logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি ২০২০, ৮ মাঘ ১৪২৭

সৌদি থেকে ফিরে যৌন নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন গৃহবধূ

চৌধুরী ভাস্কর হোম, মৌলভীবাজার
|  ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৫:৩১ | আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৫:৩৬
সৌদি থেকে ফিরে যৌন নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন গৃহবধূ

পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে সৌদি আরবে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মৌলভীবাজারের এক গৃহবধূ। স্থানীয় এক আদম ব্যবসায়ীর মাধ্যমে ঢাকার ফকিরাপুলস্থ সৌদিয়া রিকুটিং এজেন্সির মাধ্যমে গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে তিনি সৌদি আরবের দাম্মাম শহরে গিয়েছিলেন।

চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল আর্থিক সুখের আশায় সৌদি গিয়ে তিনি শিকার হন প্রতারণার। গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করার কথা থাকলেও তাকে যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করতে বাধ্য করা হয়। এতে রাজি না হলে তাকে অমানবিক নির্যাতন করা হত। প্রতিদিন কমপক্ষে তাকে তিন থেকে চারজন লোক পালাক্রমে ধর্ষণ করত।

গত ২৬ নভেম্বর সরকারের সহযোগিতায় সৌদি থেকে দেশে ফিরে তার ওপর ঘটে যাওয়া নির্যাতনের বর্ণনা দেন তিনি।

তিনি আরও জানান, নির্যাতনকারীরা তাকে বলে বাংলাদেশি চার লাখ টাকার মাধ্যমে যৌনকর্মী হিসেবে কেনা হয়েছে বলে জানান। তিনি নির্যাতনকারীদের কাছে কাকুতি-মিনতি করেও নিজের সম্ভ্রম রক্ষা করতে পারেননি। যৌন কাজে রাজি না হলে জলন্ত সিগারেট দিয়ে তার বুক ও স্পর্ষকাতর স্থানে নির্যাতন এবং বৈদ্যুতিক তার দিয়ে মারধর করা হত। প্রায়ই পালাক্রমে ধর্ষণের কারণে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলত।

ওই গৃহবধূর স্বামীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিয়ের মাত্র সাত মাসের মধ্যে পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে তিনি স্থানীয় আদম ব্যবসায়ী মোস্তফা কামালের মাধ্যমে ঢাকার একটি রিক্রুটিং অফিসের মাধ্যমে গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে সৌদি গিয়েছিলেন তার স্ত্রী। কিন্তু গৃহকর্মীর কাজ দেয়ার কথা বলে যৌন কাজে বাধ্য করা হতো প্রতিনিয়ত। পরে তার স্ত্রী পালিয়ে স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় হাসপাতালে ভর্তি হয়। এরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেন।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সাংবাদিক, পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার চাপে আদম ব্যবসায়ী তাকে সৌদি যাওয়ার ৬ মাস ২৬ দিন পর গত ২৬ নভেম্বর দেশে ফিরিয়ে আনে। বর্তমানে ওই গৃহবধূ আদম ব্যবসায়ীর সহায়তায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এই হাসপাতালের প্রধান সেবিকা দিপ্তী দত্ত জানান, নির্যাতনে ওই গৃহবধূর যৌনাঙ্গসহ শরীরের বিভিন্ন পোড়া ও রক্তাক্ত আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ফলে পুরোপুরি সুস্থ হতে বেশ সময় লাগবে। আর এর পরিচালক ডা. সাধন চন্দ্র ঘোষ জানান, মেয়েটি অত্যাধিক নির্যাতনের ফলে মানসিকভাবে বেশি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য একজন মনোবিজ্ঞানীর স্মরনাপন্ন হতে হবে।

এ বিষয়ে আদম ব্যবসায়ী মোস্তফা কামাল বলেন, ঢাকাস্থ সৌদিয়া রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে গৃহকর্মী হিসেবে তিনি ওই গৃহবধূকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলেন। এভাবে আরও মেয়েরা সৌদি আরব গিয়েছে। তিনি আর বলেন, ওই গৃহবধূ যৌন হয়রানিসহ শারীরিক নির্যাতনের খবর পেয়ে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে এজেন্সির মাধ্যমে তিনি সব ধরনের সহযোগিতা করেছেন এবং এখন চিকিৎসার ব্যাপারে তিনি আর্থিক সহায়তাও করে যাচ্ছেন। এমন কি ওই গৃহবধূর জীবন বীমার টাকা পেতেও তিনি এজেন্সির মাধ্যমে চেষ্টা করছেন।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, নির্যাতিতা ওই গৃহবধূকে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ও সমাজ সেবা অফিসের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হবে। তাছাড়া বিষয়টি তদন্তক্রমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও পদক্ষেপ নিবেন বলেও জানান তিনি।

এজে/জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • বিশেষ প্রতিবেদন এর সর্বশেষ
  • বিশেষ প্রতিবেদন এর পাঠক প্রিয়