Mir cement
logo
  • ঢাকা রোববার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৪ আশ্বিন ১৪২৮

ঈদুল আজহার পশু বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় চাঁদপুরের খামারিরা

ঈদুল আজহার পশু বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় চাঁদপুরের খামারিরা
ঈদুল আজহার পশু বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় চাঁদপুরের খামারিরা

আর মাত্র ১১ দিন পরই পবিত্র ঈদুল আজহা। এবারও করোনার মধ্যে পালিত হবে কোরবানির ঈদ। তবে গত বারের চেয়ে সময়টা এ বছর বেশি খারাপ। নানা বিধিনিষেধ দিয়ে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে সরকার। ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে খামারিদের দুশ্চিন্তা। তবে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসন ও জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের যৌথ প্রচেষ্টায় চালু হয়েছে ‘অনলাইন পশুরহাট, চাঁদপুর’। জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ অনলাইনে কোরবানির পশু কেনার জন্য চাঁদপুরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় চলছে লকডাউন। কোরবানির আগে চলমান কঠোর বিধিনিষেধের মেয়াদ আরও এক সপ্তাহ বেড়ে যাওয়ায় কোরবানির পশু বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাঁদপুরের গরুর খামারিরা। কতদিন চলবে তা নিশ্চিত নয়। পশুরহাট বসবে কিনা তাও অনিশ্চিত। সারা বছর খামারে পরিশ্রম ও বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করার পর এখন পশুর বাজার ও দাম নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা। যানবাহন বন্ধ থাকার কারণে বাইরে থেকে আসতে পারছে না পাইকারী গরু ব্যবসায়ীরা। অন্য বছর এ সময় ক্রেতা বিক্রেতাদের আনাগোনায় মুখরিত থাকে গরুর হাটগুলো। আর এ বছর গরুর হাট এখনও বন্ধ। কবে হাট বসবে তাও কেউ বলতে পারছেন না।

ফরিদগঞ্জের গরু খামারি মাহফুজুর রহমান জানান, তার খামারে বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে ৭০টি গরু রয়েছে। তার মধ্যে ৩০টি ষাঁড়। যা শুধুমাত্র কোরবানি ঈদে বিক্রি করার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। কিন্তু তিনি হতাশ। করোনাকালীন সময়ে গরু কিভাবে বিক্রি করবে, মানুষ তো ঘর থেকে বের হচ্ছে না। হতাশায় দিন কাটাচ্ছে।

চাঁদপুরের কয়েকজন খামারি জানান, করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করায় এবং চলমান কঠোর বিধিনিষেধের মেয়াদ আরও এক সপ্তাহ বেড়ে যাওয়ায় এখন গরু ও ছাগলের বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় তারা। এবার কোরবানি সামনে রেখে লাভের আশায় তারা বিনিয়োগ করেছেন প্রচুর অর্থ। কিন্তু লকডাউনের মেয়াদ আরও ৭ দিন বৃদ্ধির ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে পশুর দাম কমতে শুরু করেছে। যদি কোরবানিতে পশুরহাট না বসে তাহলে ন্যায্য দাম তারা পাবেন না। এতে আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিতে পড়তে হবে।

মতলব উত্তর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নে বিশাল গরু ও ছাগলের খামার গড়ে তুলেছেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক সদস্য রিয়াজুল হাসান। তিনি জানান, এবার কোরবানি সামনে রেখে লাভের আশায় তারা ৫৩টি গরু ও ২৩টি ছাগল প্রস্তুতি করেছেন। যদি কোরবানিতে পশুর হাট না বসে তাহলে তাদের আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যাবে।

একই কথা জানান, মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভার ঠাকুরচর গ্রামের প্রান্তিক খামার মালিক মানিক বেপারী। তিনি জানান, কোরবানি সামনে রেখে পরিবারের সর্বস্ব ব্যয় করে ৭টি গরু মোটাতাজা করেছি। নিজে ঠিকমতো না খেয়ে গরুর পেছনে ব্যয় করেছি। এখন দেশের যে অবস্থা, তাতে সঠিক দাম না পেলে পথে বসতে হবে। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

শুধু মানিক বেপারী বা একই গ্রামের খামারি সালামত উল্লাহ খান নয়, একই রকম শঙ্কা ব্যক্ত করেন অনেক খামার মালিক।

মতলব উত্তর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ফারুক হোসেন জানান, গত বছরও কোরবানির সময় করোনা পরিস্থিতি ছিল। এবারও এ পরিস্থিতিতে ধর্মীয় অনুভূতি রেখে খামার থেকে গরু সংগ্রহ করে কোরবানি দিবে। অনলাইন সিস্টেমে ব্যাপক আকারে কোরবানির পশু বেচাকেনা হবে এবং এতে খামার মালিকরা তাদের প্রস্তুত করা পশুর ন্যায্য দাম পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। স্থানীয় খামারগুলোতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। সেই সাথে খামারের গবাদিপশুগুলোকে নিয়মিত টিকাসহ সব ধরনের চিকিৎসায় সহযোগিতা করা হচ্ছে।

চাঁদপুর সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার সানজিদা শাহনাজ বলেন, আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে আগামী ১৪ তারিখের পর বসবে গরুর হাট। এখন লকডাউন হওয়ায় গরুর হাট বসানো হচ্ছে না। তবে আমরা হাট বসানোর কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রেখে ইজারা প্রক্রিয়াসহ যাবতীয় কার্যক্রম এগিয়ে রেখেছি। কিন্তু সব নির্ভর করবে সরকারি পরবর্তী সিদ্ধান্তের উপর।

তিনি আরো বলেন, জেলা প্রশাসন থেকে অনলাইনে গরু কেনাবেচার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ওখান থেকে কোরবানির জন্য যে কেউ নির্ধারিত মূল্যে গরু ক্রয় করতে পারবে। স্বাস্থ্যবিধি এবং সরকারি নির্দেশনা মানার ব্যাপারে আমরা তৎপর রয়েছি। গরুর হাট বসলেও সে তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। তবে সব কিছু পরবর্তী সরকারি নির্দেশনার ওপর নির্ভর করছে।

পি

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS