logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

মাঠে প্রতিপক্ষ কখনই বন্ধু নয়: তপু

topu-barman bangladesh vs nepal live
তপু বর্মণ || ছবি- সংগৃহীত
বাংলাদেশের রক্ষণভাগের অতন্দ্র প্রহরীর নাম তপু বর্মণ। প্রতিপক্ষের আক্রমণভাগের ত্রাস হিসেবে বেশ পরিচিত তিনি। মাঠে আগ্রাসী মনোভাব ও গোল করার ক্ষমতা থাকার জন্য ‘বাংলার সার্জিও রামোস’ খেতাবও পেয়েছিলেন। ইনজুরির কারণে দীর্ঘদিন ফুটবলের বাইরে ছিলেন। গেল বছরের শেষ দিকে ঘরোয়া ফুটবল দিয়ে খেলায় ফেরেন তপু। বছরের শুরুতে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে জাতীয় দলের হয়ে অংশ নিয়েছেন। যদিও করোনার কারণে আবারও খেলা বন্ধ হয়ে যায়। 

নভেম্বরের ১৩ ও ১৭ তারিখ নেপালের বিরুদ্ধে দুটি ম্যাচের জন্য দলে ডাক পেয়েছেন তপু। দলের সবাই ২৩ অক্টোবর যোগ দিলেও বসুন্ধরা কিংসের খেলোয়াড়রা মঙ্গলবার যোগ দিবেন। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ গুদনাইল এলাকায় পরিবারের সঙ্গে রয়েছেন ২৫ বছর বয়সী এই তারকা। 

দলের সঙ্গে যোগ দেয়ার আগে তিনি কথা বলেছেন আরটিভি নিউজের সঙ্গে। তপু বলেন, ‘বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে বেশ কয়েক সপ্তাহ অনুশীলন করেছি। কোভিড-নাইনটিন টেস্ট করিয়ে ক্লাবের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলাম। তাই কোথাও যেতে পারিনি। দুই মাস পর বাসায় এসেছি। পরিবারের সঙ্গে পূজা পালন করেই ক্যাম্পে যোগ দিবো।

গেল মার্চে এএফসি কাপে মালদ্বীপের দল টিসি স্পোর্টসের বিপক্ষে ৫-১ গোলের বড় জয় পেয়েছিল বসুন্ধরা কিংস। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ওই ম্যাচের পর আর খেলা হয়নি। করোনার কারণে কয়েকদিন পরই লক ডাউন দেয়া হয়। দীর্ঘ বিরতির পর আন্তর্জাতিক ফুটবল দিয়ে মাঠে ফিরছে লাল-সবুজরা।

‘মার্চের ১১ তারিখে খেলেছিলাম। এরপর আর মাঠে নামা সম্ভব হয়নি। আন্তর্জাতিক ম্যাচের বিষয়টাই আলাদা। ঘরোয়া লিগেতো নিজেদের মধ্যেই খেলতে হয়। আন্তর্জাতিক ম্যাচে জেতার অনুভূতিটা অন্যরকম। মাঠে কবে নামবো, সেটার জন্যই অপেক্ষায় আছি।’

নভেম্বরে শুরু হচ্ছে দলবদল। ডিসেম্বরে ফেডারেশন কাপ দিয়ে শুরু হবে ঘরোয়া ফুটবলের মৌসুম। তার আগেই নেপালের বিপক্ষে মাঠা নামা।

তপু বলেন, ‘এই দুইটা ম্যাচ আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ম্যাচগুলো খেলার পরই আমরা ঘরোয়া ফুটবলের নতুন মৌসুম শুরু করতে চলেছি। সবাই মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়েছে। নিজেদের পারফরমেন্স যাচাই-বাছাইয়ে জন্য মাঠে ফেরাটা গুরুত্বপূর্ণ।’

দীর্ঘবিরতি পর আন্তর্জাতিক ম্যাচ দিয়ে মাঠে ফিরতে চলেছে তপুরা। বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে কঠোর পরিশ্রম করতে দেখা গেছে তাকে। যদিও তিনি মনে করেন ম্যাচে নামা আর অনুশীলন দুইটা ভিন্ন বিষয়। 

‘যতই অনুশীলন করি, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে নামার পরিস্থিতিটা ভিন্ন থাকে। আমরা যারা বসুন্ধরায় হয়ে অনুশীলন করেছি সবার ফিটনেসের অবস্থা খুবই ভালো। এর বাইরে যারা অন্য দলের হয়ে খেলছেন তারা কিন্তু জাতীয় দলের কোচ জেমি ডে’র দেয়া রুটিন অনুযায়ী চলেছেন। দলের সবাই পেশাদার, বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে খেলছেন। তারা সবাই বিষয়টি নিয়ে সচেতন।’ বলছিলেন তপু।

বাংলাদেশের মতো নেপালও দীর্ঘদিন খেলার বাইরে। তাই ভালো খেললেই ম্যাচ জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে দাবি করেন এই সেন্টার ব্যাক।

তার কথায়, ‘আমাদের আর নেপালের চিত্রটা একই রকম। তাদের লিগও বাতিল হয়েছে। কোভিড পরিস্থিতিতে কোনও ম্যাচে মাঠে নামতে পারেনি। আমি মনে করি যারা ভালো খেলবে তারাই ফল পাবে।’

২০১৮ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে মালদ্বীপের বিপক্ষে ২-০ গোলে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। পেনাল্টির মাধ্যমে প্রথম গোলটি তুলেছিলেন তপু নিজেই। পরের ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ দিকের গোলে ১-০তে জয় পায়। জয়সূচক গোলটি এসেছিল তপুর হেড থেকেই। যদিও শেষ ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে ২-০ তে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল তার দলকে।

‘ওই ম্যাচ হারার পর অনেক কেঁদেছি। ব্যক্তিগতভাবে খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ বলা হয়। এমন একটি ম্যাচে হারার কষ্ট বলে বোঝানো যাবে না। আমার বাবা ও ভাইও স্টেডিয়ামে ছিলেন। মোহামেডান গ্যালারি নেপালি সমর্থক দিয়ে ভরা ছিল। এখন একটু সুযোগ এসেছে প্রতিশোধ নেয়ার মতো। তাদের হারাতে পারলে তৃপ্তিটা পাবো। একটা জিদ তো আছেই। মাঠের প্রতিপক্ষ কখনই বন্ধু নয়। জয়ের জন্যই মাঠে নামবো।’ যোগ করেন তিনি।

দুটি ম্যাচের জন্য প্রধান কোচ জেমি ডের সঙ্গে এরই মধ্যে ছক কষেছেন বলে জানিয়েছেন তপু।

‘হোয়াটসঅ্যাপে প্রতিদিন জিমির সঙ্গে কথা হয়। তাকে বলেছি, দুইটা ম্যাচ কতটা গুরুত্বপূর্ণ। জয় দিয়ে শুরু করলে পুরো মৌসুমটাই ভালো কাটবে। তার থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আমরা মাঠে ফিরছি।’

ওয়াই

RTVPLUS