Mir cement
logo
  • ঢাকা সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২ আশ্বিন ১৪২৮

লকডাউনে মা'দকের হাট চাঙ্গা, অনলাইনে চলছে বেচাকেনা

লকডাউনে মাদকের হাট চাঙ্গা, অনলাইনে চলছে বেচাকেনা
ফাইল ছবি

কুমিল্লায় লকডাউনে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে মাদকের সিন্ডিকেটগুলো। জেলার করোনা পরিস্থিতি দিন দিন যতই অবনতির দিকে যাচ্ছে ততই লকডাউন কার্যকরে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এমন দুর্বল সুযোগকে ভালোভাবে কাজে লাগাচ্ছে মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটগুলো।

বিশেষ করে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অনলাইনে চলছে মাদকের রমরমা ব্যবসা। এদিকে র‌্যাব, পুলিশের অভিযানে প্রতিদিনই বড় বড় মাদকের চালান আটক হলেও অনলাইনে সাপ্লাই দেয়া ছোট কারবারিগুলো রয়ে যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। তবে জেলা পুলিশের একাধিক সাইবার টিম এসব মাদক ব্যবসায়ীসহ অনলাইনে অপরাধী চক্রকে শনাক্ত করতে কাজ করছে বলে জানা গেছে।

আরটিভি নিউজের অনুসন্ধানে জানা যায়, কুমিল্লার ৫টি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলার সঙ্গে রয়েছে ভারতের সীমান্ত। বাংলাদেশ ভারতের সীমান্ত এলাকার গীরিপথ দিয়ে প্রতিদিনই আসছে মাদকের চালান। বিশেষ করে জেলার চৌদ্দগ্রাম, সদর দক্ষিণ, বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার প্রায় ৩৮টি চোরাই পথে রাতে আধারে আসছে গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবাসহ নানা ধরনের মাদক। তবে কুমিল্লার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ এ জেলায় যোগদানের পর কমেছে পুলিশের দুর্নীতি এবং মাদকের অবাধ বাণিজ্য।

তিনি যোগদানের পর গত ৭ মাসে ৪ টন গাঁজা, দেড় লাখ পিছ ইয়াবা, সাড়ে ৮ হাজার বোতল ফেনসিডিলসহ নানা ধরনের প্রায় সাড়ে ১১ কোটি টাকার মাদক উদ্ধার এবং ২ হাজার ১৬৬ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছেন। কিন্তু সম্প্রতি করোনার মহামারী রোধে লকডাউন কার্যকরে কাজ করছে পুলিশ। আর এ সুযোগে মাদক ব্যবসায়ীরা অনেকটাই সুযোগ পেয়েছে। মাদকের কারবারে এখন ব্যবহার করা হচ্ছে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। ফেক আইডির ফেসবুক মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইভারসহ নানা ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহার করে তারা মাদকের বেচা কেনা চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে পুলিশ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বড় বড় কারবারিদের আটক করতে পারলেও সাইবার মাদক ব্যবসায়ীরা এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। এ ছাড়া এসব মাদক বিক্রিতে সিএনজি, মোটর সাইকেল এবং বহনে নারীদেরকেও ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে করোনার উপদ্রব হ্রাস পেলে পুলিশের সাইবার টিমগুলো এ ধরনের অনলাইন মাদক ব্যবসায়ীদেরকে নজরদারি এবং শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনবে বলে জানা গেছে।

সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী লোকমান, নবীর নেতৃত্বে চলছে বিশাল বড় অনলাইন মাদকের হাট। এ দুই শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ছোট ছোট কিশোরদেরকে ব্যবহার করে অনলাইন মাদকের বেচাকেনা পরিচালনা করছে বলে জানান এলাকার লোকজন।

একই উপজেলার মানিকপুর এলাকার মাদক ব্যবসায়ী সজিব, কোমারডোগার জসীম, আরিফ, কাঁঠালিয়ার ইউসুফ, কেকে নগরের মঞ্জু, বাতিসার আবুল কালাম, ছুট্টু মিয়াসহ প্রায় অর্ধশতাধিক মাদক ব্যবসায়ী এখন অনলাইন মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে। সদর দক্ষিণের বিরাহীমপুরের মাদক ব্যবসায়ী মনা এবং দেলোয়ারও একইভাবে কারবার পরিচালনা করছে।

জেলার বুড়িচং উপজেলার লড়িবাগ, ছয়গ্রাম, পাহাড়পুর, খাড়েরা এলাকায় চলছে অনলাইনে মাদকের বেচা কেনা। জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল, দেবীদ্বার উপজেলার এগারো গ্রাম, জাফরগঞ্জ, বাগুর এলাকায় সক্রিয় অনলাইনে ইয়াবা বেচা কেনার সিন্ডিকেট। মুরাদনগর উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ এলাকায় রয়েছে অনলাইন মাদকের বিশাল হাট। এ এলাকায় শীর্ষ মাদক কারবারিরা বসে থাকেন এসি রুমে। আর ক্রেতারা আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অনলাইনে যোগাযোগ করে মোটরসাইকেল নিয়ে আসলে অচেনা শিশু, কিশোর ও নারীদের মাধ্যমে পৌঁছে দেয়া হয় ইয়াবা, ফেনসিডিল।

এছাড়া জেলার হোমনায় বেপরোয়া অনলাইন মাদক সিন্ডিকেট। উপজেলার পঞ্চবটি, সাদ্দামবাজার, জয়পুর, বাবরকান্দি, রামকৃষ্ণপুর, ঘনিয়ারচর, আছাদপুর, জয়নগর, ফতেরকান্দি মনিপুর, ভাষানিয়া, ওমরাবাদ, রঘুনাথপুর চন্ডিপুর, নয়াকান্দিতে চলছে অনলাইন মাদকের কারবার। করোনাভাইরাসে লকডাউনে পুলিশের ব্যস্ততার ফাঁকে জেলার মাদক কারবারিরা অনেকটাই অবাধে বেচা-বিক্রির সুযোগ পেয়েছে। এ কাজে নিরাপদ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে অনলাইন মাধ্যমকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ আরটিভি নিউজকে বলেন, মাদকের বিস্তাররোধ ও নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে জেলার প্রতিটি থানায় আলাদা আলাদা কর্মপন্থা নির্ধারণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এতে মাদকের উৎস, মাদকের রুট, মাদক প্রবণ এলাকা সমূহ চিহ্নিত করা, মাদক ব্যবসায়ীদের হালনাগাদ তালিকা প্রস্তুত করা, মাদকের স্পট সমূহ চিহ্নিতকরণ এবং মাদক বিরোধী সংগঠন সমূহের ডাটাবেজ তৈরি করাসহ মাদক প্রতিরোধে নানা কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। করোনার প্রকোপ হ্রাস পেলেই পুরোদমে মাদক বিরোধী অভিযান চালানো হবে।

জিএম

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS