logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্পে শত অভিযোগ

islamic foundation Bangladesh
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের লোগো
ইসলামী ফাউন্ডেশনের আওতাধীন সারা দেশে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্প দুর্নীতি-অনিয়মের ঘটনায় প্রতিনিয়ত অভিযোগপত্র জমা হচ্ছে ইসলামী ফাউন্ডেশন ভবনের ষষ্ঠ তলা প্রকল্প পরিচালকের কক্ষে। অভিযোগপত্র জমার বিষয়গুলো আরটিভি নিউজকে নিশ্চিত করেছেন প্রকল্প পরিচালক ও প্রকল্প উপ-পরিচালক।

জানা গেছে, সম্প্রতি খুলনায় সাধারণ কেয়ারটেকার পদে দুই জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এই নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়ম-নীতির কোনও তোয়াক্কা করা হয়নি বলে প্রকল্প পরিচালকের কাছে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন আব্দুল মজিদ। নিয়মবর্হিভূত নিয়োগ ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ প্রতিনিয়ত প্রকল্পের দপ্তরে জমা হচ্ছে।

মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পে নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করায় গেল ২৬ আগস্ট প্রকল্প উপ-পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমানের স্বাক্ষতির সার্কুলারেও বলা হয়েছে, অনেক বিভাগ, জেলা কার্যালয়ে মডেল বা সাধারণ রিসোর্স সেন্টারের পদসমূহ কোনো কারণে শূণ্য হলে সেই শূণ্য পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করে কেন্দ্র শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দিয়ে দীর্ঘদিন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। যা মোটেও কাম্য নয়। আবার কোন কোনো জেলায় মডেল ও সাধারণ রিসোর্স সেন্টারের কেয়ারটেশার নির্বাচন সংক্রান্ত নীতিমালা অনুসরণ না করে প্রস্তাবিত কেয়ারটেশার অনুমোদন চেয়ে প্রকল্পের প্রধান কার্যালয়ে পত্র পাঠানো হচ্ছে। অথচ নির্বাচন সংক্রান্ত নীতিমালায় বলা হয়েছে শূণ্যপদে কেয়ারটেকার নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রকল্প দপ্তরের অনুমোদন সাপেক্ষে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে, একই সঙ্গে আবেদন পত্রটি জেলা প্রশাসক বা তার প্রতিনিধির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কমিটির সভায় উপস্থাপন করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। পরবর্তীতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে নির্বাচিতদের সংশ্লিষ্ট কমিটির সুপারিশসহ প্রকল্প পরিচালক বরাবর পত্র দিতে হবে।

সম্প্রতি খুলনা ফুলতলা উপজেলায় আবুল কালাম আজাদ ও পাইকগাছায় আবু বকর সিদ্দিকের নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নিয়োগ বন্ধ থাকা সত্ত্বেও তাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা। এমনকি তাদের মধ্যে পাইকগাছার গদাইপুর ইউনিয়নে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে এক বছর কাজ করছেন আব্দুল মজিদ নামে এক প্রার্থী। তিনি বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে খুলনা বিভাগীয় পরিচালক ও প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে গেল বৃহস্পতিবার উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন। নোটিশের জবাব না পেলে তিনি মামলার প্রক্রিয়ায় যাবেন বলে জানা গেছে। শুধু সাধারণ কেয়ার টেকার নয়, বিভিন্ন উপজেলায় কেন্দ্র ও কেন্দ্র শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও নিয়ম-বহিরর্ভুত অনুমোদন এবং টাকার বিনিময়ে করা হচ্ছে বলে অভিযোগ আসছে।

নিয়মবর্হিভূত কেয়ারটেকার নিয়োগের অভিযোগে উকিল নোটিশ পাঠানোর বিষয়ে প্রকল্পের উপ-পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এই নিয়োগের ক্ষেত্রে সকল নিয়ম-নীতি অনুসরণ করা হয়েছে। নিয়োগপত্রে প্রকল্প পরিচালকের স্বাক্ষর না থাকলেও তার নিদের্শক্রমে আমি নিজে স্বাক্ষর করেছি।

মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রপতি যখন কোনও আদের্শ দেন, সেখানে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর করেন না। রাষ্ট্রপতির আদের্শে যুগ্মসচিব কিংবা উপ-সচিব স্বাক্ষর করেন। মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের নিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রকল্প পরিচালক নিদের্শক্রমে আমি স্বাক্ষর করেছি।

তিনি আরও বলেন, দেশব্যাপী প্রকল্পের কাজ পরিচালিত হচ্ছে। সেখানে প্রতিনিয়ত জেলা ও উপজেলা থেকে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ আসছে। এই অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করতে গিয়ে প্রকল্পের কাজে ব্যাহত ঘটছে। এসব অভিযোগের ৬০ শতাংশ একে অপরের সঙ্গে বিরোধিতার জেরে হচ্ছে।

অন্যদিকে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) ফারুক আহম্মেদ বলেন, চলতি বছর করোনার কারণে সব ধরনের নিয়োগ বন্ধ। তাছাড়া প্রকল্পে যে কোনও নিয়োগের ক্ষেত্রে পেপারে বিজ্ঞপ্তি দেয়া, লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থী নির্বাচিত করবে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ কমিটি। পরে তার চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে কেন্দ্র শিক্ষকের উপরে হলে প্রকল্প পরিচালক বা তার প্রতিনিধি। কেন্দ্র শিক্ষক অনুমোদন করবে উপজেলা কর্মকর্তা (ইউএনও)।

প্রকল্পের পরিচালক বলেন, জেলা ও উপজেলায় কেয়ারটেকার অনিয়মের ব্যাপারে প্রধান কার্যালয়ের পক্ষে যাচাই-বাছাই করার তেমন সুযোগ নেই। তবে অভিযোগ পেলে নিময় অনুযায়ী তার যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা হলো অনিয়ম-দুর্নীতিকে কোনোভাবে প্রশ্রয় দেয়া যাবে না। ফলে ইসলামী ফাউন্ডেশনের মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পেও কোনো অনিয়মকে সহ্য করা হবে না।

প্রসঙ্গত, মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্প ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গুরুত্বপূর্ণ একটি বৃহৎ প্রকল্প। আর্থ সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও শিক্ষা বিস্তারের কাজে মসজিদের ইমামদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে সরকার ১৯৯৩ সালে মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় প্রাক-প্রাথমিক এবং ঝরে পড়া (ড্রপ-আউট) কিশোর-কিশোরী ও অক্ষরজ্ঞানহীন বয়স্কদের জন্য মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলা, অংক, ইংরেজী, আরবী, নৈতিকতা ও মূল্যবোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা দেয়া হচ্ছে।   

এফএ/ওয়াই

RTVPLUS