logo
  • ঢাকা শনিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬

পদ্মার ডানতীর ও বামতীর রক্ষা বাঁধে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস (ভিডিও)

মোহাম্মদ ইব্রাহীম হোসাইন, শরীয়তপুর
|  ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১:২৬ | আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১:৩১
পদ্মার ডানতীর ও বামতীর রক্ষা বাঁধে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস
এক শতাব্দীরও বেশী সময় ধরে শরীয়তপুরে নদী পাড়ের মানুষগুলো দেখেছে পদ্মার আগ্রাসী রূপ। একের পর গ্রাম, হাট-বাজার, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, রাস্তাঘাট, ফসলী জমি, বাড়ি-ঘরসহ হাজারো মানুষের স্বপ্ন গিলে খেয়েছে ভাঙন। তবে সব হারানোদের নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস যোগাচ্ছে পদ্মার ডানতীর ও বামতীর রক্ষা বাঁধ। 

২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত স্মরণকালের ভয়াবহ ভাঙন ছিল শরীয়তপুরের নড়িয়া-জাজিরায়। কয়েক হাজার পরিবার যেমন গৃহহীন হয়েছে, তেমনি বিলীন হয়েছে হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার, রাস্তাঘাট ও কাচা-পাকা স্থাপনাসহ হাজার হাজার একর ফসলী জমি। 

এই ভয়াবহ ভাঙনের হাত থেকে এই এলাকার মানুষকে রক্ষা করতে সরকারের ঐকান্তিক উদ্যোগে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে এক হাজার ৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মার ডান তীর রক্ষা বাঁধের কাজ শুরু হয়। এতেই এ বছর পদ্মার ভাঙ্গন থেকে রক্ষা পেয়েছে এসব এলাকা। তারপর পদ্মার স্থায়ী ভাঙন রোধে ২০১৯ সালের অক্টোবরে ৫৫৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে পদ্মার বামতীর রক্ষা বাঁধের প্রকল্প অনুমোদন হয়। যা শরীয়তপুরের ভাঙন প্রবল এলাকার মানুষের মধ্যে নতুন করে আশার আলো জ্বালিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বেড়িবাঁধ দেয়াতে এই বছর তারা নিরাপদে ছিল। তাদের অনেক এলাকাই এলাকা ভাঙেনি। অনেকে পদ্মার ভাঙনের ফলে তাদের বাড়িঘর আগেই সরিয়ে ফেলেছিল তবে বাঁধের কারণে পরে সাহস করে তারা আবার ঘর তুলে।   

ভাঙন রোধে পদ্মার ডানতীর রক্ষা বাঁধ কার্যকরী হওয়ায় এখন নতুন করে বামতীর রক্ষা বাঁধের কাজও শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকাশ কৃষ্ণ সরকার বলেন, আগামী বর্ষার আগেই বাঁধ তৈরির কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।  

সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও কার্যকর ভূমিকার ফলে এবার শরীয়তপুরের মানুষ পদ্মার আগ্রাসন থেকে রক্ষা পেয়েছে মনে করেন পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম

তিনি বলেন, আমাদের টার্গেটের চেয়ে আমরা বেশি কাজ করেছি। ৩৫ লাখ জিও ব্যাগ ডাম্পিং হচ্ছে। আগামী বর্ষাতে নদী ভাঙন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য যে পরিকল্পনা নিয়েছি তা পূর্ণ বাস্তবায়ন করা হবে।   

পদ্মার সেই ভয়াল রূপ আজও ভুলতে পারেনি নদী পাড়ের মানুষ গুলো। তবে সরকারের এমন উদ্যোগে স্বপ্ন বোনা শুরু করেছে অনেকে। এ স্বপ্ন যেন আর ভেঙে বিলিন না হয় এমন দোয়া শরীয়তপুরবাসীর।

এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • বিশেষ প্রতিবেদন এর সর্বশেষ
  • বিশেষ প্রতিবেদন এর পাঠক প্রিয়