অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারি। আমার ব্যক্তিগত আদর্শ হলেন বিবি রাসেল। তিনি কিন্তু কাজ করছেন, অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে। তবে আরো উন্নতির জন্য আমাদের সবাইকে একত্রে কাজ করতে হবে। আমি আমার জায়গা থেকে চেষ্টা করি নানাভাবে সবাইকে ফ্যাশন সচেতন করে গড়ে তুলতে।

শিক্ষকতা কেমন উপভোগ করেন?

আমার প্রথম পরিচয় হচ্ছে, আমি একজন শিক্ষক। আমি এই পরিচয় নিয়েই বেশি গর্বিত। সবকিছুকে ছাপিয়ে আমি চাই আমার শিক্ষকতা পেশাটা যেন কোনভাবেই বাধাগ্রস্ত না হই। এখন উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছি। আমার শিক্ষার্থীরা আমার দ্বিতীয় পৃথিবী, তাদের সাথে কিছুটা সময় আমার কাছে অনন্তকালের সুখ মনে হয়। ভবিষ্যতে একটা পুরো ডিপার্টমেন্ট নিয়ে কাজ করবার ইচ্ছা আছে। যদি সুযোগ পাই যেখানে ফ্যাশন নিয়ে নানা ধরণের গবেষণার কাজ চলবে।

মডেলিং-অভিনয়ে নিয়মিত হবার ইচ্ছা আছে?

ঠিক এই মুহূর্তে তেমন কোন ইচ্ছা নেই, তবে ভাল স্ক্রিপ্টের বিজ্ঞাপনচিত্রের কাজ আসলে টুকটাক করবার চেষ্টা করি। বেশ প্রস্তাব পাই, কিন্তু আমার অভিনয়ে একেবারেই আগ্রহ না থাকাতে কখনো এটা নিয়ে সেভাবে ভাবা হয়নি।

পিআর/ওয়াই

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়