Mir cement
logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১, ৮ আষাঢ় ১৪২৮

পাহাড় ধস: আগে কেন পদক্ষেপ নেওয়া হয় না?

পাহাড় ধস: আগে কেনও পদক্ষেপ নেওয়া হয় না?
চট্টগ্রামের ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা

বর্ষা মানেই পাহাড় ধস। এরই মধ্যে বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই ভারি বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রামের ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা থেকে বসবাসকারীদের সরাতে মাইকিং শুরু করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।

প্রশাসনের বিভিন্ন সার্কেলের সহকারী কমিশনাররা (ভূমি) স্থানীয় কাউন্সিলর ও পুলিশের সহায়তায় তাদের সরিয়ে নিতে মাইকিং শুরু করেন। স্থানীয় মসজিদগুলো থেকেও মাইকিং করে লোকজনকে নিরাপদে আশ্রয় নিতে বলা হচ্ছে। প্রতি ওয়াক্ত নামাজের আগে-পরে মসজিদের মুয়াজ্জিনরা ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা থেকে লোকজনকে সরে যেতে আহ্বান করছেন।

এখন কথা হলো বর্ষা আসলেই মাইকিং এবং উচ্ছেদের ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের টনক নড়ে, আর বর্ষা চলে গেলে স্থানীয় প্রশাসন এ ব্যাপারে হয়ে পড়েন উদাসীন।

প্রতিবছর পাহাড় ধসে প্রাণহানি ঘটলেও পাহাড়ের পাদদেশে বসতি স্থাপন থেমে নেই। সেখানে চরম ঝুঁকি নিয়েই বসবাস করে মানুষ। ধস রোধ ও পাহাড় দখলদার উচ্ছেদে স্থায়ী বা পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি কখনো। উদ্যোগ নেওয়া হয় না বাধাগুলো দূর করার।

বর্ষা আসলেই কোথাও না কোথাও ধসে পাহাড়, ঘটে প্রাণহানি। তবুও বাড়ি ছেড়ে যেতে চান না লোকজন। মৃত্যুঝুঁকি নিয়েই সেখানে বাস করে যাচ্ছেন হাজারো মানুষ।

এ বছরও ভারী বৃষ্টির ফলে পাহাড় ধসের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। অতীত অভিজ্ঞতায় দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে এ বছরও বর্ষার শুরুতে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন।

জানা গেছে, পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি স্থাপন রোধ ও উচ্ছেদে প্রশাসন কার্যকর কোনও ব্যবস্থা নিতে না পারার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে আইনি জটিলতা। উচ্ছেদ করতে গেলেই স্বার্থান্বেষী মহল উচ্চ আদালতে রিট করে।

চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার কামরুল হাসান আরটিভি নিউজকে বলেন, স্থায়ীভাবে পাহাড় থেকে স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হলে আগে জায়গার মালিকানা নির্ধারণ করতে হবে। মালিকানা নিয়ে যেহেতু সমস্যা আছে, আদালতে রিট ও মামলা আছে, তাই মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আমরা কোনও কিছুই করতে পারব না।

তিনি আরও বলেন, পাহাড় রক্ষা ও অবৈধ বসতিদের কীভাবে স্থায়ীভাবে সমস্যা সমাধান করা যায় সেটি দেখতে সরেজমিনে যাওয়া হচ্ছে। যাতে করে বাস্তবতা দেখে সরকারের কাছে একটি প্রস্তাবনা দিতে পারি।

চট্টগ্রামের বিভিন্ন পাহাড়ে অবৈধ ভাবে ঘর বানিয়ে বসবাস করে প্রায় দশ লাখ মানুষ। এর মধ্যে ত্রিশটি পাহাড় ঝুঁকিপূর্ণ। বিগত বছরগুলোতে প্রবল বর্ষণে এসব এলাকায় পাহাড় ধসে মাটি চাপায় মারা গেছে শতশত মানুষ। এ কারণে জানমালের সুরক্ষায় বর্ষা শুরু হলে পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসরতদের অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে প্রশাসন।

গেল রোববার (৬ জুন) নগরের মতিঝর্ণা এলাকায় দেখা গেছে, পাহাড়ে নতুন কাঁচা ও সেমিপাকা ঘর তৈরি হচ্ছে। এছাড়া আগে নির্মিত ঘরের প্রত্যেকটিতে রয়েছে বিদ্যুতের সংযোগ। বসবাসকারী লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাহাড়ের পাদদেশে এসব ঘর নির্মাণের পেছনে রয়েছেন প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। তারাই নিম্ন আয়ের লোকজনকে কম ভাড়ার কথা বলে বসবাসের প্ররোচনা দেন।

মতিঝর্ণার টাংকির পাহাড় এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ হেলাল বলেন, আমাদের ঘর কোনোভাবে ঝুঁকিপূর্ণ নয়। প্রতিবার বর্ষা এলে উচ্ছেদ করে। গ্যাস-বিদ্যুতের সংযোগ কেটে দেয়। পরে আবার সব ঠিক হয়ে যায়।

২০০৭ সালের ১১ জুন চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসে একই দিনে মারা গিয়েছিলে ১২৭ জন। পরবর্তীতে বিচ্ছিন্ন ঘটনায় এক দশকে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ায় ২৩৫ জনে। এ ধরণের ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে গঠন করা হয় ‘শক্তিশালী পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি’। পরবর্তীতে কমিটি পাহাড় দখলমুক্ত করাসহ নানা সুপারিশ করলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, জুন থেকে আগস্ট সময়ে চট্টগ্রামে পাঁচ থেকে ছয়শ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। এসময় টানা প্রবল বৃষ্টিপাত হলে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে থাকে। এ বছরও এ ধরণের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্টরা।

এসএস

RTV Drama
RTVPLUS