logo
  • ঢাকা বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

প্রবাসীদের বিশেষ ঋণে ভাটা পড়েছে

|  ০১ নভেম্বর ২০২০, ১৯:৩৪ | আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২০, ১৯:২৭
bank, bangobondhu,
প্রবাসীদের ফাইল ছবি
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক’ প্রবাসীকর্মীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ঋণ সহায়তা দিয়ে যায়। এবার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ব্যাংকটি প্রবাসীদের ঋণ দেওয়ার পাশাপাশি প্রবাসীদের পরিবারের জন্য বিশেষ ঋণ সুবিধা চালু করেছে। কিন্তু করোনা মহামারিতে ‘বঙ্গবন্ধু অভিবাসী  বৃহৎ পরিবার’ বিশেষ ঋণে ভাটা পড়েছে। গত ১০ মাসেও একজন প্রবাসীর পরিবারও এই বিশেষ ঋণের সুবিধা নেননি। 

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংককের সংশ্লিষ্টরা জানান, আগে প্রবাসীদের ঋণের সুযোগ থাকলেও এবার বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রবাসীদের পরিবারের জন্য বিশেষ ঋণের ব্যবস্থা করে ব্যাংকটি। কিন্তু করোনার কারণে সব পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। গত প্রায় ১০ মাসে মাত্র দুজন প্রবাসীর পরিবার বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর বিশেষ ঋণ পেতে আবেদন করেছেন। তাদের আবেদনও যাচাই-বাছাই অবস্থা রয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংককের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান আরটিভি নিউজকে বলেন, বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রবাসীকর্মীদের পরিবারকে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক বিশেষ ঋণের সুবিধা ঘোষণা করে। কিন্তু করোনায় সব পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। ‘বঙ্গবন্ধু অভিবাসী  বৃহৎ পরিবার ঋণ’ বিশেষ ঋণে সুদের হার ৯ শতাংশ আর করোনা মহামারিতে প্রবাসীদের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন তা ৪ শতাংশ সরল সুদ। ফলে এখন প্রবাসীরা বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে আবেদন করছেন না। তারা সবাই করোনা মহামারির জন্য প্রধানমন্ত্রী প্রণোদনামূলক যে  ঋণের ঘোষণা দিয়েছেন, সেখানে আবেদন করছেন।      

জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী উৎযাপনে মন্ত্রণালয় ও ব্যাংককের বিভিন্ন মুখী পরিকল্পনার মতো বিদেশে কর্মহীন অভিবাসীদের পরিবারকে সহায়তার জন্য প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক বিশেষ ঋণের ব্যবস্থা করে। বর্তমানে যারা বিদেশে আছেন তাদের পরিবারের কেউ ঋণ চাইলে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক ঋণ দেবে। প্রবাসী পরিবারের ঋণ দেওয়ার উদ্যোগটি এখনও চলমান রয়েছে। প্রবাসীর পরিবার ঋণের টাকা দিয়ে ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য। মুরগীর খামার, গরুর খামার কিংবা অন্য কৃষিভিত্তিক উন্নয়ন কাজে এই ঋণ দেওয়া হয়। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর ভিত্তি করে ২ লাখ থেকে শুরু করে ইচ্ছেমত ঋণের জন্য প্রবাসীর পরিবার আবেদন করতে পারবেন।

করোনা মহামারিতে দেশে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা অনেক বাংলাদেশি। এ কারণে প্রবাসীর পরিবার ‘বঙ্গবন্ধু অভিবাসী  বৃহৎ পরিবার ঋণ’ নেওয়ার ক্ষেত্রে আগ্রহ কমেছে। এরই মধ্যে বিদেশফেরত প্রবাসী কর্মী এবং মৃত কর্মীর পরিবারের জন্য পুনর্বাসন ঋণ বিতরণের নীতিমালা প্রকাশ করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। মাত্র চার শতাংশ সুদে এই ঋণ বিতরণ শুরু করেছে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক। বিদেশে ক্ষতিগ্রস্তরা দেশে এসে যদি বৈধভাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলেন তাহলে তাদের ঋণ দেওয়া হবে। এছাড়া, কেউ একজন বিদেশে কর্মরত আছেন—এমন প্রবাসীর পরিবারের কোনও সদস্য ইচ্ছে করলে ব্যবসার জন্য ঋণ নিতে পারবেন।

প্রসঙ্গত, বিশ্বে ১৬৯টি দেশে প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ প্রবাসী কর্মরত। ১৫ জনে একজন বাংলাদেশি জীবিকার টানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। প্রতিবছর যে ২২ লাখ কর্ম প্রত্যাশী দেশের শ্রমবাজারে যোগ হয় সেখান থেকে প্রায় গড়ে ৭ লাখের মতো কাজের সন্ধানে পাড়ি জমায় দেশের বাইরে। এই প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশই আছেন মধ্যপ্রাচ্যে। এককভাবে শুধু সৌদি আরবেই আছেন অন্তত ২০ লাখের বেশি বাংলাদেশি। আরব আমিরাতে (ইউএই) আছেন ১৫ লাখ। ওমান মালয়েশিয়ায় আছেন ১০ লাখেরও বেশি। এরপর কাতার, কুয়েত, সিঙ্গাপুর, বাহরাইনে বেশি শ্রমিক কাজ করেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ইতালি, যুক্তরাজ্যে, কানাডাতেও অনেক প্রবাসী আছেন। এই প্রত্যেকটি দেশের অর্থনীতিই করোনাভাইরাসের প্রভাবে সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকদের জীবন এবং দেশের অর্থনীতিতে। করোনার মধ্যে প্রায় ৬ লাখের বেশি প্রবাসী বাংলাদেশে ফিরেছেন।

এফএ/এমকে

RTVPLUS
bangal
corona
দেশ আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ৪৫১৯৯০ ৩৬৬৮৭৭ ৬৪৪৮
বিশ্ব ৬০৩২৫২৬৯ ৪১৭২৯৫৩৩ ১৪১৮৯৯২
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • বিশেষ প্রতিবেদন এর সর্বশেষ
  • বিশেষ প্রতিবেদন এর পাঠক প্রিয়