Mir cement
logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১, ১১ আষাঢ় ১৪২৮

দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে কিন্তু সিবিএ নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ

দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে কিন্তু সিবিএ নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ
সিবিএ নেতা কাজী খুরশিদ আলম পল্টু

কাজী খুরশিদ আলম পল্টু মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্মচারী সংঘের দোর্দণ্ড প্রতাপশালী এক সাবেক নেতা। কর্মরত আছেন হারবার কঞ্জারভেন্সী বিভাগে। সিবিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক এই নেতা চাকরিরত অবস্থায় দীর্ঘ সময় বিদেশ থেকে আবার দেশে ফিরে বেতন ভাতা উত্তোলনসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এসব অভিযোগে তার বিরুদ্ধে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বন্দর কর্তৃপক্ষের গঠিত তদন্তেও প্রমাণ মেলে। কিন্তু এখন পর্যন্ত রহস্যজনক কারণে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

সাবেক সিবিএ নেতা পল্টুর বিরুদ্ধে গত ২০২০ সালে ৭ অক্টোবর তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। এর আগে ২০২০ সালের ৪ অক্টোবর তার দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেয় নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর করা অভিযোগ থেকে জানা যায়, মোংলা বন্দরে হারবার কঞ্জারভেন্সী বিভাগে শিপ মুভমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে চাকরিরত অবস্থায় ছুটি না নিয়ে গত ২০১২ সালে ১৯ অক্টোবর থেকে ২০১৩ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি ইতালি অবস্থান করেন। সেখানে ১২৪ দিন থাকার পর দেশে ফিরে বিদেশে অবস্থানের বিষয়ে গোপন করে অসুস্থতার ভুয়া মেডিকেল সনদপত্র দেখিয়ে আবার চাকরিতে ফিরেন। একই সঙ্গে এই চার মাসেরও অধিক সময়ের বেতন ভাতাও উত্তোলন করেন।

এনিয়ে বন্দর এলাকায় তোলপাড় শুরু হলে ঘটনার সত্যতা উদঘাটনের দাবি ওঠে। এর মধ্যেই তিনি হঠাৎ করে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্মচারী সংঘের (সিবিএ) নেতা বনে যান। নির্বাচিত হন সাধারণ সম্পাদক। নেতৃত্বের প্রভাব খাটিয়ে ওই ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে সক্ষম তিনি। পরবর্তীতে ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে তার বিরুদ্ধে গত ২০২০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর অভিযোগ দেন বন্দর ব্যবহারকারী মোঃ হাবিবুর রহমান। তার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ৪ অক্টোবর নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনা তদন্তের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষের তৎকালীন চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোঃ শাহজাহানকে নির্দেশ দেন।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ পেয়ে চেয়ারম্যান ২০২০ সালের ৭ অক্টোবর কর্তৃপক্ষের উপ পরিকল্পনা প্রধান শেখ মাসুদউল্লাহকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করেন। ওই কমিটি অভিযুক্ত কাজী খোরশেদ আলম পল্টুকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি চাকরিরত অবস্থায় ছুটি না নিয়ে বিদেশে অবস্থানের বিষয়টি অস্বীকার করেন। এরপর তদন্ত কমিটি ঢাকার মালিবাগের ইমিগ্রেশন প্রশাসন থেকে পল্টুর বিদেশে যাওয়ার পাসপোর্ট ও ভিসা উদ্ধার করে এবং ২০১২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে তার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তার বিদেশ গমন ও ২০১৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি দেশে ফেরার প্রমাণ পায়।

পরবর্তীতে তদন্ত কর্মকর্তা তাকে পলায়নের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে তৎকালীন চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোঃ শাহজাহান বরাবরে অফিস আদেশের প্রেক্ষিতে গত ২০২১ সালের ২১ জানুয়ারি প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত কমিটি।

তৎকালীন চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোঃ শাহজাহান তদন্ত প্রতিবেদনের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) কে প্রতিবেদনের নথি ফাইলে পুটআপ দেওয়া হয়। এরপর আমি চট্টগ্রাম বন্দরে বদলি হয়ে আসি। বর্তমান দায়িত্বরত চেয়ারম্যান এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিবেন।’

এ বিষয়ে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (প্রশাসন) কমান্ডার শেখ ফখর উদ্দিন বলেন, সাবেক সিবিএ নেতা কাজী খুরশিদ আলম পল্টুর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার প্রস্তাবনা উত্থাপন করা হয়েছে। চেয়ারম্যানের অনুমোদন পেলেই মামলা দায়ের করা হবে।

এদিকে সিবিএ নেতা থাকাকালীন পল্টুর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। বন্দর কর্তৃপক্ষের ভূমি বরাদ্দ নীতিমালা তোয়াক্কা না করে বেইআইনিভাবে বন্দর এলাকায় মার্কেট নির্মাণসহ বন্দরের স্বজনপ্রীতি করে ঠিকাদারি কাজ বাগিয়ে নেন তিনি। এছাড়া বন্দরে নিয়োগ বাণিজ্য করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জমি ক্রয়সহ দামি গাড়ি কিনেছেন বলে জানা গেছে।

সিবিএ নেতা থাকাকালীন ২০১৮ সালে পল্টু বন্দরের নিয়োগ পরীক্ষা চলাকালীন খুলনাস্থ নৌ-বাহিনীর স্কুল এন্ড কলেজে পরীক্ষা বানচালের জন্য হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ ঘটনায় তখন থানায় মামলা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তদন্ত কমিটির এক সদস্য এসব তথ্য জানান।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আরটিভি নিউজকে কাজী খুরশিদ আলম পল্টু বলেন, ‘আপনাদেরকে আমি কেন বলবো? যা বলার কর্তৃপক্ষকে বলেছি।’

পি

RTV Drama
RTVPLUS