Mir cement
logo
  • ঢাকা রোববার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

মৃত্যুর পরেও রেহাই নেই, কবর নিয়ে চলে বিশাল বাণিজ্য (ভিডিও)

কোভিড আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে বিনামূল্যে দাফনের কথা থাকলেও রায়ের বাজার কবরস্থানে নেওয়া হচ্ছে আড়াই থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা। সাধারণ কবরে বাঁশ, চাটাই ও খননের জন্য ৪০০ টাকার বদলে নেওয়া হয় দেড় হাজার টাকা। কবরে ঘাস বা ফুল গাছ লাগানোর জন্য গুনতে হয় ছয় থেকে দশ হাজার টাকা।

রাজধানীর সাইনবোর্ড এলাকার ফয়সাল। গত বছর কোভিডে আক্রান্ত হয়ে বাবা মারা গেলে তাকে দাফন করেন রায়েরবাজার কবরস্থানে। কবরে ফুল গাছ আর ঘাস লাগানোর জন্য এখন পর্যন্ত তাকে দিতে হয়েছে ১০ হাজার টাকা। শুধু তাই নয়, পরিচর্যার জন্য প্রতি মাসে টাকা দাবি করা হয়। তাই নিজেই এখন বাবার কবর পরিচর্যা করছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিমাসে কবর পরিচর্যার জন্য ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা চায়।

বাপ্পি নামে আরও একজন আরটিভি নিউজকে জানান, তার স্বজনের কবরে ফুল গাছ আর ঘাস লাগাতে খরচ হয়েছে ছয় হাজার টাকা। কবর দেওয়ার জন্য দিতে হয় আরও সাড়ে তিন হাজার টাকা। যদিও কোভিডে মৃত্যুবরণকারীদের দাফন বিনামূল্যে হওয়ার কথা।

কেন বাড়তি টাকা নেওয়া হচ্ছে, এমন প্রশ্ন শুনেই সটকে পড়েন একজন পরিচর্যাকারী। আরেকজন কিছুক্ষণ আগে টাকা দাবি করলেও আরটিভির কাছে মাফ চেয়ে পার পেতে চান।

আরটিভি নিউজকে তারা বলেন, এ ব্যাপরে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যেন কথা বলে। তাদের কোনো মন্তব্য নেই।

শুধু কোভিড নয়, রায়েরবাজার কবরস্থানে সাধারণ মৃতদেহ দাফনেও অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হয়। টাকা দিলে কবর সুরক্ষিত থাকে, নয়তো অবহেলায় ফেলে রাখা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কবর পরিচর্যার জন্য মাসে মাসে টাকা দিলে কবরের ওপর সবুজ ঘাস দেওয়া হয়। আবার ঘাস শুকিয়ে গেলে টাকা চায়।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধির দাবি, টাকা দেওয়ার ব্যাপারে কেউ অভিযোগ না করায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শেখ মো. হোসেন খোকন জানান, তিনি কবরস্থানের এই দুর্নীতির কথা জানেন না। তবে যদি এর প্রমাণ পান, তাহলে ব্যবস্থা নেবেন।

এ ছাড়া এত বড় কবরস্থানের নিরাপত্তার জন্যও নেই পর্যাপ্ত আনসার সদস্য। ফলে কবরস্থানের একটি বড় অংশ অরক্ষিত পরে থাকে।

ইজে/এসএস/টিআই

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS