logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

বাংলাদেশে উড়াল সড়ক নির্মাণ ব্যয় এশিয়ার যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি (ভিডিও)

রাজধানীবাসীর যানজট যন্ত্রণাকে পুঁজি করে নেয়া আকাশচুম্বী প্রকল্পের কোনোটিই শেষ করতে পারেনি নির্দিষ্ট সময়ে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পার হয়েছে বেঁধে দেয়া সময়ের দ্বিগুণ কিংবা তারও বেশি। কাজের সময় বাড়ানোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে প্রকল্প ব্যয়ও। বাংলাদেশে উড়াল সড়ক নির্মাণ ব্যয় ছাড়িয়েছে এশিয়ার অন্য যেকোনো দেশের খরচের রেকর্ড। কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ হলেও মেলেনি নগরবাসীর স্বস্তি।

বাংলাদেশের পাশে কলকাতায় গত বছরে উদ্বোধন হয়েছে মহানগরীর দীর্ঘতম পরমা ফ্লাইওভার । ৮ দশমিক ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভারে ব্যয় হয়েছে ৩৯২ কোটি টাকা। যার কিলোমিটার প্রতি ব্যয়  ৪৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা। সম্প্রতি চীনের ১০০ কিলোমিটারের দীর্ঘ পাঁচটি ফ্লাইওভার নির্মাণে কিলোমিটার প্রতি ব্যয় হয়েছে ৫০ কোটি টাকা। মালয়েশিয়ায় ১০ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পাঁচটি ফ্লাইওভার নির্মাণে কিলোমিটার প্রতি ব্যয় হয়েছে ৫৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা।

অথচ বাংলাদেশে সস্তা শ্রম হওয়া সত্ত্বেও অন্যান্য দেশের তুলনায় ব্যয় অস্বাভাবিক বেশি। ২ হাজার ১শ ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হানিফ ফ্লাইওভারের কিলোমিটার প্রতি নির্মাণ ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৮০ কোটি টাকা। ৩০৬ কোটি টাকা ব্যয়ে কুড়িল ফ্লাইওভারে কিলোমিটার প্রতি ব্যয় ৯০ কোটি টাকা। ১ হাজার ২১৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকার মৌচাক-মগবাজার, মালিবাগ সড়কের কিলোমিটার প্রতি ব্যয় ১৩৫ কোটি  টাকা। ১০৫ কোটি টাকার কুড়িল ফ্লাইওভারে কিলোমিটার প্রতি ব্যয় ৯০ কোটি টাকা। এক কিলোমিটারেরও কম দৈর্ঘে্যর বিজয় স্মরণী-তেজগাঁও ফ্লাইওভার নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১০০কোটি টাকা। ১ দশমিক ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ খিলগাঁও ফ্লাইওভারের গড় ব্যয় ছিল ৭৬ কোটি টাকা।

বাংলাদেশে ব্যয় বাড়ার অন্যতম কারণ দুর্নীতি বলে মনে করেন অধ্যাপক ড. শামসুল হক। তার উপর প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রিতা ও অবকাঠামোগত ত্রুটিও কম দায়ী নয় বলে মনে করেন তিনি। এখনই দুর্নীতি ঠেকাতে না পারলে রাষ্ট্রের শুধু ব্যয়ই বাড়বে, নাগরিক কিংবা সরকার সুফল পাবে না কেহই।

এমকে

RTVPLUS