logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ০২ মার্চ ২০২১, ১৭ ফাল্গুন ১৪২৭

অনলাইনে ম্যারিজ ও ডিভোর্সের ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন রুখবে বিয়ে প্রতারণা

Digital registration of online marriages and divorces will prevent marriage fraud
ফাইল ছবি

‘বিয়ে’ মানুষের জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরুর বৈধ উপায়। যে অধ্যায়ে একজন মানুষ তার জীবনকে সর্বোচ্চ সুখ সাগরে ভাসিয়ে দেওয়ার স্বপ্ন দেখে। মধুর সম্পর্কে জড়িয়ে একে অপরকে নিয়ে কাটিয়ে দিতে চায় সারাটি জীবন। সুখ সমৃদ্ধিতে ভরিয়ে তুলতে চায় আপন সংসার। বিপত্তি ঘটে তখনই, যখন এই পবিত্র সম্পর্কের মধ্যেও ঢুকে পড়ে প্রতারণা, ছলচাতুরী কিংবা পরকীয়া। অনুসন্ধান বলছে, দিন দিন বিয়ে নিয়ে প্রতারণার মাত্রা ক্রমেই বেড়ে চলছে। যারা বিয়ে নিয়ে রীতিমতো প্রতারণা করে থাকেন তাদের কাছে বিয়ের সম্পর্কের স্পর্শকাতর বিষয়টি যেনো দুধভাত। এমন পরিস্থিতি রুখতে অনলাইন ‘ম্যারিজ অ্যান্ড ডিভোর্স ডিজিটালাইজেশন’ খুবই জরুরী বলে মনে করছেন অনেকে।

বিয়ে নিয়ে পুরুষরা বেশি প্রতারণা করে, নাকি নারীরা? এমন প্রশ্নে বিতর্ক থাকলেও ক্রমেই বাড়তে থাকা এর মাত্রা দাম্পত্য জীবনের জন্য খুবই আতঙ্কের এবং আশঙ্কার বিষয় বটে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ বলে ঘোষণা দিলেও কেনো বিয়ে ও ডিভোর্সের রেজিস্ট্রেশন ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে অনলাইনে যুক্ত করছে না? বিয়ে ও ডিভোর্স রেজিস্ট্রেশন এনালগ পদ্ধতিতে থাকায় শত শত বিয়ে প্রতারণার ঘটনা ঘটছে। যার ফলে দেশের থানা ও আদালতগুলোতে এ সংক্রান্তে প্রতিনিয়ত মামলা দায়ের হচ্ছে। এমন পরিস্থিতির কারণে আদালতগুলোতে অযথাই মামলাজট বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে পারিবারিক আদালতগুলোতে বিয়ে প্রতারণার মামলার চাপ অনেক।

বিয়ে ও ডিভোর্স ডিজিটালাইজেশন বিষয়ে আরটিভি নিউজ কথা বলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসানের সঙ্গে। তিনি আরটিভি নিউজকে বলেন, সম্প্রতি বেশ কয়েকটা ঘটনা আমার নজরে এসেছে। যে বিষয়গুলোতে সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া খুবই জরুরী। ওইসব ঘটনার প্রমাণ নিয়ে আমি আজ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছি। নোটিশটি হাতে পাওয়ার পর ৩ দিনের মধ্যে তাদেরকে অনলাইনে ‘বিয়ে ও ডিভোর্স ডিজিটালাইজেশন’ রেজিস্ট্রেশন করতে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি এটি দ্রুত বাস্তবায়নের অনুরোধ জানানো হয়।

অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান আরও বলেন, উল্লেখিত ৩ দিনের মধ্যে তাদের কোনও সাড়া না পেলে উচ্চ আদালতে রিট করা হবে। এই কাজে আমার সঙ্গে রয়েছে ‘এইড ফর মেন ফাউন্ডেশন’ নামের একটি সংগঠন এবং আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী।

বিয়ে প্রতারণার বিষয়ে তিনি বলেন, দেখা যাচ্ছে একই ব্যক্তি তার পূর্ববর্তী বিয়ে এবং ডিভোর্সের কথা গোপন রেখে পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন। কেবল তাই নয়, অনেক সময় দেখা যাচ্ছে, একটি বিয়ে সম্পর্ক থাকা অবস্থায় স্বামী বা স্ত্রী পরবর্তীতে আরেকটি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন। যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অথচ, এমন ঘটনা কখনোই ঘটানো সম্ভব হতো না, অথবা যিনি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন, তিনি বিয়ের এভিডেন্স অনলাইনে সার্স দিলেই সাথে সাথে পেয়ে যেতেন। যদি এই বিবাহ এবং ডিভোর্স রেজিস্ট্রেশন ডিজিটালাইজেশন করা হতো। এ কারণে বিয়ে নিয়ে প্রতারণার অসংখ্য ঘটনা ঘটছে। এছাড়া পূর্বের বিয়ে গোপন রেখে ডিভোর্স না দিয়ে অবৈধভাবে বিয়ে করার ঘটনাও নেহাত কম নয়।

সম্প্রতি ডিভোর্স না দিয়ে বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু তামিমা তাম্মীর বিরুদ্ধে। যিনি তার স্বামী রাকিব হাসানকে ডিভোর্স না দিয়ে ক্রিকেটার নাসিরকে বিয়ে করেছেন। অথচ, তাদের সংসারে ৮ বছরের একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তানও রয়েছে। এই ইস্যুতে গোটা দেশের সোরগোল পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

উল্লেখ্য, ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসে বিয়ে করেন ক্রিকেটার নাসির হোসেন। গেল বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) হলুদ সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়। পরের দিন গতকাল শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) তাদের বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অভিযোগ উঠেছে স্বামীকে তালাক না দিয়েই নাসিরের সঙ্গে বিয়ে পিড়িতে বসেছেন স্ত্রী তামিমা তাম্মী।

গত শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাইসা ইসলাম বাবুনি নামক এক ফেসবুক ব্যবহারকারীর একটি পোস্ট ভাইরাল হয়। যেখানে তামিমার স্বামী রাকিবের পক্ষে দাবি করা হয়েছে, এখনও তাদের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক রয়েছে। তাদের ঘরে রয়েছে ৮ বছর বয়সী একটি মেয়ে সন্তানও। তালাক না দিয়ে নতুন বিয়ে করায় তামিমার বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন রাকিব।

ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ওই পোস্টে রাকিবের সঙ্গে নাসিরের একটি অডিও কলও রয়েছে। যা আরটিভি নিউজের হাতেও আছে। যেখানে নাসির রাকিবকে ফোন দিয়ে জানতে চান কেনো তিনি জিডি করেছেন। এদিকে ২০১১ সালে রাকিবের সঙ্গে তামিমার বিয়ে হয়। বর্তমানে সৌদিয়া এয়া লাইন্সের কেবিন ক্রু হিসেবে কর্মরত রয়েছেন তামিমা।

কেএফ/এমকে

RTV Drama
RTVPLUS