logo
  • ঢাকা বুধবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২১, ১৩ মাঘ ১৪২৭

২০২৩ সালে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা

করোনায় থেমে নেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ

Work on the Rooppur nuclear power plant has not stopped in Corona
করোনায় থেমে নেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ
রূপপুর বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে নিয়ে যাচ্ছে অনন্য উচ্চতায়। রূপপুর পাবনা জেলায় অবস্থিত হওয়ায় পাবনাবাসীও গর্বিত। দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুত চাহিদা মেটাতে বিশ্বের অন্যান্য ৩০টি দেশের মতো বাংলাদেশেও পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুত উৎপাদনে পরমাণু বিশ্বে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। এক লাখ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে ৫ স্তর নিরাপত্তাবেস্টিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত প্রকল্প নির্মিত হচ্ছে। ১৮০০ রাশিয়ানসহ মোট ৮ হাজার প্রকৌশলী ও শ্রমিক দিনরাত নির্মাণ প্রকল্পে কাজ করছেন। ২০২৩ সালে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন সম্ভব হবে বলে আশা প্রকল্প কর্মকর্তাদের। বিদ্যুতের পাশাপাশি হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানও হবে রূপপুর প্রকল্পে।

১৯৬১ সালে পাকিস্তান আমলে পাবনা জেলার ঈশ্বরদীতে পদ্মার তীরে রূপপুরে এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই প্রকল্পের জন্য ২৬০ একর এবং আবাসিকের জন্য ৩২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। কিন্তু রাজনৈতিক জটিলতায় তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ১৯৭৪ সালে শেখ মুজিবুর রহমান ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদনের জন্য আবার উদ্যেগ গ্রহণ করেন। নানা পট-পরিবর্তনের পর প্রায় অর্ধশত বছর পরে ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন এবং ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি হয়।

২০১৩ সালের ২ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রূপপুর প্রকল্পের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রকল্প বাস্তবায়নে ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর রাশিয়ার রোসাটমের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্টের সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশের পরমাণু শক্তি কমিশন। ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর পারমাণবিক প্রকল্পের চুল্লির জন্য কংক্রিটের মূল স্থাপনা নির্মাণের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রূপপুর পারমাণবিক এলাকার বাসিন্দা রিয়াদ ইসলাম, মুকুল হোসেন, তপন মালিথা, ইজিবর মোল্লা, আব্দুস ছাত্তারসহ অনেকেই জানান, রূপপুর বাড়ি হওয়ায় তারা গর্ববোধ করেন। পারমাণবিক প্রকল্প হওয়ায় সারা বিশ্বে রূপপুর পরিচিত নাম। তাছাড়া এলাকার অসংখ্য বেকার ছেলেরা এখানে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। রূপপুরে বাড়ি এই পরিচয় দিতে পেরে তারা খুশি।

রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের পরিচালক ড. শওকত আকবর জানান, কোভিড-১৯ মহামারিতে অবরুদ্ধ অবস্থার সময় পরিবহন ও আমদানির ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা হলেও কাজের ক্ষেত্রে তা বড় প্রভাব পড়েনি। এছাড়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মীদের আবাসনের জন্য গণপূর্ত বিভাগ যে গ্রিন সিটি প্রকল্প করছে সে কাজ সময়মতো শেষ করার জন্য সার্বক্ষণিক মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। 

তিনি আরও জানান, এদিকে রূপপুরের জন্য রাশিয়ার কারখানায় তৈরি হচ্ছে রিঅ্যাক্টর প্রেশার ভেসেল। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেওয়া সম্ভব হবে। পরের বছর চালু হবে সমান ক্ষমতার দ্বিতীয় ইউনিট। বর্তমানে প্রকল্প এলাকায় মোট ১ হাজার ৬২ একর জমির ওপর চলছে বিপুল এই কর্মযজ্ঞ। 

ড. শওকত আকবর আরও বলেন, ২৬ মার্চ লকডাউন শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৭৮ জন রুশ বিশেষজ্ঞ দেশে ফেরত গেছেন। অন্যদিকে তিনটি চার্টার্ড ফ্লাইটে রাশিয়া থেকে এসেছেন ৫৭০ জন। আরও ১১ জন জার্মান এসেছেন। ৮১ জন ভারতীয়কে আসার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আরও প্রায় ৭৫০ জন রুশ বিশেষজ্ঞ আসবেন।

মহামারি করোনার জন্য তারা তিন রকম পদ্ধতি অনুসরণ করে কাজ করছেন। কাজে যোগ দেওয়ার আগে প্রতিদিন তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে। কারো তাপমাত্রা বেশি থাকলে সাতদিনের জন্য বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হচ্ছে। এরপর আবার পরীক্ষা করে সুস্থ মনে হলে তাকে কাজে যোগ দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। রূপপুরে প্রথম রিঅ্যাক্টর বিল্ডিংয়ের কাজ এ বছরই শেষ হওয়ার কথা। এরপর কাজ করার সময়ও তাদের তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে। রাশিয়ানদের ও আমাদের আলাদা মেডিকেল টিম আছে। কাজ করার সময় কারও তাপমাত্রা যদি বেশি থাকে, বাধ্যতামূলকভাবে তাকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়। সামাজিক দূরত্বের নিয়ম মানতে ২৪ ঘণ্টার জন্য সূচি করে কর্মীদের আলাদা গ্রুপ করে দেওয়া হয়েছে। ক্যান্টিনে বসে খাওয়ার ক্ষেত্রেও দূরত্ব বজায় রাখা হচ্ছে। কোয়ারেন্টিনের জন্য আলাদা আবাসনের ব্যবস্থা হয়েছে। বিদেশ থেকে যারা আসছেন, তাদের করোনাভাইরাস পরীক্ষার নেগেটিভ রিপোর্ট সঙ্গে আনতে হচ্ছে। আসার পর ১৪ দিন বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হচ্ছে। কোয়ারেন্টিন শেষে পরীক্ষা করে কাজে যোগ দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। নতুন কর্মী সে দেশি বা বিদেশি যেই হোক, করোনাভাইরাসের পরীক্ষা করেই কাজে যোগ দিতে হয়।

কর্মরতদের মধ্যে কারো করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়লে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে- এ প্রশ্নের উত্তরে শওকত আকবর বলেন, যদি ভেতরে কারও অসুস্থতা ধরা পড়ে, তাহলে আমরা ওই শিফটের সবার কাজ বন্ধ রাখছি। সবাইকে ১৪ দিন বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে রাখছি। নতুন গ্রুপ করে ওই শিফট আবার চালু করা হচ্ছে।

তৃতীয় প্রজন্মের প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্মাণ করা হচ্ছে পাঁচস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্বলিত এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এখন পর্যন্ত প্রথম রিঅ্যাক্টর ভবনের কনটেইনমেন্ট ওয়াল দৃশ্যমান। ঢালাই কাজ অব্যাহত রাখতে অতিরিক্ত শ্রমিক নিতে হয়েছে বলে জানান শওকত আকবর।

তিনি আরও বলেন, রূপপুরের জন্য রাশিয়ার কারখানায় তৈরি হচ্ছে রিঅ্যাক্টর প্রেশার ভেসেল। এ বছর প্রথম রিঅ্যাক্টর বিল্ডিংয়ের কাজ শেষ করা এবং ইক্যুয়েপমেন্টগুলো ইন্সটেলেশন করার টার্গেট রয়েছে। দ্বিতীয় ইউনিট এ বছর আমরা নির্মাণ করব কিন্তু ইন্সটেলেশন করা যাবে না। সময়মতো বিদ্যুতের গ্রিড লাইন ও আবাসন হয়ে গেলে বিদ্যুত উৎপাদনে কোনো সমস্যা হবে না। 
পি
 

RTV Drama
RTVPLUS